ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে ইবিতে কড়া নিরাপত্তা
গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের (বাণিজ্য) ভর্তি পরীক্ষা (শুক্রবার ২৭ মার্চ) শুরু হয়েছে। ‘সি’ ইউনিটের ২৫ হাজার ২১৬ জন ভর্তিচ্ছু পরিক্ষার্থীর মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসবে ১ হাজার ৪৫৬ জন ভর্তিচ্ছু পরিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
চলতি শিক্ষাবর্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ২১৭৭৪ জন ভর্তিচ্ছু অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে ২৭ মার্চ বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বাণিজ্য শাখার (সি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে ১৪৫৬ জন ভর্তিচ্ছু পরিক্ষার্থী।
৩ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মানবিক শাখার (বি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় ৯ হাজার ১৩৩ জন এবং ১০ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বিজ্ঞান শাখার (এ ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় ১১ হাজার ১৮৫ জন ভর্তিচ্ছু বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করবে। একই দিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ ইউনিটভুক্ত আর্কিটেকচার বিভাগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে এনএসআই, ডিজিএফআই ও ডিএসবি কার্যক্রম শুরু করেছে এবং পুলিশ ও আনসার বাহিনী সারারাত ক্যাম্পাসে টহল দিবে। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় চার স্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেখানে পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
অভিভাবকদের জন্য ইবি থানার সামনে বিশেষ কর্নার, বসার স্থান ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রধান ফটকের উত্তর পাশে তথ্য ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং দুটি মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। অসুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ব্যাগ ছাড়া কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গতবছরে পরীক্ষা পরিবেশকে সুন্দর রাখার জন্যে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সারা বাংলাদেশের সকল ছাত্র সংগঠন এবং সাংবাদিক সকলে সহযোগিতা করেছে।
আশা করি এবছরও পরিক্ষার পরিবেশ এই ভাবেই থাকবে এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছেও এই তথ্য আছে। তাদের পক্ষ থেকেও সিকিউরিটির পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই পরীক্ষার বিষয়ে একেবারে কেন্দ্রীয় পুলিশ থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশের সিকিউরিটির সবাই এখানে কানেক্টেড আছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
দেশে নতুন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী
দেশে আরও বেশ কিছু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ১১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে ৫৭টি ভালো মানের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত পাকিস্তান-বাংলাদেশ জ্ঞান বিনিময় করিডোর উদ্বোধন ও এডুকেশন এক্সপো-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে শিক্ষা ও জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং যোগ্য শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার মাধ্যমে সেখানে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সেখানে উচ্চশিক্ষায় অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ’ কর্মসূচি সফল হবে বলে তিনি আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ইমরান হায়দার জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামেও পাকিস্তান-বাংলাদেশ এডুকেশন এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, এই আয়োজন দুই দেশের শিক্ষা, জ্ঞান ও সংস্কৃতি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ঢাবির সহকারী প্রক্টর মোনামির পদত্যাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগের পর এবার সহকারী প্রক্টরের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। সোমবার (১১ মে) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি জানান।
ফেসবুক পোস্টে মোনামি লেখেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকতা জীবনের সাত বছরে কখনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভাবেননি। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও প্রশাসনিক কোনো পদে কাজ করার আগ্রহ ছিল না তার। তবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ তাকে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দিলে তিনি উচ্ছ্বসিত হন।
তিনি আরও লেখেন, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা থেকে দেশের জন্য এবং নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করার সুযোগকে তিনি সৌভাগ্য হিসেবে দেখেছিলেন। বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের আহ্বানও তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেননি।
পোস্টে সাইফুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মোনামি বলেন, গত দুই বছরে তিনি শিখেছেন কীভাবে একজন প্রক্টরকে অসীম ধৈর্য নিয়ে কাজ করতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্তভাবে সামাল দিতে হয় এবং আত্মসম্মান বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
তিনি দাবি করেন, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সাইফুদ্দীন আহমদ শিক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীল ও মানবিক ছিলেন। তার নেতৃত্বে প্রক্টরিয়াল টিমও শিক্ষার্থীদের প্রতি একই মনোভাব নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছে।
নিজের দায়িত্ব পালন নিয়ে মূল্যায়ন করতে না চাইলেও মোনামি বলেন, একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্বে এবং একটি চমৎকার দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জুলাই ও পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রক্টর ও তার টিম সম্ভবত আগে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও নাও হতে পারে।
সবশেষে নতুন প্রক্টর ও তার টিমকে শুভকামনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবেন।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হলেন ইসরাফিল রতন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ইসরাফিল রতন। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অধ্যাপক ইসরাফিল রতন চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্যের অনুমোদনে ১০ মে থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে আজ দুপুরের দিকে প্রক্টরের দায়িত্ব ছাড়েন অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি জানান, ‘ ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করছি, কোন চাপে পড়ে না।’
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ পদত্যাগ করেছেন। রোববার (১০ মে) তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি গত ২০ মাস প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার সুযোগকে নিজের জন্য সম্মানের বলে উল্লেখ করেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সাইফুদ্দীন আহমদ জানান, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আমি প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। মাত্রই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছি। আমি এই মুহূর্তে কিছুটা বিশ্রামে থাকতে চাই। তাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তবে তার পদত্যাগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর হিসেবে কে দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে বুয়েট শিক্ষিকার মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফিফা রহমান নাইমা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনে পিএইচডি করছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিকট আত্মীয় ও সহকর্মীরা।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় জটিলতা দেখা দিলে আফিফা কয়েকদিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
বুয়েটের সাবেক শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘বুয়েটে পানিসম্পদ কৌশল বিভাগে এক সময়ে শিক্ষক থাকায় চাকরি ছেড়ে দেবার অনেক বছর পরেও পানিসম্পদ কৌশলের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে ফেইসবুকে যুক্ত আছি।
সেরকমই একজন ছিল আফিফা রহমান নাইমা! ছিল বললাম – কারন আজই ওর মৃত্যুর দু:সংবাদ টা পেলাম। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন! সন্তান জন্ম দেবার সময়ের জটিলতা নিয়ে আইসিইউ তে ছিল কয়েকদিন ধরে। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল।
পানিসম্পদ কৌশল এর সহকারী অধ্যাপক ছিল, পিএইচডি করছিল আরবানা তে। খুব কম বয়সে একটি প্রতিভা হারিয়ে গেল আমাদের কাছ থেকে। দোয়া করি আল্লাহ ওকে বেহেশত নসীব করুন। সেই সাথে প্রার্থনা রইল ওর স্বামী ও দুটি সন্তানের জন্য।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের পিএইচডি স্টুডেন্ট আফিফা রহমান নাইমা ইন্তেকাল করেছেন।
আফিফা ও ওর হাজবেন্ড মো. ইফতেখার ইসলাম সাকিব আমাদের আরবানার খুব ক্লোজ প্রতিবেশি, ফ্রেন্ড। ওরা দুজনেই ওখানে পিএইচডি স্টুডেন্ট, বুয়েটের শিক্ষক। গত চার বছরের কত স্মৃতিগুলো ভাসছে চোখের সামনে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে রাহনুমার কাছ থেকে আপডেট নিচ্ছিলাম, ও বলতেছিলো আপুর বাঁচার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এটা শুনতেই খারাপ লাগতেছিলো- বললাম, এভাবে বলো না, আল্লাহ চাইলে তো শেষ মুহূর্তেও ফিরিয়ে দিতে পারেন। ২য় সন্তান জন্মের সময় ডেলিভারি সংক্রান্ত জটিলতা হয়।
ডাক্তাররা ইমার্জেন্সি সিজার করেছেন। ইউএস সময় আজ শুক্রবার বিকেলে (ঘন্টা দুয়েক আগে) আফিফাকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করে ভেন্টিলেশন খুলে নেয়। বড় বাচ্চাটার বয়স মাত্র দেড় বছর। দুইটা অবুঝ শিশু কিছু বুঝে উঠার আগেই মাকে হারিয়ে ফেললো চিরদিনের জন্য।
ঘুম থেকে উঠে খবরটা শোনার পর থেকে অস্থির লাগতেছে। আল্লাহ আফিফার পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন, তার মৃত্যুকে শহীদি মৃত্যু হিসেবে কবুল করুন।’
অন্যদিকে লাইসা সালমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তুমি তো শহীদী মৃত্যু নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেলে। আমি জীবনে কোনো আত্মীয়ের মৃত্যুতেও এত কষ্ট পাইনি। তোমার চলে যাওয়া আবারও আমাকে মনে করিয়ে দিল, দুনিয়া আসলে কতই না অস্থায়ী।
তোমার মতো ভালো মানুষ, এত ব্রিলিয়ান্ট, উপকারী এবং সফট-হার্টেড মানুষ খুব কমই দেখা যায়। আল্লাহ তোমাকে অনেক অনেক শান্তিতে রাখুন। তুমি জান্নাতুল ফেরদৌস লাভ করবে, ইন শা আল্লাহ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এই দুনিয়ায় যাদের রেখে গেলে, তোমার বুকের মানিকদের, সাকিব ভাই, তোমার মা-বাবা, আল্লাহ ধৈর্য দান করুন। আল্লাহ তাদের হেফাজতকারী হোন। আমরা সবাই তোমার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করেছি।
বাকি জীবন তুমি সবসময় আমাদের মনে এবং দোয়ায় থাকবে। তোমার সাথে কাটানো সব স্মৃতি এখন বারবার মনে পড়ছে। তোমার দেওয়া ছোট একটা চামচও আমি যত্ন করে রেখে দিছি।’
আফিফা রহমান নাইমার মৃত্যুতে তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




