রাজনীতি
হাদিকে হত্যাচেষ্টা: ৬ দফা দাবিতে ১৮ ছাত্রসংগঠনের ঐক্যবদ্ধ বিবৃতি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ৬ দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ বিবৃতি দিয়েছে ছাত্রশিবিরসহ ১৮টি ছাত্রসংগঠন। আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে নিয়ে আজ বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী অপতৎপরতা চলছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হলেন এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশের রাজনীতিতে বিভাজন ও নিজেদের পুনর্বাসনের নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই জুলাই যোদ্ধা ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন কণ্ঠস্বর শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার জঘন্য অপচেষ্টা করে। রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই সশস্ত্র হামলা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, গণহত্যাকারী পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে টার্গেট কিলিং মিশনে নেমেছে।
৬ দফা দাবি হলো-
শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলায় জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। ভারতীয় প্রক্সি ফ্যাসিস্ট শক্তির মূল হোতা খুনি শেখ হাসিনাসহ সকল অপরাধীকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ফ্যাসিস্ট শক্তির আর্থিক উৎসের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যবসায়ীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও গণমাধ্যমে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জনজীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই যোদ্ধা ওসমান বিন হাদিকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা প্রমাণ করে, পতিত ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী কার্যক্রম এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং গণহত্যাকারী আধিপত্যবাদী শক্তি ভারতের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠিত হচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত পতিত ফ্যাসিস্ট গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার দোসররা এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের টার্গেট বানিয়েছে। মুজিববাদ, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে যারা দৃপ্ত কণ্ঠে কথা বলছে-তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করাই এই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য।
বিবৃতে নেতারা বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি-এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা নয়; বরং এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও নেতৃত্ব ধ্বংস করে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুসংগঠিত অপারেশন। এই বর্বর হামলা প্রমাণ করে, গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদী শক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় তারা পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা এখন পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের টার্গেট করছে।
একজন বিপ্লবী যোদ্ধা ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর এই হামলা রাষ্ট্রের নিরাপত্তাহীনতা এবং ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো- হত্যাচেষ্টার ৫ দিন অতিক্রান্ত হলেও হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। অপরদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের অসংখ্য খুনি ও দুষ্কৃতকারী ধারাবাহিকভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে সারাদেশে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও গোপন হামলার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।’
তারা বলেন, ‘আমরা মনে করি, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এই ব্যর্থতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুতর দুর্বলতার প্রতিফলন। এই ব্যর্থতার দায় আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। জনগণের জানমাল রক্ষা, অপরাধ দমন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।’
তারা আরও বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আরও লক্ষ্য করছি যে, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এখনো টকশো, কলাম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের পক্ষে সহানুভূতি উৎপাদনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গে নির্মম বিশ্বাসঘাতকতা। গণমাধ্যমে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট এজেন্ডার বাহক সাংবাদিক নামধারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যারা পতিত ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক কাঠামো, বয়ান ও আধিপত্যবাদী চিন্তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে তৎপর, তাদের বিরুদ্ধেও সুস্পষ্ট ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক এস্টাবলিশমেন্টকে মূল থেকে উৎখাত করার কোনো বিকল্প নেই। এ প্রশ্নে কোনো আপস, দ্বিধা বা শৈথিল্য জাতির ভবিষ্যৎকে ভয়াবহ ঝুঁকির
মুখে ঠেলে দেবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণের অবিনাশী গণ-আকাঙ্ক্ষা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। অগণিত শহীদ গাজীদের রক্তের ওপর অর্জিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তার কাঙ্ক্ষিত মঞ্জিলে পৌঁছানো না পর্যন্ত আমরা জুলাই প্রজন্ম থামব না। আমরা মনে করি, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস সময়ের দাবি।’
বিবৃতি প্রদানকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা হলেন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সভাপতি মুনতাছির আহমেদ, জাগপা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী, জাতীয় ছাত্র সমাজ (কাজী জাফর) সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজীজ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ সভাপতি বি এম আমির জিহাদি, বাংলাদেশ ছাত্র মিশন সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সভাপতি খালেদ মাহমুদ, গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি) সভাপতি মেহেদি হাসান মাহবুব, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন সভাপতি আবু দারদা, ভাষানী ছাত্র পরিষদ সভাপতি মোশাররফ হোসেন, নাগরিক ছাত্র ঐক্য আহবায়ক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স আল আমিন, বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্র ফেডারশেন সভাপতি মোহাম্মদ নুর আলম, ইসলামী ছাত্র ফোরাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আহবায়ক প্যানেল সদস্য শেখ সাব্বির আহমদ, রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলন সভাপতি লামিয়া ইসলাম, ন্যাশনাল ছাত্র মিশন সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম।
রাজনীতি
শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্র জমিয়তের
