জাতীয়
ভুয়া জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করল সরকার
জুলাই আন্দোলনে যুক্ত না থেকেও জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ১০৪ জন। এসব ভুয়া ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে সরকার। তাদের নামের গেজেট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১২৭ জনের গেজেট বাতিল হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন ভুয়া ও ১ জনের নামে দুবার গেজেট হয়েছে। সিলেট বিভাগে এ সংখ্যা যথাক্রমে ২৬ ও ১। চট্টগ্রাম বিভাগে ভুয়া ৩৪ জন এবং ৪ জনের নামে দুবার গেজেট রয়েছে। খুলনায় ভুয়া ৫ জন ও ৪ জনের নামে দুবার গেজেট, রংপুরে ২ জন ভুয়া, ঢাকায় ৭ জন ভুয়া ও ৭ জনের নামে দুবার গেজেট, রাজশাহীতে ৯ জন ভুয়া ও ৪ জনের নামে দুবার গেজেট এবং বরিশাল বিভাগে ২ জনের নামে দুবার গেজেট হয়েছে।
যেসব জুলাই-যোদ্ধার গেজেট বাতিল করতে সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে—
ময়মনসিংহ বিভাগের ২০ জন হলেন নেত্রকোনার সৈয়দ তরিকুল ইসলাম (গেজেট নম্বর ৮০), মোহাম্মদ নুরুল আমিন (৮৮), তানভীর আহমেদ (১২১), আছিয়া খাতুন (১২৩), রুহুল আমিন (১২৭), মো. আমি হাসান রুপম (১২৯), মোহাম্মদ আকিব তালুকদার (১৪৬), মো. সুজন মিয়া (১৫৫), মো. ইমন শাহারিয়া (১৬৫), আশরাফুল ইসলাম জাসাম (১৭২), মুশফিকুর রহমান (১৯৭), মো. সজিব (১৯৮), সোহাগ মিয়া (১৯৯), রুবেল মিয়া (৩৬২), মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (৩৬৩), রাব্বি হাসান শ্রীনি (৫৬৫), মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামিক (৫৬৬), মো. আবু ফরিদ আহামেদ (৫৬৭), আফরিনা জান্নাত (৫৭০) ও মাজহারুল ইসলাম (৬৪৮)।
ঢাকা বিভাগের ৭ জন ভুয়া ও ৭ জন দ্বৈত গেজেটধারী হলেন: রাসেল (৬৭০), খন্দকার রাজ (১০৬৩), রাফিউল নাঈম (১১৬১), রাশেদুল ইসলাম অনিক (১১৬৩), আব্দুল্লাহ আল রাহাত (১১৬৬), মো. মঞ্জমুল আলম জিসান (১৯৩২), মো. সাইফুল ইসলাম শুভ (২৬৮২), রিয়াজুল হাসান (২৮৩৮), বেলায়াত হোসেন শাহীন (২৮৩৯), মুজবর মৃধা (৩৯৬৪), জিহাদ (৩৪১৩), মো. রফিকুল সরদার (৭৩৩), মো. মাসুদুর রহমান (৬৪৫), মোছা. রুমি (৩৪৩১) ও মো. রিয়াজ শরীফ (১৩৮২)।
চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৪ জন ভুয়া জুলাই-যোদ্ধার তালিকায় রয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার মো. শাগর (৩২৮), আবদুল্লাহ আল নোমান (৪৬৯), নাইম উদ্দীন শাঈদ (৪৯২), মোহা. শরিফুল ইসলাম (৫১৫), শাহাদাত ইকবাজ তাহনি (৫২১), তাহমিনা ইকরার তারকি (৫২২), মাহাবী তাজওয়ার (৫৩৪), জসিম উদ্দিন (৫৪২), মো. আতিকুল ইসলাম (৫৫২), মো. ইয়াছিন (৫৬০), আরফাতুল ইসলাম (৫৯৫), ফরহাদ আলম (৬০১), মোদাসাদ সাহাদ কবির এমরান (৬০৩), মুনজামিরুল হক চৌধুরী মামুর (৬১৬), পঠন চন্দ্র নাথ (৬২২), মিশকাত-আলম রিয়াদ (৬৭৫), মো. এমরান (৭৯৭), মাহাম্মদ সাগর (৭৬৮), নুরুল্লাহ (৭৮৯), সোহাম্মদ রাফি (৭৯৯), ফয়সাল মোহাম্মদ শিয়াস (৮০২), মোছা. ইছনিয়া আকতার (৮২৪), মো. মাঈনুদ্দীন (৮২৫), সাইমন (৯৭৩), মো. আরিফ (১৯৭৬), রাসেল (১৯৮৬), রমজান আলী (৯৮৭), মাহিম চৌধুরী (৯৯৯), রিফাত বিন আল (১৯৯৯)।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত না হয়েও অনেকেই জুলাই-যোদ্ধার তালিকায় থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর ভুয়া প্রমাণিতদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক)।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ক’ শ্রেণিতে (অতি গুরুতর আহত) ৬০২ জন, ‘খ’ শ্রেণিতে (গুরুতর আহত) ১১১৮ জন ও ‘গ’ শ্রেণিতে (আহত) ১২ হাজার ৮০ জনসহ মোট ১৪ হাজার ৬৩৬ জনের নাম গেজেটভুক্ত করা হয়। নিহত হন ৮৪৪ জন, যার মধ্যে ৮ জনের গেজেট ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও জুলাই গণ অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, যাদের নামে অভিযোগ ছিল, সেসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের গেজেট বাতিল করা হবে এবং গেজেট বাতিলের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গেজেট বাতিলের কাজ চলমান রয়েছে।
জাতীয়
যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া দরকার : জুবাইদা রহমান
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও বাজারজাত সহায়তা দিতে হবে। তাহলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।
সোমবার (১১ মে) সকালে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি’ (পুনাক)-এর বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দ মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জুবাইদা রহমান।
পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সদস্যরা তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখছেন উল্লেখ করে সমিতির সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা কর্মের মাধ্যমে আগামীর প্রজন্মকে সমাজে অবদান রাখার পথ দেখিয়ে দিতে সহায়তা করছেন।’
সবাই যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে অবদান রাখে তাহলে নিশ্চয়ই সেই কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবামূলক পরিকল্পনাগুলো সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।
তিনি আরো বলেন, পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে নারীরা স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। তাহলে কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যত নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরির্বতে তা এগিয়ে নেবে।
পুনাক সহ-সভানেত্রী সাবিনা আওলাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিনী হাসিনা আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সহধর্মিনী রওশন আরা শিল্পী ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুনাক সহ-সভানেত্রী সাবিনা আওলাদ। পুনাকের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদিকা কানিজ ফাতেমা। অনুষ্ঠানে সভাপতির একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের অধিকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুনাক মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলার পুনাক স্টলের মধ্যে প্রথম হয়েছে সাতক্ষীরা, দ্বিতীয় রাজশাহী এবং তৃতীয় লালমনিরহাট জেলা পুনাক।
