ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ছুটির আগেই জবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ইউট্যাবের
ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের পদত্যাগ দাবি করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজে মনোযোগ না দিয়ে তিনি রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন এবং ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছেন।
রোববার (৮ মার্চ) ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঐতিহাসিক পুরান ঢাকার জগন্নাথ কলেজকে ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হলেও পরবর্তীতে নানা রাজনৈতিক কারণে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইউট্যাব দাবি করছে, বর্তমান উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ আন্দোলনের ফল বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে, যা ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ, উপাচার্য নিজ ক্ষমতা ধরে রাখতে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থির করে তুলছেন।
এ অবস্থায় ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বর্তমান উপাচার্যের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তাকে দ্রুত সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাকে সর্বাত্মক অসহযোগিতা করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এমএন
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি ঘোষণা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। ইনকিলাব, ইনসাফ, সততা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আদর্শকে ধারণ করে এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের স্বাক্ষরিত এই কমিটিতে মোট ৪৭ জন সদস্য রয়েছেন।
এতে আহ্বায়ক হিসেবে মো. ফজলে রাব্বী সরকার ও সদস্যসচিব সাবিরা মারিয়াম মুশফির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক পদে নাজমুল ইসলাম ও মিলন হোসাইন, যুগ্ম সদস্য সচিব নূরে জান্নাত ফাতিমা ও নাফিস ইসতিয়াক আহাম্মেদ তালুকদার, দপ্তর সম্পাদক ইসফানুল ইসলাম, শিল্প ও সাহিত্য সম্পাদক মুজতবা জহির জিসান, মিডিয়া সম্পাদক আবু বকর তালহা, পরিবেশ ও পর্যটন সম্পাদক জায়েদ আল বাশার, স্কিল ও ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক হাছানুর রহমান শান্ত এবং ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স হিসেবে মোহাম্মদ ফাতিন ইয়ামিন চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া ৩৫ সদস্য হলেন— আবদুল্লাহ ফাহাদ, মো. মাহাবুবুল আলম, মুহাম্মাদ যায়েদ আব্দুল্লাহ, মোহাম্মদ কাইফ, মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ খান, ইন্তেসাম সাদিয়া, মো. মিফতা উল হুদা, গালিব আল দ্বীন, মো. জাহিদ হাসান ফকির, মুনতাসির বিল্লাহ, শাহাদা নুর তামিমা, আব্দুল্লাহ আল মাসুম, নাফিস ইসতিয়াক আহাম্মেদ তালুকদার, মারিয়া ফারজানা ইতি, মোয়াম্মার তাজওয়ার ইবনে বদর অরিস, মুজাহিদা আফরিন মজুমদার, সাদিয়া আফরিন, মরিয়ম খাতুন, আজমাঈন আদিব, সাদিয়া জাহান সাইফা, আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, মুহাম্মদ জোবায়ের ইসলাম, সুহাইল মাহদীন, সাইফুল আলম শান্ত, আবদুল্লাহ হাসান আরাফাত, মো. রেজাউল ইসলাম ফুয়াদ, সিয়াম হোসেন রাজীব, আবির হুসাইন, নাজিয়া সিদ্দিকা, নাকীব হাসান, শাহরিয়ার রহমান, আবদুর রহমান বর্ণ, তাসনিয়া বিনতে তালেব, সুমাইয়া শিমু ও মো. মুতাসীম বিল্লাহ তাহমীদ।
এমএন
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
শিক্ষিকা রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে ইবি পরিবারের মানববন্ধন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব এবং গ্রিন ফোরাম।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব এবং গ্রিন ফোরাম এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য ড. এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ ড. জাহাঙ্গীর আলম, রেজিস্ট্রার ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম।
এছাড়াও কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন-এর নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
গ্রীন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দ্রুততম সময়ে রুনা হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় একটি অনিরাপদ স্থানে অবস্থিত। এজন্য সকল ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে ইউনিক আইডেনটিটির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যত থোক বা ডে লেবার হিসেবে কাজ করে প্রত্যেকের ডাটা সংগ্রহ করতে হবে যেন পরবর্তীতে তাদেরকে আমরা আয়ত্তে রাখতে পারি।
জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের কাছে একটাই অনুরোধ করব আপনি এই দুই খুনের বিচারের জন্য প্রশাসনের কাছে যতটুকু আগানো সম্ভব আপনি আগান প্রয়োজন বোধে আমরা যাব। যদি আপনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিচার না পান, রেসপন্স না পান, আমরা রাস্তায় নামবো। কিন্তু আপনি উদ্যোগ নেন, বসে থাকবেন না।
শিক্ষিকা রুনা হত্যার ঘটনায় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির আহবায়ক হিসেবে আমি দল, মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকান্ডের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণভাবে একটি তদন্ত কমিটি করেছি এবং এই বিভাগ যাতে সচল থাকে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। রুনার অকাল মৃত্যুতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে রুনা আমাদের হৃদয়ে সারাজীবন জাগরক থাকবে। যত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে কোন ধরনের কার্পণ্য করা হবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে, বিচার প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এমএন/এমএসএ
