আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধেও ২২ কোটি ডলারের তেল নিয়ে এগোচ্ছে ইরানি ট্যাংকার
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও প্রায় ২২ কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল নিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পৌঁছেছে ইরানের একটি বিশাল তেলের ট্যাংকার।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকম’ -এর বরাতে জানা গেছে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির মালিকানাধীন ‘হিউজ’ নামের জাহাজটি প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ডলার।
সংস্থাটি জানায়, এক সপ্তাহ আগে জাহাজটিকে শ্রীলঙ্কার উপকূলে দেখা গেলেও বর্তমানে এটি ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালি হয়ে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
মার্কিন অবরোধ ঘোষণার সময় জাহাজটি ইরানের জলসীমায় ছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজটির ট্র্যাকিং সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রাখা হয়, ফলে এর অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, তাদের অন্তত ৫২টি জাহাজ সফলভাবে অবরোধ ভেঙেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, তারা ৪১টি ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে দেশটির কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।
তথ্যসূত্র : আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক
হরমুজে মার্কিন হামলায় ৫ বেসামরিক নিহতের দাবি ইরানের
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় পাঁচ বেসামরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সোমবারের ওই অভিযানে লক্ষ্যবস্তু করা নৌযানগুলো সামরিক নয়, বরং পণ্য ও যাত্রীবাহী বেসামরিক জাহাজ ছিল বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির পর ইরানি কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে দেখেছে, ওমান উপকূলের খাসাব এলাকা থেকে ইরানের দিকে আসা দুটি ছোট পণ্যবাহী নৌকায় গুলি চালানো হয়।
তার দাবি, এসব নৌযানের সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং এতে পাঁচজন নিহত হন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরি করা ইরানি স্পিডবোট ধ্বংস করতে সি হক ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। তাদের দাবি, ছয়টি ইরানি দ্রুতগতির নৌযানকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।
মার্কিন পক্ষ বলছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজে মার্কিন বাহিনী ঢোকার চেষ্টা করলে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটি কঠোরভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ জলপথে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
সোমবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান দাবি করেছে যে হরমুজ প্রণালী-এর নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে তাদের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ কারণে এ অঞ্চলে যেকোনো নৌ চলাচল বা নিরাপত্তা কার্যক্রমে তাদের অনুমতি ও সমন্বয় বাধ্যতামূলক।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া যেন তারা এ পথে যাতায়াত না করে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়ানো যায়।
বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী-বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা-যদি হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হয় বা প্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানো হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান উত্তেজনার কারণে যেসব নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়েছে, সেগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এই উদ্যোগকে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক
মমতার গাড়ি দেখেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান, জমায়েত স্থলে ভাঙচুর
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনাকেন্দ্রে পৌঁছানোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা; এ সময় উত্তেজনার মধ্যে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মমতার আগমনের আগেই সেখানে বিজেপি কর্মীদের জটলা ছিল এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তার গাড়ি গণনাকেন্দ্রে পৌঁছালে ‘চোর-চোর’ ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি সমর্থকরা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোনোর কিছু আগেই ওই কেন্দ্রের অদূরে একটি পাম্পে বসেছিলেন তৃণমূলের কর্মীরা। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও সেখানে ছিলেন।
পরে জানা যায়, পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের সেখান থেকে উঠে যেতে বলে। যদিও ওই সময়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সেখানে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর কিছু পরেই এজেসি বোস রোড ধরে এগিয়ে আসা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় পুলিশের। পরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূলের জমায়েতস্থলে পৌঁছে যায়। তৃণমূল কর্মীদের পেতে রাখা চেয়ার ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভোট গণনা কেন্দ্রের চত্বরে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। বাড়ানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যাও। এর মধ্যেই বিজেপি সমর্থকরা মমতার বিরুদ্ধে ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন। ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও।
