জাতীয়
চিকিৎসক হিসেবে আমি প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
দুই দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার : গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তার এ সফর।
মঙ্গল ও বুধবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চল্লিশের অধিক ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। সম্মেলনে চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতির কথা জানান ডা. জুবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন এবং উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের প্রতি যত্ন নেওয়া ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তন ও সমৃদ্ধি আনয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার প্রতিনিধিদল প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের উন্নয়ন বিষয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যত্ন, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, আজ এই ঐতিহাসিক ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার : গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষ সম্মেলনে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারা বিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে— আমাদের শিশুদের প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনা। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা যে যত্ন প্রদান করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তা-ই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমি আমার দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার স্বামী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আমাদের সদ্য নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করে। একজন চিকিৎসক হিসেবে, আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যেখানে শুধু চিকিৎসার উপরই নয়, জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিরোধের উপরও জোর দেওয়া হয়।
অন্তর্ভুক্তি ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ’ এবং ‘সুরভী’র সামাজিক এবং অলাভজনক সংগঠনের সঙ্গে আমার কাজ শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রসারে আমার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপকরণের সহজলভ্যতা এখনো অধরা। আমাদের সরকার ডিজিটাল যুগে উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। আমাদের সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করছে, শিক্ষণ উপকরণ হালনাগাদ করছে, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে। শ্রেণিকক্ষগুলো মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিকশিত হচ্ছে, যা দলবদ্ধ কাজ, সৃজনশীলতা এবং আদর্শ স্থাপনে উৎসাহিত করছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি (এডটেক), শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। একইসঙ্গে, আমরা এই সরঞ্জামগুলোর নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারি খাতের ভিত্তি স্থাপন করে লাখ লাখ নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবারগুলো শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে। আমরা অংশীদারত্বের গুরুত্বও স্বীকার করি। বেসরকারি খাত এবং আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সকলের জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই। শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করতে, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করতে এবং প্রতিটি শিক্ষণ যাত্রাকে ব্যক্তিগতকৃত করতে চাই। একসঙ্গে, আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি যা হবে সহনশীল, সহানুভূতিশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, জ্ঞান বিনিময়, একে অপরের কাছ থেকে শেখা এবং সীমানা পেরিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা কেবল আমাদের দেশগুলোকেই শক্তিশালী করি না, বরং আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করি এবং বিশ্ব এর উত্তরাধিকারী হবে।
জাতীয়
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপের আহ্বান
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ডা. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন।
রোববার (১০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানায় ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন একেএম গোলাম কিবরিয়া।
মিট দ্যা প্রেসে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি চারটি সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এগুলো হলো- রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা; রোহিঙ্গা তরুণদের জন্য টেকসই শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা; রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহে দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফাউন্ডেশন। এতে বলা হয়, বিষয়টি আর কেবল শরণার্থী সংকট নয়; এটি ধীরে ধীরে আঞ্চলিক ও জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।
ফাউন্ডেশন জানায়, ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে পরিচালিত তিন দিনের জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমে তারা এক হাজার ৪০০ বেশি রোগীকে চিকিৎসা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তরুণদের শিক্ষার অভাব, দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এবং কাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অনুপস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের অপরাধচক্র, মাদকাসক্তি, মাদক ও মানবপাচার, সাইবার অপরাধ, উগ্রবাদ ও সামাজিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে ফাউন্ডেশন।
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম কিবরিয়া বলেন, সংক্রামক রোগের বিস্তার, অপুষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা মিলিয়ে এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘জৈবিক টাইম বোমা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভাইরাস ও রোগের বিস্তার কোনো সীমান্ত মানে না। তাই শরণার্থী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরাসরি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া বলেন, ফাউন্ডেশনের বৈশ্বিক মানবিক উদ্যোগ ‘ফাইভ জিরো গ্লোবাল ক্যাম্পেইন’ স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে। এর মূল দর্শন ‘অনুদানের ঊর্ধ্বে মানবতা- শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নতুন পথ’। মানবিক পরিবর্তন শুধু আর্থিক অনুদানের ওপর নির্ভর করতে পারে না; এর জন্য প্রয়োজন সরাসরি মানবিক অংশগ্রহণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক সংহতি।
