অর্থনীতি
ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন ২০ লাখের বেশি করদাতা
চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে ২০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রেস বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর পর এটি কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরে বড়ো সাফল্য।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এনবিআরের ওয়েবসাইট (www.etaxnbr.gov.bd) থেকে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকেই করদাতারা উল্লেখযোগ্য সাড়া দিয়ে দ্রুতগতিতে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করছেন।
এ বছর এনবিআর বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসমর্থ, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া অন্য সব ব্যক্তিগত করদাতার জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। তবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতারাও চাইলে অনলাইন পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।
ই-রিটার্ন সিস্টেমে কোনো দলিল বা কাগজপত্র আপলোড না করেই আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য এন্ট্রি করে ঘরে বসে রিটার্ন দাখিল সম্ভব। ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কিংবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ) মাধ্যমে কর পরিশোধ করে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ও আয়কর সনদ প্রিন্ট করা যাচ্ছে।
বিদেশে অবস্থানরত করদাতারা পাসপোর্ট নম্বর, এনআইডি ও ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ereturn@etaxnbr.gov.bd এ পাঠালে তাদের ই-মেইলে OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা সহজেই রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
করদাতাদের সহায়তায় এনবিআর একটি কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১), অনলাইন অভিযোগ সুবিধা, এবং সব কর অঞ্চলে ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক চালু রেখেছে। পাশাপাশি করদাতা, কর আইনজীবী, সিএ, সিএমএ ও চার্টার্ড সেক্রেটারিদের ই-রিটার্ন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর সব ব্যক্তিগত করদাতাকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিলের অনুরোধ জানিয়েছে।
এমকে
অর্থনীতি
জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ধস ঠেকাতে গার্মেন্টস কারখানায় সোলার উদ্যোগ বিজিএমইএর
জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে গার্মেন্টস শিল্পে উৎপাদন ধস ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি প্রতিটি কারখানার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৫ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করলে সার্ভিস ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তবে সোলার প্যানেল আমদানি নীতিতে পরিবর্তন না আনলে এ উদ্যোগের সুফল মিলবে না বলে মনে করছেন গার্মেন্টস মালিকরা।
সংগঠনটির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। জেনারেটর ব্যবহার করেও পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সদস্য কারখানাগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বিশেষ নোটিশ দিয়েছে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনাও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
বিজিএমইএর পরিচালক মো. এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, যদি ইন্ডাস্ট্রি সোলার প্যানেল স্থাপন করে, তাহলে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেয়া হবে। সোলার প্যানেল স্থাপন করা গেলে প্রায় ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাজারগুলোতে কঠোর পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স থাকায় সোলার প্যানেল স্থাপন এখন কৌশলগত ব্যবসায়িক শর্ত বলে মনে করে বিজিএমইএ। এজন্য ৫ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ৩ মাসের মধ্যে যেসব কারখানা সোলার প্যানেল স্থাপন করবে, তাদের সার্ভিস ফি-এর ৫০ শতাংশ মওকুফ করা হবে।
জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বিজিএমইএর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, এটি একটি যুগোপযোগী ও টেকসই উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশ এবং উদ্যোক্তা; উভয়ের জন্যই উপকার হবে।
তবে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি নীতিতে জটিলতা থাকলে এই উদ্যোগ সফল হবে না। বিশেষ করে শুল্কহার ও নীতিগত বাধার কারণে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই তারা আমদানি নীতিতে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট এসআরও জারি করা প্রয়োজন, যাতে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হয়ে সোলার প্যানেল ব্যবহার করতে পারেন।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে ৪ হাজারের বেশি গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। পাশাপাশি ৮টি ইপিজেডে আরও প্রায় ৬০০ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা থেকে বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি আয় আসে।
অর্থনীতি
বোরো মৌসুমে ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ৩ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করা হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন ধান কেনা হবে। আর ৪৯ টাকা কেজি দরে কেনা হবে ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল।
এছাড়া সরকার ৪৮ টাকা কেজি দরে ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল ও ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধান ৩ মে থেকে ও চাল ১৫ মে থেকে সংগ্রহ শুরু করবে সরকার। ধান ও চাল সংগ্রহ চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি পর্যায়ে গম কেনার আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেখান থেকে কেনা সম্ভব না হলে বাকিটা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে।
অর্থনীতি
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে জটিলতা, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস
অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে নানা জটিলতায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে আগারগাঁওয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ীরা অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এতে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ইলেক্ট্রিক্যাল এসোসিয়েশনের (বিইএ) পক্ষে হারেস আহমেদ বলেন, অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দিতে গিয়ে নানা সমস্যা হয়। আগে ম্যানুয়ালি জমা দেওয়া রিটার্ন এখন আর গ্রহণ করা হচ্ছে না, কিন্তু পুরোনো তথ্য অনলাইনে আপডেট না থাকায় নতুন করে রিটার্ন দাখিল করতে চাইলেও নেয় না। ফলে অনেকদিন ধরে আমরা ম্যানুয়ালি রিটার্ন দিচ্ছি। এখন সেটি রিসিভ করছে না। কিন্তু অনলাইনে দিতে গেলে বলছে, আপনার ডাটা আপডেট নেই, আগে আপডেট করতে হবে। কিন্তু এই আপডেট কীভাবে করব, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এই অনলাইন প্রক্রিয়া চালুর উদ্দেশ্যই হলো ব্যবসায়ীদের কাজ সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা। যেসব পুরোনো রিটার্ন অনলাইনে আপডেট হয়নি, সেগুলো ব্যবসায়ীদের নিজ উদ্যোগে এন্ট্রি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমেও জানানো হয়েছে। আপনাদের লাইফ সহজ, স্বচ্ছ ও সহজতর করার জন্যই আমরা অনলাইনে এসেছি। পুরোনো পেপার রিটার্নগুলো নিজেরাই এন্ট্রি দিয়ে আপডেট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এটি মার্চের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। অনেকেই ইতোমধ্যে কাজটি সম্পন্ন করেছেন। সুতরাং এটি খুব কঠিন কিছু নয়।
এর পর হারেস আহমেদ অভিযোগ করেন, আমরা যখন আপডেট করতে যাই, তখন বলা হয়—এটা অমুক যাচাই করবে, তমুক যাচাই করবে। অর্থাৎ শুধু আপডেট করলেই হচ্ছে না, আরও অনেক ধাপ রয়েছে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, কোথায় কতগুলো পেন্ডিং আছে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত সব অনুমোদন দেওয়া হয়। কেউ অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব, আমরা সেখানে ব্যর্থ হয়েছি।
ওই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ভ্যাট অফিসে কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলির কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। যিনি ছিলেন, তিনি নেই—এভাবে বারবার পরিবর্তন হচ্ছে। এখন আমাকে বলা হচ্ছে, আমার দুইটি প্রতিষ্ঠানের ৬৬টি রিটার্ন আপডেট করতে হবে। আমি করতে রাজি, কিন্তু শুধু আমার করলেই হবে না। এখানে আরও বিভিন্ন প্রক্রিয়া রয়েছে।
আমরা ম্যানুয়ালি রিটার্ন দিয়েছি কিন্তু অনলাইনে দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছি। আপনাদের কাছে অনেক সময় পৌঁছানোই যায় না। অফিসের ভেতরে নানা স্তরের বাধা থাকে। সমস্যাটা এখানেই। গত মাসেও আপডেট না হওয়ায় আমাকে ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা দিতে হয়েছে। এই মাসেও একই কারণে সেটাই করতে বাধ্য হয়েছি। এটিই বাস্তবতা।
চেয়ারম্যান জবাবে বলেন, এ ধরনের কোনো জটিলতা থাকার কথা নয়। আপনারা মন খুলে সমস্যার কথা বলুন, আমরা সমাধানের চেষ্টা করব।
অর্থনীতি
৫ ব্যাংকের যেসব গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া হবে, জানালেন অর্থমন্ত্রী
একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের যেসব গ্রাহক গুরুতর রোগে আক্রান্ত, তাদের জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
সংসদে দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত (বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক) অনুমোদিত ব্যাংকের সংখ্যা ৪৪টি। দুর্দশাগ্রস্ত ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত প্রদানের লক্ষ্যে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম ২০২৫ প্রণয়নপূর্বক প্রাথমিকভাবে সুরক্ষিত আমানত হিসেবে প্রত্যেক অপ্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে।
অবশিষ্ট টাকা স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।’
অসুস্থ গ্রাহকদের মানবিক দিকটি বিবেচনায় নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিগণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা ছাড় করা হচ্ছে। অন্যান্য গুরুতর রোগের (যেমন ব্রেইন টিউমার, হার্ট ও ফুসফস-সংক্রান্ত অপারেশন) ক্ষেত্রেও অর্থ ছাড়করণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’
দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সুরক্ষা দিতে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্প্রতি ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠন করে সরকার।
যে পাঁচটি ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় একীভূত হয়েছে সেগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।
অর্থনীতি
জরুরি ভিত্তিতে ১৬৯৮ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনবে সরকার
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য ১ হাজার ৬৯৮ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকার জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির বৈঠকে এই জ্বালানি তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও-এর কাছ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইএন-৫৯০ (১০ পিপিএম) ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড (অকটেন) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ জ্বালানি তেল কেনা হবে।
এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৩ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য আর্চার অ্যানার্জি এলএলসির নিকট থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ইএন-৫৯০ (১০ পিপিএম) মানমাত্রার সালফারযুক্ত ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এতে ব্যয় হবে ৬৭৪ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এছাড়া বৈঠকে ঢাকা ওয়াসার ‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই (ডিইএসডব্লিউএস)’ প্রকল্পের ম্যানেজমেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (এমডিএসসি) প্যাকেজের আওতায় একক উৎসভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সেবার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে ফিখ্টনার জিএমবিএইচ অ্যান্ড কো. কেজি (জিইআর)।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ২৪ মাস সময়ের জন্য পরামর্শক সেবার নতুন চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার ৮৫৫ টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রস্তাবটি নিয়ে আসে।
বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক উন্মুক্ত দরপত্রে (ই-জিপি) সিস্টেমে ৭৫টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৩০ কেজি ধারণক্ষম নতুন ৩ কোটি পিস হেসিয়ান বস্তা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮২ হাজার ১৬৪ টাকা। ৭৫টি প্যাকেজে ১৯টি দরদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে এই হেসিয়ান বস্তা কেনা হবে।



