খেলাধুলা
সাবেক ক্রিকেটার, ২৮ বছর বয়সী বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী এখন আরসিবি চেয়ারম্যান
‘মনে হচ্ছে যেন, কোনো ফাঁদে আটকা পড়েছি’—ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়ে এভাবেই ভাঙা গলায় আক্ষেপ করেছিলেন আর্যমান বিরলা। একের পর এক চোটে জর্জরিত শরীর, তার সঙ্গে মানসিক অবসাদের লড়াইয়ে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সবশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ‘সাময়িক ছুটি’ নেন তিনি। তবে সেই ছুটি আর শেষ হয়নি।
মাত্র ২২ বছর বয়সেই থেমে যায় তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার।
তবে সময়ের স্রোতে নতুন পরিচয়ে ফিরেছেন তিনি। এখন ২৮ বছর বয়সী আর্যমান আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কর্ণধার। নামের শেষাংশই বলে দেয় তার পারিবারিক পরিচয়।
ভারতের শিল্প জগতের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান আদিত্য বিরলা গ্রুপের উত্তরাধিকার তিনি। প্রায় ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি ভারতীয় রুপিতে যে চারটি প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনে নিয়েছে, সেখানে বড় অংশ এই গ্রুপের। নতুন মালিকানায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছেন আর্যমান।
১৮৫৭ সালে শিব নারায়ণ বিরলার হাত ধরে শুরু হওয়া এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য পরবর্তী সময় ঘনশ্যাম দাস বিরলা ও আদিত্য ভিক্রাম বিরলার হাত ধরে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হয়। ১৯৯৫ সালে আদিত্য ভিক্রাম বিরলার মৃত্যুর পর থেকে এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্যমানের বাবা কুমার মাঙ্গালাম বিরলা। বর্তমানে বিশ্বের ৪২টি দেশে বিস্তৃত এই গ্রুপের ব্যবসা।
এমন প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হয়েও ক্রিকেটেই নিজের পরিচয় গড়তে চেয়েছিলেন আর্যমান। মুম্বাইয়ে সুযোগ সীমিত দেখে ১৭ বছর বয়সে পাড়ি জমান মধ্যপ্রদেশে। পরিবার থেকে দূরে থেকে জুনিয়র সার্কিটে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ইংল্যান্ডে গিয়ে পল উইকসের তত্ত্বাবধানে অনুশীলনও করেন।
অবশেষে ২০১৬-১৭ মৌসুমে সিকে নাইডু ট্রফিতে (অনূর্ধ্ব-২৩) নজর কাড়েন তিনি। ৯ ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরিতে ৬০২ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন, গড় ৭৫.২৫। এর আগে অবশ্য তার পারিবারিক পরিচয়ই বেশি আলোচিত হতো। মধ্যপ্রদেশ দলে নিজেকে অনেক সময় ‘আউটসাইডার’ মনে করতেন তিনি। পারফরম্যান্স দিয়েই সম্মান আদায়ের লক্ষ্য ছিল তার।
২০১৭ সালে ওড়িশার বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের দিনই ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলেন। ব্যথা সহ্য করে প্রায় দুই ঘণ্টা ক্রিজে থেকে রাজাত পাতিদারর সঙ্গে ৭২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। এতে সতীর্থদের কাছেও সম্মান অর্জন করেন তিনি।
পরের মৌসুমে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বাংলার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে দীর্ঘ ২৭১ মিনিট ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচানো সেঞ্চুরি করেন। তখনই নিজের পরিচয়ে পরিচিতি পেতে শুরু করেন।
সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন-
“বিশ্বাস ও সম্মান অর্জনের সেরা উপায় হলো পারফরম্যান্স। যখন আমি রান করা শুরু করলাম, লোকে আমাকে অন্য চোখে দেখতে শুরু করল। মধ্যপ্রদেশে যখন প্রথম আসি, তখন নামের শেষ অংশের কারণেই বেশি পরিচিতি ছিল আমার। শুনতেই থাকতাম ‘বিরলার ছেলে, বিড়লার নাতি…।’ কিন্তু পারফরম্যান্স দিয়েই লোকের ধারণা বদলে দিয়েছি, তারা আমাকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করেছে।”
“এখনও পর্যন্ত এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। সম্প্রতি একজন এসে আমাকে বললেন, ‘আপনি এত সাদাসিদে, এত সহজ-সরল যে, জানতামই না আপনি বিরলা পরিবারের সন্তান।’ আমার কাছে এটা ছিল পরিবর্তনের একটা ইঙ্গিত।”
২০১৮ সালে আইপিএলের নিলামে ৩০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। পরের মৌসুমেও দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
এরপরই শুরু হয় দুঃসময়। একের পর এক চোটে ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। মানসিক অবসাদ গ্রাস করে ফেলে। অবশেষে ২২ বছর বয়সে ক্রিকেট থেকে ‘অনির্দিষ্টকালের ছুটি’ নেন।
