ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক হলেন ওয়াহেদুজ্জামান সরদার
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (গবেষণা) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন একই বিভাগে কর্মরত অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওয়াহেদুজ্জামান সরদার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
ওয়াহেদুজ্জামান সরদার ২০০১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ২০০৫ সাল পর্যন্ত গবেষণা বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি উপ-বিভাগ ও ইসলামী অর্থনীতি উপ-বিভাগে কৃষি ও পল্লী ঋণ, মূল্যস্ফীতি এবং ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে কাজ করেন।
২০০৫ সালে তিনি মনিটারি পলিসি ডিপার্টমেন্টে বদলি হন। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি ওপেন মার্কেট অপারেশন ও ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং-এ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এছাড়া অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সের বিভিন্ন বিষয় তথা জিডিপি, মুদ্রানীতি, ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ, রেমিট্যান্স, ইসলামী অর্থনীতি, ক্ষুদ্রঋণ, কৃষি ঋণ, মোবাইল ব্যাংকিং বিষয়ে তার ১৫টি প্রবন্ধ দেশি ও বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের আর্থসামাজিক অবস্থা, কৃষিঋণ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ভোক্তাঋণের উপর পরিচালিত গবেষণা কর্মে যুক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
এমকে
ব্যাংক
শূন্য হচ্ছে ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার
ব্যাংক খাতে সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার শূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর (নন-ভায়েবল) ঘোষণা করা হবে। এরপর ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও নেট অ্যাসেট ভ্যালু নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের প্রকৃত অবস্থান কতটা নেতিবাচক—তা অডিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অডিট প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, অনিয়ম ও দায়ভার সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তদারকির জন্য ‘ব্যাংকিং রেজুলেশন ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যত দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে এ বিভাগের কাজ। পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে; প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অবসান নয়; বরং আর্থিক খাতে জবাবদিহি ও শৃঙ্খলার নতুন অধ্যায়ের সূচনা। শেয়ার শূন্য হওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য কঠিন হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি এই খাতের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বহু এনবিএফআই সংকটে পড়ে। এর বেশির ভাগই বর্তমানে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান প্রশান্ত কুমার হালদারের নিয়ন্ত্রণাধীন। শিল্পগোষ্ঠী এস আলমের একটি প্রতিষ্ঠানও তালিকায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে নয়টি এনবিএফআইয়ের নিবন্ধন সনদ বা লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, এফএএস ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও প্রিমিয়ার লিজিং। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করতে সরকারকে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অর্থ দিয়ে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের পরিমাণ ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের এবং বাকি ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। ব্যক্তি আমানতকারীদের সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা আটকে আছে পিপলস লিজিংয়ে। এছাড়া আভিভা ফাইন্যান্সে ৮০৯ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৬৪৫ কোটি এবং প্রাইম ফাইন্যান্সে ৩২৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে ২০টি এনবিএফআই বন্ধের উদ্যোগ নিলেও ১১টি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের পরিকল্পনা জমা দেয়। সেসব পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আপাতত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এমকে
ব্যাংক
দুইদিনে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক থেকে উত্তোলন ১০৭ কোটি টাকা
কার্যক্রম শুরুর প্রথম দুইদিনে পাঁচ ব্যাংকের একত্রে গঠিত সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক থেকে ১৩ হাজার ৩১৪ জন গ্রাহক ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। তবে আশার বিষয় হলো এই সময়ে ৪৪ কোটি টাকা নতুন করে জমা করেছেন গ্রাহকরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেন, কার্যক্রম শুরুর পরে টাকা উত্তোলন ও জমা হচ্ছে। কোথাও কোথাও জমার পরিমাণ উত্তোলন থেকে বেশি। দুই দিনে এক্সিম ব্যাংকে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংকে ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকে তিন কোটি ৪৯ লাখ, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকে ৬৮ লাখ টাকা এবং গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংকে ৬২ লাখ টাকা জমা হয়েছে।
এছাড়া সর্বোচ্চ টাকা উত্তোলন হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে। ব্যাংকটি থেকে ছয় হাজার ২৬৫ জন তুলেছেন ৬৬ কোটি টাকা।
গভর্নর বলেন, সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকে গ্রাহকের টাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে আমাদের চ্যালেঞ্জ হবে, প্রবাসীদের আস্থা অর্জন করা, যাতে করে বৈদেশিক মুদ্রা এসব ব্যাংকে তারা পাঠান। এছাড়া ব্যবসায়ী কার্যক্রম ও আমদানি রপ্তানিতে ফের আস্থা অর্জন করাও অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন আহসান এইচ মনসুর।
এমকে
ব্যাংক
লেনদেন স্বাভাবিক, টাকা তুলতে পারছেন ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা
নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারছেন একীভূত করে গঠন করা ৫ ব্যাংকের গ্রাহকরা। একইসঙ্গে জমানো টাকা তুলতে পারছেন ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাংকগুলোর শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
৫টি ব্যাংকের অনেক শাখায় এরইমধ্যে সাইনবোর্ড পাল্টে নতুন গঠন হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নামে ব্যানার টানানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো– এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এর মাধ্যমেই দুর্বল পাঁচ ব্যাংক নবগঠিত ব্যাংকে বিলীন হবে। যখন কোনো ব্যাংকের কিছুই থাকবে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই এটা অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পুরাতন ব্যাংকগুলো নতুন ব্যাংকে একীভূত হওয়া।
