সারাদেশ
কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফের ঘোষণা: অর্থমন্ত্রী
কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কৃষকদের দুর্দশা লাঘব এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম নগরের এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেয়েছে এবং সেই দায়িত্ব থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক কর্তব্য।
কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের কথা চিন্তা করে আমরা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মাফ করেছি। কারণ আমরা জানি, অনেক কৃষকের কাছে সেই ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাদের হতাশা দূর করতে এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। একটি পরিবারকে শক্তিশালী করা গেলে সমাজ শক্তিশালী হয়, আর সমাজ শক্তিশালী হলে দেশ এগিয়ে যায়। সে চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কোটি কোটি পরিবারকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
নারীদের অবদান প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই নারীরা নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে সামনে এগিয়ে আসুক। একজন নারী প্রতিদিন পরিবারের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন, পরিবারের সব কাজ শেষ করে পরিবারে সেবা দেন— সে অবদানকে কখনো অবহেলা করা যায় না। তারেক রহমান সবসময় বলেছেন, মানুষের মর্যাদা বাড়াতে হবে, নারীর সম্মান বাড়াতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই চিন্তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখানে কোনো দলীয় বিভাজন নেই। ধর্ম-বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাই এই সুবিধা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একটি পরিবারে ২৫০০ টাকা হয়তো কারও কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় সহায়তা। এই অর্থ দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন তার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কারণ এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আমরা ইতোমধ্যে টিসিবির কিছু কার্ড বিতরণ করেছি এবং সেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্টে পণ্য দেওয়া হয়েছে। একটি ফ্যামিলি কার্ডে যে ২৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে— অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় সম্পদ। এটি তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিএনপি কখনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় না। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই একটি উদাহরণ। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এগুলো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সব সময় তা বাস্তবায়ন হয় না। তবে তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দেন, সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এটাই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি, যেখানে কথা দেওয়া হলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপি কখনো মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেয় না। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই প্রমাণ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বিপিএম, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠানে। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় প্রধান অতিথি প্রতীকীভাবে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবে।
এমএন
আইন-আদালত
শরীয়তপুরের আশিনগরে কেমিক্যাল মিশিয়ে শিশু খাদ্য তৈরি: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার আশিনগর ইউনিয়নে কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করে শিশুদের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত ঘোষ। অভিযানে সার্বিক সমন্বয় করেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য্য।
অভিযান চলাকালে সহায়তায় ছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এইচ. এম. আকতার এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিনগর এলাকায় আইস ললি, চকলেটসহ শিশুদের জন্য তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদন করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব খাদ্য তৈরিতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এছাড়া উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের কাছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কোনো অনুমোদন নেই। এমনকি কোনো সরকারি নিবন্ধন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই এসব খাদ্যপণ্য স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, শিশুদের জন্য তৈরি খাবারে নিম্নমানের কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হলে তা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
বিশেষ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি তদারকি কামনা করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হোক।
সারাদেশ
জঙ্গল সলিমপুরে বসবে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প
সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে ভোর থেকে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে অভিযান শেষে সলিমপুরের প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান।
এর আগে ভোর ৬টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি’র সমন্বয়ে এই অভিযান শুরু হয়। যৌথ বাহিনীর ৪ হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
পাহাড়ি ও দুর্গম এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অবৈধ অস্ত্র মজুদ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আত্মগোপনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযান প্রসঙ্গে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এমএন
সারাদেশ
৪ হাজার সদস্য নিয়ে সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযান
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা ও অবৈধ সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে বিশাল পরিসরে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের প্রায় ৪ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে এই চিরুনি অভিযান শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল।
প্রশাসনিকভাবে সীতাকুণ্ড উপজেলার অংশ হলেও জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশপথ মূলত চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাস জমি দখল করে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
যৌথবাহিনী সকাল থেকেই এলাকাটির চারপাশ ঘিরে ফেলে এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে কঠোর তল্লাশিচৌকি বসিয়েছে। অতীতে একাধিকবার অভিযানে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলার শিকার হওয়ায় এবার ভিন্ন কৌশলে অগ্রসর হচ্ছে ৪ হাজার সদস্যের এই বিশাল বহর।
চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল বলেন, অভিযানে যৌথবাহিনীর চার হাজার সদস্য রয়েছেন। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এই অভিযানকে ত্বরান্বিত করেছে। গত ১৯ জানুয়ারি অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের বাহিনীর হামলায় র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। ওই ঘটনায় ৪ জন র্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হলেও পরে তাদের উদ্ধার করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এখানে ‘স্থানীয় সন্ত্রাসীদের’ তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।
গত বছরের ৪ অক্টোবর দুই পক্ষের (ইয়াসিন ও রোকন বাহিনী) গোলাগুলিতে একজন নিহত হন এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক। নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেবের জানাজায় অংশ নিয়ে র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান জঙ্গল সলিমপুরে সমন্বিত যৌথ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
২০২২ সালে এই খাস জমি দখলমুক্ত করে সেখানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ ও ইকো পার্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল সরকার। তবে স্থানীয় দখলদার ও সন্ত্রাসী বাহিনীর বাধার মুখে বারবার উচ্ছেদ অভিযান ব্যাহত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা ক্যাম্প ও চেকপোস্ট’ বসানো হলেও অপরাধীদের দমানো সম্ভব হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, অভিযানের বিস্তারিত ফলাফল এবং গ্রেপ্তার বা উদ্ধারের তথ্য পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যৌথবাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমএন
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
শিক্ষিকা রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে ইবি পরিবারের মানববন্ধন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব এবং গ্রিন ফোরাম।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব এবং গ্রিন ফোরাম এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য ড. এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ ড. জাহাঙ্গীর আলম, রেজিস্ট্রার ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম।
এছাড়াও কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন-এর নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
গ্রীন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দ্রুততম সময়ে রুনা হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় একটি অনিরাপদ স্থানে অবস্থিত। এজন্য সকল ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে ইউনিক আইডেনটিটির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যত থোক বা ডে লেবার হিসেবে কাজ করে প্রত্যেকের ডাটা সংগ্রহ করতে হবে যেন পরবর্তীতে তাদেরকে আমরা আয়ত্তে রাখতে পারি।
জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের কাছে একটাই অনুরোধ করব আপনি এই দুই খুনের বিচারের জন্য প্রশাসনের কাছে যতটুকু আগানো সম্ভব আপনি আগান প্রয়োজন বোধে আমরা যাব। যদি আপনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিচার না পান, রেসপন্স না পান, আমরা রাস্তায় নামবো। কিন্তু আপনি উদ্যোগ নেন, বসে থাকবেন না।
শিক্ষিকা রুনা হত্যার ঘটনায় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির আহবায়ক হিসেবে আমি দল, মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকান্ডের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণভাবে একটি তদন্ত কমিটি করেছি এবং এই বিভাগ যাতে সচল থাকে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। রুনার অকাল মৃত্যুতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে রুনা আমাদের হৃদয়ে সারাজীবন জাগরক থাকবে। যত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে কোন ধরনের কার্পণ্য করা হবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে, বিচার প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এমএন/এমএসএ




