রাজনীতি
হাদিকে হত্যাচেষ্টা: ৬ দফা দাবিতে ১৮ ছাত্রসংগঠনের ঐক্যবদ্ধ বিবৃতি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ৬ দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ বিবৃতি দিয়েছে ছাত্রশিবিরসহ ১৮টি ছাত্রসংগঠন। আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে নিয়ে আজ বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী অপতৎপরতা চলছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হলেন এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশের রাজনীতিতে বিভাজন ও নিজেদের পুনর্বাসনের নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই জুলাই যোদ্ধা ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন কণ্ঠস্বর শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার জঘন্য অপচেষ্টা করে। রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই সশস্ত্র হামলা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, গণহত্যাকারী পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে টার্গেট কিলিং মিশনে নেমেছে।
৬ দফা দাবি হলো-
শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলায় জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। ভারতীয় প্রক্সি ফ্যাসিস্ট শক্তির মূল হোতা খুনি শেখ হাসিনাসহ সকল অপরাধীকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ফ্যাসিস্ট শক্তির আর্থিক উৎসের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যবসায়ীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও গণমাধ্যমে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জনজীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই যোদ্ধা ওসমান বিন হাদিকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা প্রমাণ করে, পতিত ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী কার্যক্রম এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং গণহত্যাকারী আধিপত্যবাদী শক্তি ভারতের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠিত হচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত পতিত ফ্যাসিস্ট গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার দোসররা এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের টার্গেট বানিয়েছে। মুজিববাদ, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে যারা দৃপ্ত কণ্ঠে কথা বলছে-তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করাই এই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য।
বিবৃতে নেতারা বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি-এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা নয়; বরং এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও নেতৃত্ব ধ্বংস করে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুসংগঠিত অপারেশন। এই বর্বর হামলা প্রমাণ করে, গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদী শক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় তারা পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা এখন পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের টার্গেট করছে।
একজন বিপ্লবী যোদ্ধা ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর এই হামলা রাষ্ট্রের নিরাপত্তাহীনতা এবং ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো- হত্যাচেষ্টার ৫ দিন অতিক্রান্ত হলেও হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। অপরদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের অসংখ্য খুনি ও দুষ্কৃতকারী ধারাবাহিকভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে সারাদেশে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও গোপন হামলার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।’
তারা বলেন, ‘আমরা মনে করি, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এই ব্যর্থতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুতর দুর্বলতার প্রতিফলন। এই ব্যর্থতার দায় আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। জনগণের জানমাল রক্ষা, অপরাধ দমন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।’
তারা আরও বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আরও লক্ষ্য করছি যে, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এখনো টকশো, কলাম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের পক্ষে সহানুভূতি উৎপাদনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গে নির্মম বিশ্বাসঘাতকতা। গণমাধ্যমে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট এজেন্ডার বাহক সাংবাদিক নামধারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যারা পতিত ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক কাঠামো, বয়ান ও আধিপত্যবাদী চিন্তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে তৎপর, তাদের বিরুদ্ধেও সুস্পষ্ট ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক এস্টাবলিশমেন্টকে মূল থেকে উৎখাত করার কোনো বিকল্প নেই। এ প্রশ্নে কোনো আপস, দ্বিধা বা শৈথিল্য জাতির ভবিষ্যৎকে ভয়াবহ ঝুঁকির
মুখে ঠেলে দেবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণের অবিনাশী গণ-আকাঙ্ক্ষা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। অগণিত শহীদ গাজীদের রক্তের ওপর অর্জিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তার কাঙ্ক্ষিত মঞ্জিলে পৌঁছানো না পর্যন্ত আমরা জুলাই প্রজন্ম থামব না। আমরা মনে করি, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস সময়ের দাবি।’
বিবৃতি প্রদানকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা হলেন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সভাপতি মুনতাছির আহমেদ, জাগপা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী, জাতীয় ছাত্র সমাজ (কাজী জাফর) সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজীজ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ সভাপতি বি এম আমির জিহাদি, বাংলাদেশ ছাত্র মিশন সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সভাপতি খালেদ মাহমুদ, গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি) সভাপতি মেহেদি হাসান মাহবুব, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন সভাপতি আবু দারদা, ভাষানী ছাত্র পরিষদ সভাপতি মোশাররফ হোসেন, নাগরিক ছাত্র ঐক্য আহবায়ক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স আল আমিন, বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্র ফেডারশেন সভাপতি মোহাম্মদ নুর আলম, ইসলামী ছাত্র ফোরাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আহবায়ক প্যানেল সদস্য শেখ সাব্বির আহমদ, রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলন সভাপতি লামিয়া ইসলাম, ন্যাশনাল ছাত্র মিশন সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম।
রাজনীতি
সমালোচনার পর সুর নরম, ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ পেয়েছেন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, তার কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ কথা বলেছেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, গত কয়েকদিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সাথে কিছু আন্তরিক কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। সবার কাছ থেকেই একটি সুন্দর দিকনির্দেশনা পেয়েছি, ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।
তিনি লিখেছেন, আমি বিনয়ের সাথে সেই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছি এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করবো। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ আমার পথচলার শক্তি।
রাজনীতি
সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রশাসক জুলাই স্পিরিটের প্রতি অবজ্ঞা: জামায়াত
সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে অবৈধভাবে প্রশাসক নিয়োগ করে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ওপর সরকার আঘাত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আবদুল হালিম বলেন, এমন নিয়োগের মাধ্যমে জনগণের মতামত ও জুলাইয়ের স্পিরিটের প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছে সরকার।
তার মতে, গণতন্ত্রের বিপক্ষে সরকারের অবস্থান জনগণ ভালোভাবে নেবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ইউজিসির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগে দলীয় বিবেচনার বিষয়েও নিন্দা জানান তিনি।
এমএন
রাজনীতি
সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না : ইশরাক
সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় পরিচয় দেখা হবে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় গরিব ও দুস্থদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না। ফ্যামিলি কার্ড কিংবা যেকোনো সহায়তার জন্য যারা যোগ্য, তারাই তা পাবে। দল-মতের ঊর্ধ্বে এই সহায়তা সবার জন্য নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং সহায়তার পরিধি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।’
ইশরাক বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল সবসময়ই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা যেহেতু এবার সরকার গঠন করেছি, তাই এই সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছি।’
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
রাজনীতি
জনগণের কল্যাণে কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করবে বিরোধীদল
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিরোধীদল যে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে সেই উদাহরণ তৈরি করবে দল।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে স্থানীয় দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, দেশের ঘাড়ে আধিপত্যবাদ চাপিয়ে দেওয়া হবে এমন কিছু আমরা মেনে নেবো না৷
বিগত দিনে বাংলাদেশের জনগণের জন্য চীনের দেয়া নানা উপহার হাইজ্যাক করা হয়েছিল এ কথা জানিয়ে আমির বলেন, চীন বিগত দিনের চেয়ে আরো বেশি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবে এ প্রত্যাশা করি।
তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের মানুষের প্রয়োজনে যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত জামায়াত বলেও জানান তিনি।
এমএন
রাজনীতি
‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে রাজপথে নামবে ১১ দল’
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ।
তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত নেতা বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’
ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, যদি সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বিরোধী দলগুলো। এ বিষয়ে শিগগিরই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।
এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ দুই জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’




