আন্তর্জাতিক
বিশ্বে প্রথমবার স্বর্ণের দাম ছাড়ালো ৪ হাজার ৫০০ ডলার
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে রুপা ও প্লাটিনামও ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে।
বুধবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম এক পর্যায়ে ৪ হাজার ৫২৫ ডলার ছুঁয়ে রেকর্ড গড়ে। পরে দাম কিছুটা কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯২ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে রুপার দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ৭২ ডলারের বেশি হয়েছে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম ২ হাজার ৩৭৭ ডলার পর্যন্ত উঠে ইতিহাস গড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার কমার সম্ভাবনা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন।
একজন বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণে মানুষ এমন সম্পদে বিনিয়োগ করছে, যেগুলোতে রাষ্ট্রীয় ঝুঁকি কম।
চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক উল্লম্ফন। রুপার দাম বেড়েছে ১৫০ শতাংশেরও বেশি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার এবং রুপার দাম ৮০ ডলার ছুঁতে পারে।
আন্তর্জাতিক
লিবিয়া উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবে শিশুসহ ৫৩ প্রাণহানী
লিবিয়ার উপকূলীয় শহর জুয়ারার উত্তরে ভূমধ্যসাগরে একটি রাবারের নৌকা ডুবে দুই শিশুসহ অন্তত ৫৩ অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের সকলের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইওএম জানিয়েছে, ৫৫ আরোহী বহনকারী নৌকাটি গত ৬ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর জুয়ারার উত্তরে ভূমধ্যসাগরে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর মাত্র দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুইজনকে তীরে নামানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
আইওএমের বরাতে জানা গেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নৌকাটিতে বিভিন্ন আফ্রিকান দেশের শরণার্থী ও অভিবাসীরা ছিলেন। নৌকাটি ৫ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-জাওইয়া এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সাগরে ডুবে যায়।
আইওএমের ‘মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্টের’ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত বিপজ্জনক সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ান রুটে অন্তত ১ হাজার ৩০০ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনার ফলে চলতি বছর এই পথে মৃত বা নিখোঁজ শরণার্থী ও অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৪৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
আইওএমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুধু জানুয়ারি মাসেই চরম আবহাওয়ার মধ্যে সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ানে একাধিক ‘অদৃশ্য’ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৩৭৫ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্তই হয়নি।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এসব বারবার ঘটতে থাকা দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় এই বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে শরণার্থী ও অভিবাসীরা এখনও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগে ৪ শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার
ইরানে গত মাসের রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী বিক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। এবার রাজনৈতিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগে চারজন শীর্ষস্থানীয় সংস্কারপন্থী নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন সংস্কারপন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তারা হলেন- রিফর্ম ফ্রন্টের প্রধান আজার মানসুরি, সাবেক কূটনীতিক মোহসেন আমিনজাদেহ এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইব্রাহিম আসগারজাদেহ। অপর ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বিচার বিভাগের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা মিজান জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির সময় গ্রেপ্তারকৃতরা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সংগঠিত কার্যক্রমের পেছনে ছিল। রাস্তায় নামা দাঙ্গাবাজদের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে তারা চেষ্টা করেছিলেন।
ইরানের রিফর্ম ফ্রন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, বিচারিক আদেশের ভিত্তিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা বাহিনী আজার মানসুরিকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইআরজিসি তাদের ডেপুটি চেয়ারম্যান মোহসেন আরমিন এবং সেক্রেটারি বদরাল সাদাত মোফিদিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও তলব করেছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
কবুতরকে খাবার দেওয়ায় নারীকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
বন্য কবুতরকে খাবার খাওয়ানোর অপরাধে এক নারীকে জরিমানা করেছে সিঙ্গাপুরের আদালত। দণ্ডিত আসামির নাম শানমুগামনাথন শামলা। ৭১ বছর বয়সী এ নারী একাধিক বার বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করায় তাকে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে এক ঝাঁক বন্য কবুতরকে খাবার দেওয়ায় শামলাকে ৩ হাজার ২০০ সিঙ্গাপুরি ডলার তথা প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমান মুদ্রাবাজার অনুযায়ী, ১ সিঙ্গাপুরি ডলার সমান ৯৫ দশমিক ৯২ টাকা ধরে হিসাব করে এ পরিমাণ পাওয়া গেছে।
অবসরজীবন যাপন করা শামলা সিঙ্গাপুরের সেন্ট্রাল অঞ্চলের তোয়া পায়োহ এলাকায় থাকেন। তবে তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বলে জানিয়েছে দ্য ইকোনমিকস টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।
শামলা বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং আদালত তার আরো পাঁচটি একই ধরনের ঘটনা বিবেচনায় নিয়েছে। এটিই প্রথমবার নয় যে, ওই নারী তার এমন অভ্যাসের জন্য আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে একই অপরাধ এবং একটি পাখি ধরার অভিযানে বাধা দেওয়ার জন্য তাকে ১ হাজার ২০০ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। সে সময় তিনি আদালতকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তিনি আর এ কাজের পুনরাবৃত্তি করবেন না। তবে মাত্র এক মাস পরেই তিনি তার পুরনো অভ্যাসে ফিরে যান।
আদালতে উপস্থাপিত প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ওই নারী অন্তত ৯ বার কবুতরকে শস্যদানা এবং পাউরুটি খাইয়েছিলেন।
