আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের অবরোধ থেকে হরমুজ প্রণালি ‘মুক্ত’ করতে বেশি সময় লাগবে। এমনকি ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্ররা যদি এগিয়ে না ও আসে— সেক্ষেত্রেও অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীকে ইরানের অবরোধ থেকে ‘উদ্ধার করা’ সম্ভব হবে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার বিশ্বাস, খুব বেশি সময় লাগবে না। আমরা উপকূলে প্রচণ্ড হামলা চালাচ্ছি। মূলত উপকূল আর জলভাগ নিয়েই এই হামলা। এবং এতে খুব বেশি সময় লাগবে না।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়— হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদেশগুলোর জাহাজ চলাচল করলে সেসব জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৭ দিনে হরমুজ ১২টিরও বেশি জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা।
নিরাপত্তা সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে এবং তার প্রভাবে বাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধে অবসানের জন্য সেখানে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প এবং কয়েক দিন আগে হরমুজে যুদ্ধজাহাজ ও সেনা পাঠানোর জন্য মিত্র দেশগুলোকে আহ্বান জানান। তবে মিত্ররা তার এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে।
তবে সিএনএনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তবে ইউরোপ এবং এশীয় মিত্ররা সাড়া না দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। এজন্য মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, “ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং ইসরায়েল— তারা অসাধারন। ইতোমধ্যেই তারা আমাদের খুব সহযোগিতা করেছে।”
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সিদ্ধান্তে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা ইতোমধ্যে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গতকাল মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির তীরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। এতে হরমুজ প্রণালি এলকায় ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সূত্র : সিএনএন
আন্তর্জাতিক
বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় বিমান হামলার খবর ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১০ ডলার (৮২.৭৮ পাউন্ড) ছাড়িয়ে যায়।
ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন সাউথ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র। এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস এবং কাতারের আন্তর্জাতিক এলএনজি রপ্তানির মূল কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে তাদের একাধিক এলএনজি স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে বড় ধরনের আগুন লেগেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজার খোলার শুরুতেই ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের সূচক মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছায়, যা মঙ্গলবারের তুলনায় ৫ শতাংশেরও বেশি। তবে পরে দাম কিছুটা কমে আসে। একইভাবে যুক্তরাজ্যের গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্যও ৬ শতাংশ বেড়ে ১৪৩.৫৩ পেন্সে উঠেছিল, পরে তা কমে প্রায় ১৪০ পেন্সের কাছাকাছি নেমে আসে। কাঁচামাল বা পণ্যের আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় বাজারে আমদানির ক্ষেত্রে বা রপ্তানির সময় বেঞ্চমার্ক মূল্যকে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে ধরা হয়।
ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলার খবর প্রকাশের পরই এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর কাতার জানায়, ইরানের হুমকির প্রেক্ষিতে রাস লাফান শিল্প এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে এজে বেল-এর আর্থিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ড্যানি হিউসন বলেছেন, ‘ইরানের হামলা পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত করেছে, ফলে তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে।’ তিনি আরা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির অবরোধের কোনো সমাধান এই মুহূর্তে বেশ সুদূরপ্রসারী বলে মনে হচ্ছে এবং যতক্ষণ না এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে, জ্বালানি বাজার সম্ভবত অস্থিতিশীল থাকবে।’
বুধবার হোয়াইট হাউস ক্রমবর্ধমান তেলের দামের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, তারা জোনস অ্যাক্ট স্থগিত করছে। এটি ১৯২০ সালের একটি আইন। এই আইনের অধীনে মার্কিন বন্দরগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য শুধুমাত্র আমেরিকায় তৈরি জাহাজ ব্যবহার করা যাবে।
মার্কিন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে উৎসাহিত করার উদ্দেশে প্রণীত এই নিয়মের ৬০ দিনের এই শিথিলতা তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়লার মতো অত্যাবশ্যকীয় সম্পদের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে। কারণ এখন থেকে আমেরিকায় তৈরি নয় এমন জাহাজও ব্যবহার করা যাবে ‘