রেজুলেশন স্কিম অনুমোদনের ফলে প্রথম ধাপে চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। বিদ্যমান চেক বই দিয়েই লেনদেন করা যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমানত সুরক্ষা আইন’-এর আওতায় এই অর্থ যেকোনো সময় একবারে পুরোটা তোলা যাবে।
তবে ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক অথবা ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য স্কিমে মানবিক বিবেচনায় বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। তারা তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়সীমা বা সীমার বাইরে গিয়েও আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, গ্রাহকদের দুই লাখ টাকা দেয়ার পর অবশিষ্ট টাকা অ্যাকাউন্টে থাকবে এবং প্রচলিত হারে মুনাফা দেয়া হবে। ব্যাংক সচ্ছল হতে থাকবে, একপর্যায়ে বাকি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেয়া হবে।
তবে মেয়াদি ও স্থায়ী আমানত কবে নাগাদ ফেরত দেয়া হবে- সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই পাঁচ ব্যাংকে গ্রাহকদের মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। যার বড় অংশই ব্যক্তি আমানতকারীদের।
ব্যাংক রেজল্যুশন-২০২৫ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, রেজল্যুশন স্কিম কার্যকর হওয়ার দিন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্তৃপক্ষ নতুন করে ভিন্ন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হস্তান্তর হওয়া ব্যাংকগুলোর নামে থাকা সব ব্যাংকিং কাগজপত্র বৈধ থাকবে। অর্থাৎ আগের ব্যাংকের নামে ছাপানো বা ব্যবহৃত চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ, টাকা উত্তোলনের স্লিপ, ভাউচার, ফরম, রসিদ, আবেদনপত্রসহ সব ধরনের ব্যাংকিং দলিল এখন হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংকের অনুমোদিত ও বৈধ দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫ অনুযায়ী গত ৫ নভেম্বর এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। পরে ৫টি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৫ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে।
সারা দেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর একই এলাকার একাধিক শাখা মিলে একটি বা দুটি করা হবে। ব্যাংকগুলোর পরিচালন খরচ কমাতে এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন–ভাতা ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
এমকে
ব্যাংক
ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
চলতি মাসের ২৯ দিনে দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা ডলারসংকট কাটাতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে ডলার কেনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল, আর ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমেছিল ২৬ বিলিয়ন ডলারে।
চলতি মাসের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২৯ দিনে দেশে এসেছে ৩০৪ কোটি ডলার।
গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। তাতে গত মার্চে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড হয়। ওই মাসে ৩২৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল, যা এখন পর্যন্ত একক কোনো মাসে দেশে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এরপর চলতি মাসে প্রবাসী আয় আবারও ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। তার আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসেছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়।
প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া বিদেশি ঋণও আসছে। এতে বাড়ছে রিজার্ভ। গতকাল মঙ্গলবার রিজার্ভ বেড়ে হয় ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার নিলামের মাধ্যমে সাতটি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এসব ডলার কেনা হয়। এর ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন বা ৩১৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বর মাসেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ ৩৪-৩৫ বিলিয়নে পৌঁছাবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা কোনো সংস্থার ঋণে নয়, নিজেদের দেশ থেকে ডলার কিনেই রিজার্ভ বাড়ানো হবে। এটাই ভালো সিদ্ধান্ত।
এমকে
ব্যাংক
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন লোগো উন্মোচন
পাঁচটি ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে একটি ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে অধিগ্রহণ করবে নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) নবগঠিত এই ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর লোগো উন্মোচন করা হয়েছে।
একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার নীতিমালায় কর্মকর্তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী হবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে। নীতিমালার তথ্য অনুযায়ী, হস্তান্তরকারী (পুরোনো পাঁচটি) ব্যাংকে কর্মরত যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা বিভাগীয় অভিযোগ নেই, তারা নির্ধারিত দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মী হিসেবে গণ্য হবেন। তবে তাদের চাকরির ক্ষেত্রে কিছু কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে-
শর্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা: বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্মকর্তাদের চাকরির বিদ্যমান শর্তাবলি পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে।
আপত্তি করার সুযোগ নেই: যদি শর্ত পরিবর্তনের ফলে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বা বেতন-ভাতা আগের তুলনায় কমে যায়, তাহলে ওই কর্মী এ নিয়ে আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক আপত্তি তুলতে পারবেন না।
চাকরি ত্যাগের সুযোগ: হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কোনো কর্মী যদি নতুন ব্যাংকে চাকরি করতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে তাকে লিখিতভাবে তা জানাতে হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি নতুন ব্যাংকের কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবেন না।
অব্যাহতি ও বরখাস্ত সংক্রান্ত নিয়ম
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যদি ব্যাংকের স্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করে কিংবা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক বা চাকরিবিধি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়, তাহলে তাকে যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই বরখাস্ত করতে পারবে।
শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক এই একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।