আদালতে প্রদর্শিত ভিডিও ফুটেজে দেশটির তোয়া পায়োহ এলাকায় তার বাসভবনের কাছে তাকে একঝাঁক কবুতরের মাঝে দেখা যায়। আদালতকে জানানো হয় যে, তিনি তার নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করে অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তার মাত্র তিন দিন পরেই তাকে আবার পাখিদের খাবার খাওয়াতে দেখা যায়।
প্রসিকিউশন তার এ আচরণকে আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং যুক্তি দিয়েছে যে, একটি কার্যকর শাস্তি প্রয়োজন। ওই নারী আদালতকে জানান, তিনি বেকার এবং তার কোনো চিকিৎসা বীমাও নেই।
শামলা জরিমানা কমানোর অনুরোধ করেন এবং এর পরিবর্তে সমাজসেবামূলক কাজের প্রস্তাব দেন। তবে বিচারক ৩ হাজার ২০০ ডলার জরিমানা করার পর তিনি সঙ্গেই পুরো অর্থ পরিশোধ করতে রাজি হন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একই অপরাধ বারবার করার কারণে প্রতিটি অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারত।
আন্তর্জাতিক
জেদ্দায় মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান, প্রস্তুত সৌদি আরব
সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী জেদ্দায় যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ব্লু ডিফেন্ডার ২৬’ নামের এই মহড়া জেদ্দার কিং ফয়সাল নৌঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহড়ার সময়কাল সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই যৌথ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। মহড়ায় মাঠপর্যায়ের ও কৌশলগত বিভিন্ন পরিস্থিতির অনুশীলন করা হয়েছে। উভয় বাহিনী উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ও যুদ্ধ প্রস্তুতি প্রদর্শন করেছে, যা তাদের যৌথ অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষমতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
এই মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ছে। গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বিনিয়োগ ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ২৭০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই যৌথ মহড়াকে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নে গণভোট চলছে থাইল্যান্ডে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আবহের মধ্যে সংস্কারপন্থি, সামরিক-সমর্থিত রক্ষণশীল এবং জনতাবাদী— এই তিন ধারার রাজনৈতিক শক্তি আজ মুখোমুখি ভোটের লড়াইয়ে।
এবারের নির্বাচনে সরকার বাছাইয়ের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি চলছে গণভোটও। সংবিধান বদলের প্রশ্নে এই গণভোটে রায় দিচ্ছেন থাইল্যান্ডের জনগণ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম।
গণভোটে ভোটারদের সামনে প্রশ্ন রাখা হয়েছে, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না।
গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো মনে করছে, নতুন সংবিধান সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, রক্ষণশীলদের আশঙ্কা, এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগাম ভোটগ্রহণ পর্বে ইতোমধ্যে ২২ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন।
থাইল্যান্ডে এবারের সাধারণ নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ৩০ লাখ এবং ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং তীব্র জাতীয়তাবাদী আবহের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও ৫০টিরও বেশি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, বাস্তবে কেবল তিনটি দল— পিপলস পার্টি, ভূমজাইথাই এবং ফেউ থাই দেশজুড়ে সংগঠন ও জনপ্রিয়তার কারণে সরকার গঠনের মতো ম্যান্ডেট পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে।
অবশ্য ৫০০ আসনের এই সংসদে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে জরিপগুলোতে ইঙ্গিত মিলছে। ফলে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোট সরকার গঠনের আলোচনা প্রায় নিশ্চিত। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।
আল জাজিরা বলছে, নাথাফং রুয়াংপানইয়াওয়ুতের নেতৃত্বে সংস্কারপন্থি পিপলস পার্টিই সবচেয়ে বেশি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, দলটির সংস্কারমূলক কর্মসূচি, বিশেষ করে সামরিক বাহিনী ও আদালতের প্রভাব কমানো এবং অর্থনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে, তারা একজোট হয়ে পিপলস পার্টিকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।
এই দলটি মূলত থাইল্যান্ডের মুভ ফরওয়ার্ড পার্টির উত্তরসূরি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ওই দলটি সংসদে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সামরিক-নিয়োগপ্রাপ্ত সিনেট তাদের ক্ষমতায় যেতে বাধা দেয়। পরে রাজতন্ত্র অবমাননা সংক্রান্ত কঠোর আইন সংস্কারের আহ্বানের কারণে সাংবিধানিক আদালত দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
অন্যদিকে ভূমজাইথাই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। রাজতন্ত্রপন্থি ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থক শক্তির প্রধান রক্ষক এবং পছন্দের দল হিসেবেই দেখা হচ্ছে দলটিকে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অনুতিন। এর আগে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রার মন্ত্রিসভায় ছিলেন তিনি। কম্বোডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পায়েতংতার্নকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। পরে অনুতিনের বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাবের হুমকি তৈরি হয়। তাই ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচনের ডাক দেন তিনি।
অনুতিনের নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় ছিল অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও জাতীয় নিরাপত্তা। প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর উসকে ওঠা জাতীয়তাবাদী আবেগকে তিনি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগান।
থাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফেউ থাই দলটি কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা-সমর্থিত রাজনৈতিক ধারার সর্বশেষ রূপ। দলটি থাই রাক থাই পার্টির জনতাবাদী রাজনীতির উত্তরাধিকার বহন করছে এবং এই দলটি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল এবং পরে সামরিক অভ্যুত্থানে উৎখাত হয়।
অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও নগদ সহায়তার মতো প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছে ফেউ থাই পার্টি। দলটি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াতকে।
এমএন



