আন্তর্জাতিক
বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণে রাশিয়ার বাজিমাত?
জ্বালানি সমৃদ্ধ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাড়ালে ক্রেমলিনের ওপর যথেষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি সমঝোতামূলক সমাধানে পৌঁছাতে দেশটিকে বাধ্য করবে। পশ্চিমা নীতিনির্ধারক ও কৌশলবিদরা দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই দাবি করে আসছেন।
কিন্তু ইউক্রেনে রুশ ট্যাংক প্রবেশের চার বছর পরেও দেশটির পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। এর মধ্যে রাশিয়ার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞাও।
তবুও রুশ অর্থনীতি ভালোই চলছে এবং যুদ্ধও এগিয়ে চলেছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়া এখনো চীনের কাছে এবং ভারতের মতো অন্যান্য বড় জ্বালানি ভোক্তা দেশের কাছে তাদের জ্বালানি পণ্য বিক্রি করতে পারছে।
অন্যদিকে মাত্র পনেরো দিনের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ইরান যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ অনুভব করতে শুরু করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ চলাচল করে।
একটি বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ইরান শুধু হরমুজ প্রণালীই বন্ধ করেনি, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর ফলে আরব দেশগুলো থেকে তেল উৎপাদন ও জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এর জেরে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে শুরু করে পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশকে প্রভাবিত করেছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট থেকে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর বিরুদ্ধে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে এবং দেশগুলোকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সমুদ্রে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। এটি আমেরিকার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নীতি পরিবর্তন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে, ইরান যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনকে ততটা লাভবান করেনি, যতটা এটি রাশিয়াকে করেছে। ওয়াশিংটন ডিসির নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণমূলক উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের সিনিয়র ডিরেক্টর এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ইউজিন চাউসোভস্কি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী দেশ হলো রাশিয়া। একদিকে যেমন তেল রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে, তেমনি অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞার চাপও কিছুটা শিথিল হয়েছে।
চাউসোভস্কি সতর্ক করে বলেন, ‘যদিও তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি তবুও রাশিয়ার অর্থনীতি এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধে সাহায্য করেছে। যা সম্ভবত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। মস্কোর এমন সুবিধাজনক অবস্থান শেষ পর্যন্ত চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময়কাল এবং ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।’
মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক পতন
কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, যদিও এক মাসের এই শিথিলতা রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি নয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করছে। তাই ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব মস্কোর অনুকূলে রয়েছে।
বুখারেস্ট-ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক একাতেরিনা মাতোই বলেন, ‘রাশিয়ার মতো একটি দেশ শুধুমাত্র পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য এক মাসের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ করে না।’
তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের লক্ষ্য তেলের দাম স্থিতিশীল করা। তবে ভূ-রাজনৈতিক বার্তাটি আরো তাৎপর্যপূর্ণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বোঝা বহন করতে পারে না।
মাতোই টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘আমেরিকান ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানি নেতৃত্বকে ধ্বংস করা সত্ত্বেও প্রণালীটি বন্ধ থাকায় একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার কাছ থেকে সাময়িকভাবে জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসলে সমস্যার গুরুত্ব স্বীকার করেছে এবং তার কিছু মিত্র দেশের চাপ কমানোর চেষ্টা করেছে।’
মাতোইয়ের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এটাও প্রমাণ করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ‘জ্বালানি সংকটে’ থাকা ইউরোপীয়দের চেয়ে ভারতের মতো তার এশীয় অংশীদারদের বেশি অগ্রাধিকার দেয়।
কিন্তু পশ্চিমা মিত্রদের থেকে ট্রাম্পের এই ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা ইউরোপীয়দের নজর এড়ায়নি, কারণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই পদক্ষেপ ইউক্রেনীয় এবং মহাদেশজুড়ে তাদের অংশীদার উভয়কেই হতাশ করেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই একটি ছাড়ই রাশিয়াকে যুদ্ধের জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার এনে দিতে পারে। এটি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনোভাবেই সহায়ক নয়।’ ম্যাখোঁও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি ব্রিটিশ ও জার্মান নেতারাও ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর থেকে চাপ কমানোর জন্য ইরান যুদ্ধ কোনো অজুহাত হতে পারে না।
