রাজনীতি
ওসমান হাদির ওপর হামলা বৃহৎ চক্রান্তের ক্ষুদ্র অংশ: মির্জা আব্বাস
নির্বাচনের আগে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, এটি বৃহৎ এক চক্রান্তের ক্ষুদ্র অংশ।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন মির্জা আব্বাস। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর এবং ঢাকায় ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এই সমাবেশের আয়োজন করে।
১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন ঠিক করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল নির্বাচন কমিশন ঘোষণার পরদিন শনিবার ঢাকার সড়কে প্রকাশ্যে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছিলেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে গণসংযোগের সময় গুলি করা হয় চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহকে।
প্রতিবাদ সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে চট্টগ্রামে এরশাদ উল্লাহর ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল। এবার হাদির ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এটা বৃহৎ চক্রান্তের ক্ষুদ্র একটি অংশ। সামনে আরও চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র প্রকাশ পাবে।
ওসমান হাদিকে গুলি করার মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে। এই অপশক্তির কালো হাত ভেঙে দিতে হবে। তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। যাঁরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন, তাঁরা সাবধান হয়ে যান।
হাদির ওপর গুলির ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, সোয়া দুইটায় হাদির ওপরে গুলি চালানো হয়। আড়াইটার সময় ফেসবুকে একটি পোস্ট আসে। সেখানে যে যেখানে আছে, ঐক্যবদ্ধ হতে বলা হয়। এটা ছিল পরিকল্পিত।
ওসমান হাদি যে আসনে প্রার্থী হতে চাইছেন, সেই আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। গতকাল গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদিকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছিলেন মির্জা আব্বাস। তাঁর উদ্দেশে আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়েছিল।
সেই প্রসঙ্গ তুলে সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি ভাই ঢাকার ছেলে। আমি ঢাকার রাজপথে মিছিল করে বড় হয়েছি। আমি ঢাকার রাজপথে আন্দোলন করে বড় হয়েছি। আমার বয়সটা একটু বেশি হয়ে গেছে। শান্ত থেকেছি, নীরব থেকেছি। কিন্তু ওই মুহূর্তে যদি আমার নির্দেশনা পেত, তাহলে তোমাদের তুলাধোনা করতে আমাদের ছেলেরা দেরি করত না।’
যারা আক্রমণাত্মক স্লোগান দিয়েছিল, তাদের কেউ ওসমান হাদির সমর্থক নয় দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, এরা বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা ছিল। যারা সেখানে মব সৃষ্টি করেছিল, তারা চেয়েছিল হাদি ওখানেই মারা যাক।
সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওসমান হাদি সব সময় দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। তিনি ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তবে কখনো মির্জা আব্বাস তাঁকে বিরক্ত করছেন, এমন কথা বলেননি।
ডাকসুর ভিপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাদিক কায়েমের উদ্দেশে রাকসুর একসময়ের ভিপি রুহুল কবির বলেন, ‘আপনি এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে (হাদিকে গুলি করার) ফেসবুকে দিয়ে দিলেন। তার মানে কি ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনির মতো অবস্থা না? আপনি ঘোড়ার আগেই গাড়ি জুড়িয়ে দিলেন।’
হাদির ওপর হামলা সুপরিকল্পিত দাবি করে রুহুল কবির বলেন, ‘সন্তানের বয়সী একজন ছেলেকে মির্জা আব্বাস আঘাত করবেন, এটা অকল্পনীয়। তিনি হঠাৎ করে রাজনীতিবিদ হননি। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ৫০ বছরের। হাদির ওপর হামলা এটা সুপরিকল্পিত। এই ঘটনায় যাকে শনাক্ত করা হয়েছে, সে ছাত্রলীগের নেতা। একই সঙ্গে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে একই টেবিলে বসে চা খাচ্ছে। এই পরিকল্পিত নকশা করেছে সংগঠনটি।’
ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব ও ঢাকা-৪ আসনে দলের প্রার্থী তানভীর হোসেন রবিনের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী হাবিবুর রশীদ প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
রাজনীতি
ইশতেহারে সরকারি চাকরি নিয়ে যে ঘোষণা দিল জামায়াতে ইসলামী
২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে এ ইশতেহার তুলে ধরেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই ইশতেহারে সরকারি চাকরিতে বিনা মূল্যে আবেদনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার মধ্যে অষ্টম নম্বরে বলা হয়, প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
সরকারি চাকরিতে বিনা মূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ।
ইশতেহারে বলা হয়, বিসিএসসহ সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় দীয়সূত্রিতা কমিয়ে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া সরকারি চাকরিতে আবেদেনের ক্ষেত্রে কোনো ফি নেওয়া হবে না। চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দলীয় আনুগত্যে নয়;বরং মেদা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে।
এ ছাড়া ইশতেহারে সংস্কার, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন, সুশাসন নিশ্চিত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উন্নতি, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ প্রভৃতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
৯০ পৃষ্ঠার ইশতেহারে জামায়াত মোট ৪১টি খাতে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।
রাজনীতি
বাংলাদেশকে ৩৫তম থেকে ২০তম অর্থনীতিতে নিতে চায় জামায়াত
বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশকে ২০তম স্থানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ইশতেহার পাঠ করেন। ১৩তম জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত এই ইশতেহারের শিরোনাম— ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের ইশতেহার’।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হবে এবং মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্থিক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করে ধাপে ধাপে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ইনভেস্টমেন্ট বন্ড মার্কেট গঠনের পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
রাজস্ব খাতে সংস্কারের মাধ্যমে করের আওতা সম্প্রসারণ করে রাজস্ব আহরণ জিডিপির ১৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর কথা বলা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগসহ মোট ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং বাজেট ঘাটতি কোনোভাবেই জিডিপির ৫ শতাংশ অতিক্রম করবে না—এমন অঙ্গীকারও রয়েছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা সহজ করতে করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। করপোরেট কর পর্যায়ক্রমে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে বর্ধিত রাজস্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, গৃহায়ণ, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং যোগাযোগ অবকাঠামো ও পরিবহন খাতে ব্যয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি, অপচয় ও অদক্ষতা দূর করে সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে একটি আর্থিক খাত সংস্কার কমিশন গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, আস্থাহীনতা দূর করে বাজারকে গতিশীল করা এবং শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে জামায়াত।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে অ্যাডভান্সড টেক্সটাইল, চামড়া, পাট, ফ্রিল্যান্সিংসহ আইটি সার্ভিস এবং এগ্রো-প্রসেসিং খাত আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের কার্যকর অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পাশাপাশি অলাভজনক শিল্পের পরিবর্তে নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সৃষ্টি করে রেমিট্যান্স আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে Employment and Entrepreneur Ecosystem গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় জেলা কর্মসংস্থান অফিস এবং মহানগর ও থানায় স্থানীয় কর্মসংস্থান অফিস স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য ভাতা কর্মসূচির পরিসর বাড়ানো ও এমপ্লয়মেন্ট ইন্স্যুরেন্স চালু, এসএমই খাতে বিশেষ প্রণোদনা, সুনীল অর্থনীতির উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টন, ইসলামী ব্যাংক ও বীমা খাতের বিকাশ, কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপন এবং পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারের কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাবে।
