জাতীয়
‘২’ মুছে ৫২ কোটি টাকার কর হয়ে যায় ১২ কোটি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগে বড় ধরনের একটি কর জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরের দুটি কনটেইনার ডিপোর বার্ষিক কর মূল্যায়ন থেকে কৌশলে প্রথম অঙ্ক ‘২’ মুছে ফেলে প্রায় ৪০ কোটি টাকা কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তে বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশনে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।
সূত্রে জানা গেছে, কর কমিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান দুটিও সুবিধাভোগী। ঘটনাটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে কমিশন প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, ‘নথি ঘষামাজা করে ‘২’ সংখ্যাটি বাদ দেওয়া হয়। এতে দুই প্রতিষ্ঠানের ২০ কোটি টাকা করে গৃহকর কমে যায়। আমরা প্রমাণ পেয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট নথি জব্দ করেছি। এখন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠান হলো মধ্যম হালিশহরে অবস্থিত এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও পতেঙ্গার লালদিয়া চরের ইনকনট্রেড লিমিটেড। ২০১৭–১৮ অর্থবছরে এই দুই প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কর মূল্যায়ন নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ও ২৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কিন্তু রিভিউ বোর্ডে শুনানির সময় ফরম থেকে প্রথম অঙ্ক ‘২’ মুছে ফেলা হয়। ফলে কর দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬ কোটি ৩৮ লাখ ও ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তদন্তেও অনিয়মের প্রমাণ মেলে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজস্ব বিভাগের দুই কর্মকর্তা- কর কর্মকর্তা নুরুল আলম ও উপকর কর্মকর্তা জয় প্রকাশ সেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগে তিন হিসাব সহকারী- মঞ্জুর মোর্শেদ, রূপসী রাণী দে ও আহসান উল্লাহকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সচিবালয় বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, ইনকনট্রেড লিমিটেডের শুনানি হয়েছিল ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর, আর এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ১৩ জুন।
সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘গৃহকর নির্ধারণে অনিয়মের বিষয়টি আমাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধরা পড়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেয়েই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুদক আমাদের কাছ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েছে।’
দুদকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি সিটি করপোরেশনের রাজস্ব ব্যবস্থার জবাবদিহি ঘাটতির একটি দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে।
জাতীয়
শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্বেগ
শেরপুরে সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেইসঙ্গে সহিংসতায় প্রাণহানি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে থাকাকালে সরকার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংযম নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণহানির কোনো স্থান নেই।
শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সব রাজনৈতিক দল, নেতা ও নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সবার প্রতি শান্তি বজায় রাখা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। শান্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ওপরই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এমকে
জাতীয়
ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু আজ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নন-স্টপ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময়) ফ্লাইট ছেড়ে রাত ১১টায় করাচিতে পৌঁছাবে। এরপর করাচি থেকে রাত ১২টায় ফ্লাইট ছেড়ে পরদিন ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
ট্রানজিট ছাড়াই সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় যাত্রার সময় যেমন কমবে, তেমনি যাত্রীদের খরচও কমবে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত ব্যয়ে যাতায়াত করতে হতো।
ঢাকা থেকে করাচি ১৪৭১ মাইল পথ যাতায়াতে ব্যবহার হবে ১৬২ সিটের বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ। এই রুটে যাত্রা সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় তিন ঘণ্টা।
বাংলাদেশ বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ফ্লাইটেরও ৮০ শতাংশের বেশি আসন বিক্রি হয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় যাত্রা হবে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ, দ্রুত এবং ট্রানজিট ঝামেলামুক্ত।
দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত যাত্রীরা। তাদের মতে, এতে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, এই রুট চালু হওয়ায় শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, কার্গো পরিবহনেও বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা-করাচি ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছিল।
নতুন করে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় রাউন্ড ট্রিপে যাত্রীরা সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকায় যাতায়াত করতে পারবেন, যা আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত কম।
এমকে
জাতীয়
রাজধানীসহ তিন জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের তিন জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে মাঠে নামছেন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। তারা নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা দেবেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ৫ ব্যাটালিয়নের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান এ তথ্য জানান।
এতে জানানো হয়, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়ন এলাকায় মোট ৩৮ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুইটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে ৮ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে।
বিশেষ নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিনিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে।
এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে এবার বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, এপিসি ও আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ব্যাটালিয়ন সদরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এবার বিজিবির ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চাইলে কিংবা কেন্দ্রে সহিংসতা বা জাল ভোটের আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজিবি কর্মকর্তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
এমকে
জাতীয়
সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে: রিজওয়ানা হাসান
নির্বাচন ইস্যুতে সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান।
সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন- দুটি দলের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ি হচ্ছে, পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও ভোট নিয়ে মন্তব্য আসছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, নির্বাচনের পরিবেশ তো উত্তেজনাপূর্ণই হবে। এক দল আরেক দলকে হারানোর চেষ্টা করবে, এক দল জিতবার চেষ্টা করবে। যে দল জিতবার চেষ্টা করবে, সে তার পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কথা বলবে, প্রতিপক্ষ আরেকজনকে ঘায়েল করার কথা বলবে। এটা খুব স্বাভাবিক।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় হয়তো ভদ্রতা ও সভ্যতার সীমা রাখা হচ্ছে না। সে জন্য সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যদি কোনোটা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পৌঁছে যায়, তখন সেটা সরকারের দায়িত্ব। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বলল বা না বলল, সেটা তো সরকারের দায়িত্ব নয়।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে অন্য দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্লেষণ থাকতে পারে, কিন্তু কে জিতলে কী ধারণা করবে, জেতার আগেই এত কথা বলে দিলে সেই মন্তব্য বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে করার সুযোগ থাকে না।
ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করা হবে- সরকারের এমন একটি বিবৃতি রয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেনি, তা ঠিক কথা নয়। ভোটের যেদিন শিডিউল ঘোষণা হলো, সেদিনই তো বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে এবং সেটার ভুক্তভোগী আমরাও কয়েকজন হয়েছি। ফলে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যদি পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি কোনো রকম চেষ্টা করে, তা প্রতিরোধ করার জন্য সরকার প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে প্রস্তুতি আমরা আরও বাড়াব।
কোনো কোনো জেলায় ডিসিদের গণভোটের পক্ষে সেভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যা করছি তা হলো, আমরা সব উপদেষ্টারা দেশের ৬৪টি জেলায় গিয়ে বিভিন্ন জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছি। গণভোট কেন হচ্ছে, গণভোটের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো কী—সেগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন যেহেতু নির্বাচনের প্রচার অভিযান শুরু হয়ে গেছে, তাই এখন আর আমরা কোনো উপদেষ্টা সেখানে যাচ্ছি না। আমাদের কিছু উপকরণ আছে গণভোটের স্বপক্ষে, সেগুলোই আমরা বিতরণ করছি।’
তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকেরা কোথায় প্রচার করছেন বা করছেন না- জেলা প্রশাসকদের প্রচার বলতে বোঝায়, ১২ তারিখে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটি গণভোট হবে এবং জনগণ যেন সাধারণ ভোটের সঙ্গে গণভোটেও অংশ নেয়, সে তথ্য জানানো। এর বেশি তাদের আর কিছু করার কথা নয়।’
মানুষের মধ্যে ভোটের পরিবেশ নিয়ে ভয় কাজ করছে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি আমাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিন, কোন মানুষ আপনাকে বলেছে যে তার ভোট দিতে ভয় লাগছে। আমরা যে এতগুলো জেলায় গেছি, সব জায়গায় গিয়ে দেখেছি নির্বাচনের একটি আমেজ তৈরি হয়েছে। আমরা যখন গিয়েছি, তখনও কিন্তু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়বে, আগ্রহও বাড়বে, আনন্দও বাড়বে। এটা বাংলাদেশে সবসময়ই হয়ে থাকে। আমি কোনো জায়গায় কাউকে বলতে শুনিনি যে ভোট দিতে যেতে তার ভয় লাগছে। আপনাকে যদি কেউ তা বলে থাকে, আমাদের জানাবেন। তার ভয় দূর করার দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের।’
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে ভয়ের একটি আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণেই বলা হচ্ছে, পতিত স্বৈরাচার যদি নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার জন্য কোনো কাজ করে, তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এমকে
জাতীয়
জুলাই সনদ জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি চুক্তি: আলী রীয়াজ
জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি চুক্তি। ত্রিশটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ নয় মাস নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার মাধ্যমে এজেন্ডাগুলো তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, এ চুক্তির বাস্তব রূপ দেওয়ার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরও বর্তায়। এটি কোনো চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। এটি অগুনতি শহীদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ : মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’- শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট।’
আলী রীয়াজ বলেন, গণ-অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, বাংলাদেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদী কিংবা জমিদারিতন্ত্র কায়েম করতে পারবে না। ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার জন্য নির্বাচন দরকার।
তিনি বলেন, যদি ন্যায়বিচার চাই, সংস্কার চাই এবং নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই— তাহলে নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গণভোট, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার- সবকিছুর ক্ষমতা জনগণের হাতেই।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, দেশের ছাত্র-জনতা জীবন বিনিময় করে ফ্যাসিবাদের জাঁতাকল থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখন আমরা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথযাত্রায়, সেই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে করে আমরা সবাই মনে করি আমরা প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের মালিক। সুতরাং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে, মুক্তভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে এবং গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দিতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতে আমরা একটি সমৃদ্ধিশালী, সাম্যভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাভিত্তিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। সেই প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা প্রত্যেকেই আগামী ১২ তারিখে হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালাতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির, বক্তৃতা করেন ইনস্টিটিউটের ডিসটিংগুয়েশড ফেলো সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান। সার্ভে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চৌধুরী সামিউল হক। আলোচনায় বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এমকে