রুশ শিক্ষাবিদ এবং পুতিনের সাবেক উপদেষ্টা সের্গেই মার্কভ টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘অনেক দেশই রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করাকে একটি বাজে কৌশল হিসেবে দেখবে এবং নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন তুলবে, যুক্তরাষ্ট্র যখন এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে তেমন পাত্তাই দিচ্ছে না, তখন আমরা কেন এগুলো মেনে চলব।’
গত সপ্তাহে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ (ডিওই) ঘোষণা করেছে, তারা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়বে। বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত বৈশ্বিক ফোরাম ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)-এর ৫০ বছরের ইতিহাসে এটিই ছিল মজুতকৃত তেলের সবচেয়ে বড় নির্গমন।
এই নজিরবিহীন নির্গমনের পরিমাণ আইইএ-এর মোট জরুরি তেল মজুদের এক-দশমাংশ। এটি আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক সমস্যার আরেকটি লক্ষণ।
রাশিয়া লাভবান হচ্ছে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও মস্কোকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের রাশিয়ার অর্থনীতিতে সীমিত প্রভাব পড়বে, তবে এর মনস্তাত্ত্বিক সুফল ক্রেমলিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাকে পশ্চিমারা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে করে রাখতে চেয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রুশ রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ওলেগ ইগনাটোভ টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘রাশিয়ার তেল কম্পানি এবং রাশিয়ার বাজেট অবশ্যই লাভবান হচ্ছে। রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সম্পদের একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে তার সুনাম পুনরুদ্ধারেরও চেষ্টা করছে।’
ইগনাটোভ আরো বলেন, ‘সবকিছু নির্ভর করছে প্রণালীটি কতদিন বন্ধ থাকবে এবং এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর কী ক্ষতি হবে তার ওপর। এখানে সময়ই মূল বিষয়। এটি যতো দীর্ঘ হবে, রাশিয়া তত বেশি লাভবান হবে।’
মার্কভের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার তেলের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়াবে এবং মস্কোকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়ন করতে সাহায্য করবে। মার্কভ বলেন, তেলের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা এবং ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তে উৎসাহিত হয়ে আরো আত্মবিশ্বাসী রাশিয়া কোনো ছাড় ছাড়াই তার তেল বিক্রি করবে। ফলে দেশটিকে আরো ধনী হবে।
এই রুশ বিশ্লেষক আরো যোগ করেন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপের কারণে চীন ও ভারতের মতো বড় জ্বালানি গ্রাহকরাও হয়তো অনুভব করবে যে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে পারছে না। মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষরের অর্থনৈতিক দিকে ঝুঁকছে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত আসলে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের আরেকটি উদাহরণ। বিশেষ করে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে কীভাবে সমর্থন করা হবে, এই প্রশ্নে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষক ইগনাটোভ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোর থেকে আলাদা। তাদের ধারণা, পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। তাই তাদের মতে, এখন যুদ্ধ শেষ করার জন্য নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই এগোনো বেশি কার্যকর হতে পারে।
ইগনাটোভ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার আচরণ পরিবর্তন করতে পারে। এটা ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বাস করে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এশীয় দেশগুলো চাইলে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল কেনার উপায় খুঁজে নেবে।’
মস্কোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আগে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দিয়ে একটি ছাড়পত্র দিয়েছিল। ইরান যুদ্ধের বিতর্কিত গতিপ্রকৃতির কথা উল্লেখ করে ইগনাটোভ বলেন, ‘ওয়াশিংটন বাজারকে আশ্বস্ত করাতে চায় এবং বিশ্বাস করে, তেলের দাম অল্প সময়ের জন্যই বেশি থাকবে।’ প্রসঙ্গত, রাশিয়াও আপাতত তাই মনে করে।
রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
ইরান যুদ্ধ ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। প্যাট্রিয়ট বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে দূরপাল্লার ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত। এগুলো কিয়েভকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইউরোপীয় দেশগুলোর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংঘাত বিষয়ে একজন শীর্ষস্থানীয় আমেরিকান শিক্ষাবিদ জন মিয়ারশেইমার বলেন, ‘আমরা পিএসি-৩ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পুড়িয়ে ফেলছি, এর জন্য ইউক্রেনীয়রা কাকুতি-মিনতি করছে।’ তিনি তেহরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আমেরিকান বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অতি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন।
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ফেলছে। দেশটি স্বল্প সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদন করতে পারবে না। এদিকে সমস্ত লক্ষণই ইঙ্গিত দিচ্ছে, তৃতীয় কোনো রাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না করলে উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হবে।
মার্কভ বলেন, ‘ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে তাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করার মতো সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের থাকবে না।’ তিনি বলেন, এর ফল, ইরান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়বে।’
