অর্থনীতি
দেশের বাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম, কত দামে বিক্রি হচ্ছে আজ
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
এর আগে সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। তখন ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা। নতুন ওই দাম কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২১ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল— যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস করা হয়।
স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ২৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বেড়েছে এবং ১৩ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।
অর্থনীতি
রাজস্বে বড় ধাক্কা : ৮ মাসে ঘাটতি ৭১ হাজার কোটি টাকা
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি ৭১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যেখানে সাত মাস শেষে জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর ৬ মাস শেষে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে ক্রমবর্ধমান হারে। যদিও ১৩.৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। যা রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদরা।
এনবিআর থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অথচ এ সময় রাজস্ব আয়ের তিনটি খাতে রাজস্ব ঘাটতি ৭১ হাজার ৪৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে আদায় হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩.৩৬ শতাংশ। গত অর্থবছরে একই সময়ে আদায় হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্যানুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতে ঘাটতি ৩৩ হাজার ৩৭৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
ওই সময়ে আয়কর খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অথচ আদায় হয়েছে মাত্র ৮৫ হাজার ১৩৬ কোটি ৬ লাখ টাকা।
আমদানি-রপ্তানি শুল্কে ৮৯ হাজার ৭৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় মাত্র ৭১ হাজার ৯১২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ঘাটতি ১৭ হাজার ১৬৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা
অন্যদিকে একই সময়ে ভ্যাট খাতে আদায় হয়েছে ৯৭ হাজার ২৮১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ২১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ভ্যাট খাতে ঘাটতি ২০ হাজার ৯৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
একক মাস হিসেবে ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায়েও মন্দা ভাব দেখা গেছে। এ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৫১ কোটি ২১ লাখ টাকা, বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৫৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ঘাটতি প্রায় ১১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয় বলে জানা গেছে।
অর্থনীতি
৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন
দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরকারি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিজেল কেনা হবে।
এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এক লাখ টন ডিজেল কেনা হবে। পাশাপাশি সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেডের কাছ থেকে আরও দুই লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে ফের কমলো স্বর্ণের দাম
টানা দুই সেশন বাড়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন দেখা গেছে। একইসঙ্গে নিম্নমুখী রয়েছে রুপাসহ অন্যান্য ধাতুর দামও।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্সের তথ্যমতে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে এপ্রিল মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৫৭ ডলারে নেমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে অগ্রগতির স্পষ্ট ইঙ্গিতের অপেক্ষায় থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, যা বৈশ্বিক আর্থিক ও মুদ্রানীতির দিক-নির্দেশনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় স্বর্ণের দাম মূলত আলোচনা-সংক্রান্ত খবরের ওপরই নির্ভর করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্রায় চার সপ্তাহের লড়াই শেষ করতে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মরিয়া।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে খণ্ডন করেছেন, তিনি আগে জানিয়েছিলেন যে, তাদের দেশ মার্কিন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে সংঘাত নিরসনে কোনো আলোচনা করার ইচ্ছা নেই।
বিশ্ববাজারে অন্যান্য ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমেছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৯৩ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবশেষ টানা ৬ দফায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে মোট ২৮ হাজার ৯৮৫ টাকা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে আবারও ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ আগ্রাসনের মধ্যেই বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে ব্যবসায়ীদের পর্যালোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
এদিকে রাশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.১৩ ডলার (১.১ শতাংশ) বেড়ে ১০৩.৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ১.০৮ ডলার (১.২ শতাংশ) বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয়েছে ৯১.৪০ ডলার। অথচ আগের দিন উভয় ক্ষেত্রেই তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সমাধানের নতুন সম্ভাবনা তেলের দামের এই পুনরুত্থানে ভূমিকা রেখেছে, যদিও যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাজারে আশাবাদ এখনো বেশ সীমিত।
সূত্র : সামা টিভি
অর্থনীতি
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের বৈদেশিক ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এ তিন মাসেই বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বর শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে প্রায় দেড় বছরে ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ ছিল ৯২ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতে একই সময়ে ঋণ বেড়ে ১৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
ফলে মোট ঋণ বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সরকারি খাতই এগিয়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নয়ন ব্যয় মেটানো ও বাজেট ঘাটতি সামাল দিতেই সরকার বেশি ঋণ নিচ্ছে। গত এক দশকে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ ধারা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে বাজেট ঘাটতি পূরণ, সরকারি বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণের পরিমাণের চেয়ে বড় উদ্বেগ হলো সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ। সামনে বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রত্যাশামতো না বাড়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বৈদেশিক অর্থায়ন প্রয়োজন হলেও ঋণ ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাঁরা ঋণের কার্যকর ও উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানো এবং নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক ঋণ তাৎক্ষণিকভাবে সংকটজনক না হলেও এর সঠিক ব্যবস্থাপনাই নির্ধারণ করবে এটি ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য বোঝা হবে, না কি উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন



