পুঁজিবাজার
ঈদের ছুটি শেষে পুঁজিবাজারে সূচকের পতনে সপ্তাহ শুরু
ঈদ পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের নেতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪৩ শেয়ারের দর কমেছে। টাকার অংকে লেনদেনের পরিমান গত কার্যদিবসের তুলনায় সামান্য বেড়েছে ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ৬৮ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট কমেছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে।
এছাড়া, ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমে ১০৭২ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ৩৯ দশমিক ৩২ পয়েন্ট কমে ২০১১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ ৬ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২১টি কোম্পানির, বিপরীতে ২৪৩ কোম্পানির দর কমেছে। পাশাপাশি ২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এমএন
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে মার্কেন্টাইল ব্যাংক
গত সপ্তাহে (০৩-০৭ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বোচ্চ দর পতনের তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ২০.৪৫ শতাংশ। একই সঙ্গে টপটেন লুজার তালিকার ৮০ শতাংশ জুড়েই রয়েছে ব্যাংক খাতের কোম্পানি।
ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সপ্তাহের দর পতনের তালিকায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরে রয়েছে সিটি ব্যাংক, যার শেয়ার দর কমেছে ১৮.১৮ শতাংশ। এছাড়া এবি ব্যাংকের ১৩.২১ শতাংশ, ইস্টার্ণ ব্যাংকের ১২.৭৭ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ১২.২৪ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১১.১১ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংকের ১০.১১ শতাংশ এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ১০.০৭ শতাংশ।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে ডমিনেজ
বিদায়ী সপ্তাহে (০৩-০৭ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট ৪ হাজার ১৫১ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ১০টি কোম্পানির শেয়ারেই লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ২৩.৯২ শতাংশ।
ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে মোট ৩৯২টি কোম্পানির সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ কোম্পানি মিলে সপ্তাহের মোট লেনদেনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ দখলে রেখেছে।
সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ডমিনেজের শেয়ারে। কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে ৩১ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩.৭৭ শতাংশ।
শীর্ষ ১০ কোম্পানির বাকিগুলোর মধ্যে এনসিসি ব্যাংক ৩.১০ শতাংশ, লাভেলো আইসক্রীম ২.৭৩ শতাংশ, মুন্নু সিরামিক ২.৪৯ শতাংশ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ২.৪৭ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ২.০৭ শতাংশ, মীর আখতার ১.৯৩ শতাংশ, বেক্সিমকো ফার্মা ১.৮৪ শতাংশ, জিকিউ বলপেন ১.৮৩ শতাংশ এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ১.৬৯ শতাংশ লেনদেন করেছে।
পুঁজিবাজার
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও কমেছে ০.৯৭ শতাংশ
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (০৩-০৭ মে) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর পিই রেশিও হ্রাস পেয়েছে ০.৯৭ শতাংশ।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.২২ পয়েন্টে। সপ্তাহ শেষে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৯.১৩ পয়েন্টে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ০.০৯ পয়েন্ট বা ০.৯৭ শতাংশ কমেছে।
পুঁজিবাজার
ডিএসইর বাজার মূলধন কমলো ৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা
বিদায়ী সপ্তাহে (৩ মে থেকে ৬ মে) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়েছে। এতে সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা।
পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)
সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা।
চলতি সপ্তাহে ডিএসইতে একটি বাদে কমেছে বাকি সব কয়টি সূচকের মান। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৫২.৭৭ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ। ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ১৫.৪০ পয়েন্ট বা ০.৭৬ শতাংশ। তবে ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ৫.৩৭ পয়েন্ট বা ০.৫১ শতাংশ।
ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ১৫১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৪ হাজার ৭১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ৫৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ১১.৯৯ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৯৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৯২টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪১টি কোম্পানির, কমেছে ২২২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)
এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ০.৬৯ শতাংশ ও ০.৫০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৭০২.৭৩ পয়েন্টে ও ৯০৪৮.০২ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৩০ সূচক ০.৭৩ শতাংশ ও সিএসই-৫০ ১.০৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১২৯৬২.৭৯ পয়েন্টে ও ১১০০.৬৩ পয়েন্টে। তবে সিএসআই সূচক বেড়েছে ০.৪৯ শতাংশ। সূচকটি অবস্থান করছে ৮৯৩.০৮ পয়েন্টে।
চলতি সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১০৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ১৪৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সপ্তাহ ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩০৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৫১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির কোম্পানির শেয়ার দর।
পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে ডিএসই
দেশের পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, সুশাসন, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ এর সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রতিনিধিদলের মধ্যে ছিলেন পরিচালক সৈয়দ হাম্মাদুল করিম, স্নেহাশীষ বড়ুয়া, এফসিএ মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, মো. সাজেদুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।
বৈঠকে ডিএসই পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পুঁজিবাজার উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবনাগুলোর মূল লক্ষ্য হলো পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যায়ে উন্নীত করা।
বৈঠকে উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল রিয়েল টাইম গ্রস স্যাটেলমেন্ট (RTGS) সুবিধার সময়সীমা বৃদ্ধি, স্যাটেলমেন্ট সাইকেল T+2 থেকে T+1-এ রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে সংরক্ষিত এফডিআর ও এসএনডি হিসাবের অর্থ ধাপে ধাপে নগদায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য NITA হিসাব সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজীকরণ, IPO ও বন্ড মার্কেটভিত্তিক পুনঃমূলধনীকরণ ব্যবস্থা, সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট উন্নয়ন, সুকুক লেনদেন চালু এবং স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য CIB রিপোর্ট অ্যাক্সেস সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়সমূহ।
এছাড়াও দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি এবং এক্সিম ব্যাংক পিএলসি) একীভূত করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধিদল জানায়, যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷
এ সময় প্রতিনিধিদল ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়৷
প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মহোদয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন৷
ডিএসই প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, বাজারে তারল্য ও দক্ষতা উন্নত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আর্থিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
এমএন