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আয়োজিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হামলায় শহীদদের মাগফিরাত কামনায় দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ।
কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ মে (মঙ্গলবার) সারা দেশের সব শাখায় আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জুবায়ের হোসেন এক বিবৃতিতে বলেন, শাপলা চত্বরের শহীদদের স্মরণে এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সব শাখাকে যথাযথ মর্যাদায় কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানী
টিএসসিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ২
টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ। এ সময় একটি মাইক্রোবাসসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- ফারহান তানভীর নাসিফ (১৯-২০ সেশন, এফ রহমান হল) এবং মাইক্রোবাসের চালক রুবেল।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল হঠাৎ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে মিছিল ও ব্যানার প্রদর্শন করে। পরে তারা দ্রুত একটি কালো হাইএস মাইক্রোবাসে উঠে স্থান ত্যাগ করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা আরেকটি হাইএস গাড়ির ড্রাইভার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, রাজু ভাস্কর্য এলাকায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের সময় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রাজনীতি
এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার (২ মে) দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সেলের সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিছুক্ষণের মধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে কিছুক্ষণের মধ্যে ব্রিফ করবো।
রাজনীতি
জাপান সফরে গেলেন জামায়াত আমির
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাত দিনের সফরে জাপান গেলেন। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে আছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি।
শনিবার (২ মে) রাত ৩টায় তিনি জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার রাত ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে তিনি রওনা হন।
সাত দিনের এই সফরে ডা. শফিকুর রহমান জাপানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। আগামী ৯ মে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
রাজনীতি
শ্রমিক দিবসে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের ২৩ দাবি
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ইসলামি শ্রমনীতি, কল্যাণমুখী অর্থনীতি ও শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২৩ দফা দাবি জানিয়েছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ।
শুক্রবার (০১ মে) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশ থেকে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
তিনি বলেন, শ্রমিকরা সব আমলেই বঞ্চিত ও নির্যাতিত। রাষ্ট্রের উচিত শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই সব শ্রেণির মতো শ্রমিকদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্ড প্রদান করতে হবে। সেই কার্ডের অধীনে তাদের চিকিৎসা, খাদ্য ও আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশ থেকে রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট ২৩টি দাবি তুলে ধরা হয়।
শ্রমিক আন্দোলনের দাবিসমূহ
১. ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ: জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সকল শ্রমিকের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ: কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৩. চাকরির স্থায়িত্ব ও বৈধতা: অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কমিয়ে স্থায়ী চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. শ্রম আইন বাস্তবায়ন: বিদ্যমান শ্রম আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ এবং শ্রমিক নির্যাতন বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
৫. সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ তহবিল: শ্রমিকদের জন্য পেনশন, চিকিৎসা সুবিধা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও বীমা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার: শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা এবং ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমে বাধা দূর করতে হবে।
৭. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
৮. নারী শ্রমিকদের অধিকার: সমান কাজে সমান মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও হয়রানি প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা: বিদেশগামী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
১০. ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়ন: শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক শ্রমব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
খাতভিত্তিক দাবিসমূহ
১১. পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি, সড়ক নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
১২. গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য সময়মতো বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।
১৩. হকার্সদের জন্য বৈধতা প্রদান, নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ ও উচ্ছেদ-হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
১৪. নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সেফটি ব্যবস্থা, দুর্ঘটনা বীমা ও কল্যাণ তহবিল চালু করতে হবে।
১৫. হোটেল ও রেস্তোরা শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, ন্যায্য বেতন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
১৬. দোকান শ্রমিকদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও শ্রম আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
১৭. ট্রাক, বাস ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিকদের জন্য লাইসেন্স জটিলতা নিরসন, সড়ক নিরাপত্তা ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
১৮. সিএনজি, রিকশা ও ভ্যান শ্রমিকদের জন্য বৈধতা, নির্দিষ্ট রুট ও চাঁদাবাজি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
১৯. ডেকোরেটর ও ফার্নিচার শ্রমিকদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে হবে।
২০. নৌ-শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ নৌযান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও বীমা সুবিধা চালু করতে হবে।
২১. রেলওয়ে শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
২২. হালকাযান ও মোটরযান শ্রমিকদের জন্য লাইসেন্স সহজীকরণ, প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সমন্বিত দাবি
২৩. সকল পর্যায়ের শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, সব ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং সরকারি অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।