মিট দ্যা প্রেসে জানানো হয়, সম্প্রতি ফাউন্ডেশনের নেতারা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মি. ভলকার তুর্ক-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের আওতায় রোহিঙ্গা মানবিক সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান বিষয়ে যৌথ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে। সেখানে আমরা চারটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হল- রোহিঙ্গা নির্যাতনে যারা জড়িততাদের বিচার করা, তাদের প্রত্যাবসন নিশ্চিত করা, ক্যাম্পের তরুণ প্রজন্ম কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা এবং এই কাজে পৃথিবীর সবাই মিলে কাজ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক পরিচালক (স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন) ডা. সুলতানা খানম, এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের একাডেমিক ডিরেক্টর রণজিত দস্তিদার প্রমুখ।
জাতীয়
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১০ মে) সকালে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের বর্ণিল প্যারেড শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার নিপীড়িত-নির্যাতিত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময় শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়।
তিনি বলেন, দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম- অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটি আপনাদের কাছে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।
সরকারপ্রধান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা এবং পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খল রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সুতরাং শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আজ থেকে শুরু হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। আগামী বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত উদযাপিত হবে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।
জাতীয়
হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয় ১ হাজার ৪৩৫ শিশুর।
শনিবার (৯ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৬। সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭৬৯। আর একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৮৯। গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৯১। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকায়। ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৯ শিশু। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশু। এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩১ শিশু এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন।
জাতীয়
বিশ্বব্যাপী একই দিনে ঈদ পালনের দাবি দলীলভিত্তিক নয়: বায়তুল মোকাররমের খতিব
বিশ্বব্যাপী একই তারিখে রোজা ও ঈদ পালনের দাবি দলীলভিত্তিক নয় এবং কার্যক্ষেত্রে এর বাস্তবায়নও অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। শনিবার (৯ মে) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ইসলামি শরিয়তে চন্দ্রমাস শুরুর মানদণ্ড হলো হেলাল দেখা বা হেলালের সাক্ষ্য, অন্যথায় মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করা। এ মানদণ্ড বাদ দিয়ে অমাবস্যা থেকে মাস শুরু করা শরিয়ত পরিবর্তনের শামিল। একইভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক আগাম প্রস্তুতকৃত ক্যালেন্ডারকে মানদণ্ড বানানোও স্পষ্ট নাজায়েজ।
তিনি বলেন, মুসলমানদের ঈদ নিছক আনন্দ-উৎসব নয়, বরং এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই একে অন্যদের উৎসবের আদলে উদযাপনের চিন্তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। হেলাল দেখাকে একমাত্র ভিত্তি ধরে পুরো বিশ্বে একই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উম্মতের ইজমা পরিপন্থী এবং নির্দিষ্ট কোনো শহরের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে অন্য অঞ্চলের সিদ্ধান্ত নেওয়াও শরিয়তসম্মত নয়।
খতিব আরও বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যে পদ্ধতিতে রোজা ও ঈদ পালিত হয়ে আসছে, দেশের অধিকাংশ আলেম-মাশায়েখ সে বিষয়ে একমত। তাই এই ধারা পরিবর্তনের কোনো শরয়ি কারণ নেই, বরং পরিবর্তন করলে সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি না থাকলে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে চলা মুসলিম নাগরিকদের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মাহমুদুল হাসান। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো, আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।’ এ সময় তিনি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।
আজ সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ‘নতুন সংগ্রামে’ নামতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন।
আমি বলেছিলাম নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।’
নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেওয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো।
নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কারণ ভোট দেওয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম, আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দেব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে।
নারী-পুরুষ, শিশু সবাই নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।’
তিনি বলেন, আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম তখন বলেছিলাম যে আমাদের ওপরে যে রকম অত্যাচার-নির্যাতন হচ্ছে, গুম-খুনের শিকার হতে হচ্ছে, তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক, যেখানে আমরা বিতর্ক করব, স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করব।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সে জন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে, অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।’
এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়।
দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনও উপস্থিত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।




