জাতীয়
জলবায়ু তহবিল খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির নতুন সুযোগ: টিআইবি
জলবায়ু তহবিলের অর্থ ব্যবহারে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। এ খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির ধরণ ও মাত্রা নির্দেশ করে যে, এটি একটি দুর্নীতির নতুন সুযোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলছে, জলবায়ু অর্থায়নে জাতীয় তহবিলের (বিসিসিটি) বরাদ্দের ৫৪ শতাংশে দুর্নীতি হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ৮৯১টি প্রকল্পে সংঘটিত দুর্নীতির প্রাক্কলিত পরিমাণ ২৪৮.৪ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ১১০.৬ কোটি টাকা।
বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক টিআইবির গবেষণার সার্বিক পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত মোট ১২টি তহবিলের আওতায় ৯৪২টি প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয় গবেষণাটিতে। ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. মাহফুজুল হক ও রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মো. সহিদুল ইসলাম। এসময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থের চাহিদার বিপরীতে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ বরাদ্দ হয়নি। জাতীয় তহবিল বা বিসিসিটির অর্থ বরাদ্দে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই, আবার জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টে নানা সংকট রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অর্থ বরাদ্দে অধিক বিপদাপন্ন এলাকা কম গুরুত্ব পেয়েছে। জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হলেও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে ২০১৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ৮৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবছর প্রয়োজনের ০ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। তহবিল সময়ের অনিয়ম দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলা হয়, অভিযোজনের সঙ্গে সম্পর্কহীন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থে সাফারি পার্ক, ইকো পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। নিম্নমানের কাজ সম্পাদন করা হয়েছে এবং অর্থ জালিয়াতি করা হয়েছে, এমনকি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
জাতীয় তহবিলের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যর্থতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ৮৯১টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৪৯টির (৬১.৬%) মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড়ে প্রকল্পের মেয়াদ ৬৪৮ দিন থেকে বেড়ে ১,৫১৫ দিনে পৌঁছেছে—অর্থাৎ ১৩৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪ বছর মেয়াদের প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লেগেছে ১৪ বছর।
সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জলবায়ু অর্থায়ন এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য বাজেট বরাদ্দ, চাহিদা, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও পরিকল্পনা নীতির সঙ্গে সংগতিহীন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
গবেষণাটির সুপারিশে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন ২০১০ সংশোধন করতে হবে, তহবিলের তদারকি ও নিরীক্ষার জন্য পৃথক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রতি বছর জলবায়ু ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশের ১০-১২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। কিন্তু ২০০৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমরা পেয়েছি মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার, যা অত্যন্ত নগণ্য।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, দুর্নীতির কারণে জাতীয় তহবিলের ৫৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লুটপাট হয়েছে। এ তহবিলের সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও তা দুর্নীতির কারণে পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গ ও প্রভাবশালীরা এ অর্থ লুটপাট করেছে। জবাবদিহিতার ঘাটতি, সুশাসনের ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব, বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর অদক্ষতা ও অনিয়মের কারণে এ দুর্নীতি হয়েছে। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই।
জাতীয়
ঢাকায় আরও ৪টি থানা স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে: ডিএমপি
রাজধানী ঢাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পাশাপাশি আরও চারটি নতুন থানা গঠনের পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এ ‘খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত সপ্তাহে কারওয়ান বাজারে একটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমন করা। একইভাবে খিলক্ষেত এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালুর পাশাপাশি আরও কয়েকটি এলাকায় ফাঁড়ি স্থাপনের কাজ চলছে।
