জাতীয়
ডিএমপির এডিসি পদমর্যাদার ৭ কর্মকর্তাকে বদলি
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাতজন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলি করা হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বদলিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিএমপি সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগের এডিসি ফারজানা ইয়াছমিনকে মেট্রো ইন্টেলিজেন্স বিভাগে এবং ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের তানজিলা শারমিনকে সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারের স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স মহসীন আল মুরাদকে খিলগাঁও জোনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং কমিশনারের স্টাফ অফিসার জুয়েল ইমরানকে বাড্ডা জোনে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাঠ পর্যায় থেকে সদর দফতরে আনা হয়েছে দুই কর্মকর্তাকে। খিলগাঁও জোনের মো. ফয়েজ ইকবালকে ডিএমপি কমিশনারের স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স এবং ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড স্পোর্টস বিভাগের মো. মাসুদ রানাকে ডিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাড্ডা জোনের মো. সারোয়ার হোসাইনকে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড স্পোর্টস বিভাগে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই রদবদল করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয়
নতুন বছরে চালু হবে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল: বিমান প্রতিমন্ত্রী
চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর অথবা নতুন বছরের শুরুতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী বাজেট ঘোষণার পর কক্সবাজার এয়ারপোর্ট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ২-৩ মাসের মধ্যে কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হবে।’
এ ছাড়া বিমানকে লাভজনক করতে প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটন খাতকে বিদেশিদের কাছে আকর্ষণীয় করতে সরকার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও পার্বত্য অঞ্চলকে বিদেশিদের জন্য উপযোগী করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’
এমএন
জাতীয়
দুই জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ
সরকার ফরিদপুর ও শেরপুর জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) মাজহারুল ইসলামকে ফরিদপুর এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা ইয়াসমিনকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয় প্রজ্ঞাপনে।
এর আগে একই দিন আরেক প্রজ্ঞাপনে ঢাকার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে নিয়োগ দেয়া হয়।
ফরিদা খানম চট্টগ্রামেরও ডিসি ছিলেন। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পরে তাকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।
অন্যদিকে ঢাকার ডিসি মো. রেজাউল করিমকে ঢাকার জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ: ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটের জমা দেওয়া ৩৬টি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ইসি সূত্র জানায়, বিএনপি জোটের ৩৬ প্রার্থীর সব মনোনয়নপত্র বৈধ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র জোট মনোনীত প্রার্থী সুলতানা জেসমিনের মনোনয়নপত্রও প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া তিন প্রার্থী, মাহবুবা রহমান, শারমিন আক্তার ও মেহেরুন নেছার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এদিকে এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।
তারা হলেন-সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা এবং রেজেকা সুলতানা।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী-মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২১ এপ্রিল এবং ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাই। ২৬ এপ্রিল বাতিল হওয়া মনোনয়নের বিষয়ে আপিল করা শুরু হয়ে এর নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।
২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এমএন
জাতীয়
মাসে ৭০ হাজার যাতায়াত ভাতাসহ এমপিদের বেতন-ভাতায় যেসব সুবিধা
সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ি সুবিধা নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা ওঠার সামনে এসেছে এমপিদের বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি। ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী একজন এমপি মাসিক বেতন ছাড়াও নানা ধরনের ভাতা ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেয়ে থাকেন।
আইন অনুযায়ী, একজন এমপির মাসিক মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এছাড়া মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা, সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্বাচনী এলাকা ভাতা, ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা, ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাতা, ১ হাজার ৫০০ টাকা ধোলাই ভাতা এবং ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। এসব ভাতা আয়করমুক্ত।
নির্বাচনী এলাকায় অফিস রক্ষণাবেক্ষণ খরচ হিসেবে ১৫ হাজার টাকা করে পান সংসদ সদস্যরা। থালাবাসন, টয়লেট্রিজ ও অন্যান্য পণ্য কেনার জন্য পান ৬ হাজার টাকা করে।
এ নিয়ে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এনসিপির এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ উপজেলায় বসার জন্য অফিস পেয়ে যাতায়াতের সুবিধার জন্য গাড়ির সুবিধা চান।
হাসনাত আব্দুল্লাহর ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকারের অনুমতিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো বিলাসিতা বা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার ব্যাপারে শুরুতেই অনুশাসন দিয়েছেন। এমনকি বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের জন্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোসহ সরকারি কর্মকর্তাদের লোন সুবিধাও সীমিত করা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যের দাবির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো বিহিত ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর বিরোধীদলের নেতা ড. শফিকুর রহমান আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবিকে কগনিজেন্সে নেয়ার জন্য ট্রেজারি বেঞ্চকে ধন্যবাদ জানান। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নেতিবাচক বা কঠোর অবস্থানের বিষয়ে তিনি কিছুটা রসিকতা করে বলেন, ছোটদের আবদারে সবসময় ‘না’ বলতে নেই। হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো তরুণ সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুত নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে এটি বিবেচনার আশ্বাস দিলে তিনি আরও খুশি হতেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দলগুলো ৬টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষতি নারী আসন পেয়ে থাকে। ওই হিসাবে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপির জোট ৩৬ আসন, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাবে। প্রশ্ন হচ্ছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও (এমপি) কী অন্য সংসদ সদস্যদের মতো বেতন-ভাতা ও একই সুযোগ-সুবিধা পান?
