জাতীয়
নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটানোর মতো শক্তি আ. লীগের নেই: প্রেস সচিব
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। সম্ভবত সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনও হতে পারে। তিনটি সাম্প্রতিক ঘটনা এমন বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল ভেঙে গেছে বা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোতে মিলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটানোর মতো শক্তি তাদের হাতে অবশিষ্ট নেই।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি যে তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেন তা নিম্নরূপ-
১. নির্বিঘ্নে বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা
বিএনপি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে- এমন শঙ্কা ছিল সর্বত্র। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, শত শত বিদ্রোহী প্রত্যাশী প্রার্থী সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানাবেন, বিক্ষোভ করবেন, এমনকি দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষও বাঁধতে পারে। কিন্তু এক-দুটি ক্ষুদ্র ঘটনার বাইরে পুরো ঘোষণা প্রক্রিয়া আশ্চর্যজনকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল।
এতে প্রমাণিত হয় বিএনপি নেতৃত্ব যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছিল। মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে বিস্তৃত গ্রহণযোগ্যতা দেখায় যে, নির্বাচনি প্রচারণা ও ভোটের সময় দলীয় অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের সম্ভাবনা খুবই কম।
২. আওয়ামী লীগের সক্ষমতার সীমা এখন পরিষ্কার এবং তা খুবই নগন্য
আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে এসেছে যে, তাদের বিশাল তৃণমূল নেটওয়ার্ক আছে যা যে কোনো নির্বাচন ব্যাহত করতে সক্ষম। কিন্তু গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে- তাদের বাস্তব মাঠ-সংগঠনের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। দলটি এখন মূলত ভাড়াটে কিছু টোকাই-শ্রেণির সমস্যা সৃষ্টিকারীর ওপর নির্ভরশীল, যারা পরিত্যক্ত বাসে আগুন ধরানো, ৩০ সেকেন্ডের ঝটিকা মিছিল করা, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-ভিত্তিক বিভ্রান্তি ছড়ানোর মতো কাজ করতে পারে।
ফলে, দলটি কার্যত ফেসবুক-নির্ভর এক প্রতিবাদী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে- যার মাঠে কোনো উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক শক্তি নেই। আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ এখনো যৌক্তিক যে, দলটির তৃণমূল ভেঙে গেছে বা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোতে মিলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটানোর মতো শক্তি তাদের হাতে অবশিষ্ট নেই।
৩. পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন আরও সংগঠিত
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে দৃশ্যমানভাবে স্থিতিশীল হয়েছে, তা পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসন- ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসিসহ সংশ্লিষ্ট সবার মাঝে নতুন আস্থা সঞ্চার করেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকির জন্য সবচেয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিশ্চিত- তারা জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবেন।
জাতীয়
এই সরকার ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে: আইন উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, এই সরকার এসে ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। ভারতের যে আগ্রাসী একটা ভূমিকা ছিল সব জায়গায়, সেখান থেকে স্বাধীন কন্ঠে কথা বলতে পারছে।
তিনি বলেন, অবশ্যই সমালোচনার কিছু কিছু যৌক্তিক দিক আছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনাটা নির্দয় পর্যায়ে চলে যায়। ১০টা জিনিসের যদি সরকার ৪টা জিনিস করে, ৪টা করেছে সেটা বলেন, এরপর যে ৬টা করতে পারে নাই সেটার জন্য সমালোচনা করেন। কিন্তু এরকম কিছুই দেখবেন না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচার বিভাগের সংস্কারের কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, এখন বিচার বিভাগে পদ সৃষ্টি, বদলি, পদোন্নতি, বাজেট অ্যালোকেশনসহ সবকিছু উচ্চ আদালতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি সংস্কার না? রাষ্ট্রের এত বড় একটা অঙ্গের বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটা কোনো সংস্কার না? এটা কি আপনাদের মনে হয় না বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় একসময় ভূমিকা রাখবে? সংস্কার ম্যাজিক লাইট না যে সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, আমরা একটা গুম কমিশন করেছি। এটা অসাধারণভাবে কাজ করেছে। এই কমিশনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা একটা হিউম্যান রাইটস কমিশন ল করেছি। আমি আপনাদের প্রত্যয়ের সঙ্গে বলি, দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো হিউম্যান রাইটস আইনের চেয়ে আমাদের আইনটা বেটার হয়েছে। আমরা এই আইন অনুযায়ী অচিরেই হিউম্যান রাইটস কমিশনে নিয়োগ দিতে যাচ্ছি। এটা কি কোনো সংস্কার না? আমাদের এই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা ম্যানেজমেন্ট একটা বিশাল ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কিছু কাজের বিবরণ দিয়ে শ্রোতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন উত্থাপন করে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের যে রিজার্ভ বেড়েছে, আমাদের যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আছে, আমাদের যে ব্যাংকিং খাতে ভগ্নপ্রায়, বিধ্বস্ত ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং আস্থা ফিরে এসেছে এগুলি কোনো সাফল্য না? আমাদের যে ২০ হাজারেরও বেশি হয়রানিমূলক মামলা, যেখানে প্রায় ৫ লাখ আসামি ছিল বিরোধীদলের, ভিন্নমতের। সেই মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এগুলো কি কোনো সাফল্য না?
