জাতীয়
নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের শতভাগ নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছর অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবার এমন এক মানদণ্ড স্থাপন করা হবে যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিক দলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালটবাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট যে কোনো অভিযোগ এ সেলে করা যাবে। এই সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান সম্পন্ন করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারেন। এ বিষয়ে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে।
এমএন
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে প্রস্তাব
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে গত শুক্রবার প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান। প্রস্তাবে তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
প্রস্তাবে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শুরু হওয়া অপারেশন সার্চলাইট-এর সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের ইসলামপন্থী সহযোগীরা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে সব ধর্মের বাঙালিরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলেও বিশেষভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ চালানো হয়।
প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় ল্যান্ডসম্যান বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যার মধ্যে পড়ে। এই স্বীকৃতি অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিল।’
এদিকে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ‘হিন্দু অ্যাকশন’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে ওই শুনানির আয়োজন করা হয়।
নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার দিলিপ নাথ বলেন, ওই আলোচনার পরই এই প্রস্তাবটি আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী আবার সক্রিয় হয়েছে।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের আস্কারায় জামায়াত আবারও মানবতাবিরোধী জঘন্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে ১৯৭১ সালের অপরাধের দায়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারে।’
জাতীয়
পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে কোলাকুলি, প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী
ঈদের আনন্দ কেবল উৎসবের রঙে নয়, বরং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে কীভাবে পূর্ণতা পায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে আছেন। ওই মুহূর্তে রাস্তায় দায়িত্বরত এক পুলিশ সার্জেন্ট দৌড়ে এলেন, আর প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে হাসিমুখে কোলাকুলি করলেন। ঈদের দিনের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
যা নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সার্জেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে দেখে স্যালুট ও হাত মেলাতে এগিয়ে আসেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাদামাটাভাবে তাকে কাছে টেনে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীর এমন অমায়িক আচরণে ওই পুলিশ সদস্যসহ উপস্থিত সবার মাঝেই এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এই দৃশ্য ঈদের আনন্দ আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। যেমন, রাষ্ট্র চাই, ঠিক সেই পথে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই সহজ-সরল ও আন্তরিক রূপ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ এই ভিডিওটি শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতি জানিয়েছেন।
গণমাধ্যম
আনিস আলমগীরসহ তিন সাংবাদিককে ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে গতকাল জ্যেষ্ঠ তিন সাংবাদিককে টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এই তিন সাংবাদিক হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শফিক রেহমান, দ্য নিউ নেশন সম্পাদক মো. মোকাররম হোসেন এবং আনিস আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তিন সাংবাদিককে ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. মোকাররম হোসেন বলেন, ঈদের দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ফোন করে স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ফোন পাওয়া ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তিনি আমার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’
মোকাররম হোসেন আরও বলেন, উৎসবের দিনে সরকার প্রধানের এমন সৌজন্যতায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
এ ছাড়া আনিস আলমগীর জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তাকে ফোন করে তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তাকে ও তার স্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
অর্থনীতি
গত এক মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল : বাণিজ্যমন্ত্রী
গত এক মাসে (রমজান) দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘সবার চেষ্টায় আমরা দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পেরেছি।’
আজ শনিবার সকালে সিলেটের ঐতিহাসিক শাহি ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত আদায় করে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এই সরকার মানুষের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকার জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক যে চাপই আসুক, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে এই দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে যেন দ্রব্যমূল্য থাকে, জীবনযাপন যেন সহনীয় থাকে, এটি হবে প্রধানতম লক্ষ্য।
এ জন্য সরকারি যত যন্ত্র ব্যবহার করা লাগে, সেটা করতে কার্পণ্য করা হবে না।’
একই ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন প্রবাসীকল্যাণ বৈদেশিক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আজকে আমাদের অনেক প্রবাসী ভাই-বোনরা নান সমস্যায় রয়েছেন। কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, কেউ গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের জন্য আমরা দোয়া করি।’
জাতীয়
কারাগারে ৮১ হাজার বন্দির ঈদ উদযাপন
২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা মামলায় এখন পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ২১৫ জন কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে ডিভিশন পেয়েছেন ১৮৩ জন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৩৭ জন, সাবেক সংসদ সদস্য ৪৮ জন এবং অন্যান্য পেশার ৯৮ জন আছেন এ তালিকায়। ডিভিশন না পেয়ে ভিআইপি হিসেবে কারাগারে আছেন ৩২ জন। তাদের আরেকটি ঈদ কারাগারে কাটছে।
এবারের ঈদে কারাবন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশেষ খাবার ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ফ্রি ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করেছে কারা অধিদপ্তর। পাশাপাশি অর্ধেকের বেশি সাজা ভোগ করা পাঁচজন বন্দিকে এ ঈদে মুক্তি দেওয়া হবে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি এবং তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এ বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের দিন কারাগারে আটক বন্দিদের সকাল, দুপুর ও রাতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।
নির্ধারিত মেন্যু অনুযায়ী, ঈদের দিন সকালে পায়েস বা সেমাই এবং মুড়ি পরিবেশন করা হবে। দুপুরে সাদা ভাত, গরুর মাংস (ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস), মুরগির রোস্ট, আলুর দম ও রুই মাছ দেওয়া হবে। এছাড়া পান ও সুপারিও সরবরাহ করা হবে।
এছাড়া ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা অর্ধেকের বেশি সাজা ভোগ করা পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন- চাঁদপুর কারাগারের আকাশ রিশি প্রকাশ দাশ, গাজীপুর জেলা কারাগারের রবিউল হোসেন, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জিকারুল হক জিকু ও নুরুজ্জামান এবং কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের আব্দুল করিম। তারা বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করছিলেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ বিবেচনায় সরকার তাদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১১ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের কারামুক্তির আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশের পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের আনন্দ কারাবন্দিদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে প্রতিবারের মতো এবারও বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব কারাগারে বন্দিদের এ বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। ঈদের দিন সকালে সব কারাগারে বন্দিদের জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। ঈদের তিনদিন বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। নিতে পারবেন স্বজনদের আনা খাবারও। ঈদকে কেন্দ্র করে বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টিতে থাকছে সাংস্কৃতিক বিনোদনের ব্যবস্থাও।
কারা কর্মকর্তারা জানান, ঈদের দিন থেকে তিনদিনের মধ্যে বন্দিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে একবার ৫ মিনিট মুঠোফোনে কথা বলতে পারবেন। এ তিনদিনের মধ্যে স্বজনরা একবার বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। সাধারণত ১৫ দিন পর বন্দিরা কারাগারে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের জন্যও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারের বাইরে তাদের চকলেট ও জুস দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে।
ঈদের দিন কারাগারের ভেতরে বন্দিদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যবস্থাও থাকছে। প্রতি বছর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে বন্দিদের মধ্য থেকে যারা শিল্পী রয়েছেন তারা গান করে থাকেন। এ ছাড়া বাছাইকৃত বন্দিদের নিয়ে টিম করে আয়োজন করা হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচের।



