জাতীয়
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি স্থাপনে খসড়া অনুমোদন
সাত সরকারি কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেই শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। তবে শুরুতে যে কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালনার কথা ছিল সেখান থেকে ‘ইউটার্ন’ নিয়েছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়ায় সরকার চেষ্টা করেছে—শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা ক্যাডার সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষার একটি সমঝোতামূলক মডেল দাঁড় করাতে। যেখানে উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাত কলেজের ঐতিহ্য রক্ষার চেষ্টাও হয়েছে।
রাজধানীর সাতটি বড় সরকারি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের উদ্যোগ শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে পড়ে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা ক্যাডার—তিন পক্ষের আপত্তিতে দানা বাঁধে বড় আন্দোলন। সেই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক খসড়া থেকে সরে এসে অধ্যাদেশের কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।
শুরুর খসড়া এবং গতকাল পাস হওয়া খসড়া বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথম খসড়ায় চারটি অনুষদে ২৩টি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর কথা বলা হলেও এখন সেখান থেকে সরে এসে যে কলেজ যেভাবে আছে, তা ঠিক রেখেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হবে। অনুষদের পরিবর্তে স্কুলভিত্তিক একাডেমিক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এতে সাত কলেজের নিজস্ব পরিচয়, বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অক্ষুণ্ন থাকবে। কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমও চলবে বর্তমানে যেভাবে চলছে অনেকটা সেভাবেই। প্রথম খসড়ায় সাত কলেজকে কার্যত ইন্টিগ্রেটেড ক্যাম্পাস বা এক ক্যাম্পাসে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। চূড়ান্ত অধ্যাদেশে—কলেজগুলোকে ‘সংযুক্ত কলেজে’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
প্রথম খসড়ায় একেকটি কলেজকে নিয়ে আলাদা স্কুলভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা ছিল। যেমন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে ‘স্কুল অব সায়েন্সের’ কার্যক্রম চালুর কথা বলা হয়েছিল। সরকারি বাঙলা কলেজে ‘স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ’, সরকারি তিতুমীর কলেজে ‘স্কুল অব বিজনেস স্টাডিজ’ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ‘স্কুল অব ল অ্যান্ড জাস্টিস’ পরিচালিত হবে বলে বলা হয়েছিল। তবে নতুন খসড়ায় সে ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, যেখানে যে বিভাগ আছে সেখানে সেভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগের খসড়ায় সাত কলেজকে চারটি ‘স্কুলে’ ভাগ করে পাঠদান ও গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল। নির্দিষ্ট কলেজে নির্দিষ্ট স্কুলের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে পরিচালনার প্রস্তাব ছিল। শিক্ষক নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে করার কথা বলা হয়েছিল। এতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় দেড় হাজার পদ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কলেজগুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক স্বাতন্ত্র্য হারানোর অভিযোগ তোলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এই কাঠামোর বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামেন। পাশাপাশি শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করেন। সেই প্রেক্ষাপটে খসড়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এগুলো হলো—সাত কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে থাকবে, কলেজগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রশাসন আগের মতোই অধ্যক্ষের অধীনে পরিচালিত হবে। আগের খসড়ার মতো কলেজভিত্তিক স্কুল চাপিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব বাদ দিয়ে এখন স্কুল থাকবে বলে বলা হয়েছে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সমন্বয় কাঠামো হিসেবে পরামর্শমূলক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে বিশ্ববিদ্যালয়। খসড়া আইনে সরাসরি ক্যাডার পদ সংরক্ষণের ঘোষণা নেই, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে শিক্ষা ক্যাডারের পদ যাতে বিলুপ্ত না হয় তা বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
প্রথম খসড়ায় বলা ছিল সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষা হবে ইন্টারডিসিপ্লিনারি (একাধিক শাখার মধ্যে সমন্বয়) ও হাইব্রিড (অনলাইন ও অফলাইন দুটি পদ্ধতিকে এক করে সমন্বয়) ধাঁচের, যেখানে ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইন এবং বাকি ৬০ শতাংশ হবে অফলাইনে হবে। তবে সব পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে সশরীরে। শিক্ষার্থীরা প্রথম চার সেমিস্টারে নন-মেজর কোর্স এবং পরবর্তী চার সেমিস্টারে পড়বেন মেজর কোর্স। অনুমোদিত খসড়ায় সেই ধারাগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হলেও কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে। অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে। কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন এবং চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পৃথক পৃথক স্কুল থাকবে নেতৃত্ব দেবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। কলেজগুলোয় কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে। কলেজগুলোয় আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
সাত কলেজের সাবেক সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার কালবেলাকে বলেন, নতুন কাঠামোতে সবার দাবি ও মন রক্ষার একটি চেষ্টা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছায়া রয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও পুরোপুরি নতুনত্ব আনতে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নতুন ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে ভালোভাবে চলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয়
ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন আজ, পাচ্ছেন ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারী
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ভাতা পাবেন। এ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের স্বচ্ছতার অভাব না থাকে, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্সে সরকার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের নারীরা ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভাতা পেয়ে যাবেন।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার কড়াইল ও ভাসানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরসহ দেশের ১৪টি স্থানে এই প্রকল্প চালু হচ্ছে। এর আওতায় নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন; এ সময় তিনি অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাজধানীর কড়াইল বস্তি, ভাসানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাসন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, ব্যবহৃত গৃহস্থালিসামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও মোবাইল), রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।
পাইলট পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়। এরপর একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা নেওয়া, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী হওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন পরিবারের নারীপ্রধানকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় যোগ্য উপকারভোগীরা পাইলটিং পর্যায়ে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে ভাতাপ্রাপ্ত হবেন এবং পরে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এমএন
জাতীয়
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচন নিয়ে যে বার্তা দিলেন অর্থমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনে কোনো দলীয়করণ হয়নি বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণ করা হয়নি। স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
জনগণের ঘরে অর্থনৈতিক সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি- বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল সব মানুষের ঘরে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা করা সহজ নয়। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা মাথায় রেখে বড় কোনো সামাজিক কর্মসূচি হাতে নেয়াও সহজ নয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। পরে ধাপে ধাপে দেশের সব নারী প্রধান পরিবারকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশের বাজেটের একটি বড় অংশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই প্রকল্প পরিকল্পনার সময় থেকেই আমরা কীভাবে এ ব্যয় সামাল দেয়া যাবে, সে বিষয়েও বিস্তর কাজ করেছি।
এ সময় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মিলিত হামলার ঘটনায় অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধে আমরা যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি সেটা মাথায় রেখেই সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু চীন নয়, যেসব দেশে জ্বালানির সাপ্লাই রয়েছে, সব জায়গায়ই সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।
এমএন
জাতীয়
দেশ থেকে মব কালচার বিলুপ্ত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে ‘মব কালচার’ কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে মব সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে এবং তা একসময় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে মব কালচারকে আর কখনো এগোতে দেওয়া হবে না। এটি বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত করা হবে।”
সারা দেশে সাম্প্রতিক মব জাস্টিস এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সংঘবদ্ধ কোনো অপরাধী, চাঁদাবাজ বা অস্ত্রধারীকে আইনের বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না। যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সব ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তার মতে, অনেক ঘটনা বিচ্ছিন্ন অপরাধ, যেগুলো নির্দিষ্ট অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে। কেউ কাউকে আটক করে নির্যাতন করলে সেটি মব নয়, বরং একটি নির্ধারিত অপরাধ যার আলাদা সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। তবে সড়কে কোনো ধরনের মব পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
মব সংস্কৃতি যাতে বাংলাদেশে আর বিস্তার লাভ করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজের জন্মস্থান কক্সবাজার সফরে আসেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বেলা ১২টায় শুরু হয় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা; যা চলে দীর্ঘ ২ ঘণ্টা পর্যন্ত। সভায় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরী, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী ৩ মে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৩-৬ মে চলবে এই সম্মেলন।
এ অবস্থায় সোমবার (৯ মার্চ) ডিসি সম্মেলনের পূর্ব প্রস্তুতি নিতে সব সচিব এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের একান্ত সচিবদের চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় শাখা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩-৬ মে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধন করতে সম্মতি দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন চলাকালে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবেরা বিভিন্ন অধিবেশনে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মূল্যবান উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কার্যালয় সম্পর্কিত অধিবেশন হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
মধ্যপ্রাচ্যের ৪ রুটে বিমানের ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চারটি আন্তর্জাতিক রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্লাইট স্থগিত করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে আরও দুটি রুটে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দোহা, শারজাহ, কুয়েত ও দাম্মাম রুটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ থাকবে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ১০ মার্চের পর দুবাই ও আবুধাবি রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হতে পারে।
এদিকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী বন্ধ থাকা জেদ্দা, মদিনাসহ চারটি রুটে ফ্লাইট চালু হয়েছে জানিয়ে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, দুবাইয়েও চালুর চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তা মাথায় রেখে অন্য রুটে চিন্তা করা হচ্ছে।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বন্ধ থাকা জেদ্দা, মদিনাসহ চারটি রুটে ফ্লাইট চালু হয়েছে। দুবাইয়ে চালুর চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তা মাথায় রেখে অন্য রুটে চিন্তা করা হচ্ছে।
এ সময় রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ বিমানকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। জনগণের স্বার্থে বিমানের সার্ভিস নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে স্ক্যানার মেশিন তিনটি করা হচ্ছে।
‘টিকিটের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে কাজ হচ্ছে। ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল, আইন মেনে কিছু করা হয়নি আগে’, যোগ করেন তিনি।
এমএন