গণনা কেন্দ্রের কাছে মোতায়েন পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা ওই বিজেপি সমর্থকদের সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। তারা বিজেপির সমর্থকদের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলচত্বর থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান।
ভবানীপুর আসনে মোট ২০ রাউন্ড গণনা রয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ২০টির মধ্যে ১২টি রাউন্ডের ফল ঘোষণা হয়েছে। গণনাপর্বে সকাল থেকে দৃশ্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে ভবানীপুরে। প্রথম দিকে কখনও মমতা, কখনও শুভেন্দু এগিয়ে ছিলেন। তার পরের বেশ কয়েকটি রাউন্ডে এগিয়ে যান মমতা। আবার কিছু রাউন্ডে ব্যবধান কমাতে শুরু করেন শুভেন্দুও।
সূত্র: আনন্দবাজার
আন্তর্জাতিক
প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই চমকের পথে থালাপতি বিজয়
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপরাস্টার থালাপতি বিজয় (সি. জোসেফ বিজয়) প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন অংশ নিয়েছেন। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) চমক দেখানোর পথে আছে। থালাপতি বিজয় দুটি আসন থেকে নির্বাচন করছেন, পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব)।
নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে আছে, স্নাতকদের জন্য মাসে ৪ হাজার রুপি ভাতা, নারীদের জন্য ২ হাজার ৫০০ রুপি সহায়তা এবং বিয়ের উপহার হিসেবে সোনা ও শাড়ি। এছাড়া তিনি সরকারি পরীক্ষাগুলো সময়মতো নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, তামিলনাড়ুতে ভোট গণনা চলছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার দল ১০১ আসনে এগিয়ে আছে। এআইএডিএমকে জোট এগিয়ে আছে ৭৮ আসনে এবং ডিএমকে এগিয়ে আছে ৫০ আসনে। এই রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য ১১৮টি আসন লাগে।
নির্বাচনে তিনি নিজেকে ‘প্রত্যেক তামিল পরিবারের সদস্য’ হিসেবে প্রচারণা চালান। এছাড়া বর্তমান শাসক দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমকে (ডিএমকে) সরাতে ‘হুইসেল রেভলিউশনের’ ডাক দেন। তার এই সিদ্ধান্ত কিছুটা ১৯৯১ সালে জয়ললিতার দুই আসনে লড়ার কৌশলের মতো। তবে বর্তমান তৃতীয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী উধয়নিধি স্ট্যালিন বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।
বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছে সফল চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার থেকে। তবে তার পথে কিছু চ্যালেঞ্জও ছিল। যেমন ২০২৫ সালের কারুর স্ট্যাম্পিড-সংক্রান্ত তদন্ত। তবুও তিনি কোনো জোটে না গিয়ে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ‘আদর্শগত শত্রু’ ও ডিএমকেকে ‘রাজনৈতিক শত্রু’ বলেছেন।
তিনি সম্পদের দিক থেকেও আলোচনায় ছিলেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬২৪ কোটি রুপি, যা দেখে বোঝা যায় এই নির্বাচনের সবচেয়ে ধনী প্রার্থীদের একজন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি আলোচনায় ছিলেন, বিশেষ করে তার স্ত্রী সঙ্গীতার সঙ্গে বিচ্ছেদের খবরের কারণে।
পেরাম্বুর আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার এবং তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব) আসনে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার। এই দুটি এলাকাতেই শ্রমজীবী ও খ্রিস্টান ভোটারদের বড় অংশ আছে, যা বিজয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পেরাম্বুরে তিনি লড়ছেন ডিএমকের আর. ডি. সেকারের বিরুদ্ধে, আর তিরুচিরাপল্লিতে (পূর্ব) তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকের ইনিগো ইরুদয়ারাজ এবং এআইএডিএমকের কে. রাজাসেকরান।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে এই দুই আসনই ডিএমকে জোট জিতেছিল। তাই এবার বিজয়ের একক লড়াই তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী দুই দলের প্রতিযোগিতাকে ত্রিমুখী লড়াইয়ে পরিণত করেছে।
আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত ফলাফলের ধারায় সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তুঙ্গে। দলটির শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১৮৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ১০৫টি আসনে। এ পরিস্থিতিতে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও নির্বাচনের চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। আসামে ক্ষমতাসীন বিজেপি অধিকাংশ আসনে এগিয়ে রয়েছে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে–কংগ্রেস জোট এবং কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে।
আসামের ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে বড় ব্যবধানে, যেখানে কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পরই পরিষ্কার হবে চূড়ান্ত চিত্র। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও পিটিআই