মার্কভ আরো বলেন, যেহেতু ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তাই এই যুদ্ধ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদাও বাড়াবে।
তিনি আরো যোগ করেন, মস্কোর বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন তাদের এস-৪০০) সম্ভবত বিশ্বের সেরা।’ এই অর্থে, ইরানের যুদ্ধ রাশিয়ার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সকেও শক্তিশালী করবে বলে জানান এই বিশ্লেষক।
মার্কভের মতে, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ লক্ষ্যবস্তু করতে ইরানকে সাহায্য করার জন্য গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করে থাকতে পারে। সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর বিরুদ্ধে কিয়েভের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে পারে। তিনি আরো বলেন, এর ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের দর কষাকষির ক্ষমতাও সম্ভবত হ্রাস পাবে।
শাসন পরিবর্তন নয়
ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে যখন রুশ বাহিনী কিয়েভ দখল করতে ব্যর্থ হয় এবং খারকিভের মতো শহরগুলো থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে পিছু হটে, তখন অনেক পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক শুরুতেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পুতিনের অধীনে ক্রেমলিনের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
পশ্চিমা পূর্বাভাস সত্ত্বেও রাশিয়া তার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে এবং তারপর থেকে পূর্ব ইউক্রেনে অগ্রগতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ফলে, মস্কোতে কোনো শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য বলেই মনে হচ্ছে।
মার্কভ প্রশ্ন করেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা তেহরানে যদি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলাও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে না পারে, তাহলে পশ্চিমা জোট মস্কোতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা কীভাবে কল্পনা করতে পারে?
তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা বর্তমানে সফল হচ্ছে না। তাহলে রাশিয়ায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা কল্পনা করা আরো কঠিন হবে। কারণ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইউরেশিয়াজুড়ে দেশটিরও শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড
আন্তর্জাতিক
পরমাণু ইস্যু পেছনে রেখে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব, দ্বিধায় যুক্তরাষ্ট্র
চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ১৪ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। এতে পরমাণু ইস্যুকে সাময়িকভাবে পেছনে রেখে যুদ্ধবিরতি, অবরোধ প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে ওয়াশিংটন এখনো দ্বিধায় রয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসের শুরুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনা, সমুদ্রপথে অবরোধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তেহরান এই নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবের ‘ধারণা’ সম্পর্কে অবহিত হলেও এর শর্তাবলী ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে বোমাবর্ষণ শুরু করে। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের প্রায় ২০% জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত চার সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের বোমাবর্ষণ স্থগিত রাখলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান একটি কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। তাদের নতুন প্রস্তাবে পরমাণু আলোচনার চেয়ে যুদ্ধ বন্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো হলো:
- নৌপথ উন্মুক্ত করা: হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু করা।
- অবরোধ প্রত্যাহার: যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।
- সামরিক প্রত্যাহার: ইরানের আশেপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া।
- অর্থনৈতিক দাবি: ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান।
- আঞ্চলিক শান্তি: লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরান বর্তমানে পরমাণু আলোচনাকে পরবর্তী ধাপের জন্য সরিয়ে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। আগে শান্তি স্থাপন ও অবরোধ প্রত্যাহার হবে, তারপর পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা চলবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। একদিকে তিনি ইরানকে ‘যথেষ্ট মূল্য দিতে হয়নি’ বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সংকটের মুখে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে মার্কিন গ্যাসোলিন পাম্পগুলোতে।২০২৬ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে, যা রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান যদি কোনো ‘ভুল আচরণ’ করে, তবে পুনরায় বিমান হামলা শুরু করা হবে। তিনি কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার আইনি সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করেছেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, পরমাণু ইস্যুকে আলোচনার শেষ ধাপে নিয়ে যাওয়া একটি ‘বড় ছাড়’। তাদের লক্ষ্য হলো প্রথমে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যাতে স্থায়ী শান্তি সম্ভব হয়। ইরান এখনো তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়ে আসছে, যদিও তারা শান্তি চুক্তির বিনিময়ে সাময়িক স্থগিতাদেশে রাজি হতে পারে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস মনে করছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া যেকোনো চুক্তি হবে অর্থহীন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তারা আমাকে চুক্তির ধারণাটি বলেছে, এখন আমি লিখিত নথির অপেক্ষায় আছি।
এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার কালো ছায়া দেখা দিয়েছে। যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া না হয় এবং মার্কিন অবরোধ বহাল থাকে, তবে জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৬ সালের ৩ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বল এখন হোয়াইট হাউসের কোর্টে। ট্রাম্প কি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ইরানের প্রস্তাব মেনে নেবেন, নাকি পরমাণু ইস্যুতে অনড় থেকে পুনরায় সামরিক অভিযানের পথে হাঁটবেন? এর ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য তথা সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা। ইরানের এই নতুন প্রস্তাব একটি কূটনৈতিক সাফল্যের সুযোগ তৈরি করলেও, অবিশ্বাসের দেয়াল এখনো অনেক উঁচু।
এমএন
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধেও ২২ কোটি ডলারের তেল নিয়ে এগোচ্ছে ইরানি ট্যাংকার
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও প্রায় ২২ কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল নিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পৌঁছেছে ইরানের একটি বিশাল তেলের ট্যাংকার।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকম’ -এর বরাতে জানা গেছে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির মালিকানাধীন ‘হিউজ’ নামের জাহাজটি প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ডলার।
সংস্থাটি জানায়, এক সপ্তাহ আগে জাহাজটিকে শ্রীলঙ্কার উপকূলে দেখা গেলেও বর্তমানে এটি ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালি হয়ে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
মার্কিন অবরোধ ঘোষণার সময় জাহাজটি ইরানের জলসীমায় ছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজটির ট্র্যাকিং সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রাখা হয়, ফলে এর অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, তাদের অন্তত ৫২টি জাহাজ সফলভাবে অবরোধ ভেঙেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, তারা ৪১টি ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে দেশটির কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।
তথ্যসূত্র : আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনার ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি দ্রুত পর্যালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এটিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন না বলে সরাসরি মন্তব্য করেছেন।
শনিবার ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ইরান যে পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, তা শিগগিরই দেখব। কিন্তু এটা গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করছি না। গত ৪৭ বছরে তারা মানবতা ও বিশ্বের যে ক্ষতি করেছে, তার জন্য এখনো তারা যথাযথ মূল্য দেয়নি।”
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থানকালে এই প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। ইরানের প্রস্তাবে ঠিক কী কী শর্ত বা বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্পের এই মনোভাবে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনার সম্ভাবনা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস হিল কান্ট্রিতে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ পাঁচজনই মারা গেছেন। পাইলটসহ ছাড়া বাকি সবাই পিকেলবল খেলোয়াড় ছিলেন এবং একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।
খেলোয়াড়রা সান আন্তোনিওর কাছাকাছি নিউ ব্রাউনফেলস শহরে একটি প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এই শহরটি সান আন্তোনিও থেকে প্রায় ৩০ মাইল দূরে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে উইম্বার্লি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
একজন কর্মকর্তা জানান, পাইলটসহ চারজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে অ্যামারিলো পিকেলবল ক্লাব নিশ্চিত করেছে, নিহতরা তাদের ক্লাবের সদস্য ছিলেন এবং টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।
ফ্লাইট তথ্য অনুযায়ী, সেসনা ৪২১সি মডেলের বিমানটি অ্যামারিলো থেকে উড্ডয়ন করে নিউ ব্রাউনফেলস ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিল। অস্টিন আমেরিকান-স্টেটসম্যান কর্তৃক অনলাইনে পোস্ট করা আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, বিমানটি একটি জঙ্গল এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
শুক্রবার টুর্নামেন্টটি বাতিল করা হয়।
পরদিন শনিবার খেলা শুরুর আগে নিহত খেলোয়াড়দের স্মরণে প্রার্থনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অ্যামারিলো পিকেলবল ক্লাবের সভাপতি ড্যান ডায়ার বলেন, নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনের সঙ্গে তিনি নিজে অনেকবার খেলেছেন। তিনি তাদের পদকও দিয়েছিলেন এবং বলেন, তারা খুব ভালো খেলোয়াড় ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, অনেকেই এই খেলায় এতটাই আগ্রহী হয়ে পড়েন যে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেন।ডায়ার জানান, একই সময়ে অ্যামারিলো থেকে আরেকটি বিমানও ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল, তবে সেটি নিরাপদে নিউ ব্রাউনফেলস বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিমানের পাইলট বলেছিলেন, তিনি প্রথম বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ পাচ্ছিলেন না। পরে কন্ট্রোলার জানান, বিমানটি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে চলতে শুরু করে এবং রাডার থেকে হারিয়ে যায়। একজন পাইলট নিশ্চিত করেছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল, এরপর কন্ট্রোলার ৯১১-এ ফোন করেন। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আকাশ মেঘলা ছিল এবং কয়েক ঘণ্টা পর সেখানে ঝড়-বৃষ্টি হয়।
