আইন-আদালত
পদত্যাগ করলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার
আইন-আদালত
এটিএম আজহারের খালাসের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের খালাসের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন তার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় এবং মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে এর আগে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় বাতিল ঘোষণা করা হয়। অন্য কোনো মামলা না থাকলে আজহারুলকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে বলা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় রিভিউ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিলে এই প্রথম কেউ খালাস পান।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহারুল। এই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর আপিল বিভাগ রায় দেন।
২০২০ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন আজহারুল।
এই পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে গত বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি লিভ মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সংক্ষিপ্তসার জমা দিতে বলা হয়। পরে আপিলের সংক্ষিপ্তসার জমা দেওয়া হয়। এ আপিলের ওপর শুনানি শেষে আজ রায় দিলেন আপিল বিভাগ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে আজহারুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আজহারুল কারাগারে আছেন।
আইন-আদালত
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফেরতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত বছরের ১ জুন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে। রায়ে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর স্থগিত থাকা নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন।
পরে নির্বাচন কমিশন দলটির প্রতীকসহ নিবন্ধন পুনর্বহাল করে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।
এর আগে একটি রিট আবেদনের নিষ্পত্তির পর ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনও প্রজ্ঞাপন জারি করে নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
এর বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী আপিল করে। তবে শুনানিতে মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ‘ডিফল্টে খারিজ’ করে আপিলটি বাতিল করে দেয়। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। তবে ২৮ আগস্ট সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এরপর পুনরায় আপিল পুনরুজ্জীবনের আবেদন করা হলে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর তা মঞ্জুর হয়। এরপর থেকে মেরিট অনুযায়ী আপিলের শুনানি পুনরায় শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ রায় ও নিবন্ধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আসে।
আইন-আদালত
আপিল বিভাগে ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা মামলায় ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১১ মে) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম. লিটন আহমেদ।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের কিছু সময় আগে, রাত সোয়া ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে লিখেন, আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।
সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও হবিগঞ্জে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর থানায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। পরে হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়ে রুল জারি করেন।
এরপর হাইকোর্টের দেওয়া জামিনা দেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেন যুবদল নেতা ও মিরপুরের ‘বাঙালিয়ানা ভোজ’-এর বাবুর্চি হৃদয় মিয়া। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে তার ডান পায়ে গুলি লাগে।
গ্রেফতারের পর এ মামলায় ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন পাঁচ দিনের রিমান্ডে ছিলেন।
আইন-আদালত
গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা
গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ (ছেলে না মেয়ে) নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারীর অধিকার ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বা প্রকাশ না করার আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। সোমবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বা তা প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং কন্যাশিশুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ও সামাজিক ভারসাম্যহীনতা বাড়ায়। আদালত মন্তব্য করেন, এটি সংবিধান স্বীকৃত সমতা, মর্যাদা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা ছিল না। শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না, বরং বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রায়ে আরও বলা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রূণসংক্রান্ত পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে।
হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছয় মাসের মধ্যে এ ডাটাবেজ চালুর নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের পরিপন্থি।
এ রায়কে আদালত “কনটিনিউয়াস ম্যানডামাস” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতেও এর বাস্তবায়ন নিয়মিত তদারকির আওতায় থাকে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এই বিষয়ে রিট আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশনা দেন।
আইন-আদালত
হামে মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু হওয়া ৩৫২ শিশুর পরিবারের জন্য ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এ রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব। রিটে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েছে। সবশেষ শনিবার হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বরিশাল বিভাগে হাম আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ৪৭ হাজার ৬৫৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৬ হাজার ৯৭৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
এদিকে একই সময়ের মধ্যে সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৩ হাজার ৬৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।




