পুঁজিবাজার
বিএসইসি থেকে সরানো হচ্ছে রাশেদ মাকসুদকে, পরিবর্তন আসছে আইনে
দেশের পুঁজিবাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান পদ থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে সরানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তাকে অপসারণের আগে কমিশন আইনে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। এরই মধ্যে আইন পরিবর্তনের কার্যক্রম শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সূত্র জানায়, বর্তমানে কার্যকর ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’ অনুযায়ী বিএসইসি চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর। সরকার এটি কমিয়ে ৬০ বছর করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে কমিশনারদের বয়সসীমাও ৬০ বছরে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বয়সসীমা কমানোর পাশাপাশি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বয়সসীমা কমানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা আছে ৬৭ বছর। এটি কমিয়ে ৬০ বছর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইন পরিবর্তন করার পরপরই বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ-তে। বর্তমানে আইডিআরএ চলছে একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ওই বছরের ১৮ আগস্ট ৪ বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান।
রাশেদ মাকসুদ বিএসইসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। এই দরপতনের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং রাশেদ মাকসুদের অপসারণ দাবিতে দিনের পর দিন বিক্ষোভ করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এমনকি একই দাবিতে মতিঝিলে বিনিয়োগকারীদের ‘কাফন মিছিল’ও হয়।
তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিনিয়োগকারীদের দাবির প্রতি কোনো কর্ণপাত করেনি। বরং তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন সময় বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের প্রসংশা করেন। এমনকি একটি বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অনেকের দাবি থাকলেও শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে পদ থেকে সরাতে চাই না।’
এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর বিএসইসির চেয়ারম্যান পরিবর্তনের গুঞ্জন শুরু হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের পর বিএসইসি চেয়ারম্যান পরিবর্তন নিয়েও গুঞ্জন জোরালো হয়। এর মধ্যেই আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান পদ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া এম আসলাম আলম পদত্যাগ করলে, বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ নিয়েও গুঞ্জনের পালে হাওয়া লাগে।
তবে এখনো চেয়ারম্যান পদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। কারণ, তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করেননি এবং সরকার এখনো তাকে সরিয়ে দেয়নি। যদিও তাকে সরানোর প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ থেকে রাশেদ মাকসুদকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তাকে এ পদ থেকে সরানোর আগে কমিশনের আইনে কিছু সংশোধন আনা হবে। এরই মধ্যে আইন সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এটি শেষ করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন সংশোধনের পাশাপাশি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০-এ কিছু সংশোধন আনা হবে। দুটি আইন সংশোধনের কার্যক্রম একসঙ্গে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত তা সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
আইন সংশোধনের পর বিএসইসি চেয়ারম্যানের পাশাপাশি কমিশনার পদেও পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে আইডিআরএ’র সদস্য পদেও পরিবর্তন আনতে পারে সরকার। প্রাথমিকভাবে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার এবং আইডিআরএর চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সর্বোচ্চ বয়স ৬০ বছর করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা পরিবর্তনও হতে পারে—যোগ করেন এ কর্মকর্তা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অন্য আরেকজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে নতুন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে কিছু পরিবর্তন আসবে, এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের পর সরকার কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়ে। তাই অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেন বিতর্ক এড়িয়ে চলা যায়, সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিতর্ক এড়ানোর জন্য বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়ার আগে আইন পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন পরিবর্তন করে চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ বয়সসীমা কমানো হবে, তবে সেটি কত হবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ৬০ বছর ধরে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শিগগির বিষয়টি চূড়ান্ত করে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আইডিআরএর চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় ওই পদটি খালি হয়ে যায়। এরপর কর্মকর্তাদের বেতন আটকে যাওয়ায় সেখানে একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেওয়া হয়েছে। আইন পরিবর্তন করে শিগগির আইডিআরএতেও নতুন পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে।
পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করার জন্য কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। এছাড়া স্টেকহোল্ডার এবং বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকেও বিএসইসির চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। সবদিক বিবেচনা করেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—যোগ করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা।
সূত্র: জাগো নিউজ
পুঁজিবাজার
