অর্থনীতি
এমএফএস সেবা দিতে নতুন কোম্পানি খুলছে ইসলামী ব্যাংক
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে দেশের ইসলামী ধারার বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এই সেবা পরিচালনার লক্ষ্যে একটি সহযোগী কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটি।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির ৩৮৯তম পর্ষদ সভায় সহযোগী কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও এমএফএস চালুর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র অনুসারে, প্রস্তাবিত কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন হবে এক হাজার কোটি টাকা। আর ৫০ কোটি টাকা হবে এর প্রাথমিক পরিশোধিত মূলধন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি কোম্পানিটির ন্যুনতম ৫১ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে। অবশিষ্ট শেয়ার বিদ্যমান গাইডলাইন অনুসারে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এমএফএস চালুর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
অর্থনীতি
টানা ৩ দফা বৃদ্ধির পর কমলো সোনার দাম
টানা তিন দফা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে সামান্য পতন দেখা গেছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা কমে আসায় ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সোনার ওপর। পাশাপাশি, নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার কমার সম্ভাবনা কমে যাওয়াও দামে চাপ সৃষ্টি করেছে।
গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে স্পট সোনার দাম কমে ০ দশমিক ৩ শতাংশ নেমে দাঁড়ায় আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৮২৪ দশমিক ১৮ ডলারে। এর আগে লেনদেনের একপর্যায়ে দাম প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল।
ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনা ফিউচার্সের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৮২৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এদিকে দেশের বাজারে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সোনা ভরিতে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায় বিক্রি হবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সোনা ভরিতে ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। যা দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
অর্থনীতি
২১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ২৩৩ কোটি ডলার
চলতি বছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বছরের প্রথম ২১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এ তথ্য জানান। জানুয়ারির প্রথম ২১ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
বছরের শুরুর প্রথম ২১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ বা ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তিনি এ তথ্য জানান। রেমিট্যান্স হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার।
আরিফ হোসেন খান বলেন, চলতি জানুয়ারির প্রথম ২১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। আর ২১ জানুয়ারি এক দিনে প্রবাসীরা দেশে ১১ কোটি ডলার পাঠিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৮৫৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এর আগে, গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যা চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের যে কোনো মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। আর গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এছাড়া গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
এমএন
অর্থনীতি
আড়াই লাখ টাকা ছাড়াল সোনার দাম
দেশের বাজারে ফের বাড়লো সোনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে আবারও বাড়ানো হয়েছে মূল্যবান এ ধাতুটির দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৮ হাজার ৩৪০ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা হয়েছে।
এর আগে এতো দাম কখনো বাড়েনি। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সোনার সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো। একই সঙ্গে রূপার দামও বাড়ানো হয়েছে প্রতি ভরি রূপার দাম ২৯২ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতোদিন ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার সর্বোচ্চ দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ টাকা।
আজ পর্যন্ত এ দামে সোনা বিক্রি হয়েছে। আবার নতুন করে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো। তবে এবার দেশের ইতিহাসে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে কখনো এতো দাম বাড়ানো হয়নি।
নতুন দাম অনুযায়ী: ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৮ হাজার ৩৪০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ৯৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৬ হাজার ৮২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ০৬ হাজার ৫৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ৮৩২ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।
এর আগে ২৪ ঘণ্টা আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ২৪৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৪ হাজার ৩১৬ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২০ জানুয়ারি সবচেয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৪ হাজার ২০৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৪ হাজার ২৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৪৪১ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৯১৬ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
তার আগে গত ১৫ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৬১৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৭০ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৫০৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৯৯ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
গত ১৪ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৯৬৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ৪৪১ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
তার আগে গত ১১ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৮৭৫ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৭৫৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রূপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ২৯২ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এমকে
অর্থনীতি
একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়: গভর্নর
টাকার ঘাটতি রয়েছে, বর্তমানে একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন গভর্নর।
গভর্নর বলেন, কিছু খারাপ ব্যাংক ছিল; তাদের টাকা ছাপিয়ে দিতে হয়েছে। বর্তমানে টাকার ঘাটতি রয়েছে। এজন্য একসঙ্গে সব ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়। আগামীতে সরকারি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে, পরে আবার বেসরকারি ব্যাংক ঠিক করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঋণখেলাপি শতভাগ কাভারেজ না হলে কোনো ব্যাংক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। এতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। দুর্বল ব্যাংক কোনোভাবেই ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ খেলাপি ৩০ শতাংশে নামানোর এবং পরবর্তী বছরের মার্চে ২৫ শতাংশে নামানোর কাজ করছে।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক দুটি রেখে বাকিগুলো সরকার মার্জ করার পরিকল্পনা করছে জানিয়ে ড. মনসুর বলেন, বাংলাদেশে ১৫টি ব্যাংকের বেশি প্রয়োজন নেই। আগামী ২-৩ বছরে ১২-১৩টি ব্যাংক ঠিক করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রেজুলেশন ফার্ম করতে চায় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এজন্য ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে একটি ফান্ড তৈরি করা হবে। এই ফান্ড গঠন করা হলে সংকটের সময় সরকারের কাছে হাত পাততে হবে না।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকিং খাতে কোনোভাবেই যেন ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র এবং সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যা হয়ত পাচারও হয়ে থাকতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোপুরি স্বাধীন না হলেও স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তবে ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
রাজস্ব ফাঁকির প্রধান উপায় ক্যাশ, তাই দেশে ক্যাশলেস সোসাইটি করতে পারলে বছরে রাজস্ব আদায় দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা বাড়বে বলেও জানিয়েছেন গভর্নর ড. মনসুর।
এমকে
অর্থনীতি
জানুয়ারির ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা
দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ২১২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ২৫ হাজার ৯০০ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে সোমবারই (১৯ জানুয়ারি) এসেছে এক হাজার ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, গত বছরের জানুয়ারির প্রথম ১৯ দিনে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৩৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৮৩৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছিল এক হাজার ৫১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
এমকে



