রাজনীতি
ঢাকায় আজ ৬ স্থানে তারেক রহমানের জনসভা
আর মাত্র চারদিন বাদেই দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে সারা দেশে গণসংযোগ শেষে এবার ঢাকায় বড় ধরনের গণসংযোগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপি। টানা দুই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মোট ১৪টি জনসভায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর মধ্যে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর উত্তরের ৬টি নির্বাচনি আসনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের জনসভা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সূচি অনুযায়ী, রোববার দুপুর ২টায় ঢাকা-১৭ আসনের ইসিবি চত্বর থেকে জনসভা শুরু করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর ধারাবাহিকভাবে পল্লবী, মিরপুর-১০, ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, শ্যামলী ক্লাব মাঠ এবং সবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় বাড্ডার সাতারকুল সানভ্যালী মাঠে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
প্রতিটি জনসভাই নির্বাচনি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে আয়োজন করা হয়েছে যাতে সাধারণ ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানো সহজ হয়।
এমএন
রাজনীতি
সন্ত্রাস ও লুটপাটমুক্ত রাষ্ট্র গড়তেই ১১ দলের ঐক্য: মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। শাসকের পরিবর্তন হলেও শোষণ, লুটপাট ও দুর্নীতির রাজনীতি রয়ে গেছে আগের মতোই। এই দুঃশাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তেই ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্য গঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হইনি। বঞ্চিত, নিপীড়িত ও ভাগ্যহত ১৮ কোটি মানুষের অধিকার তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই ঐক্য।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর মানুষ বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও জনগণের ভাগ্যে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। শাসকের চেহারা ও ভাষা বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলায়নি।
মামুনুল হক আরও বলেন, আগে বিদেশি শাসকরা এ দেশ লুট করত, এখন দেশীয় শাসকরাই জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করছে। যারা বেগমপাড়া গড়ে তুলেছে, তারা দেশের মানুষের সঙ্গে আরও বড়ো প্রতারণা করেছে।
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। আলিয়া-কওমি মাদ্রাসা, পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সব বিভেদ ভেঙে তরুণ সমাজ রাজপথে নেমে এসেছিল। তিনি বলেন, হাজারো মায়ের কোল খালি হয়েছে, দেড় সহস্রাধিক জুলাই যোদ্ধার রক্তে এই মাটি পবিত্র হয়েছে। সেই আত্মত্যাগকে যারা সম্মান জানাতে পারে না, দেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতে নিরাপদ নয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘ব্যালট বিপ্লব’ আখ্যা দিয়ে মামুনুল হক বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো আপোশ নয়, কোনো নমনীয়তা নয়।
তিনি ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমি যদি এই আসনের ভোটার হতাম, শাপলা কলি প্রতীকে নাহিদ ইসলামকেই ভোট দিতাম। এটি আপনাদের পবিত্র আমানত।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচন পরিচালক মওলানা মো. কুতুব উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
এমএন
রাজনীতি
১২ ফেব্রুয়ারি ব্যর্থ হলে ৫ আগস্টও ব্যর্থ হয়ে যাবে: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গনভোটে যদি আমরা সফল হতে না পারি, তবে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ও ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা ৫ আগস্ট যেভাবে সফল করেছি ১২ ফেব্রুয়ারিকেও সফল করব। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরবো।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড্ডায় এনসিপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা-১১ আসনে পর্যাপ্ত পরিমাণ খেলার মাঠ, স্কুল, হাসপাতালও নাই। আপনারা এগুলো সবই জানেন। ১০০ ভাগ হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভর। কোনো সরকারি হাসপাতাল নাই। ঢাকা-১১ আসনে সরকারি হাই স্কুল নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৫টি। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরাটাই নির্ভরশীল হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের ওপরে। বর্ষাকালে প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সেগুলোর মাধ্যমে আমাদের জীবন যাপন করতে হয়। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫% এলাকা পরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেমের আওতায় বাকি ৭০% এলাকা সেটা অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, নর্দমা এবং আশেপাশের খালগুলো সেটা পূরণ করে। আমাদের যে খালগুলো রয়েছে রামপুরা খাল, শাহজাদপুর খাল এগুলো দখল করা হয়েছে। নদী দখল করা হয়েছে বালু ফেলানো হয়েছে। এই খালগুলো আর আমাদের সেই সুবিধা দিতে পারে না।
তিনি বলেন, ঢাকা-১১ এলাকা উন্নয়ন না হওয়ার পেছনের প্রধান সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক কারণ। সেই রাজনৈতিক কারণটি হচ্ছে ভূমিদস্যু। এই এলাকার শত শত মানুষের জমি শত শত খাস জমি সাধারণ জলাশয় এগুলো দখল করে নেওয়া হয়েছে। ভরাট করে ফেলা হয়েছে। শত শত পরিবারকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে।
এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের নাগরিক সুবিধা আমরা নিশ্চিত করবো। যে সব মানুষ ভূমি হারিয়েছে, তাদের ভূমি আমরা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। নতুবা তাদের আমরা ন্যায্য মূল্য পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। এই ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট ঢাকা-১১ থেকে আমরা চিরতরে নির্মূল করবো।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা শুধু ঢাকা-১১ আসনের জন্যই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নই, সমগ্র বাংলাদেশে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। ১১ দলীয় ঐক্যজোট সরকার গঠনের ঐক্যজোট, আগামীর বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেওয়ার ঐক্যজোট। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃত্বে আপনারা সারা বাংলাদেশে যে যেখানে, যে মার্কা যে প্রার্থী আছেন তাদের সহযোগিতা ও ভোট দিয়ে জিতিয়ে আসবেন। এই আহ্বান আপনাদের প্রতি রইল।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশে যে আরেকটি দল রয়েছে, যারা বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে গেছে। সেই প্ল্যান পরিকল্পনাকে আমাদের পরাজিত করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে দখলদার মুক্ত, আধিপত্যবাদ মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন? ইনশাআল্লাহ আমরা তরুণ যুব সমাজ সবাই আছি। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি ব্যর্থ হয় ৫ আগস্ট ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা ৫ আগস্ট যেভাবে সফল করেছি ১২ ফেব্রুয়ারিকেও সফল করব। ইনশাআল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে যাব।