হাইডেলবার্গ ম্যাটারিয়েলসের লভ্যাংশ ঘোষণা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হাইডেলবার্গ ম্যাটারিয়েলস বাংলাদেশ পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১১ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৫৫ পয়সা।
সূত্র মতে, গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৭৩ টাকা ৯২ পয়সা। সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল মাইনাস ৪ পয়সা।
আগামী ১৮ জুন, ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ২০ মে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমএন
পুঁজিবাজার
পিপলস ইন্স্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি পিপলস ইন্স্যুরেন্স পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০.৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ১৯ পয়সা, যা আগের বছর ২ টাকা ৮৪ পয়সা ছিল।
গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩৭ টাকা ৯৫ পয়সা। সর্বশেষ বছরে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৫ টাকা ২৪ পয়সা, যা আগের বছর ৩ টাকা ৬৬ পয়সা ছিল।
আগামী ২৪ জুন, ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ২০ জুন রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমএন
পুঁজিবাজার
কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ১৩ পয়সা, যা আগের বছর ২ টাকা ১৫ পয়সা ছিল।
গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৩ টাকা ৭৯ পয়সা। সর্বশেষ বছরে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ২ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের বছর ২ টাকা ৯১ পয়সা ছিল।
আগামী ৯ জুলাই, ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ৭ জুন রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমএন
পুঁজিবাজার
এনার্জিপ্যাক পাওয়ারের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন পিএলসি গত গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়। কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান ৮৯ পয়সা। গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছিল ১১ পয়সা।
হিসাববছরের প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৯ মাসে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ৬২ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে ১ টাকা ৯ পয়সা লোকসান হয়েছিল।
গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি রি-ভ্যালুয়েশনসহ কনসুলেটেড নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৩৭ টাকা ১৩ পয়সা।
এমএন
পুঁজিবাজার
আইপিও অর্থের ব্যবহারে প্রকৃত উপযোগিতা যাচাই জরুরি: তপন চৌধুরী
পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার প্রকৃত উপযোগিতা ও প্রকল্পের লাভজনকতা যাচাই করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (CDBL) চেয়ারম্যান ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। তিনি বলেন, আইপিওর অর্থ যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে, তা কোম্পানি বা প্রকল্পের জন্য কতটা কার্যকর হবে, সেটি গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি আয়োজিত ‘আইপিও প্রসিডস ইউটিলাইজেশন’ শীর্ষক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মুঃ মোহসিন চৌধুরী, কমিশনার মোঃ আলী আকবর, কমিশনার মোঃ সাইফুদ্দিন, সিএফএ এবং পুঁজিবাজার অংশীজন প্রতিষ্ঠানসমূহের শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ইস্যুয়ার কোম্পানীর ঋণ পরিশোধ ও বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নে কমিশন কাজ করছে। পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করতে বিএসইসি প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল্যবান মতামত ও প্রস্তাবনার জন্য ধন্যবাদ। অংশীজনদের মতামত ও প্রস্তাবনা বিএসইসি মূল্যায়ন করে দেখবে। তবে বিএসইসির অন্যতম প্রধান ম্যান্ডেট হলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা।”
তিনি প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং জানান, পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানিসমূহকে গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্কে আনা ও ভালো মৌলভিত্তি কোম্পানি তালিকাভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে।
সভায় নতুন পাবলিক ইস্যু রুলসের অধীনে আইপিও আবেদন, লিস্টিং এবং আইপিও অর্থের ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
অংশীজনদের পক্ষ থেকে আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে ঋণ পরিশোধে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ যা নিয়মিত রয়েছে সেটিকেও আইপিও অর্থ দিয়ে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এছাড়াও বন্ড মার্কেট উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও এপেক্স ফুটওয়্যার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো আইপিও অর্থ ব্যবহার করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, আইপিও অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকৃত উপযোগিতা ও লাভজনকতা যাচাই করা জরুরি।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে শক্তিশালী পুঁজিবাজার প্রয়োজন। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, উৎপাদনশীল ঋণ আইপিও অর্থ দিয়ে পরিশোধ করে ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিংয়ের সুযোগ থাকা উচিত।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকেও আইপিও অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির জন্য উপকারী হলে যাচাইবাছাই করে আইপিও অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া উচিত।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকা’র প্রেসিডেন্ট কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, স্বল্পমেয়াদি ডিপোজিট দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিরুৎসাহিত করে পুঁজিবাজারভিত্তিক অর্থায়ন বাড়াতে হবে।
সভায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক, পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: অর্থসূচক
এমএন