“মনে হচ্ছে যেন, কোনো ফাঁদে আটকা পড়েছি। এতদিন পর্যন্ত সমস্ত কষ্টের মধ্যে দিয়ে নিজেকে ঠেলে নিয়ে গেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন। আমাদের প্রত্যেকেরই পথচলা নিজের মতো এবং এই সময়টা নিজেকে আরও ভালোভাবে বুঝতে, নতুন ও বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গির জন্য মনকে উন্মুক্ত করতে এবং নতুন উপলব্ধির মধ্যে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে কাজে লাগাতে চাই।”
সেই সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে তার ক্রিকেট জীবনের শেষ অধ্যায়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অন্ধ্র প্রদেশের বিপক্ষে রাঞ্জি ট্রফির ম্যাচই থেকে যায় তার শেষ উপস্থিতি।
সাত বছর পর আবার ক্রিকেটে ফিরছেন তিনি, তবে ভিন্ন ভূমিকায়। প্রায় ৭৮ কোটি মার্কিন ডলার বা ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি রুপির চুক্তিতে চার প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনে নেওয়ার পর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন আর্যমান।
আইপিএলে দল পেলেও কখনো খেলার সুযোগ না পাওয়া আর্যমানই এখন লিগটির অন্যতম তারকাখচিত দলটির মালিক। তাই দায়িত্ব বদলালেও ক্রিকেট নিয়ে এখন নতুন স্বপ্ন দেখতে আর বাধা নেই তার।
খেলাধুলা
জাইমা রহমানের ক্রীড়া প্রতিভা নিয়ে শৈশবের কোচের স্মৃতিচারণ
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক আলোচিত নাম ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র মেয়ে হিসেবে পরিচিতি থাকলেও সম্প্রতি তার শৈশবের এক অনন্য ক্রীড়া প্রতিভা আলোচনায় এসেছে।
জাইমা রহমানের ফুটবল প্রেম এবং যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ক্লাব চেলসির বয়সভিত্তিক দলে তার সুযোগ পাওয়ার প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এই ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এবার জাইমা রহমানের ক্রীড়া প্রতিভা নিয়ে তার শৈশবের কোচ মোহাম্মদ হাকিম স্মৃতি রোমন্থন করলেন। সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই স্মৃতিচারণ করেন।
স্ট্যাটাসে মোহাম্মদ হাকিম লেখেন, জাইমা রহমানকে নিয়ে আমার বিশ্বাস আজকের নয়-এটি অনেক দিনের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ফল। ঢাকা আইএসডিতে পড়ার সময় সে আমার তত্ত্বাবধানে ফুটবল, সাঁতার এবং দৌড়-সব ক্ষেত্রেই অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছিল।
সে ছিল স্বাভাবিক প্রতিভাবান, দুর্দান্ত অ্যাথলেটিক এবং নিজের সীমা অতিক্রম করার এক অদম্য মানসিকতাসম্পন্ন একজন ক্রীড়াবিদ জানিয়ে কোচ আরও লেখেন, আমি আজও স্পষ্টভাবে মনে করতে পারি-সে সাঁতারে ছিল সেরা, আর দৌড়ে ছেলেদেরও পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেত।
তার সেই আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং জয়ের মানসিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল মন্তব্য করে তিনি আরও লেখেন, তাই সে যদি বলে থাকে যে সে সত্যিই চেলসি উইমেন টিমে খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছিল-তাতে আমি একদমই অবাক হবো না। তার প্রতিভা ও সামর্থ্য সেই পর্যায়েরই।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান একজন সফল ব্যারিস্টার। তিনি বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন, সাইবার নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও নাগরিক ইস্যুগুলো নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
খেলাধুলা
চেলসি দলে জাইমা রহমানের সুযোগ; বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন আমিনুল হক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের লন্ডনের ক্লাব চেলসিতে খেলার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলা বিতর্কের বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তার দেওয়া বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’
সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে এক এডমিন পোস্টে পূর্বের বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন তিনি।
আমিনুল হক জানান, জাইমা রহমান লন্ডনে স্কুল পর্যায়ে থাকাকালীন ফুটবল খেলতেন।
