অর্থনীতি
৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন
দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরকারি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিজেল কেনা হবে।
এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এক লাখ টন ডিজেল কেনা হবে। পাশাপাশি সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেডের কাছ থেকে আরও দুই লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
অর্থনীতি
ভিসা বন্ডের অর্থ পাঠানোর অনুমতি দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বিদেশি দূতাবাস, হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ভিসা বন্ড ও ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (১১ মে) জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে ভিসা বন্ড বা ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট বাধ্যতামূলক হলে ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর পক্ষে ওই অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে। বিদেশে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের ভোগান্তি কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর নামে আন্তর্জাতিক বা ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করতে পারবে, যেখানে ভিসা বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিটের প্রয়োজনীয় অর্থ প্রিলোড করা থাকবে। এ ছাড়া যেসব গ্রাহকের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক কার্ড রয়েছে, তাদের কার্ডেও ভ্রমণ কোটার আওতায় এ উদ্দেশ্যে অর্থ পুনরায় লোড করা যাবে। তবে সেই অর্থ শুধু ভিসাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতে হবে।
এই সুবিধা এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব, রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব অথবা এসব হিসাবের বিপরীতে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে।
অর্থনীতি
জ্বালানি সংকট সমাধান ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগে আস্থা ফিরবে না
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে না।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
আশিক চৌধুরী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনা শুধু বিডার একার দায়িত্ব নয়। সরকারের ভেতরে “ছোট ছোট সরকার” রয়েছে, যার কারণে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে না। এবারের বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, দেশে ব্যবসা করা যেন বড় ধরনের অন্যায়। ব্যবসায়ীদের জন্য সৎভাবে ব্যবসা করার উপযোগী পরিবেশ নেই এবং এ পরিস্থিতির জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেই দায়ী করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার ৬ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। কিন্তু এসব না দিয়ে জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অর্থনীতি
বিদেশি বিনিয়োগ আনা শুধু বিডার দায়িত্ব নয়: আশিক চৌধুরী
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) একার নয় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই বিনিয়োগ কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘বাণিজ্য নীতি, শিল্প সুরক্ষা, বিনিয়োগের প্রভাব ও ভোক্তা কল্যাণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) সহযোগিতায় পিআরআইয়ের সেন্টার ফর ট্রেড অ্যান্ড প্রটেকশন পলিসি রিসার্চ (সিটিপিপিআর) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার।
আশিক চৌধুরী বলেন, সরকারের ভেতরে ‘ছোট ছোট সরকার’ তৈরি হওয়ায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে জ্বালানি সংকট সমাধানকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আসন্ন বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, দেশে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তার মতে, সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ না থাকায় উদ্যোক্তারা নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন, যার জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিপুল পরিমাণ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার পরিবর্তে সরকারকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অর্থনীতি
বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে নিয়মিতভাবে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে এবং বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, গত রমজানে প্রায় দুই কোটি আটাশ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় দুই কোটি আটাশি লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। একইভাবে গত বছরের ঈদুল আজহায় প্রায় দশ হাজার নয়শত টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হলেও এবার তা বাড়িয়ে প্রায় চৌদ্দ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় চল্লিশ শতাংশ বেশি।
মন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব বা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের সময় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু রাখবে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত।
তিনি জানান, পূর্ববর্তী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় উনষাট লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় আশি লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও বিশ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
টিসিবির ডিলার নিয়োগেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, টিসিবিকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর, জবাবদিহিমূলক এবং প্রশ্নহীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিসিবির ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
অর্থনীতি
গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চায় রেস্তোরাঁ মালিকরা
দেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরবরাহ কমেছে, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে কমেছে গবাদিপশু পালনও। এই পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে নিজেরাই সরাসরি গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
রবিবার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের সংকট ও ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরী ও দপ্তর সম্পাদক আমির হোসেনসহ নেতারা।
সমিতি জানায়, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিন্ডিকেটের কারণে পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় অনেক এলাকায় গবাদিপশু পালন কমে গেছে এবং সরবরাহ সংকট তীব্র হয়েছে। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের রেস্তোরাঁ খাতে।
মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ থেকে ৫ শতাংশে নামানো হলেও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে করসহ অন্যান্য করের ভার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাই আগামী বাজেটে কর সহনীয় রাখা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্যানটিন ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট ৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
এলপিজি গ্যাস সংকটকে আরেকটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক নতুন ও ছোট রেস্তোরাঁ গ্যাস সংযোগের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। পরিকল্পিতভাবে নতুন সংযোগ দেওয়া হলে এলপিজির ওপর নির্ভরতা ও ব্যয় দুটোই কমবে। এছাড়া কিছু অসাধু গোষ্ঠী ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি ও চাঁদাবাজি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
১১ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে— রেস্তোরাঁ পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, রেস্তোরাঁ খাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্প হিসেবে ঘোষণা এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ।




