জাতীয়
মাহফুজ আলমের মন্তব্য নিয়ে সরকারের বিবৃতি
উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের করা মন্তব্য নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে অর্ন্তবর্তী সরকার। সোমবার (২৭ অক্টোবর) অন্তর্বর্তী সরকারের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে দেওয়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবার পর কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বস্তুত সরকারের গৃহীত সংস্কার ও নীতিমালা প্রণয়নের কাজ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে এটা সঠিক নয়, বরং সংস্কার কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে চালু থাকবে।
এ ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা পর্যন্ত নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাবে এবং উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।
এর আগে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিট দ্য রিপোটার্স প্রোগ্রাম অনুষ্ঠানে মাহফুজ আলম বলেন, নভেম্বরের পর মন্ত্রিসভার (উপদেষ্টা পরিষদের) বৈঠক আর হবে না, তখন সরকার নির্বাচন কমিশনের অধীনে তার ভূমিকা পালন করবে।
জাতীয়
ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা কমলো ৬ মাস
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর ‘ভেরি ভেরি ইমপরট্যান্ট পারসন’ (ভিভিআইপি) মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমিয়ে দিয়েছে সরকার। ফলে আগামী ১০ আগস্টের পর তিনি আর এ বিশেষ মর্যাদা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন না; তাকে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই চলতে হবে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর এক বছরের জন্য ভিভিআইপি হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার কথা ছিলো। তবে পরবর্তীতে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন-এর আওতায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সে মেয়াদ কমিয়ে ছয় মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)-এর নিরাপত্তা ও প্রটোকল সুবিধা ভোগ করবেন। বর্তমানে তার বাসভবন ও কর্মস্থলে এসএসএফ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তার উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা তল্লাশি, দেশ-বিদেশে সফরের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, দায়িত্ব ছাড়ার ঠিক আগে নিজেকেই ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেন অধ্যাপক ইউনূস। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে ওই গেজেটটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়-এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্নও উঠেছে।
তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিলো, দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে ভিভিআইপি মর্যাদা দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ফ্যাসিস্ট হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ত্যাগ করেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী আগস্টের পর থেকে তার জন্য আর কোনও ভিভিআইপি প্রটোকল বা বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা বহাল থাকবে না—যা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতীয়
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে যুক্তরাজ্য
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সর্বদা পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের জনগণ ও তৎকালীন সরকার বাংলাদেশকে অকুন্ঠ সমর্থন জুগিয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনিস্টার ডেমোক্রেসিকে অনুসরণ করে থাকে এবং ১৯৯১ সালে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
স্পিকার আরও বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক, যেখানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটেছে। বর্তমান সরকার জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। বিশেষ করে তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক কৃষকদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বর্তমানে সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, মানসম্মত ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় হাইকমিশনার বলেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ব্রিটিশ সরকার যেকোনো ধরনের যুদ্ধ ও সংঘাতকে নিরুৎসাহিত করে এবং তারা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক অভিবাসন সংকট ও এর সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই: চিফ হুইপ
জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং জনগণের ম্যান্ডেট পূরণ করতে হলে সংবিধান সংশোধন অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। বর্তমান সরকারের সামনে এ ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যান্য চারজন হুইপও উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ বলেন, এবারের নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের প্রধান লক্ষ্য হলো জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত হুবহু বাস্তবায়ন করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করা এবং কামার, কুমার, তাঁতী, স্বর্ণকারসহ সব পেশার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের মূল দর্শন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি মানুষের কাজ না থাকে এবং কেউ না খেয়ে থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের সাফল্য কোথায়?
তিনি আরও বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্নই প্রথম। এই চাহিদা পূরণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ অপরিহার্য। গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতা থাকলে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। অন্যথায় সমাজের সব স্তরের মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, স্বাধীনতার পর এক সময় দেশে দমন-পীড়নের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিল না এবং সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে এনে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও অর্থনীতি ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন। তবে গত দেড় দশকে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদ ১১৫ নম্বর অনুচ্ছেদসহ ১৫৩টি অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনও এই সংবিধানের আওতায় শপথ নিয়েছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংবিধান সংশোধন জরুরি।
তিনি জানান, সংসদে বর্তমানে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন, যাদের সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষ হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বিরোধী দলের অনেক যোগ্য সদস্যের গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে কমিশন ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, মাত্র দুই মাস ১২ দিনের মধ্যেই সরকার বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ করাও একটি বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।
এমএন
জাতীয়
ইভিএম প্রকল্পে দুর্নীতি তদন্ত করছে দুদক, সংসদে মির্জা ফখরুল
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাস্তবায়িত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলে জানিয়েছে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে অডিট অধিদপ্তর প্রকল্পটিতে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের আপত্তি তুলেছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সংসদে জানানো হয়, জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৪ মেয়াদে এক লাখ ৫০ হাজার ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এই ইভিএমগুলো অর্পিত ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। প্রকল্পটি গত বছরের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) গত ১৩ মে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আইএমইডি) পাঠানো হলেও এখনো মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, অডিট অধিদপ্তর প্রকল্পটিতে বড় ধরনের বেশ কিছু আর্থিক অনিয়মের আপত্তি তুলেছে, যা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ১২৫তম সভায় একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীতে জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নির্বাচনে আর ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে এ ইভিএমগুলো বিভিন্ন গোডাউন এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) হেফাজতে রয়েছে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে শিমুল বিশ্বাস ইভিএম ক্রয়ের মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ অপচয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এর প্রেক্ষিতে জানানো হয়, পুরো বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অডিট আপত্তির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
এমএন
জাতীয়
দেশের ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর দেশের ৮টি বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরগুলো সব সময়ই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্কবার্তার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এটি নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমেরই অংশ।
জানা গেছে, পুলিশ সদর দফতর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে। বিমানবন্দরের কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আরও জানা গেছে, বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি। পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে। কোনও কিছু অস্বাভাবিক দেখা মাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
বেবিচকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা হুমকি আমরা পাইনি। তারপরও আগাম সতকর্তা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব বিমানবন্দরে রাতে বিমান ওঠানামা করে না সেগুলোকেও রাতে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ সদর দফতর যে চিঠি দিয়েছে তারই প্রেক্ষিতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এমনটি না, আমরা মাঝে মাঝে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে থাকি। প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা একটি দাফতরিক চিঠির মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই সতর্কতা জারি করা হয়।
পুলিশ সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ ওই চিঠির তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সুসমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
তবে সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, হুমকি না থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দফতর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এমএন



