আন্তর্জাতিক
নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) একটি নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করেছে। বুধবার দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মুসাভি ও আইআরজিসির এয়ারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভির উপস্থিতিতে ঘাঁটিটি উন্মোচন করা হয়। এসময় ঘাঁটিতে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হয়।
পাশাপাশি কৌশলগত এই ইউনিটের অগ্রগতি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্রিফ করা হয়।
ঘাঁটি পরিদর্শনকালে আবদোলরহিম মুসাভি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত সব দিক উন্নত করার মাধ্যমে ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা শক্তিশালী করেছে, যা দেশের প্রতিরোধক্ষমতা আরো বাড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো পদক্ষেপের মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত।
মুসাভি আরো বলেন, ‘গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর আমরা আমাদের সামরিক মতবাদে পরিবর্তন এনেছি।
প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে এখন আমরা আক্রমণাত্মক কৌশলের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে দ্রুত ও ব্যাপক পরিসরের অভিযান, অসমমিত যুদ্ধ এবং কঠোর সামরিক কৌশলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা যখন চরমে, ঠিক সেই সময়েই এই ঘোষণা এলো। ওয়াশিংটন সম্প্রতি ইরানের আশপাশের অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে অথবা হামলার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর আগে রোববার ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, আবদোলরহিম মুসাভি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘ভুল পদক্ষেপ’ গোটা অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘সামান্যতম ভুলই ইরানকে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা দেবে। তখন কোনো আমেরিকান নিরাপদ থাকবে না এবং এই অঞ্চলের আগুন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের গ্রাস করবে।’
এমএন
আন্তর্জাতিক
বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক সম্পদ হাতানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ রাশিয়ার
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন।
এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি দাবি করেন, সম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় অভ্যুত্থান, অপহরণ ও রাজনৈতিক হত্যার মতো কৌশল ব্যবহার করে।
লাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত নিজের স্বার্থেই পরিচালিত হয় এবং বৈশ্বিক নীতিমালা বা অন্য দেশের মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। তার মতে, ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা অর্জন, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো উপায় ব্যবহার করতে প্রস্তুত।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ভেনেজুয়েলা ও ইরানের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, এই দুই দেশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি মূলত তেল ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম ট্রাম্পের
বিশ্বের জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানকে আলটিমেটাম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে তিনি নিজের আইডিতে এক পোস্টে লিখেছেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস করে দেবে’।
তার ভাষায়, ‘ইরান যদি এই মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে, কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে এবং সেগুলো ধ্বংস করে দেবে—সবচেয়ে বড়টি দিয়ে শুরু করে!’
আমিরাত ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে ইরান।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরআইবি বলেছে, আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা হয়।
এতে ঘাঁটির হ্যাঙ্গার ও জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ইরানের।
তবে এসব দাবির পর কুয়েত ও আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক
ইরানের হামলায় লণ্ডভণ্ড ইসরাইলের আরাদ, নিহত ৬
ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে অন্তত ৬জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ৮৮ জন। অবৈধ ভূখণ্ডটির একাধিক শহরে শক্তিশালী মিসাইল হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ধসে গেছে অন্তত ২০টি ভবন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগ জানিয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগ জানায়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ১৯ জনের আঘাত মাঝারি ধরনের।
ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আহতের সংখ্যা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছয় জনের মৃত্যুর খবর প্রচার হয়।
এই হামলার পর শহরটির একটি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানায়, আরাদ শহরে ইরানের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কারণেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় মোট ছয়জন নিহত এবং আরও ৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনের অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’।
যদিও এর আগে ইসরাইলের জরুরি সেবা বিভাগ প্রায় ৭০ জনকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলেছিল। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে বৈশ্বিক সূচক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০৮ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে মার্কিন সূচক ‘ডব্লিউটিআই’ ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৬ ডলারে নেমেছে।
বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা থাকলে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল থাকতে পারে, এমনকি ২০২৭ সাল পর্যন্তও।
এদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় পুনরায় হামলা না চালানোর বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেবে ইসরায়েল। এই ঘোষণার পর বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
৮ ঘণ্টা পর পাইলট জানলেন কানাডায় অবতরণের অনুমতি নেই
কানাডার ভ্যানকুভারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য গতকাল যাত্রাটি হয়ে উঠছিলে যেন ‘কোথাও না যাওয়ার’ ফ্লাইট। প্রায় আট ঘণ্টা আকাশে থাকার পর সেটি আবার দিল্লিতে ফিরে আসে। কারণ, বিমান সংস্থাটি ভুলবশত এমন এক উড়োজাহাজ ব্যবহার করেছিল, যেটির কানাডায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এআই–১৮৫ নম্বর ফ্লাইটটি দিল্লি থেকে স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকাল ১১টা ৩৪ মিনিটে যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করে এবং শুরুতে পূর্বমুখী রুট ধরে এগোয়।
কিন্তু যাত্রার প্রায় চার ঘণ্টা পর, কুনমিংয়ের কাছে চীনের আকাশসীমায় প্রবেশ করার সময় সংস্থাটি বুঝতে পারে যে বিমানটি কানাডায় পরিচালনার অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়।
ফেরার পথসহ মোট ৭ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট উড়ে বিমানটি আবার সেই বিমানবন্দরেই অবতরণ করে, যেখান থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল। ব্যবহৃত উড়োজাহাজটি ছিল বোয়িং ৭৭৭–২০০ এলআর। অথচ বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়ার কানাডা রুটে পরিচালনার অনুমতি আছে শুধু তাদের বোয়িং ৭৭৭–৩০০ ইআর বহরের।
বিভিন্ন দেশ থেকে দেওয়া বিমান চলাচল অনুমোদন ভিন্ন হতে পারে। কোথাও তা পুরো বিমান সংস্থার জন্য দেওয়া হয়, আবার কোথাও নির্দিষ্ট বিমান মডেল বা এমনকি নির্দিষ্ট বিমানের টেইল নম্বর অনুযায়ীও অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিষয়টি বুঝতে পারার পর মাঝ আকাশ থেকেই বিমানটিকে দিল্লিতে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে উড্ডয়নের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর এটি নিরাপদে অবতরণ করে। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই সব যাত্রী ও ক্রু বিমান থেকে নেমে যান।
এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া এই ফিরে আসার কারণ হিসেবে ‘পরিচালনাগত সমস্যা’ উল্লেখ করে এবং জানায়, সিদ্ধান্তটি মানক পরিচালনা প্রক্রিয়া (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ‘বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সব যাত্রী ও ক্রু নেমে গেছেন। আমাদের অতিথিদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য আমরা দুঃখিত।’
সংস্থাটি আরও জানায়, দিল্লিতে তাদের গ্রাউন্ড টিম যাত্রীদের সহায়তার ব্যবস্থা করে, যার মধ্যে হোটেলে থাকার ব্যবস্থাও ছিল। যাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়। আজ সকালে একই ফ্লাইটে সব যাত্রীকে নিয়ে বিমানটি আবার রওনা হয়।
এই ঘটনার আর্থিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, একটি বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ সাধারণত পরিচালন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৮ থেকে ৯ টন জ্বালানি খরচ করে।



