অন্যান্য
মাতৃত্ব
তিনি শুধু একজন মা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক নিঃশব্দ বিপ্লব। গ্রামের ধুলো মাখা উঠোন থেকে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন মানুষের পাশে, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, কুশিক্ষার অন্ধকারের বিরুদ্ধে।
যখন চারদিকে ছিল ভয়, অভাব, অনিশ্চয়তা আর অবহেলা, তখন তিনি শিখিয়েছিলেন একজন মায়ের শক্তি কত বড় হতে পারে। তিনি বলতেন, “সন্তানকে শুধু বড় করলেই হয় না, মানুষ করতে হয়।”
১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে তিনি দেখেছিলেন একটি জাতির জন্ম। আর সেই সময় থেকেই নিজের ঘরের সন্তানদের মাঝেও স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, গ্রামবাংলার কাঁচা মাটির ঘর থেকেও জন্ম নিতে পারে বিজ্ঞানী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্বমানের নাগরিক।
তিনি কোনো বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন না, কোনো রাষ্ট্রীয় পদকও পাননি, কিন্তু তাঁর জীবন ছিল এক চলমান বিদ্যালয়। গ্রামের নারীদের তিনি বুঝিয়েছেন মাতৃত্ব মানে শুধু সন্তান জন্ম দেওয়া নয়, মাতৃত্ব মানে চরিত্র গড়া, সাহস শেখানো, মানুষকে আলোকিত করা।
ব্রিটিশ শাসনের ছায়ায় জন্ম নেওয়া সেই নারী পাকিস্তানি বৈষম্যের সময় পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বুকে ধারণ করেছিলেন। তিনি জানতেন, একটি শিক্ষিত মা একটি জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
নয়টি সন্তানকে তিনি বড় করেছেন অক্লান্ত শ্রমে, অসীম ধৈর্যে, অদম্য বিশ্বাসে। তিনি প্রমাণ করেছেন, বাংলার মায়েরা চাইলে বিশ্বের প্রথম সারির নাগরিক তৈরি করতে পারেন। একটি গ্রামের মা বিশ্বকে আলোকিত করার স্বপ্ন দেখাতে পারেন। আমার আর মায়ের সম্পর্ক আজকের নয়, এটি বহু বছরের জমে থাকা নিঃশব্দ ভালোবাসার ইতিহাস।
শৈশবের হাত ধরা পথ থেকে জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত পর্যন্ত তিনি ছিলেন আমার সাহস, আমার প্রথম বিদ্যালয়, আমার পৃথিবীকে দেখার জানালা। তারপর একদিন জীবনের প্রয়োজনে আমি হয়ে গেলাম দূর পরবাসী। বাংলার মাটির গন্ধ পেছনে ফেলে উত্তরের শীতল দেশে নতুন জীবন গড়ার সংগ্রাম শুরু হলো।
কিন্তু দূরত্ব কখনো মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ককে ভাঙতে পারেনি। হাজার মাইল দূরে থেকেও ফোনের ওপারে তাঁর কণ্ঠ শুনলেই মনে হতো আমি এখনো সেই গ্রামের সন্তান, যার জন্য মা রাত জেগে দোয়া করেন।
প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছরের প্রবাস জীবনে মায়ের ভালোবাসাই ছিল আমার শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ। আর তাঁর জীবনের শেষ পনেরো বছরে বাংলাদেশ আর সুইডেনের মাঝখানে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আমার দুই পৃথিবীর নীরব সেতুবন্ধন। আমার নতুন দেশের প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল তাঁর আশীর্বাদ, ছিল তাঁর বিশ্বাস, ছিল তাঁর নীরব উপস্থিতি।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরের এক নীরব দিনে তিনি পৃথিবীর দায়িত্ব শেষ করে চলে গেছেন অনন্তের পথে। এখন তিনি ঘুমিয়ে আছেন সুইডেনের লিনশোপিং শহরের স্লাকা গ্রামের একটি শান্ত মুসলিম কবরস্থানে। তবুও আমি জানি, তিনি হারিয়ে যাননি। কারণ সন্তানের হৃদয়ে মায়েরা কখনো মারা যান না।
সফলতার আনন্দে, নিঃসঙ্গ রাতের নীরবতায়, অচেনা শহরের ভিড়ে, আজও আমি অনুভব করি তিনি ঠিক পাশে আছেন। যেন দূর আকাশের ওপার থেকে এখনো বলছেন, “মানুষের মাঝে তুমি মানুষ হয়ে বেঁচে থেকো বাবা।”
মা দিবস শুধু একটি দিন নয়, এটি সেই মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা যিনি নিজের জীবন নিঃশেষ করে সন্তানের ভবিষ্যৎ আলোকিত করেন।
আজকের পৃথিবীতে যখন মানুষ পরিচয় খুঁজে ফেরে ক্ষমতায়, সম্পদে, বাহ্যিক সাফল্যে, তখন আমি গর্ব করে বলতে চাই, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি একজন বাংলার মায়ের সন্তান।
