রাজনীতি
হাদিকে হত্যাচেষ্টা: ৬ দফা দাবিতে ১৮ ছাত্রসংগঠনের ঐক্যবদ্ধ বিবৃতি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ৬ দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ বিবৃতি দিয়েছে ছাত্রশিবিরসহ ১৮টি ছাত্রসংগঠন। আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে নিয়ে আজ বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী অপতৎপরতা চলছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হলেন এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশের রাজনীতিতে বিভাজন ও নিজেদের পুনর্বাসনের নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই জুলাই যোদ্ধা ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন কণ্ঠস্বর শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার জঘন্য অপচেষ্টা করে। রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই সশস্ত্র হামলা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, গণহত্যাকারী পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে টার্গেট কিলিং মিশনে নেমেছে।
৬ দফা দাবি হলো-
শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলায় জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। ভারতীয় প্রক্সি ফ্যাসিস্ট শক্তির মূল হোতা খুনি শেখ হাসিনাসহ সকল অপরাধীকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ফ্যাসিস্ট শক্তির আর্থিক উৎসের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যবসায়ীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও গণমাধ্যমে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জনজীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই যোদ্ধা ওসমান বিন হাদিকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা প্রমাণ করে, পতিত ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী কার্যক্রম এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং গণহত্যাকারী আধিপত্যবাদী শক্তি ভারতের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠিত হচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত পতিত ফ্যাসিস্ট গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার দোসররা এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের টার্গেট বানিয়েছে। মুজিববাদ, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে যারা দৃপ্ত কণ্ঠে কথা বলছে-তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করাই এই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য।
বিবৃতে নেতারা বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি-এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা নয়; বরং এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও নেতৃত্ব ধ্বংস করে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুসংগঠিত অপারেশন। এই বর্বর হামলা প্রমাণ করে, গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদী শক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় তারা পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা এখন পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের টার্গেট করছে।
একজন বিপ্লবী যোদ্ধা ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর এই হামলা রাষ্ট্রের নিরাপত্তাহীনতা এবং ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো- হত্যাচেষ্টার ৫ দিন অতিক্রান্ত হলেও হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। অপরদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের অসংখ্য খুনি ও দুষ্কৃতকারী ধারাবাহিকভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে সারাদেশে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও গোপন হামলার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।’
তারা বলেন, ‘আমরা মনে করি, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এই ব্যর্থতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুতর দুর্বলতার প্রতিফলন। এই ব্যর্থতার দায় আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। জনগণের জানমাল রক্ষা, অপরাধ দমন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।’
তারা আরও বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আরও লক্ষ্য করছি যে, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এখনো টকশো, কলাম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের পক্ষে সহানুভূতি উৎপাদনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গে নির্মম বিশ্বাসঘাতকতা। গণমাধ্যমে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট এজেন্ডার বাহক সাংবাদিক নামধারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যারা পতিত ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক কাঠামো, বয়ান ও আধিপত্যবাদী চিন্তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে তৎপর, তাদের বিরুদ্ধেও সুস্পষ্ট ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক এস্টাবলিশমেন্টকে মূল থেকে উৎখাত করার কোনো বিকল্প নেই। এ প্রশ্নে কোনো আপস, দ্বিধা বা শৈথিল্য জাতির ভবিষ্যৎকে ভয়াবহ ঝুঁকির
মুখে ঠেলে দেবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণের অবিনাশী গণ-আকাঙ্ক্ষা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। অগণিত শহীদ গাজীদের রক্তের ওপর অর্জিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তার কাঙ্ক্ষিত মঞ্জিলে পৌঁছানো না পর্যন্ত আমরা জুলাই প্রজন্ম থামব না। আমরা মনে করি, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস সময়ের দাবি।’