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকরা বলেছে, এর প্রভাব হবে নগণ্য এবং তারা উল্লেখ করেছে, পাম্পে তেলের দাম বাড়ার পেছনে জাহাজীকরণ খরচ নয়, বরং তেলের দাম বৃদ্ধিই দায়ী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দামের চাপ কমাতে বিশ্বনেতাদের আগের প্রচেষ্টাগুলো তেলের দাম কমাতে তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। যার মধ্যে অভূতপূর্ব পরিমাণে তেলের মজুদ ছাড়াও ছিল।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ইরান ইরাকে গ্যাস সরবরাহ স্থগিত করেছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইরাকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের গ্যাস সরবরাহের সিংহভাগ, প্রায় ৯৪ শতাংশ দেশের ভেতরেই ব্যবহৃত হয়।
সূত্র : বিবিসি
আন্তর্জাতিক
ঈদের আগে ইরানের বিরুদ্ধে বড় সিদ্ধান্ত নিল কাতার
কাতারের প্রধান গ্যাস স্থাপনা রাস লাফানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পর বেশ ক্ষুব্ধ কাতার। এ ব্যাপারে দোহা বলেছে, ‘এ ধরনের হামলা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।’ শুধু তাই নয়, ইরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক অবস্থানও কঠোর করেছে কাতার।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটি ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক ‘অ্যাটাশে’দের অবিলম্বে কাতার ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। কূটনৈতিক ভাষায় ‘অ্যাটাশে’ বলতে সাধারণত দূতাবাসে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ বা প্রতিনিধিকে বোঝায়। একে ‘সামরিক বা নিরাপত্তা প্রতিনিধি’ বা ‘সংযুক্ত কর্মকর্তা’ বলা যেতে পারে। অপরদিকে রিয়াদ বলছে, ‘ইরানের প্রতি যে সামান্য আস্থা অবশিষ্ট ছিল, তা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে।’
এদিকে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি হত্যার পর দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি হামলাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে দায়ীদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) তিনি এ বিবৃতি দেন। এর আগে গত সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি তার পুত্রসহ নিহত হন। একই দিন পৃথক হামলায় দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হন। এরপর বিভিন্ন পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি এলেও নীরব ছিলেন খামেনি।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। তাতে মোজতবা খামেনি বলেন, লারিজানি একজন ‘বুদ্ধিমান ও অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তি’। ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। এই ধরনের একজন ব্যক্তিত্বের হত্যাকাণ্ড থেকে বোঝা যায়, তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলামের শত্রুদের কাছে কতটা ঘৃণ্য ছিলেন। প্রতিটি রক্তের মূল্য রয়েছে, যা এই শহীদদের খুনিদের অচিরেই পরিশোধ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক
কাতারের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চলে ইরানের হামলা
ইরানের হামলার কারণে শিল্পাঞ্চলে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, রাস লাফফান শিল্পাঞ্চলে লাগা আগুন নেভাতে কাজ করছে জরুরি পরিষেবা সংস্থার সদস্যরা।
তবে ইরানের এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে কাতার বলেছিল লাস রাফফানের গ্যাস অবকাঠামোতে হামলার ফলে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পরে দেশটি জানিয়েছে, ওই শিল্পাঞ্চলে আগুন লেগেছে। যা নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক
ভেনেজুয়েলাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। তিনি লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
একটি বেসবল ম্যাচে ভেনেজুয়েলার জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি ভেনেজুয়েলার প্রশংসা করে বলেন, দেশটিতে ভালো কিছু ঘটছে এবং প্রশ্ন তোলেন, ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য হলে কেমন হয়?’
সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, ওই ম্যাচে ভেনেজুয়েলা ইতালিকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে ট্রাম্প কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড নিয়েও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে সমালোচনা হয়।
এদিকে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। চলতি বছরের শুরুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে এক অভিযানে আটক করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও বাস্তবে এমন কোনো সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা খুবই কম।
আন্তর্জাতিক
বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণে রাশিয়ার বাজিমাত?
জ্বালানি সমৃদ্ধ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাড়ালে ক্রেমলিনের ওপর যথেষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি সমঝোতামূলক সমাধানে পৌঁছাতে দেশটিকে বাধ্য করবে। পশ্চিমা নীতিনির্ধারক ও কৌশলবিদরা দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই দাবি করে আসছেন।
কিন্তু ইউক্রেনে রুশ ট্যাংক প্রবেশের চার বছর পরেও দেশটির পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। এর মধ্যে রাশিয়ার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞাও।
তবুও রুশ অর্থনীতি ভালোই চলছে এবং যুদ্ধও এগিয়ে চলেছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়া এখনো চীনের কাছে এবং ভারতের মতো অন্যান্য বড় জ্বালানি ভোক্তা দেশের কাছে তাদের জ্বালানি পণ্য বিক্রি করতে পারছে।
অন্যদিকে মাত্র পনেরো দিনের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ইরান যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ অনুভব করতে শুরু করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ চলাচল করে।
একটি বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ইরান শুধু হরমুজ প্রণালীই বন্ধ করেনি, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর ফলে আরব দেশগুলো থেকে তেল উৎপাদন ও জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এর জেরে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে শুরু করে পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশকে প্রভাবিত করেছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট থেকে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর বিরুদ্ধে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে এবং দেশগুলোকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সমুদ্রে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। এটি আমেরিকার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নীতি পরিবর্তন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে, ইরান যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনকে ততটা লাভবান করেনি, যতটা এটি রাশিয়াকে করেছে। ওয়াশিংটন ডিসির নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণমূলক উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের সিনিয়র ডিরেক্টর এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ইউজিন চাউসোভস্কি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী দেশ হলো রাশিয়া। একদিকে যেমন তেল রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে, তেমনি অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞার চাপও কিছুটা শিথিল হয়েছে।
চাউসোভস্কি সতর্ক করে বলেন, ‘যদিও তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি তবুও রাশিয়ার অর্থনীতি এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধে সাহায্য করেছে। যা সম্ভবত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। মস্কোর এমন সুবিধাজনক অবস্থান শেষ পর্যন্ত চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময়কাল এবং ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।’
মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক পতন
কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, যদিও এক মাসের এই শিথিলতা রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি নয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করছে। তাই ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব মস্কোর অনুকূলে রয়েছে।
বুখারেস্ট-ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক একাতেরিনা মাতোই বলেন, ‘রাশিয়ার মতো একটি দেশ শুধুমাত্র পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য এক মাসের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ করে না।’
তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের লক্ষ্য তেলের দাম স্থিতিশীল করা। তবে ভূ-রাজনৈতিক বার্তাটি আরো তাৎপর্যপূর্ণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বোঝা বহন করতে পারে না।
মাতোই টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘আমেরিকান ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানি নেতৃত্বকে ধ্বংস করা সত্ত্বেও প্রণালীটি বন্ধ থাকায় একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার কাছ থেকে সাময়িকভাবে জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসলে সমস্যার গুরুত্ব স্বীকার করেছে এবং তার কিছু মিত্র দেশের চাপ কমানোর চেষ্টা করেছে।’
মাতোইয়ের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এটাও প্রমাণ করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ‘জ্বালানি সংকটে’ থাকা ইউরোপীয়দের চেয়ে ভারতের মতো তার এশীয় অংশীদারদের বেশি অগ্রাধিকার দেয়।
কিন্তু পশ্চিমা মিত্রদের থেকে ট্রাম্পের এই ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা ইউরোপীয়দের নজর এড়ায়নি, কারণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই পদক্ষেপ ইউক্রেনীয় এবং মহাদেশজুড়ে তাদের অংশীদার উভয়কেই হতাশ করেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই একটি ছাড়ই রাশিয়াকে যুদ্ধের জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার এনে দিতে পারে। এটি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনোভাবেই সহায়ক নয়।’ ম্যাখোঁও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি ব্রিটিশ ও জার্মান নেতারাও ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর থেকে চাপ কমানোর জন্য ইরান যুদ্ধ কোনো অজুহাত হতে পারে না।
রুশ শিক্ষাবিদ এবং পুতিনের সাবেক উপদেষ্টা সের্গেই মার্কভ টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘অনেক দেশই রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করাকে একটি বাজে কৌশল হিসেবে দেখবে এবং নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন তুলবে, যুক্তরাষ্ট্র যখন এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে তেমন পাত্তাই দিচ্ছে না, তখন আমরা কেন এগুলো মেনে চলব।’
গত সপ্তাহে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ (ডিওই) ঘোষণা করেছে, তারা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়বে। বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত বৈশ্বিক ফোরাম ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)-এর ৫০ বছরের ইতিহাসে এটিই ছিল মজুতকৃত তেলের সবচেয়ে বড় নির্গমন।
এই নজিরবিহীন নির্গমনের পরিমাণ আইইএ-এর মোট জরুরি তেল মজুদের এক-দশমাংশ। এটি আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক সমস্যার আরেকটি লক্ষণ।