পৃথিবী জানুক, বাংলার মায়েরা শুধু সন্তান জন্ম দেন না, তাঁরা ইতিহাসও গড়েন। আমার মায়ের জীবনই ছিল তার এক নীরব প্রমাণ। আর পৃথিবীর বহু অজানা সাফল্যের পেছনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন একজন বাংলার মা।
হয়তো কাঁচা মাটির ঘরে বসে সন্তানের জন্য ভাত তুলে দিচ্ছেন,হয়তো গভীর রাতে অন্ধকারের মধ্যে হাত তুলে দোয়া করছেন, হয়তো নিজের স্বপ্নগুলো নিঃশব্দে সরিয়ে রেখে সন্তানের ভবিষ্যৎ আলোকিত করছেন।
পৃথিবী অনেক মহান মানুষের নাম মনে রাখে,কিন্তু তাদের পেছনে থাকা মায়ের নীরব ত্যাগের ইতিহাস খুব কম মানুষই লিখে রাখে।
রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
অন্যান্য
১৬ মে চাঁদপুর ও ২৫ মে ফেনী সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী জেলা সফর করবেন।
বুধবার (৬ মে) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর পানিসম্পদ মন্ত্রী মো: শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, খাল-খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে চাঁদপুর ও ফেনীতে খাল-খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে যাচ্ছেন। সেখানে অনেকগুলো কর্মসূচি রয়েছে এবং তিনি সেখানে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সারা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব জেলায় তিনি যাচ্ছেন খাল খনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।’
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমরা আগামী পাঁচ বছরব্যাপী সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। আমাদের মন্ত্রী এমপিরা সবাই যার যার এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় চলে এসেছে। হয়তোবা আমরা এই মে মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি কন্টিনিউ (চলমান) রাখতে পারব। বর্ষা শেষে আবার আগামী নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারির দিকে আমরা এই খাল খনন কর্মসূচি কন্টিনিউ করব।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের আগে মে মাসে প্রধানমন্ত্রী দু’টি জেলায় যাচ্ছেন সেটা হলো চাঁদপুর এবং ফেনী। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে এবং চাঁদপুর যাচ্ছেন ১৬ মে।’
সকাল ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পানিসম্পদ ব্যবস্থার এ সভা হয়। বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভ্যবতা জরিপ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী।
অন্যান্য
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভাষার দায়: উত্তেজনা নয়, দায়িত্বশীলতার সীমারেখা
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি আজ এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং জনমানসের আবেগ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক বা প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতার দীর্ঘ বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভাষায় অঞ্চলটিকে ব্যাখ্যা করা বাস্তবতার একটি বড় অংশকে অদৃশ্য করে দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিসরে যে ধরনের বক্তব্য ও স্লোগান ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা এই বাস্তবতাকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে। ক্ষমতার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে উচ্চারিত কিছু বক্তব্য, যেখানে শাসন পরিবর্তনকে তীব্র প্রতীকী ভাষায় উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা কেবল নির্বাচনী প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং এই ভাষা জনপরিসরে এক ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তার বোধ তৈরি করছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতি এবং রাজ্য রাজনীতির সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনপূর্ণ। একদিকে কেন্দ্রীয় শক্তির দাবি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো এবং উন্নয়ন, অন্যদিকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অভিযোগ ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ এবং ভিন্নমতের পরিসর সংকুচিত হওয়া। এই দ্বন্দ্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হলেও, সমস্যা শুরু হয় তখনই যখন রাজনৈতিক ভাষা সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করে।