জাতীয়
দেশে চালের ঘাটতি নেই, তারপরও কেন দাম বাড়ে- প্রশ্ন সিপিডির
আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে। দেশে চাল উৎপাদনেও ঘাটতি নেই। তারপরও কেন দাম বাড়ে— এ প্রশ্ন রেখে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, এ ক্ষেত্রে চালের উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় কারণ।
শনিবার ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক মিডিয়া বিফ্রিংয়ে সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন।
এ সময়ে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।
সিপিডির গবেষণা প্রবদ্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০২৩ সাল থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখনও চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কমছে, তবে কমার হার ধীর। লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ৮.৪৯ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও কমে এসেছে। তবে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ। সুতরাং খাদ্যের মূল্য কিছুটা কমলেও অন্যান্য পণ্যের দাম বেশি।
তিনি বলেন, খাদ্যের দাম কেন কমছে না? যেমন: চালের মূল্যের সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের মূল্যস্ফীতির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তথ্যে পাওয়া যায় চালের চাহিদা ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক, আর উৎপাদন ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ চালের উৎপাদনে ঘাটতি নেই। তারপরও কেন দাম বাড়ে। এ ক্ষেত্রে চালের উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় কারণ হিসাবে দেখতে পাচ্ছি। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে, কিন্তু আমাদের দেশে কমছে না। চিনি ও তেলের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আমাদের দেশে কমছে না।
সামনে নির্বাচন, অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিও মন্থর এই অবস্থায় রাজস্ব লক্ষমাত্রা বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্ন রেখে সিপিডির ফাহমিদা খাতুন বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনমাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৬.৭ শতাংশ হলেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। যতটুকু জানতে পেরেছি নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ১৫.০২ শতাংশ। এনবিআরকে যদি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হয়, তাহলে বাকি সময়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। বর্তমান বাস্তবতায় খুবই কঠিন হবে। অন্যদিকে সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে মূল বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা থাকে সেটা অর্জন করতেই এনবিআরকে হিমশিম খেতে হয়। সামনে নির্বাচন, অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিও মন্থর। এই অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন রয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে সরকারি ব্যয়ে দেখতে পাই সরকারি ব্যয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ম। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার সাড়ে ১১ শতাংশ। বড় বড় মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার অনেক কম। যেমন- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ইত্যাদি। আবার বাজেট ঘাটতি নিয়ে যদি বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে অনুদান বাদে বাজেটে উদ্বৃত্ত দেখা যাচ্ছে। ওই সময়ে বাজেট উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ৫ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ধীরগতিই ওই উদ্বৃত্তের প্রধান কারণ।
একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ঋণ গ্রহণ কমেছে। তবে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নির্ভরতা বেড়েছে। প্রথম তিন মাসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, বিপরীতে আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার ব্যাংক খাতকে ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল। অব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ঋণাত্মক অবস্থায় নেমে এসেছে। জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৯ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। অব্যাংকিং উৎসগুলোর মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ায় এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সিপিডি বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের অর্থায়নে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। যা ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ এবং সুদের হারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আর একটি বিষয় হচ্ছে সরকার ৫টি দূর্বল ইসলামী ব্যাংককে একত্রিত করতে গিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকা পেইড অব ক্যাপিটাল দিয়েছে। আবার বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। যদি সামনের গ্রীষ্মের লোডশেডিং কমাতে হয়, তাহলে ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর একটি বিষয় হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল চলতি অর্থ বছরে হয়তো বাস্তবায়ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হবে।
সুপারিশের ক্ষেত্রে সিপিডি বলছে, রাজস্ব বাড়াতে ডিজিটাল অর্থনীতি, সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর কার্যকর কর আরোপ জরুরি। বাস্তব বাজারমূল্যের ভিত্তিতে সম্পত্তি কর হালনাগাদ করে এনবিআরের সম্পদ করের সঙ্গে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। একই সঙ্গে অকার্যকর কর ছাড় ও অব্যাহতিগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করে বাতিল করতে হবে এবং খেয়ালখুশিমতো কর সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ আর্থিক প্রবাহ রোধে নীতিগত ও বাস্তব প্রয়োগ—উভয় পর্যায়ে কর কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