এমএন
রাজনীতি
বিএনপির ২৭ নেতাকে অব্যাহতি
দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিএনপি থেকে আরো ২৭ নেতাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিন ভূঞা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মজনুর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার দলপা ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হাসেম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শফিক, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জজ মিয়া, ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আবুল মিয়া, আবুল হাসেম মেম্বার, সাইদুল হক মেম্বার, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান তালুকদার, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মোতালিব, ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম নয়ন, সৈয়দ উসমান গণি দুলু, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মোতালিব, ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম মণ্ডল, ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সদস্য নূর মোহাম্মদ স্বপন, উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. ফজলু মিয়া, মো. আতিকুর রহমান ভূঞা, মো. আব্দুল লতিফ, মো. আসাদুজ্জামান বাবুল, মো. আবুল বাশার, মো. ইদ্রিস মিয়া (ইদু), অত্র ইউনিয়নের ২নং বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হলুদ মিয়া, ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুল হেকিম, ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মো.হাদিছ মিয়া, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মল্লিক মিয়া, নওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. বাহার উদ্দিন, রিয়াজ উদ্দিন, কামরুজ্জামান কনক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে তাদের অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান মজনু বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় দল থেকে ২৭ নেতাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
রাজনীতি
কারাবন্দী সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন। আজ শনিবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৯টায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার।
রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন ও মায়ের নাম বালাশ্বরী সেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
দিনাজপুর কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার বলেন, ‘গত ১৭ আগস্ট রমেশ চন্দ্র সেনকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে আনা হয়। এখানে তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। এখানে আনার আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সকাল ৯টায় হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পাই।’
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদ রানা বলেন, ‘সকালে অসুস্থ অবস্থায় রমেশ চন্দ্র সেনকে হাসপাতালে আনা হয়। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক অনুপম পাল সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে তাঁকে ব্রট ডেথ ঘোষণা করেন।’
রমেশ চন্দ্র সেন কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৯৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৭ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে রমেশ চন্দ্র সেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মির্জা ফখরুলের শোক
রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁর পক্ষ থেকে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।
শোকবার্তায় বলা হয়, ‘ঠাকুরগাঁও- ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী , বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শ্রী রমেশ চন্দ্র সেন আজ প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক জানাচ্ছি। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার ঠাকুরগাঁও–১ থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
রাজনীতি
নির্বাচন হবে দেশ পুনর্গঠনের হাতিয়ার, দিলেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং এটি দেশ পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শুধু সরকার পরিচালনা নয়, দেশ পুনর্গঠনের কাজেও হাত দেওয়া হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন,দীর্ঘ এক যুগ ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। বিগত স্বৈরাচার শাসক নারী ও যুবকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারেনি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শুধু সরকার পরিচালনা নয়, রাষ্ট্র সংস্কার, পুনর্গঠন ও নারী ও যুবকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার কাজে হাত দেবে।
তিনি ঠাকুরগাঁও বাসীর উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ধানের শীষ জয়ী হলে বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুর কথায় তিনি বলেন, এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ঋণ নিতে পারবেন, সার ও কীটনাশক পাবেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি রেজিস্টার্ড এনজিও থেকে নেওয়া কৃষিঋণ সরকার পরিশোধ করবে বলেও জানান।
তিনি বলেন, কৃষিপ্রধান এলাকায় কলকারখানা স্থাপন করা হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চা কারখানা ও শিল্পকারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি হিমাগার নির্মাণ, যুবকদের জন্য আইটি পার্ক, মেডিক্যাল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, গত এক যুগে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। ফলে মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্বাস্থ্যসেবার জন্য হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, এখন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই কাজ বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এক দল আরেক দলের সমালোচনা করতেই পারে। কিন্তু শুধু সমালোচনা করে জনগণের কোনো লাভ হয় না। জনগণ জানতে চায়, তাদের জন্য কী করা হবে। বিএনপি জনগণের জন্য পরিকল্পনার কথা বলছে এবং জনগণকেই সব ক্ষমতার উৎস মনে করে। যে বাংলাদেশে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, তরুণরা বেকার থাকবে না, সবাই চিকিৎসা পাবে—এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই। দেশ স্বাধীন করেছি, চব্বিশে স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। এখন গণতন্ত্রকে শক্ত করতে হবে, দেশ পুনর্গঠন করতে হবে।
ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশ গড়বে বিএনপি। ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হলে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েই কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
এমএন



