জাতীয়
ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর বিরুদ্ধে: শিল্প উপদেষ্টা
গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি ও যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, তারাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে। যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, গণমানুষের প্রতিপক্ষ গণভোট নিয়ে তাদের অন্য চিন্তা রয়েছে। দেশের জনগণ ও জনতার জোয়ার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রংপুর সফরে এসে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশকে মুক্ত করেছে। জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছে তাদের আত্মত্যাগ আমরা জানি। জুলাইয়ে তাদের সঙ্গে আমরা রাজপথে ছিলাম। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ সরকার এসেছে। তাই এ সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ‘ হোক এটা আমরা (সরকার) চাই।
তিনি আরও বলেন, গণভোট নিয়ে রংপুরের প্রশাসনের সঙ্গে আমি কথা বলবো। দেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটনানোর জন্য যারা জীবন দিয়েছে, তাদের এই চেতনাকে সামনে রেখে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে। তাই জুলাই সনদের পক্ষে গণভোট। একটি জাতির জীবনে শত বছরে এমন সুযোগ আসে না। একই সঙ্গে সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে। আমরা আশা করছি নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসবমুখর হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক খৃষ্টফার হিমেল রিছিলসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এমকে
জাতীয়
গ্যাসচালিত পরিবহনে বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা : সড়কমন্ত্রী
গ্যাসচালিত পরিবহনে ভাড়া বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘শুধু ডিজেলচালিত বাসেই ভাড়া বাড়বে, গ্যাসচালিত পরিবহন বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তেলের দামের সঙ্গে বাসভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। যদি তেলের দাম আবার কমে যায়, কোনো আলোচনা ছাড়াই ভাড়া কমে যাবে।
তবে শুধু ডিজেলচালিত বাসেই ভাড়া বাড়বে, গ্যাসচালিত পরিবহনে ভাড়া বাড়বে না।’
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘তেলের দাম বাড়াতে আইএমএফের কোনো চাপ নেই। সরকার উপায় না পেয়ে তেলের দাম সমন্বয় করেছে।’
দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘পাচার ও ভর্তুকি এড়াতেও সরকার তেলের দাম বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।’
অটোরিকশা প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ধাপে ধাপে প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা বন্ধ করার চেষ্টা করা হবে।’
জাতীয়
সৌদি পৌঁছেছেন ৩২৫৩২ জন হজযাত্রী
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ সম্পর্কিত বিশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানা গেছে।
আইটি হেল্প ডেস্কের বুলেটিন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৩টা পর্যন্ত মোট ৮১টি ফ্লাইটে ৩২ হাজার ৫৩২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৩টি ফ্লাইটে গেছেন ১৩ হাজার ৬৮৪ জন।
সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের (সাউদিয়া) ৩০টি ফ্লাইটে পৌঁছেছেন ১১ হাজার ২৯৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৫৪৯ জন হজযাত্রী জেদ্দায় পৌঁছেছেন।
এদিকে চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি গিয়ে এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তারা হলেন-টাঙ্গাইলের সদরের মো. আবুল কাশেম ও জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মন্ডল।
এরমধ্যে টাঙ্গাইলের মো. আবুল কাশেম মারা যান সৌদির মক্কায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে।
এছাড়া জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মন্ডল স্বাভাকিভাবে মক্কায় মারা যান।
গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ দিন ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে।
আগামী ২১ মে শেষ হবে এ ফ্লাইট পরিচালনা।
৩০ মে থেকে পুনরায় হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। শেষ হবে ৩০ জুন। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।
জাতীয়
হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয় এই তথ্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের শরীরে হাম।
এই এক মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৬ জনের, যার মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩১৮ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে। মৃত ১৬৬ শিশুর অধিকাংশই টিকা না পাওয়া অথবা আংশিক টিকা পাওয়া। এক থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের রোগপ্রতিরোধ সক্ষমতার ঘাটতি, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ।
হামের সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। যেখানে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৩। ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল ও মিরপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি এবং নিয়মিত টিকাদানে শিথিলতার কারণে তৈরি হয়েছে এই প্রাদুর্ভাব। সংস্থাটি বলছে, ৯১ শতাংশ জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়া প্রমাণ করে যে সংক্রমণ এখন জাতীয়ভাবে বিস্তৃত।
এ ছাড়া ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের স্থলবন্দরগুলো দিয়ে মানুষের যাতায়াতের ফলে ‘উচ্চ’ পর্যায়ে রয়েছে আন্তঃদেশীয় সংক্রমণের ঝুঁকি।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের আনা হয়েছে এই কর্মসূচির আওতায়। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হাম প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশকিছু সুপারিশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি এলাকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত করা। সীমান্ত এলাকা ও আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার। সন্দেহভাজন রোগীকে দ্রুত আইসোলেশন বা আলাদা করে উন্নত চিকিৎসা প্রদান। স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান।
জাতীয়
বাংলাদেশকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতকে আরও কার্যকর, বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ করতে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারবে।
এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পর্যায়ে নিতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং অবদানভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দারিদ্র্যঝুঁকি কমানো ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘এ কর্মসূচির আওতায় অবদানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা স্কিম চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে। বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে অতিরিক্ত অন্তত দুই লাখ ৫০ হাজার নারীর সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’
জলবায়ু সহনশীল কর্মসূচির মাধ্যমে অভিযোজনভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বাড়ানো হবে।
জাতীয়
সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৯ হাজার ৩১৫ বাংলাদেশি হজযাত্রী
বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৩১৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। গত ১৭ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত তারা সেখানে পৌঁছান। এ সময়ের মধ্যে ২ জন হজযাত্রীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে পৌঁছানো যাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ২৬ হাজার ০৩১ জন।
এ পর্যন্ত মোট ৭৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ২৯টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স ২৭টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ১৭টি ফ্লাইট।
যাত্রী পরিবহনের হিসাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহন করেছে ১২ হাজার ০২৩ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১০ হাজার ০৮২ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ২১০ জন হজযাত্রী।
চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ মে।



