জাতীয়
দুর্গম ২৭টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলার ২১.৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পানছড়ি ব্যাটালিয়নের (৩ বিজিবি) আওতায় থাকা দুর্গম ২৭টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে ৬ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনী দায়িত্বের অংশ হিসেবে পানছড়ি উপজেলার ২৫টি এবং দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের ১টি। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে গত ৩০ জানুয়ারি পানছড়ি উপজেলায় ৪টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া দীঘিনালার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা নাড়াইছড়িতে অবস্থিত ১টি হেলি-সাপোর্টেড ভোটকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা যানবাহন, পায়ে হাঁটা ও নদী পারাপারের মাধ্যমে নিয়মিত ডমিনেশন টহল পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন নজরদারি, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং আধুনিক রায়ট কন্ট্রোল সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষে লোগাং বিজিবি ক্যাম্প ও গিলাতলী বিওপি এলাকায় ২টি চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে জনসংযোগ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে উপকূলীয় ৬টি উপজেলা ব্যতীত ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
ভোটারদের ভোটাধিকার সুরক্ষা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এমএন
জাতীয়
পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের জোয়ার, দেশে পৌঁছেছে ৪ লাখ ২২ হাজার ভোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের পাঠানো ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আজ সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩ জন প্রবাসী তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৫ জন ইতোমধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন।
এ ছাড়া ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯১ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন।
এর মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার ১৬৮টি ব্যালট ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন।
বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ১৪৬ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত দেশের ভেতরে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৭ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
এর মধ্যে ৩ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন ভোট দিয়েছেন এবং ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭২ জন পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৯৪২টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
সালীম আহমাদ খান আরও জানান, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।
এমএন
জাতীয়
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন,ভোটারদের অপেক্ষায় কেন্দ্র: ইসি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিছু আসনে এখনও ব্যালট পাঠানো হয়নি, তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এতো বড় পরিসরে ডিপ্লয়মেন্ট এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে তার ধারণা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। বাকি সকল আসনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পেপার পৌঁছানো হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় কিছু আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণেই ব্যালট পেপার পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আসনে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে, আট দিন আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ইতোমধ্যেই মাঠে রয়েছে এবং সেনাবাহিনীও আংশিকভাবে মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হচ্ছে, যারা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন তারা। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদেরও ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাতদিন মাঠে থাকার কথা রয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে— ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে— ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি— ২৮৮ জন। নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আড়াই শতাধিক বলে জানিয়েছে ইসি।
সারাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি।
ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি, ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে— মাত্র ২ জন।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এর পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি জানায়, ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণে থাকবেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটদানে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন।
ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন বলে ইসি জানিয়েছে।
এমএন
জাতীয়
যমুনার সামনে থেকে সরে গেলেন আন্দোলনকারীরা
নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের যমুনা এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে পুলিশ। সেই সঙ্গে এলাকাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার পর আন্দোলনরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যমুনার সামনে থেকে সরে শাহবাগের দিকে চলে যান। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
এর আগে, বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়ে যমুনার উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন। শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে তারা প্রথম পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও লাঠিচার্জ করা হয়নি। তবে জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়।
পরে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে যমুনার সামনে পৌঁছান। সেখানে তারা সড়কে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর ঘটনাস্থলে আরও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে বিজিবির সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নেন।
প্রথমে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায় পুলিশ। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করলে পুলিশ অভিযান শুরু করে। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বারবার জলকামান ব্যবহার করা হয় এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়।
পুলিশি অভিযানের মুখে আন্দোলনকারীরা রমনা পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানেও পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ব্যাপকভাবে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালায়।
এ সময় একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন বলে জানা গেছে। দুপুর ১টার পর আন্দোলনকারীরা যমুনা এলাকা পুরোপুরি ছেড়ে শাহবাগের দিকে সরে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চার-পাঁচজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
এমএন
জাতীয়
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি
নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন দখল করেছে সরকারি কর্মচারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে সকালে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার দিকে যাত্রা শুরু করেন।
এরপর বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে কিছু সময় পর আবারও আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়ে যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী সড়কে এ সংঘর্ষ চলে। এরপর আবারও থেকে থেমে সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সেখানে তিনি ১৪৪ ধারা জারির তথ্য দেন।
এমএন
জাতীয়
যমুনা অভিমুখে নবম পে স্কেলের মিছিল, ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড-টিয়ারশেল নিক্ষেপ
নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন এলাকা। আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশের দেয়া ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার প্রবেশ মুখে অবস্থান নেন তারা।
এ সময় বিভিন্ন স্লোগন দেন সরকারি চাকরিজীবীরা। কিছুক্ষণ পর আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করতে দেখা যায় পুলিশকে।
এর আগে সকালে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন সরকারি চাকরিজীবীরা। এরপর সেখান থেকে যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, আজকের মধ্যেই ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে, অন্যথায় তারা বাড়ি ফিরবেন না।
রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নবী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১০টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।
এমএন