রাজনৈতিক বক্তব্যে যখন নির্যাতন, ধ্বংস বা সম্পূর্ণ উচ্ছেদের মতো শব্দ ব্যবহৃত হয়, তখন তা কেবল মতবিরোধের প্রকাশ থাকে না। বরং তা জনমানসে ভয়, বিভাজন এবং অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে। গণতন্ত্রের শক্তি কেবল নির্বাচন বা ক্ষমতার পালাবদলে নয়, বরং মতপার্থক্যকে স্থিতিশীল সামাজিক কাঠামোর মধ্যে রাখার সক্ষমতায় নিহিত।
এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই রাজ্যটি ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস এবং পারিবারিক সম্পর্ক দুই পাশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের অবিচ্ছিন্ন সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। ফলে এখানকার রাজনৈতিক ভাষা কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকে না, এটি সীমান্তের ওপারেও প্রতিফলিত হয় এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করে।
ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক রাষ্ট্রীয়ভাবে বহুস্তরীয় এবং বাস্তবভিত্তিক। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, নদী ব্যবস্থাপনা এবং শ্রম অভিবাসন এই সম্পর্ককে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরতা, জীবিকা এবং সাংস্কৃতিক অভিন্নতা। এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক বক্তব্যকে দায়িত্বহীনভাবে উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিলে তা বাস্তব সমস্যার সমাধান না করে বরং নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
একইভাবে সংখ্যালঘু এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর বিষয়টি মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় আইনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হওয়া উচিত, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাতিয়ার নয়। কারণ এই ধরনের ব্যবহার সামাজিক আস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।
বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক ভাষার দায়িত্বশীলতা। গণতন্ত্র কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি সহাবস্থানের একটি নৈতিক কাঠামো। যেখানে ভিন্ন মত থাকবে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সমাজে শত্রুতা, ভয় বা বিভাজনের স্থায়ী সংস্কৃতি তৈরি না করে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কতটা দায়িত্বশীলভাবে তাদের ভাষা এবং অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে তার ওপর। সংঘাতমুখী বয়ান নয়, বরং সংলাপ, বাস্তবতা এবং পারস্পরিক স্বীকৃতিই একটি টেকসই আঞ্চলিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নটি কেবল রাজনীতির নয়, এটি একটি সভ্যতার প্রশ্ন। আমরা কি এমন একটি দক্ষিণ এশিয়া নির্মাণ করছি যেখানে ভিন্নতা মানেই শত্রুতা, নাকি এমন একটি পরিসর তৈরি করছি যেখানে ভিন্নতা সত্ত্বেও সহাবস্থান সম্ভব, সেটিই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের আঞ্চলিক ভবিষ্যৎ।
রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
অন্যান্য
সখিপুরের তারাবুনিয়ায় বিষধর সাপের কামড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু
শরীয়তপুরের সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াব আলী সরকারের গ্রামে বিষধর সাপের কামড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ফজিলতুন নেছা (৬০) মহর আলী গাজীর স্ত্রী এবং মাস্টার ওমর আলী গাজীর মা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজ বাড়ির আঙিনায় কাজ করার সময় হঠাৎ ইঁদুরের গর্ত থেকে বের হওয়া একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এমএন
