অর্থনীতি
তিন দফা বৃদ্ধির পর কমল জেট ফুয়েলের দাম
বিমান জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের দামে দীর্ঘ সময়ের ঊর্ধ্বগতির পর এবার কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। টানা তিন দফায় বড় অঙ্কে দাম বাড়ানোর পর এবার প্রতি লিটারে প্রায় ২২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) অনুষ্ঠিত কমিশনের এক বৈঠকে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আগে ছিল ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দামও কমানো হয়েছে। আগে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ছিল ১ দশমিক ৪৮০৬ মার্কিন ডলার, যা কমিয়ে ১ দশমিক ৩৩৮৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি জানায়, নতুন এই মূল্যহার ৭ মে রাত থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে বছরের শুরুতে জেট ফুয়েলের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও পরবর্তী মাসগুলোতে একাধিক দফায় তা বাড়তে থাকে। জানুয়ারিতে দাম ছিল ৯৪ টাকার কাছাকাছি, যা ধাপে ধাপে বাড়তে বাড়তে মার্চ-এপ্রিলে দুই শতাধিক টাকার ঘর ছাড়িয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহ সংকট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাবেই মূলত এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় দাম পুনর্বিবেচনা করে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে বিমান ভাড়া ও পরিচালন ব্যয়ে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএন
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আশায় বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দুর্বল ডলার ও তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা আরও বেড়েছে। খবর রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৭৩৫ দশমিক ৩২ ডলারে। এটি ২৩ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ অবস্থান। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে হয় ৪ হাজার ৭৪৫ দশমিক ৯০ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির সম্ভাবনায় তেলের দাম কমেছে, ফলে মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বাড়ার আশঙ্কাও কিছুটা কমেছে। এতে বিনিয়োগকারীরা আবার স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ডলারের দরপতনও স্বর্ণের বাজারকে সহায়তা করেছে। কারণ ডলার দুর্বল হলে অন্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়।
অর্থনীতি
মে মাসের ৬ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার
দেশে চলতি মে মাসের প্রথম ৬ দিনেই প্রবাসী রেমিট্যান্স এসেছে ৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৬ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।
গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
অর্থনীতি
দেশের বাজারে ফের বাড়ল সোনা-রুপার দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাজারে সোনা ও রুপার নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে সংগঠনটির প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং বিষয়ক স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ মূল্য তালিকা বহাল থাকবে।
নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭৫ টাকা। ২১ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ১৯৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫ টাকায় বিক্রি হবে।
অন্যদিকে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৭২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় বিক্রি হবে।
বাজুস আরও জানিয়েছে, জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট গ্রাহকের কাছ থেকে সংগ্রহ করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি অলংকারের নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরি বা মেকিং চার্জ আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
সংগঠনটি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠানামার কারণে দেশীয় বাজারেও এই সমন্বয় আনা হয়েছে।
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে সম্পর্ক আরও উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর
শিক্ষা, কৃষি গবেষণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।
বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, শিক্ষা, কৃষি গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে। এই সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়াতে চায় ঢাকা। তার মতে, পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি সম্পর্ক উন্নয়নের একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
শ্রী ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন একটি দল গত সোমবার ঢাকায় এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দলটি বাণিজ্যমন্ত্রী শ্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় থাকবে দলটি।
বৈঠক শেষে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করা হলো কি না।
জবাবে তিনি বলেন, ‘চুক্তিতে কিছু বিষয় থাকে, যেগুলো আমরা দেখছি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয় হিসেবে। আমরা চাই যে সম্পর্ক আরও উচ্চতায় যাক। যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সেগুলোকে সম্মান জানাতে হয়।’
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘যে চুক্তির মধ্যে কনসালটেশনের ব্যাপারগুলো আছে, সেই কনসালটেশন এবং তার মেকানিজম বাড়িয়ে বাংলাদেশের স্বার্থকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে চাই। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। আমরা চাই এ বাজার আরও বাংলাদেশি পণ্যের বাজার হোক।’
শ্রী ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক প্রসঙ্গে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা অনেক পণ্য নিয়ে কথা বলেছি। নির্দিষ্ট করে বললে ওষুধ। আর অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি বিভিন্ন দেশ সফর করছি এবং আমাদের একটাই লক্ষ্য, বাংলাদেশকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।’
অর্থনীতি
আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি স্বর্ণের দামে। মার্কিন ডলারের দরপতন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিমুক্ত সম্পদের দিকে ঝোঁকার কারণে বুধবার (৬ মে) একদিনেই স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বুধবার (০৬ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে এসব তথ্য।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬৪৭.০৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে জুন মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,৬৫৮ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বগতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার অগ্রগতির খবরে বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ডলারের দুর্বলতা স্বর্ণকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার (০৫ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সামরিক অভিযান তিনি সাময়িকভাবে স্থগিত করছেন। ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথে অগ্রগতির কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা থামানোর ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। সাধারণত তেলের দাম ও ভূরাজনীতির এমন সমীকরণ স্বর্ণের বাজারকে চাঙা করে তোলে। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ওয়ান্ডার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কেলভিন ওংয়ের মতে, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও স্বর্ণে মনোনিবেশ করছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। বুধবার বিশ্ববাজারে রূপার দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৯৫ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪ এবং ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।