রাজনীতি
২৬ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে জামায়াতের ‘জনতার ইশতেহার’
যুবকদের প্রাধান্য ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ২৬ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি তাদের ইশতেহারের নাম দিয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে দলটি।
এসময় ২৬টি অগ্রাধিকার এই ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম ভাগে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ এবং আইন ও বিচারব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
ইশতেহারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যুবকদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিপ্লবের রূপরেখা ইশতেহারের বিভিন্ন অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সমাজকল্যাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
রাজনীতি
দেশে নতুন জালিম ও গুপ্ত সংগঠনের আবির্ভাব হয়েছে: তারেক রহমান
বাংলাদেশে নতুন ধরনের এক জালিম শক্তির আবির্ভাব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি বিশেষ চক্র এখন ‘গুপ্ত সংগঠনের’ মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরের বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত বিএনপির বিভাগীয় নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন,দীর্ঘ ১৫–১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যারা প্রকাশ্য রাজনীতির বদলে গুপ্ত সংগঠনের মাধ্যমে জনগণের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার হরণকারী অপশক্তির পতন হলেও, এই নতুন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়কে বারবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত অবসান ঘটেছে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নারী-পুরুষ একসঙ্গে মাঠে কাজ করে। কৃষকের সঙ্গে কৃষাণীরাও মাঠে কাজ করে। শুধু মাঠেই নয়, সমাজের সবক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের মা-বোনদের সম্মান করে না, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো অগ্রগতি বা মর্যাদাপূর্ণ রাজনীতি আশা করতে পারে না।
ইসলামের ইতিহাসে নারীদের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশ এগোতে পারে না।
এমএন
রাজনীতি
ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা ইশতেহার, ১২টি বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই ইশতেহারে ৩০টি মৌলিক দফা এবং ১২টি বিশেষ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
৩০ দফা মৌলিক ইশতেহার
১. দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন।
২. দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
৩. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
৪. রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরীয়াহর প্রাধান্য।
৫. কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যমুক্ত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ গঠন।
৬. নৈতিকতায় সমৃদ্ধ, কর্মমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।
৭. সার্বজনীন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ।
৮. পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্রসংস্কার।
৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা।
১০. আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
১১. নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারসহ সকল জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা।
১২. রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ।
১৩. সকলের জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
১৪. পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় গুরুত্ব।
১৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ।
১৬. শুধু দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন নয়, নির্মূলকরণ কর্মসূচি গ্রহণ।
১৭. শুধু আইনের শাসন নয়, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা।
১৮. জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি বাস্তবায়ন।
১৯. মানুষের সার্বিক কল্যাণে ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয়।
২০. দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন ও অনৈতিক পেশার সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধকরণ।
২১. খুন, গুম, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের অবসান।
২২. জনগণের বাক্স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
২৩. নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়, অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা।
২৪. শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, স্যুয়ারেজ ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু।
২৫. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।
২৬. কওমি মাদরাসার ডিগ্রিধারীসহ দক্ষ ও যোগ্য ওলামায়ে কিরামকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা।
২৭. সড়ক নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ।
২৮. বাংলাদেশকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা।
২৯. শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।
৩০. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
১২টি বিশেষ কর্মসূচি
১. হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা।
২. প্রাথমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন একবেলা পুষ্টিকর খাবার।
৩. ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এককালীন ঋণ।
৪. সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বা স্বাস্থ্যকার্ড চালু, ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং কৃষিকার্ড প্রবর্তন।
৫. ন্যাশনাল জব পোর্টাল, যেখানে দেশে ও বিদেশে চাকরি খোঁজা, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের সুবিধা থাকবে।
৬. কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন।
৭. ঢাকাসহ সকল নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্র্যাঞ্চাইজভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা।
৮. সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা চালু।
৯. সকলের জন্য নির্বিঘ্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ।
১০. নারী পোশাকশ্রমিকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা।
১১. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
১২. কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়ন।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএন



