আন্তর্জাতিক
আলোচনার আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে প্যারাট্রুপার পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আগুন নেভাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আলোচনার কথা বলছেন, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের সমরশক্তি বাড়াচ্ছে পেন্টাগন। ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার সুবাতাস দিলেও বাস্তুবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর দুর্ধর্ষ ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ১ হাজার সৈন্যকে রণক্ষেত্রে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এই সেনাদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিভিশন কমান্ডার মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন টেগটমেয়ার নিজেই। সঙ্গে থাকছে তুখোড় ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’, যারা মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ঝাঁপিয়ে পড়তে সক্ষম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কমান্ডিং স্টাফ ও প্রথম ব্যাটালিয়ন মধ্যপ্রাচ্যের পথে উড়াল দেবে। ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার উত্তাল দিনগুলোতেও এই একই ডিভিশন মোতায়েন করে ওয়াশিংটন নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়েছে। ইরানও তাদের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে ‘টেকসই’ প্রস্তাব শোনার আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে এই আলোচনার পর্দার আড়ালে চলছে বিশাল সামরিক মুভমেন্ট। কেবল প্যারাট্রুপার নয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে গতিপথ বদলে ১১তম ও ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের মতো শক্তিশালী নৌ-বহরগুলোকে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের উপকূলে নিয়ে আসা হচ্ছে।
প্রতিটি অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার করে অত্যন্ত প্রশিক্ষিত নৌসেনা ও মেরিন থাকছে। সঙ্গে রয়েছে যুদ্ধবিমান ও বিশাল লজিস্টিক সাপোর্ট। অর্থাৎ একদিকে কূটনৈতিক দরকষাকষি, অন্যদিকে কয়েক হাজার বাড়তি সৈন্য আর ভারী অস্ত্রশস্ত্রের এই সমাবেশ প্রমাণ করছে—ওয়াশিংটন শান্তির বার্তা দিলেও আঙুল কিন্তু ট্রিগারেই রাখছে।
আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ
ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি যুবরাজ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুক্তি দিচ্ছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ সুযোগ এনে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে বেশ কয়েকবার ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে সৌদি যুবরাজের। এসব আলোচনার বিষয়ে জানেন এমন সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ কথা জানিয়েছে। সৌদি যুবরাজ যুক্তি দিয়েছেন, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী হুমকির মুখে রেখেছে, যা ইরান সরকারকে নির্মূল করার মাধ্যমে দূর করা যেতে পারে।
তবে সৌদি কর্মকর্তারা যুবরাজের এমন অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের দৃষ্টিতে এমন একটি পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য, যেখানে ইরান অভ্যন্তরীণ সংকটে জড়িয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন; তাদের আশঙ্কা, ইরান যদি সম্পূর্ণভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরান সৌদি তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন বার্তা ইরানের
গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগ্রাসী শক্তি যাতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে যেসব জাহাজ ‘অশত্রুভাবাপন্ন’, তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।
ইরান আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এসব দেশের জাহাজ এই সুবিধার আওতায় পড়বে না।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই চিঠির অনুলিপি ইতোমধ্যে সব সদস্য দেশের কাছে পৌঁছে গেছে।
উল্লেখ্য, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। একাধিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ সংকটে তেল উত্তোলন কমাচ্ছে কুয়েত
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুয়েত।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়ায় সাময়িকভাবে তেল উৎপাদন কমানো হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আগের মতো উৎপাদন শুরু হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই উৎপাদন কমানো শুরু হয়েছে। ১০ মার্চ কুয়েত মাত্র ৫ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করেছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক উৎপাদন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। একাধিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যতদিন যুদ্ধ চলবে, ততদিন এসব দেশের জাহাজের ওপর হামলা চলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
আন্তর্জাতিক
বিশ্বের ১ম দেশ হিসেবে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা ফিলিপাইনের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে, ফিলিপাইন তাদের মধ্যে অন্যতম।
কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের প্রয়োজনীয় তেলের ৯৮ শতাংশই পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। গত তিন সপ্তাহে ফিলিপাইনের সাধারণ মানুষ কয়েক দফা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কবলে পড়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
মঙ্গলবার নির্বাহী এক আদেশে ফিলিপিনো প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দেশের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘আসন্ন বিপদের’ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই ঘোষণার ফলে জ্বালানি স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা পাবে সরকার।
আদেশে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুশৃঙ্খল বণ্টন তদারকি করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া মজুত বাড়ানোর জন্য সরাসরি জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী ফিলিপাইনের কাছে আর মাত্র ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের এই আদেশ এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি এই সময়সীমা বাড়াতে বা প্রত্যাহার করতে পারবেন।
সূত্র: আল জাজিরা।
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রে তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পোর্ট আর্থার শহরে একটি তেল শোধনাগারে বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণের মাত্রা এতটাই বিশাল যে শোধনাগারটির আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
গত সোমবার (২৭ মার্চ) ঘটেছে এই বিস্ফোরণ। যে শোধনাগারে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটির মালিক মার্কিন তেল-গ্যাস উত্তোলন ও বিপণনকারী কোম্পানি ভালেরো।
বিস্ফোরণের কিছু সময় পর পোর্ট আর্থার নগর কর্তৃপক্ষের জরুরি অবস্থা বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে শোধনাগারটির আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলা হয়, “ভালেরো’র তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের পরিপ্রেক্ষিতে শোধনাগারটির আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। শোধনাগারটির সংলগ্ন সব এলাকার বাসিন্দাদের ওপর এই নির্দেশ প্রজোয্য।”
পৃথক এক বিবৃতিতে ভালেরো কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, “টেক্সাসের পোর্ট আর্থার শহরে কোম্পানির তেল শোধনাগারে বিস্ফোরণ হয়েছে। ওই শোধনাগারের সব কর্মীর সন্ধান পাওয়া গেছে, কেউ নিখোঁজ হননি এবং কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে শোধনাগারটিতে জ্বলতে থাকা দীর্ঘ অগ্নিশিখা এবং তার জেরে কালো ধোঁয়ার কুন্ডলি উঠতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, বিস্ফোরণের সময় প্রচণ্ড শব্দ হয়েছিল এবং তার ধাক্কায় অনেক বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে।
পোর্ট আর্থার শহরটি টেক্সাসের রাজধানী হিউস্টন থেকে ৯০ মাইল পূর্বে। ভালেরো’র ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, বিস্ফোরণের শিকার শোধনাগারটিতে ৮০০ জন কর্মী ছিলেন এবং প্রতিদিন ৪ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধন করে। এছাড়া গ্যাসোলিন, ডিজেল এবং জেট ফুয়েলের মতো জ্বালানিও উৎপাদন করা হয় সেই শোধনাগারটিতে।
সূত্র : এএফপি