বিবৃতি প্রদানকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা হলেন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সভাপতি মুনতাছির আহমেদ, জাগপা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী, জাতীয় ছাত্র সমাজ (কাজী জাফর) সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজীজ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ সভাপতি বি এম আমির জিহাদি, বাংলাদেশ ছাত্র মিশন সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সভাপতি খালেদ মাহমুদ, গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি) সভাপতি মেহেদি হাসান মাহবুব, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন সভাপতি আবু দারদা, ভাষানী ছাত্র পরিষদ সভাপতি মোশাররফ হোসেন, নাগরিক ছাত্র ঐক্য আহবায়ক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স আল আমিন, বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্র ফেডারশেন সভাপতি মোহাম্মদ নুর আলম, ইসলামী ছাত্র ফোরাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আহবায়ক প্যানেল সদস্য শেখ সাব্বির আহমদ, রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলন সভাপতি লামিয়া ইসলাম, ন্যাশনাল ছাত্র মিশন সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম।
রাজনীতি
১২ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল না এলে বুঝবো অসৎ উদ্দেশ্য আছে: মির্জা আব্বাস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের দলীয় প্রার্থী মির্জা আব্বাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করতে হবে। এর চেয়ে বেশি বিলম্ব হলে ধরে নেওয়া হবে এর পেছনে কোনো ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ রয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে হাব, বায়রা ও অ্যাটাব-এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ হয় নাই। মনে হয় ঢাকা ৮ আসনেই শুধু নির্বাচন হচ্ছে। এখানে এমন কিছু পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় যাতে সারাদেশের নির্বাচন যাতে বানচাল হয়। তারা নানাভাবে উস্কানী দিচ্ছে। আমি ও নেতাকর্মীরা ধৈর্য্য ধারণ করছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, আল্লাহ আমাকে ধৈর্য্য ধারণ করার ক্ষমতা দিয়েছেন।
উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাকে শুধু সমর্থন দিলেই হবে না। আমার সমর্থক ও কর্মীদের সবার কাছে যেতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাজারে যদি ১০জন করে ভোটারদের সাথে কথা বলেন তাহলে আমার কাজে লাগবে। শুধু আমার জয়লাভ বড় কথা নয়, সারাদেশে বিএনপিকে জয়ী হতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা এখন কেমন আছি? হাসিনা চলে যাবার পর যতটুকু ভালো থাকার কথা ছিলো আমরা সেই ভালো নেই। শুধু পুলিশী অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছি। আর কোথাও ভালো নেই, স্বস্তিতে নেই। এটি আমাদের দূর্ভাগ্য।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে এ নির্বাচন। এটি কোন দান নয়। মুক্তিযুদ্ধও কোনো দান নয়। অনেকে মনে করে কয়েকদিনের আন্দোলনের ফসল ২৪। ১৭ বছর আমরা আন্দোলন করেছি, অগনিত শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন। আমরা তোমাদের পায়ের মাটি শক্ত করেছি, ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি। যার পিছনে দেশের মানুষ কাজ করেছে।
আব্বাস বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে সভা-সমাবেশ করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন একজন ব্যক্তির সারাজীবনের অর্জিত ভালোকাজ বা ভালো কর্মের সঞ্চয়ের উপর নির্ভরশীল। আমি যখন তরুণ ছিলাম তখন আমার সামনে মঞ্চে বলা হতো উপস্থিত আছেন অমুক বর্ষীয়ান নেতা। আজকে আমার উদ্দেশ্যে বলা হয় বর্ষীয়ান নেতা। অনেকে মনে করে বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু, আমার যে অভিজ্ঞতা তা তোমাদের নেই। তোমরা আগামীতে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারো।
তিনি বলেন, এখন এমন কিছু ছেলেপেলে গজিয়েছে যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ বুনে গেছেন। সারাদিন শুধু আমাকে বকা বাজি করছেন। আমাকে বকা ছাড়া যেন তাদের অন্যকোন কাজ নেই। তুমিতো সেদিন চাঁদপুর থেকে এসেছো। আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না। এলাকার মানুষ আমাকে চিনে। ঢাকা ৮ আসন একটি ব্যবসায়িক এলাকা। এখানকার কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবে না যে স্বার্থের প্রয়োজনে মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পারছে। আজকে অর্বাচীন বালকদের হাত থেকে দেশটাকে বাঁচাতে হবে। আর এরজন্য আন্দোলনের দরকার নেই। ভোট দরকার। আপনারা সবাই একসাথে কাজ করলে আমি জয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, কষ্টার্জিত এই ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। একটি দল নাকি ৪০ লক্ষ বোরখা বানিয়েছে। অনেকে নারী সেজে ফলস্ ভোট দিতে পারে। কর্মীদের এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
এমএন
রাজনীতি
আমিরের নামে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট, সাইবার হামলার দাবি জামায়াতের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলসহ দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর আমিরের অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে একটি ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়া হয়, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পেইন টিম নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। অত্যন্ত সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করে হামলাকারীরা সাময়িকভাবে জামায়াত আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের সাইবার টিম অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্ষম হয়। ফলে অন্যান্য অ্যাকাউন্ট এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
তারা আরও বলেন, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, উক্ত পোস্ট/কনটেন্ট জামায়াত আমীরের কোনও বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। আমি এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করছি, ভুয়া খবর, জাল উদ্ধৃতি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন। মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, পরিচয় জালিয়াতি করা এবং বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় এবং নৈতিকভাবে নিন্দনীয়। এগুলো গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সবশেষে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সবার প্রতি অনুরোধ, শুধু অফিসিয়াল ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করুন। যাচাই ছাড়া কোনও কনটেন্ট শেয়ার করবেন না এবং সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দেখলে তা রিপোর্ট করুন। ক্যাম্পেইন টিম স্বচ্ছতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে আরও তথ্য জানানো হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এর আগে, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে নিজের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে তা উদ্ধার করা হয়। জামায়াত আমির এক এক্স পোস্টে জানান, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তার বিরুদ্ধে সেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা পুরোপুরি ভুয়া ও মনগড়া।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই যে, আমার অ্যাকাউন্টটি সম্প্রতি হ্যাক করা হয়েছিল এবং সেখানে আমার নামে ভুয়া কিছু লেখা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে’।
এর আগে, নারীদের নিয়ে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর মন্তব্য আসে। তাতে নারীদের হেয় করে মন্তব্য পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা চলার মধ্যেই জানানো হয় জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল।
এমএন
রাজনীতি
সিইসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক দুপুরে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আজ রবিবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসছে বিএনপি। দুপুর ১২টায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠক অংশ নেবেন।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সিইসির দপ্তর থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সিইসির দপ্তর আরো জানায়, বৈঠকে দলের বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়াও উপস্থিত থাকবেন।
এমএন
রাজনীতি
সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ চিরতরে বন্ধ করব: মির্জা ফখরুল
হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ বিএনপি চিরতরে বন্ধ করবে বলে অঙ্গীকার করেছেন দলটির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সীপাড়ায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, “হিন্দু-মুসলমান যুগ যুগ ধরে এখানে মিলেমিশে বসবাস করছে। আমরা এই সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ চিরতরে বন্ধ করে দেব।”
তিনি বলেন, “আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য, শান্তির জন্য। দীর্ঘ দুর্দিন পার করে আজ দেশের মানুষ সুদিনের পথে এগিয়ে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন জনগণের হাতে আবার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ এসেছে।
ভোটারদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আপনাদের হাতেই দেশ, আপনারাই দেশের প্রকৃত মালিক। তাই ভুল করার সুযোগ নেই। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের ভোট প্রয়োগ করতে হবে।”
এমএন
রাজনীতি
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা জাল ভোট কেনার চেষ্টা করছে, অভিযোগ আমিনুল হকের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১৬ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা টাকা দিয়ে জাল ভোট কেনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এবং বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এই অভিযোগ তোলেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, ‘একটি দল সোচ্চার হয়েছে নির্বাচনকে কীভাবে বানচাল করা যায়। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বট বাহিনী দিয়ে যেভাবে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, সে বিষয়ে দেশের জনগণ যথেষ্ট সচেতন। মিথ্যাচার যারা ছড়াচ্ছে তাদের রায় জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি দেবে।’
অভিযোগ তুলে এই প্রার্থী বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা টাকা দিয়ে জাল ভোট কেনার চেষ্টা করছে।’
প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমিনুল হক বলেন, নিম্ন আয়ের এবং ছিন্নমূল মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে, যারা প্রতিদিন উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকেন। যারা ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করতে পারে না, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো। তাদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবো। যারা অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না, তাদের স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে কাজ করবো।
তিনি বলেন, ‘এলাকায় কোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতাল নেই। সেটি তৈরিতে কাজ করবো। বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাই। প্রত্যেকের কাছে মানবিকতা পৌঁছে দিতে চাই।’
এমএন