সেই সূত্র ধরেই চেলসির বয়সভিত্তিক দলে গোলরক্ষক হিসেবে তার খেলার সুযোগ এসেছিল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাইমা রহমানের স্কুলে গোলকিপিং করার কথা তিনি খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেই শুনেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্কুলে থাকাকালীন চেলসির বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ এলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মেয়েকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে বলেছিলেন।
নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, জাইমা রহমান যখন মিরপুরে ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়েছিলেন, তখন গোলকিপিং নিয়ে তাদের মধ্যে স্মৃতিচারণমূলক কথা হয়।
সেদিনের স্মৃতি টেনে আমিনুল হক বলেন, “জাইমা রহমান তাকে বলেছিলেন, ‘আঙ্কেল, আমি কিন্তু স্কুলে আপনার মতো গোলরক্ষক ছিলাম।’ মূলত জাইমা স্কুল পর্যায়ে কিপিং করতেন এবং লম্বা হওয়ায় এই পজিশনে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল।”
আমিনুল হক জোর দিয়ে বলেন, ‘ইউরোপে স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার অংশ। জাইমা রহমানেরও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ছিল, তবে পরিবারের ইচ্ছায় তিনি শেষ পর্যন্ত শিক্ষাজীবনকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।’
মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্যটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
খেলাধুলা
জাইমা চেলসির নারী দলে গোলকিপার হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের ফুটবল প্রতিভা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সাবেক এই তারকা ফুটবলার জাইমা রহমানের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ এবং তার ফুটবল ক্যারিয়ারের অজানা কিছু তথ্য সামনে এনেছেন।
সম্প্রতি বেসরকারি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আমিনুল হক বলেন, আমাদের জাইমা রহমান লন্ডনের বিখ্যাত ক্লাব চেলসির নারী দলে গোলকিপার হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে কোনও কারণে পরবর্তী সময়ে হয়তো প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) তাকে সেই পেশাদার ফুটবলে যাওয়ার সুযোগটি তৈরি করে দেননি।
সাবেক জাতীয় দলের গোলরক্ষক আমিনুল হক নিজের সঙ্গে জাইমা রহমানের মিল খুঁজে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, “জাইমা রহমান লন্ডনে ফুটবল খেলেছেন এবং মজার ব্যাপার হলো তিনি আমার পজিশনেই (গোলকিপার হিসেবে) খেলতেন। যতটুকু জানি, তিনি আমার মতোই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্ত।”
জিয়া পরিবারের ক্রীড়াপ্রেমের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। জিয়া পরিবার সবসময়ই একটি ক্রীড়াবান্ধব পরিবার। বর্তমানে আমি তাদের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ নিয়েই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।
খেলাধুলা
ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন সাকিব-মাশরাফি-লিটনরা
মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে ঈদ। সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ। এমন দিনে ভক্ত-সমর্থকদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের তারকা ক্রিকেটাররা।
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ৫ আগস্টের পর থেকে আড়ালেই ছিলেন। মাঝে মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখলেও খুব বেশি সরব ছিলেন না। এবার ঈদের দিন কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মনে রাখা এবং ভুলে যাওয়া সবাইকে জানাই, ঈদ মোবারক।’
সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘ঈদ মোবারক। এই পবিত্র ঈদে সবার জীবনে বয়ে আসুক শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি। সবার জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।’
যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ উদযাপন করছেন সাকিব আল হাসান।
শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আপনার দিনটি আনন্দ, ভালোবাসা আর সুস্বাদু খাবারের প্রাচুর্যে ভরে উঠুক। এই বিশেষ দিনটি হোক আপনার মতোই সুন্দর ও উজ্জ্বল।’
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও মুশফিকুর রহিম এখনো টেস্ট দলের সদস্য। ঈদের জামাতে ছেলের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিননা ওয়া মিনকুম (تقبل الله منا ومنكم)। আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের (সবার) নেক আমল কবুল করুন। ঈদ মোবারক।’
মাহমুদউল্লাহ তার বার্তায় বলেন, ‘ঈদের খুশি ছড়িয়ে পড়ুক হৃদয় থেকে হৃদয়ে। ঈদ মোবারক!’