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধের জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন নেই: কংগ্রেসকে ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা ‘শেষ’ হয়ে গেছে। আর সে কারণে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদনের নির্ধারিত সময়সীমা মানার প্রয়োজন তার নেই বলে তিনি যুক্তি দিয়েছেন।
আইন অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কংগ্রেসকে জানানোর ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য, অন্যথায় তাকে যুদ্ধের কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। কিন্তু কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, গত মাসে ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির কারণে ওই আইনের বাধ্যবাধকতা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি, যদিও ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর ৬০তম দিনে শুক্রবার ট্রাম্প কংগ্রেস নেতাদের লিখেছেন, ‘২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও ইরানের মধ্যে আর কোনো গুলিবিনিময় হয়নি। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যে শত্রুতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হয়েছে।’
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার জন্য তেহরানের নূতন প্রস্তাব পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে। তবে সংবাদ সংস্থাটি প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
তবে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা মাত্রই ইরানের সঙ্গে কথা বলেছি। দেখা যাক কী হয়। তবে আমি বলব, আমি এতে সন্তুষ্ট নই।’
তিনি বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং আংশিকভাবে এর কারণ হলো যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কয়েকজন নিহত হওয়ায় তাদের নেতৃত্ব ‘খুব বিভ্রান্ত’ অবস্থায় রয়েছে।
ট্রাম্প আরো জানান, বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তার সামনে বিভিন্ন বিকল্প উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে ছিল ‘তাদের (ইরানের) ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়ে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া’ থেকে শুরু করে ‘একটি চুক্তিতে পৌঁছানো’ পর্যন্ত।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তির দিকে এগোচ্ছে না। আমরা বিষয়টি ঠিকভাবে শেষ করব। আমরা তাড়াহুড়া করে সরে যাব না, যাতে তিন বছর পর আবার একই সমস্যা ফিরে আসে।’
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় একটি সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরানকে কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি যদি ‘টোল’ দেয়, তাহলে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ এখনো কার্যত বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে।
কংগ্রেসে আইন প্রণেতারা ক্রমবর্ধমান প্রশ্নের মুখে পড়েছেন, তারা উভয় কক্ষে ভোটের ব্যবস্থা করবেন কি না, যাতে যুদ্ধটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাসঙ্গিক আইনে প্রেসিডেন্টের ওপর নির্দিষ্ট কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। যখন তিনি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধে ব্যবহার করেন, তখন কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয় ‘৬০ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে’।
এই আইনে বলা আছে, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলে বা সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য সময় বাড়ানোর অনুমতি না দিলে প্রেসিডেন্টকে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, যাতে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করা যায়। প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ভিয়েতনাম যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে থাকার ক্ষমতা সীমিত করার জন্য ১৯৭৩ সালে এই আইনটি পাস করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যুক্তি দেন, আইন প্রণেতাদের অনুমোদন নেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমার ‘ঘড়ি’ আপাতত থেমে আছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর টিম কেইন বলেন, ‘আমি মনে করি না, এই আইনে এমন ব্যাখ্যার সমর্থন পাওয়া যায়।’
কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ট্রাম্পকে ইরান ইস্যুতে সীমাবদ্ধ করার জন্য ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়েছে। বেশিরভাগ রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের এই প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছেন, যদিও কেউ কেউ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর তারা তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।
শুক্রবার কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেকেই এটাকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলে মনে করেন।’
ট্রাম্প প্রশাসনের এসব ব্যাখ্যা নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন। ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ল’-এর অধ্যাপক হেদার ব্র্যান্ডন-স্মিথ বলেন, যুদ্ধবিরতি আইনগতভাবে কার্যকর থাকলেও তা ৬০ দিনের সময়সীমার গণনা থামাবে না।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি কোনো স্থায়ীভাবে সংঘাতের সমাপ্তি নয়। আমার মতে, স্থায়ীভাবে সংঘাত শেষ হলেই ৬০ দিনের সময়সীমা সত্যিকার অর্থে শেষ হবে।’
তার মতে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাত চালিয়ে যায়, তাহলে আদালত বা কংগ্রেসই একমাত্র উপায় হতে পারে যুদ্ধ থামানোর।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালালে এই সংঘাত শুরু হয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং দাবি করছে যে দেশটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চাইছে, যদিও তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।




