রাজনীতি
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাযা হবে বেগম খালেদার: মনজুর এলাহী
নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী বলেছেন, বিএনপি বা দলের নেতাকর্মীরা এ মুহূর্তে কোনোভাবেই বেগম জিয়ার অনুপস্থিতি কামনা করে না, তবে বাস্তবতা হচ্ছে- এই দেশের জনগণ তার প্রতি যে ভালোবাসা রাখে, প্রয়োজনে সেই (খালেদা জিয়ার) জানাজা হবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জমায়েত।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দ্রুত আরোগ্য কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মনজুর এলাহী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জনসমাগম হয়েছিলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায়। তবে বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের হৃদয়ে যে জায়গা দখল করে আছেন, তার জানাজা সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘একসময় শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বলা হলে তিনি দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দেশের এই মাটিতেই থেকেছেন, জনগণের সাথে থেকেছেন।’ বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মা, আর হাসিনা ফ্যাসিস্টের মা।’
দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
রাজনীতি
দীর্ঘ ২০ বছর পর বরিশালে যাচ্ছেন তারেক রহমান
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর বরিশাল সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৬ জানুয়ারি দুপুর ২টায় বরিশাল নগরীর বেলস পার্কে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে দলের গুলশান কার্যালয় থেকে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এদিকে তারেক রহমানের সফরের খবর ছড়িয়ে পড়লে বরিশালে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নেতাকে বরণে নানান রকম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তারা। বেলস পার্ক মাঠে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত করতে আগামী ১৮ জানুয়ারি প্রস্তুতি সভাও ডেকেছে বরিশাল বিভাগীয় বিএনপি। যেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ বিভাগের প্রতিটি জেলা এবং উপজেলা বিএনপির নেতারা অংশ নেবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের বরিশাল আগমের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুধবার রাতে আমি (আকন কুদ্দুসুর রহমান) এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার গুলশান কার্যালয়ে গেলে নেতা বরিশাল সফর করবেন বলে আয়োজন করতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর নেতাকে বরিশালে বরণ করতে আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী ১৮ জানুয়ারি বরিশাল ক্লাবে প্রস্তুতি সভা ডাকা হয়েছে। সভায় বরিশাল বিভাগের সংসদীয় ২১টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা, জেলা, মহানগর এবং উপজেলা বিএনপির সুপার ফাইভ নেতারা অংশ নেবেন। সেখানে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা সফল করতে বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত হবে।
এদিকে বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন জানান, প্রায় ২০ বছর পর বরিশাল সফর করবেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবশেষ ২০০৬ সালের ১৪ মে তিনি বরিশালে আসেন। ওইদিন তিনি বরিশালে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মিসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এরপর সদর উপজেলার সাহেবেরহাট এলাকায় শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তারেক রহমান। তা ছাড়া বাকেরগঞ্জ উপজেলায় একটি ব্রিজও উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান। ওই সময় তিনি বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার এই আগমন বরিশালের রাজনীতিতে নতুন প্রত্যাশার বার্তা বলে মনে করেন আনোয়ারুল হক তারিন।
অপরদিকে নেতার আগমনের খবরে বরিশালের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন নেতাকর্মীরা। আগামী ২৬ জানুয়ারি নির্বাচনী জনসভা জনসমুদ্রে রূপান্তর করতে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার।
এমকে
রাজনীতি
এখন থেকে আমাদের প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কোনো দলের না: নাহিদ ইসলাম
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের আসন ঘোষণার পর থেকে কোনো প্রার্থী কোনো নির্দিষ্ট দলের হিসেবে বিবেচিত হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন তিনি।
এসময় নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো, ফলে সারা বাংলাদেশের সব আসনে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না, আজকে পর থেকে সেটা আমাদের এই নির্বাচনী সমঝোতা বা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে। আমরা সবাই সবাইকে সহযোগিতার মাধ্যমে জনগণের পক্ষে, হ্যাঁ-এর পক্ষে আমরা এই নির্বাচনকে ফলাফল নিয়ে আসবো এবং বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সংস্কারের পক্ষে থাকা, বাংলাদেশের আজাদির পক্ষে থাকা এবং বৈষম্য বিরোধী দুর্নীতিবিরোধী বাংলাদেশের পক্ষে থাকা অনেকগুলো রাজনৈতিক দল একত্রে একটি প্লাটফর্মে এসেছি। যেখানে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটে অংশগ্রহণ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফলে এটা আমাদের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, ঐতিহাসিক যাত্রা।
এই সমঝোতার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, এটা যেমন নির্বাচনী সমঝোতা, একই সাথে এর রাজনৈতিক গুরুত্বও অপরিসীম। কারণ গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাচ্ছি। আসন্ন নির্বাচনে এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে উৎরাতে হবে।
এদিকে, ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩ আসনে সমঝোতা করেছে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ১০টি দল।
রাজনীতি
২৫৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের ৮ দলের প্রার্থী ঘোষণা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলভিত্তিক আসনসংখ্যা ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট।
আসন সমঝোতায় জামায়াত ১৭৯টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি ও নেজামে ইসলাম ২টি আসনে নির্বাচন করবে।
এদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাগপা ও খেলাফত আন্দোলনের আসনের বিষয়টি এখনও নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানান জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল অলি আহমদ, এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মনজু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন তারেক রহমান
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা বৈঠক শেষে যমুনা ছেড়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়ি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় পৌঁছায়। দেড় ঘণ্টা বৈঠক শেষে ৯টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি যমুনা থেকে বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন।
তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ছিলেন।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনে যান তারেক রহমান। বাসভবনে ৬টা ৪৭ মিনিটে প্রবেশ করে ৬টা ৫২ মিনিটে সেখান থেকে বেরিয়ে যমুনার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে আজই প্রথম তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এর আগে, গতবছরের জুন মাসে লন্ডনে ইউনূস-তারেক বৈঠক হয়েছিল। যে বৈঠকেই আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন তারা।
রাজনীতি
নুরের আসনে হাসান মামুনকে বিজয়ী করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের শপথ
পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে দশমিনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের নেহালগঞ্জ বাজার এলাকায় নির্বাচনি কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম শানু নেতাকর্মীদের শপথ পাঠ করান। অনুষ্ঠানটির ভিডিও ও ছবি বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শপথবাক্যে মো. শাহ আলম শানু বলেন, আমরা জনগণের স্বার্থে হাসান মামুনের পাশে থাকব। এই নির্বাচনে তাঁর হয়েই মাঠে থাকব এবং তাঁর নির্বাচন পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখব। কোনো প্রলোভন বা বিনিময়ের কাছে নিজেদের আদর্শ বিক্রি করব না। ইনশাআল্লাহ।
এ শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকায় নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।