তিনি জানান, মোহাম্মদপুরের বেরিবাঁধ এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা হলে সেখানে একটি নতুন ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। বাড্ডা থেকে বেরাইদ এলাকার দূরত্ব বিবেচনায় ওই এলাকাতেও নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গেন্ডারিয়া বা ওয়ারী এলাকার ঘুন্টিগড় এলাকাতেও নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মো. সরওয়ার বলেন, অনুমোদিত বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িকে পুনর্বিন্যাস করে জনবহুল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মো. সরওয়ার বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে পুলিশের উন্নয়ন ও কার্যক্রমে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সে সময় পুলিশ হয়তো বিশেষ উদ্দেশ্যে কাজ করেছে। বর্তমানে জনগণের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য। দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিককে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
পুলিশ সদস্যদের আবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ডিএমপিতে প্রায় ৮ হাজার সদস্যের নতুন আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি ও ডেমরা পুলিশ লাইন্সে ১ হাজার ৬০০ করে সদস্যের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মিরপুর পুলিশ লাইন্সে ২০ তলা ব্যারাক উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখানে ছয় তলা পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ সদস্য থাকতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, পূর্বাচলে পুলিশ সদর দপ্তরের ২০ তলা ভবনে ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশন ও ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ৮০০ থেকে ৯০০ সদস্য অবস্থান করবেন। দিয়াবাড়ির ১০ একর জায়গাজুড়ে পুলিশ লাইন্সেও ট্রাফিক পুলিশ, থানা ও ফাঁড়ি স্থানান্তরের কাজ চলছে। বসিলা পুলিশ লাইন্সে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের প্রায় ২৫০ সদস্যের অফিস চালু হয়েছে। এছাড়া রাজাবাগ পুলিশ লাইন্সের অতিরিক্ত চাপ কমাতে এমটিও ওয়ার্কশপ বসিলায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। সেখানে ১৫০ থেকে ২০০ মেকানিক পুলিশ সদস্যসহ পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্কশপ গড়ে তোলা হবে। বসিলায় ডিএমপির মোটর ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
রাজধানীতে নতুন থানা স্থাপনের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রায়েরবাজারে একটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া মোহাম্মদপুর, আদাবর ও হাজারীবাগের কিছু অংশ নিয়ে আরও একটি নতুন থানা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ভাটারা, বাড্ডা ও খিলক্ষেত এলাকার অংশ নিয়ে বসুন্ধরা নামে নতুন একটি থানা গঠন করা হবে। পাশাপাশি খিলগাঁও এলাকায়ও আরেকটি নতুন থানার প্রস্তাব রয়েছে।
পূর্বাচল এলাকায় পুলিশিং কার্যক্রম নিয়েও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মো. সরওয়ার বলেন, পূর্বাচল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে সেখানে পুলিশিং শুরু করা হবে। ওই এলাকায় চারটি থানা ও ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগ, এমটিও ওয়ার্কশপ ও পুলিশ লাইন্স স্থাপনের জন্য ৬ হাজার সদস্যের জনবলের চাহিদা রয়েছে।
জাতীয়
বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু, অনলাইনে কেনার নিয়ম
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে বিভিন্ন বাস কম্পানি সরাসরি বাস কাউন্টার ও অনলাইনে টিকিট বিক্রি করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার ২১ মে থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত যাত্রার জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে যাত্রীরা এখন থেকেই দেশের বিভিন্ন রুটের বাসের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। অনলাইন প্ল্যাটফরমেও একই ভাড়া কার্যকর থাকবে।
সংগঠনটি আরো জানিয়েছে, প্রতিটি কাউন্টারে বিআরটিএ অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে যাত্রীরা সহজেই নির্ধারিত ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারেন।
অনলাইনে টিকিট কেনার নিয়ম
অনলাইনে বাসের টিকিট কেনার জন্য বর্তমানে বেশ কিছু ওয়েবসাইট বা অ্যাপ রয়েছে। এর মধ্যে সহজডট কম, বিডিটিকিটেস, যাত্রী অন্যতম। এসব অ্যাপের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া একই রকম। ক্রেতা চাইলে ওয়েবসাইট অথবা গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ নামিয়ে টিকিট কাটতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর।
টিকিট কাটার নিয়ম
ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশের পর যে পেজ আসবে, সেখানে কোথায় থেকে গন্তব্য কোথায় এবং যাত্রার তারিখ উল্লেখ করতে হবে। এর পর সার্চ বাস অপশনে ক্লিক করতে হবে। নতুন পেজে বাসের নাম ও ছাড়ার সময় এবং মূল্য কত তা দেখাবে। সময় অনুযায়ী পছন্দের বাস সিলেক্ট এবং আসন সিলেক্ট করে নিতে হবে।
বাসের আসন চয়নের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়—যে আসনগুলো বুকিং হয়ে গেছে সেগুলো লাল অথবা কালো রং দেখাবে এবং যেগুলো এখনো ফাঁকা রয়েছে সেগুলো সবুজ অথবা সাদা রং দেখাবে। পছন্দ প্রয়োজন অনুযায়ী আসন নির্বাচন করতে হবে। এর পর যাত্রীর বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।
অনলাইন পেমেন্ট
আসন চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের পর ই-ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা পেমেন্ট করা যাবে। তবে আসন নির্বাচনের ৩০ মিনিটের মধ্যে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।
পেমেন্ট সম্পূর্ণ করার পর টিকিট ডাউনলোডের অপশন চলে আসবে। সেখান থেকে টিকিটটি ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে। যাত্রার সময় অবশ্যই টিকিটের প্রিন্টিং কপিটি সঙ্গে রাখতে হবে।
জাতীয়
বন্ধ থাকা ইস্টার্ন রিফাইনারি ফের চালু, শুরু হলো উৎপাদন
২৩ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। ক্রুড অয়েলের সংকটে গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে সৌদি আরব থেকে আমদানি করা ক্রুড অয়েল দিয়ে শোধনাগারটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে ফায়ার্ড হিটারে ক্রুড অয়েল প্রসেসিং শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পূর্ণমাত্রায় শোধন কার্যক্রম চালু করা হয়। বর্তমানে উত্তপ্ত ক্রুড অয়েল থেকে উৎপাদিত পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল নির্ধারিত ট্যাংক ফার্মে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। একই সময়ে শোধনাগারের পাশের জেটিতে থাকা লাইটারেজ জাহাজ থেকেও ক্রুড অয়েল খালাসের কাজ চলছে।
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আকতার কামাল বলেন, শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে ক্রুড অয়েল প্রসেসিং শুরু হয়েছে। দ্রুত শোধন প্রক্রিয়া শেষ করে উৎপাদিত জ্বালানি তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির কাছে সরবরাহ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েলের সংকট তৈরি হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে আনা ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ ‘এমটি নাইমনিয়া’ গত বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আনা হবে। গালফ অঞ্চলের বাইরে হওয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এ চালানে পড়বে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন রিফাইনারির দুটি ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টনসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া মজুত থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি দিয়ে শোধনাগারটি প্রায় ২৫ দিন চালানো সম্ভব।
এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করলে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ২৪ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ২১ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন অকটেন উৎপাদন করা যায়।
এদিকে চলতি মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল কেনা হয়েছে। আগামী ১০ মে ফুজাইরা বন্দর থেকে জ্বালানি বহনকারী জাহাজ ছেড়ে আসবে এবং ২৫ মে’র মধ্যে তা চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জাতীয়
জ্বালানির দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়ানোর সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার কঠোর নজরদারি রাখবে।
শুক্রবার (৮ মে) সিলেট জেলা পরিষদের ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের তদারকি অব্যাহত থাকবে এবং কেউ বাজারে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে, তা সাময়িক।
পণ্য পরিবহন ব্যয় কমাতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যথায় সরবরাহ ব্যয় কমানো সম্ভব হবে না বলেও জানান মন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধারা দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা সংশোধনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।
জাতীয়
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডনে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আগামীকাল শনিবার ৯ মে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
চিকিৎসকের পরামর্শে পূর্বের অস্ত্রোপচারের ফলো-আপ হিসেবে কেমব্রিজের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তাঁর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
শুক্রবার (৮ মে) রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরোয়ার আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান সংস্থার একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট আগামীকাল সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানাসহ পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রপতির চিকিৎসক দল এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সফরে তাঁর সঙ্গে থাকবেন।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আগামী ১৮ মে বাংলাদেশ বিমান সংস্থার একটি ফ্লাইটে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হৃদযন্ত্রে বাইপাস অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।




