জাতীয়
২৯৯ আসনে ব্যালট বিতরণ শুরু আজ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও জেলাওয়ারী পাঠানোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (এআরও) কাছে ব্যালট ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছেন।
সারাদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে সংসদীয় ২৯৯ আসনের ব্যালট পাঠানো শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) গতকাল শনিবার এই বিতরণ শেষ করেন। তাদের পাঠানো ব্যালট বুঝে নিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এখন রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেখানে থেকে স্ব-স্ব আসনে ব্যালট পাঠাতে পারবেন। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা চাইলে রোববার থেকে আসনওয়ারী বিতরণ করতে পারবেন। কমিশন থেকে চিঠি দিয়ে তাদের এ সংক্রান্ত নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। ইসি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংসদ নির্বাচনের ব্যালট বিতরণ শাখার ইসির উপ-সচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, গত ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হয়। এর পর থেকেই ব্যালট মুদ্রণ শুরু করা হয়। যখন যে আসনে ব্যালট মুদ্রণ শেষ হয়েছিল, সেখানে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার একটি বাদে সবগুলোতেই পাঠানো শেষ হয়।
রোববার সকালে একটিতে পাঠানোর মাধ্যমে জেলাওয়ারী ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ হবে। এখন রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেখানে থেকে স্ব-স্ব আসনে ব্যালট পাঠাতে পারবেন। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা চাইলে রোববার থেকে আসনওয়ারী বিতরণ করতে পারবেন। কমিশন থেকে চিঠি দিয়ে তাদের এ সংক্রান্ত নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, আইনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটের বিধান থাকলেও তা এতোদিন অকার্যকর ছিল। এবারই প্রথম সরকারি কর্মকর্তা, কারাবন্দী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটদানের ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন। সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট বিধি অ্যাপে নিবন্ধন করেন। নিবন্ধিতরা ভোট দিয়ে এরইমধ্যে দেশে ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ভোট প্রদান করা বিভিন্ন নাগরিকের সংখ্যা ৩ লাখ ৯ হাজারের বেশি। এসব পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন।
এর বাইরে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি হয়ে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৬২ লাখের বেশি ভোটার। তাদের ব্যালট মুদ্রণ করে ইসি। শনিবার মুদ্রিত ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো শেষ করেছে। আজ রোববার থেকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের কার্যালয় থেকে স্ব-স্ব সংসদীয় আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (এআরও) কাছে এ ব্যালট বন্টন করবেন। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা তাদের কাছ থেকে ব্যালট ও নির্বাচনী সামগ্রী বুঝে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে রাতেই পৌছে যাবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এর আগে ভোটের নির্বাচনী সামগ্রী মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হয়।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন জানান, তার জেলায় সবগুলোর আসনের ব্যালট তিনি বুঝে পেয়েছেন। গণমাধ্যমে তিনি শনিবার জানান, আগামীকাল (৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যালটগুলো স্ব-স্ব আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআরওদের কাছে বিতরণ শুরু করবেন। নির্বাচন কমিশন থেকে শনিবার চিঠি দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় ব্যালট বিতরণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন তাদের নাম সম্পূরক ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের বাইরে যারা ভোট দিচ্ছেন শুধু তাদের সংখ্যা অনুযায়ী ব্যালট ছাপা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরালো করার ইঙ্গিত: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও গভীর করার নতুন বার্তা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা শেষে তিনি এই ইঙ্গিত দেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন বেলা ১১টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয়। কর্মসূচির শুরুতে তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন। সচিবের সঙ্গে আলোচনার শেষে তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের দপ্তরে যান এবং দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ট্যারিফ ইস্যুসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে চমৎকার বৈঠক হয়েছে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।
এমএন
জাতীয়
বিটিসিএল-এর এমভিএনও সিমে মিলবে যেসব সুবিধা
বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করলো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর বা (এমভিএনও) সিম। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই সেবার লাইভ পাইলট বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। নিজস্ব টাওয়ার বা নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহককে উন্নত সেবা দেওয়াই এই প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য।
পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই সেবার আওতায় এখন আনলিমিটেড ভয়েস কল, আনলিমিটেড ডেটা এবং কোয়াড-প্লে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই এমভিএনও সিম সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিমটি সচল হয়েছে। ভয়েস কল, ডাটা কল, আলাপ টু মোবাইল নেটওয়ার্ক, আলাপ টু আলাপ, জিপন ইন্টিগ্রেশন-এই চারটি ইভেন্টের সফল প্রভিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। কল টেস্টও সফল হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী আরও জানান, বিটিসিএল গুলিস্তান/রমনা কার্যালয়ে সরেজমিন প্রভিশনিং, অ্যাক্টিভেশন ও টেস্ট কল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হবে। এখন এমভিএনও এবং ট্রিপল প্লে নিয়ে কাজ চলছে। এগুলো একসঙ্গেই চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।
এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিটিসিএল দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটরের মাধ্যমে আনলিমিটেড কোয়াড-প্লে সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এই উদ্যোগকে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও সেবা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৩ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএলের রমনা অফিসে এ সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই আনলিমিটেড মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিসিএল, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করছে।
এ সেবার আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল এবং আনলিমিটেড ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’-ও এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জিপন কানেকশন এবং রাউটারসহ আনলিমিটেড ইন্টারনেট এবং জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট (নাটক, মুভির) প্ল্যাটফর্ম টফি এই এমভিএনও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আনলিমিটেড ভয়েস, আনলিমিটেড ডেটা, আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্টকে একীভূত করে কোয়াড-প্লে সেবা দেওয়া হবে।
এর আগে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিসিএলকে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও নেটওয়ার্ক চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কী এই এমভিএনও
নিজস্ব অবকাঠামো ছাড়া অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে টেলিকমসেবা প্রদানের পদ্ধতিকে বলা হয় ভার্চুয়াল অপারেটর বা এমভিএনও। এই অপারেটরদের নিজস্ব স্পেকট্রাম লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নেই। তারা অন্যান্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি পাইকারি হারে কিনে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিক্রি করে।
যেসব অপারেটরের বাড়তি নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি আছে অথবা পুরো ফি দিয়ে স্পেকট্রাম লাইসেন্স কেনার সমপরিমাণ গ্রাহক নেই, তারা উদ্বৃত্ত নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি এভাবে বিক্রি করে থাকে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানই লাভবান হয়। এমভিএনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপারেটিং ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কল ও ডেটা ব্যবহারের রেটও কম হয়ে থাকে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে এমন এমভিএনও-এর সংযোগ ব্যবহার করলে গ্রাহকেরও মোবাইল নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা কম হবে।
এত দিন নিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সেবা দিচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি মোবাইল অপারেটর (এমএনও)। অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলো মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার শুরুর দিকেই এমভিএনও নিয়ে কাজ করেছে। ২০০০ সালের আগস্টে বিশ্বের প্রথম এমভিএনও হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডেনমার্কের সনোফোন। ২০০৮ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই চালু হয় ৪০টিরও বেশি এমভিএনও।
এমভিএনওর ধরন
এমভিএনওর রয়েছে চারটি ধরন। ব্র্যান্ডেড রিসেলার এমভিএনও শুধু একটি এমএনও-এর অধীনে কাজ করে, বলা যায় একই প্রতিষ্ঠানের দুটি আলাদা ব্র্যান্ড। ভিন্ন ভিন্ন ডেমোগ্রাফিকের গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরনের এমভিএনও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। থিন এনভিএমও অনেকটাই ব্র্যান্ডেড রিসেলারের মতো, তবে তাদের নিজস্ব কাস্টমার সাপোর্ট সিস্টেম, বিলিং ও ট্যারিফ থাকে। দুই ক্ষেত্রেই মূল অপারেটরের সিম ও নাম্বার সিরিজে সেবা দিয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। মিডিয়াম এমভিএনও চাইলে নিজস্ব ব্র্যান্ডের সিম, নাম্বার এবং ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বিক্রি করতে পারে। এই তিন ধরনের এমভিএনও সাধারণত একাধিক এমএনওর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে না।
বিটিসিএল কাজ করছে ফুল এমভিএনও হিসেবে। একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক, নিজস্ব সিম, নাম্বার, আলাদা ধরনের সেবার জন্য আলাদা সিম এবং পুরো নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও কাস্টমার সেবা অবকাঠামোর মাধ্যমে কাজ করবে তারা।
