অর্থনীতি
বিএফটিআই ও আইসিডিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অবস্থান আরও সংহত করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ইসলামিক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব ট্রেড (আইসিডিটি)।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় আইসিডিটি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে ওআইসিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি এমজেএইচ জাবেদ এবং আইসিডিটির মহাপরিচালক লতিফা এলবুয়াবদেল্লাউই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এ সময় মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা এবং আইসিডিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পূর্ববর্তী আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার তার অংশীদার দেশসমূহকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি আইসিডিটির গবেষণা ও নীতিনির্ধারণমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত ও উপখাত অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আইসিডিটির সঙ্গে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করে যে, এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ধারণা, বিশেষজ্ঞ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, এর ফলে দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা আইসিডিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।
আইসিডিটির মহাপরিচালক লতিফা এলবুয়াবদেল্লাউই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ওআইসির বিভিন্ন অঙ্গসংস্থায় নিয়মিত অবদান রাখছে এবং সংস্থাটির বিভিন্ন ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি এই সমঝোতা স্মারককে একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের ধারাবাহিক অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ আইসিডিটি বাংলাদেশকে বিভিন্ন বাণিজ্য উন্নয়ন কার্যক্রমে একটি ‘পাইলট দেশ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এ প্রেক্ষিতে ঢাকাকে একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও পর্যালোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী, কর্মশালা, বাণিজ্য আলোচনা এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য কার্যকর এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আরো সম্প্রসারিত করা যাবে।
এমএন
অর্থনীতি
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রয়োজন, তবে সতর্ক থাকতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (এমসি১৪) এ বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক সেশনে তিনি একথা বলেন।
এতে জানানো হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার: মৌলিক বিষয়সমূহ শীর্ষক এ অধিবেশনে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ডব্লিউটিও-এর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসিএস) জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (এমএফএন) সুবিধা, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার (ডিএফকিউএফ), এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (এসএন্ডডিটি)-এর মতো ব্যবস্থাগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় ছাড়া গত তিন দশকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
ডব্লিউটিও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, ডব্লিটিও সংস্কার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যাতে ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় থাকে, পূর্বের অর্জনগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সকল সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী ফলাফল নিশ্চিত করা যায়।
উল্লেখ্য, মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে সদস্য দেশসমূহ বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
এবারের সম্মেলনে ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিগণ অংশ নিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নিচ্ছেন।
এমএন
অর্থনীতি
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে পৌঁছাল নতুন জাহাজ
দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আবারও বড় চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে একটি তেলবাহী জাহাজ।
বৃহস্পতিবার সকালে ৩০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে নোঙর করে হংকং পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এমটি গ্রান কাউভা’। জাহাজটি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি ইউনিপেক এই জ্বালানি রপ্তানি করছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, জাহাজটিতে রয়েছে ২০ হাজার টন ডিজেল এবং ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল। এর মধ্যে ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে এবং জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে।
চলতি মাসে এটি নবম তেলবাহী জাহাজ, যা দেশে পৌঁছাল। আগে আরও আটটি জাহাজ এসেছে এবং মোট ১৭টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও বাকি কয়েকটির সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত রয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে বিলম্বের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট ফুয়েলের দাম ৮০ শতাংশ বাড়িয়েছে।
তবে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়েই জাহাজটি এসেছে এবং বর্তমানে দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সূত্র: ডেইলি সান
অর্থনীতি
রাজস্বে বড় ধাক্কা : ৮ মাসে ঘাটতি ৭১ হাজার কোটি টাকা
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি ৭১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যেখানে সাত মাস শেষে জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর ৬ মাস শেষে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে ক্রমবর্ধমান হারে। যদিও ১৩.৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। যা রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদরা।
এনবিআর থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অথচ এ সময় রাজস্ব আয়ের তিনটি খাতে রাজস্ব ঘাটতি ৭১ হাজার ৪৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে আদায় হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩.৩৬ শতাংশ। গত অর্থবছরে একই সময়ে আদায় হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্যানুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতে ঘাটতি ৩৩ হাজার ৩৭৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
ওই সময়ে আয়কর খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অথচ আদায় হয়েছে মাত্র ৮৫ হাজার ১৩৬ কোটি ৬ লাখ টাকা।
আমদানি-রপ্তানি শুল্কে ৮৯ হাজার ৭৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় মাত্র ৭১ হাজার ৯১২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ঘাটতি ১৭ হাজার ১৬৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা
অন্যদিকে একই সময়ে ভ্যাট খাতে আদায় হয়েছে ৯৭ হাজার ২৮১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ২১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ভ্যাট খাতে ঘাটতি ২০ হাজার ৯৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
একক মাস হিসেবে ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায়েও মন্দা ভাব দেখা গেছে। এ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৫১ কোটি ২১ লাখ টাকা, বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৫৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ঘাটতি প্রায় ১১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয় বলে জানা গেছে।
অর্থনীতি
৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন
দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরকারি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিজেল কেনা হবে।
এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এক লাখ টন ডিজেল কেনা হবে। পাশাপাশি সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেডের কাছ থেকে আরও দুই লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
অর্থনীতি
দেশের বাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম, কত দামে বিক্রি হচ্ছে আজ
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
এর আগে সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। তখন ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা। নতুন ওই দাম কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২১ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল— যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস করা হয়।
স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ২৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বেড়েছে এবং ১৩ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।