পারভেজ হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ঈদ মোবারক—প্রার্থনা করি সুখ, সমৃদ্ধি আর হাসিতে ভরে থাকুক প্রতিটি ঘর।’
টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় সংক্ষিপ্ত বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, ‘ঈদ মোবারক।’
আফিফ হোসেন লিখেছেন, ‘ঈদুল ফিতর মোবারক। কৃতজ্ঞতা, আত্মসমালোচনা ও আনন্দ উদ্যাপনের এক পবিত্র দিন। সর্বদা আপনার মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করি।’
তরুণ পেসার নাহিদ রানা লিখেছেন, ‘ঈদুল ফিতর মোবারক। এই ঈদ আপনার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, আনন্দ ও সাফল্য। তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।’
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক আকবর আলীও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, ‘সবার প্রতি ঈদ মোবারক। এই আনন্দঘন মুহূর্তগুলোকে আগলে রাখুন। ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে।’
খেলাধুলা
ফুটবলে নারী কোচ বাধ্যতামূলক করল ফিফা
নারী ফুটবলে কোচিং ও নেতৃত্বের ভূমিকায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন নিয়ম চালু করেছে ফিফা। এখন থেকে ফিফার আয়োজিত যে কোনো নারী টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে প্রতিটি দলের কোচিং স্টাফে অন্তত একজন নারী হেড কোচ বা সহকারী কোচ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুব ও সিনিয়র থেকে সব ধরনের জাতীয় দল ও ক্লাব প্রতিযোগিতায় এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। প্রথমবারের মতো এটি কার্যকর হবে আগামী সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে। এর পাশাপাশি দ্বিতীয় নারী চ্যাম্পিয়ন্স কাপ, ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপ এবং দুই বছর পর শুরু হতে যাওয়া নারী ক্লাব বিশ্বকাপেও এই নিয়ম বাস্তবায়ন করা হবে।
ফিফা জানিয়েছে, নারী ফুটবলের দ্রুত প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোচিং ও নেতৃত্বের জায়গায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নারী ফুটবলের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে যেন প্রযুক্তিগত ও নেতৃত্বের ভূমিকায় নারীদের উপস্থিতিও বাড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তবে বাস্তবতা হলো, নারী ফুটবলে কোচিংয়ের অধিকাংশ জায়গাই এখনো পুরুষদের দখলে। ২০২৩ নারী বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২ দলের মধ্যে মাত্র ১২ দলের প্রধান কোচ ছিলেন নারী।
ফিফার প্রধান ফুটবল কর্মকর্তা ও যুক্তরাষ্ট্র নারী দলের সাবেক কোচ জিল এলিস বলেন, ‘বর্তমানে কোচিংয়ে নারীর সংখ্যা খুবই কম।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিবর্তন ত্বরান্বিত করতে আমাদের আরও কাজ করতে হবে। স্পষ্ট পথ তৈরি করা, সুযোগ বাড়ানো এবং সাইডলাইনে নারীদের দৃশ্যমানতা বাড়ানো জরুরি।’ নতুন এই নিয়মকে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবেও দেখছেন এলিস। তার ভাষায়, ‘ফিফার নতুন বিধান এবং লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নারী কোচদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।’



