আইন-আদালত
হাদি হত্যা: গ্রেফতার দুজনকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে—আইজিপি
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দুই আসামিকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদেরকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রধান অঙ্গীকার জানিয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি থানা হবে জিরো কমপ্লেইন সেন্টার।
‘পুলিশের পক্ষ থেকে অতিউৎসাহী ভূমিকা পালন করবেন না কোনো সদস্য। তবে জনগণকে আইন মেনে চলতে হবে’, যোগ করেন তিনি।
কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন আইনবহির্ভূত কোনো কাজে জড়িত থাকলে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান আলী হোসেন ফকির।
পুলিশের দুর্নামের জন্য কতিপয় পুলিশ সদস্য দায়ী মন্তব্য করে আইজিপি বলেন, পুলিশের পদোন্নতি, পদায়নে কোনো ধরণের স্বজনপ্রীতি হবে না। সৎ ও যোগ্য লোক থাকবে পুলিশে। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।
তিনি আরও জানান, দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিটি থানায় একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আর পুলিশের পোশাকের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
এমএন
আইন-আদালত
বিগত সরকারে সুপ্রিম কোর্ট স্বকীয়তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে: আইনমন্ত্রী
দেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট তার স্বকীয়তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত হয়েছিল।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথক বিচার বিভাগ সচিবালয় আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম কমিশন আইন ও জুলাই সনদ আইন যাচাই-বাছাই করেই সংসদে উত্থাপন করা হবে। পর্যালোচনা এ জন্যই দরকার যে, দেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট তার স্বকীয়তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’
বর্তমান সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণ অনৈতিকতায় ভরপুর বিচার ব্যবস্থা চায় না। আমরা ইন্টেলেকচুয়াল দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে চাই।’
মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশন নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের কিছু অংশে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। ওইসব অংশ বিএনপি তার অঙ্গীকার অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবে।’
দেশে আবারও বিভক্তির রাজনীতি চর্চার চেষ্টা চলছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৭১ বা ২৪ নিয়ে কোনো বিভক্তি চাই না। বিভক্তির রাজনীতি থেকে ফিরে আসতে হবে এবং বাংলাদেশি চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ক্রসফায়ার, গুম ও মিথ্যা মামলা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সরকার দায়িত্ব নিয়ে জনকল্যাণে কাজ করছে। এ কথাগুলো জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে এবং সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
আইনজীবী সমিতির এই সভায় আইনমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী যশোর কোর্টকে তার স্বরূপে ফিরিয়ে আনতে এবং বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবীরা মৃত্যুর পর যেন এক কোটি টাকা পেতে পারেন, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জজ মাহমুদা খানম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
এমএন
আইন-আদালত
আমির হামজাকে আবারও লিগ্যাল নোটিশ
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমানকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মো. আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম (নুরুল) বাংলাদেশ ছাত্রশক্তি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. আই-ইয়াশ ইমনের পক্ষে এ নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার মক্কেল মো. আই-ইয়াশ ইমন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ভক্ত এবং পছন্দের ব্যক্তি। সম্প্রতি এক জনসম্মুখে তাকে নিয়ে দেওয়া মুফতি আমির হামজার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায় আমির হামজা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমানকে ‘ফজু পাগল’ বলে সম্বোধন করেন। পাশাপাশি তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেন এবং কুকুর মারার ইনজেকশন দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমানের সামাজিক, মানসিক ও আর্থিক সম্মানের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। একই সঙ্গে তাকে দেশ ও জাতির সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে মুফতি আমির হামজাকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তার বক্তব্যের বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. নুরুল ইসলাম (নুরুল) জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে উপযুক্ত জবাব না দিলে আমার মক্কেল তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মুফতি আমির হামজার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। উকিলের নোটিশ তো রয়েছে ১ থেকে ২শত। আসুক আসলে আর কী করবো। এসময় তিনি নিজের আইনজীবীদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।’
আইন-আদালত
সন্তানসহ কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী
তেজগাঁও থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম ও তার শিশু সন্তান জামিন পেয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিকে ওই নেত্রীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নিতে তার সহকর্মীরা সকাল থেকেই কারাগার ফটকে অপেক্ষা করেন৷
তেজগাঁও এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি আমাদের এলাকার বড় বোন। একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছিল, তা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারের কারণে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন দেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