প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান কৃতি শিক্ষার্থী এবং পুনাক স্টল বিজয়ীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন।
পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতীয়
যমুনা সেতু আমরা করেছি, পদ্মা সেতুর উদ্যোগও আমরাই নিয়েছিলাম: সড়কমন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, যমুনা সেতু নির্মাণ তাদের সরকারের সময় হয়েছে এবং পদ্মা সেতু প্রকল্পের উদ্যোগও তারাই নিয়েছিলেন।
সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “পদ্মা সেতু জাদুঘর আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। তৎকালীন সরকার কেন এটি করেনি তা আমার জানা নেই। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষকে এই বিশাল স্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে এ জাদুঘরটি খুবই প্রয়োজন ছিল। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম পদ্মা সেতুর ইতিহাস সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে পারবে।”
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা করে বাঁচিয়ে তুলতে হবে।’
জাতীয়
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব : ধর্মমন্ত্রী
দেশের সংখ্যালঘুদের জানমাল ও নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, এদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো ধরনের অত্যাচার বা নির্যাতন তিনি বরদাশত করবেন না এবং প্রয়োজনে এই লক্ষ্য পূরণে তিনি নিজের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতেও দ্বিধা করবেন না।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অজুহাত তুলে বাংলাদেশে কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় সভায় ধর্মমন্ত্রী হজের খরচ নিয়ে সরকারের ইতিবাচক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি বছর হজের খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী হজ মৌসুমে এই ব্যয় আরও কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সেবামূলক উদ্যোগ একটি মহলের সহ্য হচ্ছে না বলে দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অনেক ভালো কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যা জনগণের কল্যাণে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট মহল দেশের গণতন্ত্রকে ব্যাহত করতে চায় এবং বিরোধী দল সরকারকে সংকটে ফেলতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে, তারাই মূলত এসব অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গুজব ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, যারা সরকারের সফলতায় ঈর্ষান্বিত, তারাই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার স্বার্থে এই আইনের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। অপপ্রচার বন্ধ করা এবং নিরপরাধ ও ভালো মানুষদের ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার জন্য এই আইনটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি মনে করেন। সামগ্রিকভাবে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।
জাতীয়
পুলিশ বাহিনী চেইন অব কমান্ড মেনে কাজ না করলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মানবাধিকার সমুন্নত রেখে পুলিশ সদস্যদের কৌশলে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পুলিশ সদস্যদের স্মরণ রাখতে হবে, মানবাধিকারের বিষয়টি এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার (১১ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ‘পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জনগণের প্রকৃত বন্ধু হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং পুলিশকে হতে হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। থানায় আসা কোনো সেবা প্রার্থী যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব। মনে রাখবেন, আপনাদের প্রতিটি আচরণে যেন রাষ্ট্রীয় সেবকের প্রতিফলন ঘটে। ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’—এই স্লোগানটি কেবল মুখে নয়, কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মানে চেইন অব কমান্ড যারা ব্রেক করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য কাজে স্বচ্ছতা বাড়াতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে। ভবিষ্যতে সব পর্যায়ে এটি ব্যবহার করে তদন্ত-অপারেশন সব কার্যক্রম রেকর্ডে রাখা যায়, সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বলপ্রয়োগের বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ কার্যক্রম বন্ধ বা কমাতে গেলে বা প্রসিকিউশন টিমকে সহযোগিতা করতে গেলে, তদন্ত কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য কৌশলে যা যা করতে হয় মানবাধিকার সমুন্নত রেখে করতে হবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশিং আর কেবল অপরাধ দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
জাতীয়
নিরাপদ ও মানবিক দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশ বাহিনীকে সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সোমবার (১১ মে) জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ প্রশাসন সরকারের ‘আয়না’ হিসেবে কাজ করে। তাই দুর্নীতি, সন্ত্রাস বা অপরাধের ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় নয়, ব্যক্তির অপরাধকেই বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে দেশ সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তিনি পুলিশ সদস্যদের বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো স্থানে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার সরকার বাস্তবায়ন করবে। সততা, মেধা ও দক্ষতাকেই পুলিশ বাহিনীর নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূলনীতি হিসেবে অনুসরণ করা হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারের মূল্যায়ন অনেকাংশে পুলিশের ভূমিকার ওপর নির্ভর করে। তাই বাহিনীর সদস্যদের মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।