রাশিয়া লাভবান হচ্ছে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও মস্কোকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের রাশিয়ার অর্থনীতিতে সীমিত প্রভাব পড়বে, তবে এর মনস্তাত্ত্বিক সুফল ক্রেমলিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাকে পশ্চিমারা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে করে রাখতে চেয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রুশ রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ওলেগ ইগনাটোভ টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘রাশিয়ার তেল কম্পানি এবং রাশিয়ার বাজেট অবশ্যই লাভবান হচ্ছে। রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সম্পদের একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে তার সুনাম পুনরুদ্ধারেরও চেষ্টা করছে।’
ইগনাটোভ আরো বলেন, ‘সবকিছু নির্ভর করছে প্রণালীটি কতদিন বন্ধ থাকবে এবং এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর কী ক্ষতি হবে তার ওপর। এখানে সময়ই মূল বিষয়। এটি যতো দীর্ঘ হবে, রাশিয়া তত বেশি লাভবান হবে।’
মার্কভের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার তেলের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়াবে এবং মস্কোকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়ন করতে সাহায্য করবে। মার্কভ বলেন, তেলের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা এবং ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তে উৎসাহিত হয়ে আরো আত্মবিশ্বাসী রাশিয়া কোনো ছাড় ছাড়াই তার তেল বিক্রি করবে। ফলে দেশটিকে আরো ধনী হবে।
এই রুশ বিশ্লেষক আরো যোগ করেন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপের কারণে চীন ও ভারতের মতো বড় জ্বালানি গ্রাহকরাও হয়তো অনুভব করবে যে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে পারছে না। মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষরের অর্থনৈতিক দিকে ঝুঁকছে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত আসলে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের আরেকটি উদাহরণ। বিশেষ করে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে কীভাবে সমর্থন করা হবে, এই প্রশ্নে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষক ইগনাটোভ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোর থেকে আলাদা। তাদের ধারণা, পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। তাই তাদের মতে, এখন যুদ্ধ শেষ করার জন্য নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই এগোনো বেশি কার্যকর হতে পারে।
ইগনাটোভ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার আচরণ পরিবর্তন করতে পারে। এটা ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বাস করে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এশীয় দেশগুলো চাইলে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল কেনার উপায় খুঁজে নেবে।’
মস্কোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আগে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দিয়ে একটি ছাড়পত্র দিয়েছিল। ইরান যুদ্ধের বিতর্কিত গতিপ্রকৃতির কথা উল্লেখ করে ইগনাটোভ বলেন, ‘ওয়াশিংটন বাজারকে আশ্বস্ত করাতে চায় এবং বিশ্বাস করে, তেলের দাম অল্প সময়ের জন্যই বেশি থাকবে।’ প্রসঙ্গত, রাশিয়াও আপাতত তাই মনে করে।
রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
ইরান যুদ্ধ ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। প্যাট্রিয়ট বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে দূরপাল্লার ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত। এগুলো কিয়েভকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইউরোপীয় দেশগুলোর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংঘাত বিষয়ে একজন শীর্ষস্থানীয় আমেরিকান শিক্ষাবিদ জন মিয়ারশেইমার বলেন, ‘আমরা পিএসি-৩ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পুড়িয়ে ফেলছি, এর জন্য ইউক্রেনীয়রা কাকুতি-মিনতি করছে।’ তিনি তেহরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আমেরিকান বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অতি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন।
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ফেলছে। দেশটি স্বল্প সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদন করতে পারবে না। এদিকে সমস্ত লক্ষণই ইঙ্গিত দিচ্ছে, তৃতীয় কোনো রাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না করলে উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হবে।
মার্কভ বলেন, ‘ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে তাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করার মতো সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের থাকবে না।’ তিনি বলেন, এর ফল, ইরান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়বে।’
মার্কভ আরো বলেন, যেহেতু ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তাই এই যুদ্ধ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদাও বাড়াবে।
তিনি আরো যোগ করেন, মস্কোর বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন তাদের এস-৪০০) সম্ভবত বিশ্বের সেরা।’ এই অর্থে, ইরানের যুদ্ধ রাশিয়ার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সকেও শক্তিশালী করবে বলে জানান এই বিশ্লেষক।
মার্কভের মতে, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ লক্ষ্যবস্তু করতে ইরানকে সাহায্য করার জন্য গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করে থাকতে পারে। সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর বিরুদ্ধে কিয়েভের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে পারে। তিনি আরো বলেন, এর ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের দর কষাকষির ক্ষমতাও সম্ভবত হ্রাস পাবে।
শাসন পরিবর্তন নয়
ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে যখন রুশ বাহিনী কিয়েভ দখল করতে ব্যর্থ হয় এবং খারকিভের মতো শহরগুলো থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে পিছু হটে, তখন অনেক পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক শুরুতেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পুতিনের অধীনে ক্রেমলিনের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
পশ্চিমা পূর্বাভাস সত্ত্বেও রাশিয়া তার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে এবং তারপর থেকে পূর্ব ইউক্রেনে অগ্রগতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ফলে, মস্কোতে কোনো শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য বলেই মনে হচ্ছে।
মার্কভ প্রশ্ন করেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা তেহরানে যদি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলাও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে না পারে, তাহলে পশ্চিমা জোট মস্কোতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা কীভাবে কল্পনা করতে পারে?
তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা বর্তমানে সফল হচ্ছে না। তাহলে রাশিয়ায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা কল্পনা করা আরো কঠিন হবে। কারণ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইউরেশিয়াজুড়ে দেশটিরও শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড