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন আরইউ অ্যাকাউন্টিং ক্লাব লিমিটেড (আরইউএসিএল)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ইফতার মাহফিলের আয়োজনও করা হয়।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর-১৪ এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময় এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই সংগঠন গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, গবেষণামনস্কতা ও সৃজনশীলতা বিকাশ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের লক্ষ্যেও সংগঠনটি কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সংগঠনটির সভাপতি মো. জাহেদুল ইসলাম (জাহিদ) এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুম মিয়া।
এমএন
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
শিক্ষিকা রুনা হত্যার বিচার দাবিতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম, ৫ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাদের লিখিত দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ-এর কাছে স্মারকলিপি আকারে পেশ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রুনা ম্যামের হত্যাকারী এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িত সকল ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। এছাড়া ম্যামের পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩০ দিনের মধ্যে ৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পরিবারের সদস্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্য সকল সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও শিক্ষার্থীরা বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিভাগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সকল আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে তার প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়। রুনা ম্যামের অবদান ও স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম তাঁর নামে নামকরণের দাবি তোলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিক ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। অন্যথায় তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান।
এসময় স্মারকলিপি গ্রহন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি গ্রহন করেছি। সবগুলো দাবি যৌক্তিক তবে রুনা ম্যামের পরিবারকে ৪ কোটি ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে আমরা ইউজিসির সাথে আলোচনা করবো। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ পঁচিশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার এখতিয়ার আছে প্রশাসনের।
এমএন
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
আমাদের মা’কে ফিরিয়ে দাও-নিহত শিক্ষিকার সন্তানের আর্তনাদে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এজহারভুক্ত আসামি ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মরহুমের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি-র সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, মেয়ে তাইয়েবা (১১), তাবাসসুম (৯), ছেলে সাজিদ আবরার (৩) এবং ছয় মাস বয়সী ছোট মেয়ে আমেনাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল— “খুনি ফজলুর ফাঁসি চাই”, “রক্তখেকো শ্যামসুন্দর এর ফাঁসি চাই”, “রক্তখেকো বিশ্বজিৎ এর ফাঁসি চাই”, “রুনা ম্যাম এর খুনিদের ফাঁসি চাই”, “এক দফা এক দাবি খুনীদের ফাঁসি চাই”, “কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করো”, “মা হারা আমরা চার ভাইবোন”, “আমাদের মা’কে ফিরিয়ে দাও” ইত্যাদি।
মানববন্ধনে নিহত শিক্ষিকার কন্যা তাবাসসুম বলেন, “আমার ছোট ভাইটা সারাক্ষণ কাঁদে, মা মা বলে ডাকে। আমার মাকে ফিরিয়ে দিন। যারা আমার মাকে মেরেছে তাদের সবার ফাঁসি দিন।”
বড় মেয়ে তাইয়েবা বলেন, আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই। আমরা তো এতিম হয়ে গেলাম। আমার মা কে যত কষ্ট দিয়ে মেরেছে তাদেরও যেন তত কষ্ট দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়। আমার মায়ের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল করার দাবি জানাই।
তিনি আরও বলেন, তাদের মা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর ছোট ভাই-বোনরা রাতেও ঘুমাতে পারে না। আমার মা আমাদের কত আদর করে ঘুমায়ছেন, এখন আমরা মাকে কোথায় পাবো বলেন!
নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ বলেন, “শ্যাম, হাবিব তারা একটি দিনও তোমাদের ম্যামের সাথে ভালো আচরণ করেছে সেটার সাক্ষ্য দিতে পারবে তারা? যদি করে থাকে আমি—পুরো কেস তুলে নেব, চ্যালেঞ্জ করতেছি একটা দিন যদি তারা ভালো আচরণ করে থাকে। প্রতিদিন ক্যাম্পাস থেকে আমাকে ফোন করে বলত, প্রত্যেকে আমার সাথে এতো খারাপ আচরণ করে আমি না শিক্ষক না চেয়ারম্যান। আমার (নিহত শিক্ষিকা) সাথে পিয়ন থেকে শুরু করে বিশ্বজিৎ, শ্যামের মতো লোক অকথ্য ব্যবহার করেছে। তারা চ্যালেঞ্জ করে আমি এই বিভাগেই থাকব দেখি কার কত ক্ষমতা আছে। তোমরা বলো, তোমরা যদি সত্যি, ন্যায়ের পক্ষে না বলতে পার আমার বিচার দরকার নেই। আমার সন্তানদের দুধ থেকে বঞ্চিত করে রাতের পর রাত প্রশ্ন করেছে খাতা দেখেছে। বলতে পার তোমার ম্যাম চেয়ারম্যানশিপ পাওয়ার আগে একটা ব্যাচ বের হয়েছে কি না। তোমার ম্যাম রাতের পর রাত পরিশ্রম করে তাদের পার করেছে, এই শ্যাম তো তাদেরও পরিক্ষা নিতে চেয়েছিল না ।
তিনি আরো বলেন, (খুনি) ফজলু যে ফোন ব্যবহার করছে সেটা আমি কিনে দিয়েছি,তোমার ম্যাম যোগদান করার পরে প্রতিটা ঈদ প্রতিটা বছর তাকে টাকা দিত বার বার বলতো ফজলু কত পরিশ্রম করে আমি যখন পারি যেভাবে পারি যত টুকু পারি ফজলু কে দেওয়ার চেষ্টা করি; তুমি কিছু মনে করো না, ফজলু বেঁচে আছে সে বলতে পারবে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান প্রত্যেকে সমাজকল্যাণ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এতোমধ্যে খুনি ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামী করে উক্ত তিনজনের নামে ইবি থানায় একটি মামলা করেছেন নিহতের পরিবার।
এমএন/এমএসএ