কারা ফটকে শিল্পী বেগম বলেন, আমাকে পুলিশ ধরতে চায়নি, বিএনপির লোকজন আমাকে ধরিয়ে দিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগ করি কিন্তু কোনো পদ-পদবি নেই৷ আমাকে মুক্তি দিয়েছে এজন্য আমি আইনের প্রতি কৃতজ্ঞ৷
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে মঙ্গলবার রাতে শিল্পী বেগম তার দেড় মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানকে সঙ্গে নিয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান।
আইন-আদালত
পদে পদে পরিচয়ের আড়ালে অনিয়ম-প্রতারণার মানুষ ঠকাচ্ছেন অ্যাড. দেলোয়ার
একাধিক সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এবার ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে অর্থ তসরুপের দায়ে চাকরিচ্যুত হওয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে একটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির সেক্রেটারি থেকে ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় নেতা নানা পরিচয়ে পরিচিত অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন। এসব পরিচয়ের আড়ালে তার বিরুদ্ধে জমেছে অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালে অর্থ তসরুপের ঘটনায় তিনি চাকরিচ্যুত হন। পরে তিনি ঢাকায় এসে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
এ ধারাবাহিকতায় সাবেক সিনিয়র জেলা জজ মাসদার হোসেনের চেম্বারের মাধ্যমে নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একটি ভ্যাট আপিল মামলার শুনানি ও পরিচালনার দায়িত্ব পান তিনি। মামলা চলাকালে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা, আইনজীবীর ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনকে মোট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তিনি নিজের নামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পল্টন শাখার দুটি হিসাবে অর্থ জমা ও এফডিআর করেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি একটি হিসাবে ৩৫ লাখ টাকা জমা এবং ১০ জানুয়ারি আরেকটি হিসাবে ৪০ লাখ টাকার এফডিআর করা হয়।
এ ঘটনায় নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৎকালীন ব্যবস্থাপক মো. আশরাফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আরও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। মো. মুনকির খান অভিযোগ করেন, তার ভাই মোশারফ হোসেনের কাছে পাওনাদার আলমগীর হোসাইনের কথা বলে দেলোয়ার হোসেন ৯ লাখ টাকা নেন। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে অর্থ পরিশোধের পর আপোষের মাধ্যমে তা প্রত্যাহার করা হয়।
অন্যদিকে কেরানীগঞ্জে জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্ধেক টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা এখনো না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জমির বিক্রেতা ফারুক হোসাইন। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন মানুষকে হয়রানির শিকার করছেন।
সাবেক জেলা জজ ও আইনজীবী মাসদার হোসেন বলেন, আমার এক মক্কেলের মামলা চলাকালে আমি আমার চেম্বার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডভোকেট ফাতহুল বারীর পরিচিত অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা, আইনজীবী ফি ও আনুষঙ্গিক আরও খরচ বাবদ আশি লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে আরও সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকাসহ মোট সাতাশি লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করি। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তার নিজ নামীয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, পল্টন শাখায় পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা জমা এবং একই ব্যাংকে চল্লিশ লাখ টাকা এফডিআর করেন, যা একটি সুস্পষ্ট তসরুপের শামিল।
এই অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৎকালীন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলাম বিগত ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। যা তদন্তাধীন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে চাকুরী ছেড়ে দিয়েছি। আর নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একটি ভ্যাট আপিল মামলার ফির টাকা নিয়েছি।
এমএন
আইন-আদালত
দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী
দেড় মাস আগে কাইফা ইসলাম সিমরান নামের এক কন্যাসন্তানের মা হন যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। সিজারের সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি। এরমধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। এ মামলায় দেড় মাসের কন্যাসন্তানকে বুকে নিয়ে ও পেটে বেল্ট পরে কাঁদতে কাঁদতে কারাগারে গেলেন শিল্পী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
এদিন দুপুর ২টার দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।
এসময় তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের কন্যাসন্তান রয়েছে। তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থণা করছি। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিকেল ৩টা ১২ মিনিটকে আদালত থেকে বের করা হয়। এসময় আদালতের চতুর্থ তলায় কাঁদতে থাকেন তিনি।
পরে তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সী বাচ্চাকে। এসময় আদালতের বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসিয়ে সেই বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান ওই মা। পরে ওই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এসময় তিনি কাঁদতে থাকেন। যুবলীগ নেত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের আক্রমণ করেন।
পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাতনামা ১২০-১৩০ জন আসামি দেশীয় ধারাল অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালান। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।