অন্যান্য
বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত
ঢাকা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সবুজ প্যানেলের সমর্থনে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল ঢাকা জজকোর্ট শাখার দায়িত্বশীল সমাবেশ শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর, ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট ডক্টর হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাকের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সবুজ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি পদপ্রার্থী এডভোকেট আবু বক্করসহ প্যানেলের সকল পদের প্রার্থীগণ।
বক্তরা বলেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপক্ষে ও গ্রহনযোগ্য হবে কি-না। বক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে নির্বাচনের জন্য গঠিত কমিশন দুই প্যানেলের সমান সংখ্যক সদস্য দিয়ে গঠন করার নিয়ম সেখানে বিএনপি শুধুমাত্র তাদের প্যানেলের এবং তাদের দলীয় আইনজীবীদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। ফলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হচ্ছে না। পাশাপাশি পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে। বক্তরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করলে এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব মূলক ভূমিকা বন্ধ না হলে আইনজীবীরা আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে বাধ্য হবে।
অন্যান্য
অনলাইনে জ্ঞানী-গুণীদের উক্তি লিখে জিতুন পুরস্কার
জ্ঞানী-গুণীদের উক্তি লিখে এবার জিতে নেওয়া যাবে আকর্ষণীয় পুরস্কার। উইকিউক্তিতে তথ্যসমৃদ্ধ ভুক্তি সংখ্যা বৃদ্ধি ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ‘উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬’। বাংলা উইকিসংযোগ দলের আয়োজনে ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাংলাভাষী স্বেচ্ছাসেবক ও অবদানকারীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। অনলাইন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি সংকলনে অবদান রাখার পাশাপাশি জিতে নিতে পারবেন বিভিন্ন পুরস্কার।
প্রতিযোগিতায় মূল আকর্ষণ হিসেবে শীর্ষ ১০ জন বিজয়ীর জন্য রয়েছে গিফট ভাউচার ও সার্টিফিকেট। প্রথম স্থান অধিকারী পাবেন ৬,০০০ টাকা সমমূল্যের গিফট ভাউচার। এছাড়া দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থান পর্যন্ত যথাক্রমে ৪,০০০, ৩,০০০, ২,৫০০ ও ২,০০০ টাকার সমমূল্যের গিফট ভাউচার। ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান অধিকারীরা পাবেন ৫০০ টাকা করে গিফট ভাউচার। পাশাপাশি সেরা ১০ জনকে দেওয়া হবে বিশেষ মুদ্রিত সনদপত্র এবং অন্তত একটি ভুক্তি গৃহীত হলে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে অনলাইন সনদ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রতিযোগীদের নাটক, চলচ্চিত্র, গান বা সাহিত্যের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত উল্লেখযোগ্য যেকোনো ব্যক্তি বা বিষয়ে নতুন উক্তির পাতা তৈরি করতে হবে। প্রতিটি নতুন পাতায় কমপক্ষে ১৫০টি শব্দ এবং নির্ভরযোগ্য উৎসসহ অন্তত ৩টি উক্তি থাকা বাধ্যতামূলক। বিদেশি ব্যক্তিদের উক্তির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-মুক্ত সাবলীল বাংলা অনুবাদ ব্যবহার করতে হবে।
উল্লেখ্য, উইকিপিডিয়ার সহপ্রকল্প উইকিউক্তি মূলত বিখ্যাত ব্যক্তিদের অমর বাণীর একটি মুক্ত ভাণ্ডার। বর্তমানে বাংলা উইকিউক্তিতে আড়াই হাজারের মতো উক্তির পাতা রয়েছে। এই জ্ঞানভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করাই এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। প্রতিযোগিতার নিয়মাবলি ও নিবন্ধ জমা দেওয়ার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে উইকিউক্তির নির্ধারিত প্রকল্প পাতায়।
এমএন