জাতীয়
হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করতে হবে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে
হজযাত্রীদের টিকা নেওয়ার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত ১১ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষার ভিত্তিতে তাদের টিকা নিতে হবে।
গত ৬ জানুয়ারি হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের পূর্বে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের আগে আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করতে হবে।
রিপোর্টগুলোর মধ্যে রয়েছে- Urine R/M/E, Random Blood Sugar (RBS), X-Ray Chest P/A view (রিপোর্টসহ), ECG (রিপোর্টসহ), Serum Creatinine, Complete Blood Count (CBC with ESR) ও Blood Grouping and Rh Typing।
এছাড়াও দুরারোগ্য ব্যাধি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) নির্ণয়ের জন্য আরও কিছু পরীক্ষা সম্পন্নের কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
>> সন্দেহজনক হৃদপিন্ডের অকৃতকার্যতার পরীক্ষা- Echocrdiography।
>> কিডনি জটিলতার ক্ষেত্রে- S. Creatinine, USG of KUB।
>> সন্দেহজনক লিভার সিরোসিস রোগের ক্ষেত্রে- USG Whole abdomen, Endoscopy of upper GIT.
>> দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ শনাক্তকরণে-Sputum for AFB, CTScan of chest, Serum bilirubin, SGPT, Albumin Globubin ratio।
হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও ই-হেলথ প্রোফাইল কপি টিকা কেন্দ্রে মেডিকেল টিমের কাছে দাখিল করে টিকা গ্রহণ করে স্বাস্থ্য সনদ নিতে হবে।
যে কোনো তথ্যের জন্য হজের কল সেন্টার ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক নিবন্ধিত সাড়ে ৭৮ হাজার হজযাত্রী হজ পালন করতে পারবেন।
জাতীয়
ভিসা বন্ড থেকে বাংলাদেশকে অব্যাহতির আহ্বান ড. খলিলুরের
যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যালিসন হুকার বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্ব ভাগাভাগি ও টেকসই সমাধান জরুরি। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে অবস্থানকালীন রোহিঙ্গাদের জীবিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। খলিলুর রহমান এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি সাম্প্রতিক ভিসা বন্ড ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি বি-১ ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে আন্ডার সেক্রেটারি হুকার বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে অবস্থানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ভিসা বন্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বড় দাতা দেশ এবং এ সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
আন্ডার সেক্রেটারি হুকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বিশাল দায়িত্ব বহন করছে, তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং টেকসই সমাধান জরুরি। পাশাপাশি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থানকালীন জীবিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।
বৈঠকে এনএসএ ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশি বেসরকারি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) অর্থায়নের সুযোগ এবং বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে অর্থায়নের প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিষয়গুলো বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন অ্যালিসন হুকার।
এছাড়া, গাজায় মোতায়েনের জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে নীতিগতভাবে অংশগ্রহণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান ড. খলিলুর রহমান। জবাবে আন্ডার সেক্রেটারি হুকার বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
পৃথক বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, মার্কিন ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া, বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে শপথ পাঠ করান ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস মাইকেল জে. রিগাস।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তারা, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশের যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে। নতুন নির্বাচিত সরকার এবং আমি একসঙ্গে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে পারি, তা দেখার জন্য আমি আগ্রহী।
সবগুলো কর্মসূচিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে এ সব তথ্য জানান।
এমকে
জাতীয়
বাংলাদেশের সঙ্গে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত: নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই দেশে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন।
ঢাকার মার্কিন দূতাবাস নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়েছে। দূতাবাস বলেছে, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথগ্রহণকারী ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে স্বাগত জানাতে পেরে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আনন্দিত।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে চাই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে এবং প্রতিদিন নিরলসভাবে কাজ করে আমেরিকাকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তুলতে আমি উচ্ছ্বসিত।
আগামী ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মনোনীতি রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঢাকায় সবশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস। তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেন।
এমকে