গ্রাহকের লাভ
এমভিএনও ব্যবহারে বেশ কয়েকটি বাড়তি সেবা পাবে ব্যবহারকারীরা। একই সংযোগ থেকে ভয়েস কল ও মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পাশাপাশি ডেটা কলিং এবং জিপনের মাধ্যমে ইন্টারনেটসেবা ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা থাকায় নেটওয়ার্কজনিত সমস্যাও কম হবে, কভারেজ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের এমভিএনও অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাইকারি মিনিট ও ডেটা প্যাক বিক্রি করে। সেটিও গ্রাহকদের জন্য লাভজনক। বিটিসিএল জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করবে গ্রাহকদের সর্বনিম্ন মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটসেবা দেওয়ার।
এমএন
জাতীয়
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে। কেউ কারো বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না। কোনো অভদ্র আচরণও হচ্ছে না। আমাদের অভদ্র কথাও হচ্ছে না। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য এটি খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) যমুনায় সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চলছে। এ নির্বাচনে প্রচারকালে কেউ কারও বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না।
নির্বাচন সংক্রান্ত একটি হাই-প্রোফাইল সভা হয়েছে, সারা দেশের আইনশৃঙ্খলাসহ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি সঠিকভাবে চলছে এবং এতে অন্তর্বর্তী সরকার সন্তুষ্ট বলে সভায় জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
শফিকুল আলম বলেন, এদেশের নারী-পুরুষ উৎসবমুখর একটি পরিবেশে ভোট দেবেন এবং এবারের ভোট স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এরইমধ্যে নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। নির্বাচনে দেশের কোথাও কোন আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে এ অ্যাপের মাধ্যমে খুব দ্রুত নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বার্তা চলে আসবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এবারে নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এ পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রায় ৪০০ জন এবং দেশীয় পর্যবেক্ষক ৫০ হাজার থাকবেন।
এসব পোস্টাল ব্যালটের ভোট কীভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে-সে বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ জানতে চেয়েছে বলেও অবগত করেন তিনি।
‘পাশা’ নামে যে পর্যবেক্ষক সংস্থাটির ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড দেয়া স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন বলেও জানান শফিকুল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন-আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনের ভোটটা যেন সুষ্ঠু করা হয় । নির্বাচনের সময়টা আসলে একটা কঠিন সময় পার করা হচ্ছে জানান প্রেস সচিব।
এমএন
জাতীয়
আজ মাঠে নামছে ১০৫১ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আজ (রবিবার) মাঠে নামছেন থেকে ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা ভোটের মাঠে থাকবেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্ব শুরু হচ্ছে সেনাবাহিনীর আরও সদস্যসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।
ইসি মাছউদ বলেন, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে। রোববার থেকে আরও যুক্ত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ভোটের আগে-পরে সাত দিন থাকবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সবাই বলেছে যে মাঠের অবস্থা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক আছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে। রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলা গ্রহণ করছে। এখন সবাই ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপিসহ কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হবে এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন, সেনাবাহিনী ১ লাখ ৩ হাজার, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ এবং চৌকিদার-দফাদার ৪৫ হাজার ৮২০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচনী এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানাভিত্তিক কাজ করবে।
আর উপকূলীয় এলাকার জন্য কোস্ট গার্ড মোতায়েন থাকবে। সব বাহিনী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট করবে। এ ছাড়া তাঁর নির্দেশ এবং পরামর্শ অনুসারে সবার দায়িত্ব পালন করবে।
এমএন
জাতীয়
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৫ দিনের ছুটি
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলতি ফেব্রুয়ারিতেই আসছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই একের পর এক ছুটি মিলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবারও বন্ধ থাকবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম।
আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ছুটি, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার।
এরই ঠিক পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের প্রথম বড় ছুটি এটি। আর তালিকায় থাকা পঞ্চম ছুটি এটি।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আর ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে বলে সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়।