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো-
সংরক্ষিত আসনের ৫০ নারী সংসদ সদস্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ বা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। এটি বিভিন্ন সময়ে সংশোধন করা হয়েছে, সর্বশেষ ২০১৬ সালে এটি সংশোধন করা হয়।
আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য নিয়মিত ৫৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন ছাড়াও ন্যাম ভবনে একটি আলিশান ফ্ল্যাট, পরিবহন, অফিস, চিকিৎসা, ভ্রমণ, বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি, বিমা ও নানা ধরনের ভাতা পেয়ে থাকেন। সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মতোই নারী সংসদ সদস্যরা সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য একই। সংরক্ষিত এবং সরাসরি ভোটে নির্বাচিতদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যোগ্যতা এবং সুযোগ সুবিধা একই। এমপি তো এমপিই। একজন নির্বাচিত এমপি বেতন-ভাতাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরাও একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
নির্বাচন কমিশন জানায়, একজন নারী সংসদ সদস্য প্রতি মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি তিনি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনী এলাকা ভাতা পান। এছাড়া মাসিক ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হয়। নারী সংসদ সদস্যরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান। এই ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকে। নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়। এসব সুবিধা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও পান।
এছাড়া, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংসদ সদস্যরা মাসে আরও কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা। বিবিধ ব্যয় ভাতা পান ৬ হাজার টাকা, যা বাসনপত্র, বিছানাপত্র, টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য নির্ধারিত।
সংসদ সদস্যদের জন্য বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা। একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে সরকার নির্ধারিত শর্তে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই। পাঁচ বছর পর একই শর্তে আবার নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগও রয়েছে। তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানি করবেন না বলে জানিয়েছেন।
ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা সংসদের অধিবেশন, কমিটির সভা ও দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা পান। রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে যাতায়াতে কিলোমিটারপ্রতি ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধাও দেওয়া হয়।
সংসদ অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত অন্য কোনো কাজে দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পেয়ে থাকেন। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিত থাকলে সদস্যরা দৈনিক ভাতাও পান। উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারিত হারে প্রদান করা হয়। চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এই বিমা কার্যকর হয়।
এছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করার বিধান রয়েছে। টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। এ খাতে মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্যরা যেসব ভাতা পান, সেগুলো আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর দিতে হয় না। এছাড়া বিগত সময়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় প্লটও পেয়েছেন এমপিরা।
এমএন
জাতীয়
অব্যবহৃত ২০০ ভবনে হবে হাসপাতাল-মাতৃসদন, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
শহরের অব্যবহৃত ২০০টি বহুতল ভবন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে দ্রুত হাসপাতাল ও মাতৃসদন ক্লিনিকে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব ভবন জনস্বাস্থ্যের উপযোগী করে তোলা হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরবান এলাকায় পড়ে থাকা সরকারি ২০০টি বহুতল ভবন বর্তমানে কোনো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এসব ভবন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী মাস দুয়েকের মধ্যে মাতৃসদন ক্লিনিকসহ স্বাস্থ্যসেবায় এই ভবনগুলো ব্যবহারের উপযোগী করা হবে।”
এ সময় পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানিতে অবহেলার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার দ্রুত ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহ করেছে এবং প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। কিট সংকটের দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেন সরকারপ্রধান।
কৃষি খাতে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগাতে বড় উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে বিশেষ কার্ড দেয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা একসঙ্গে ১০টি সেবা পাবেন। ফলে কৃষি প্রণোদনা নিতে আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে যেতে হবে না, কার্ডেই সব সুবিধা মিলবে।
কৃষিখাতে সরকারের অন্যান্য পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনায় আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।
কৃষি যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ন্যানো সারের ব্যবহার ও আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জনপ্রতিনিধিদের বিলাসিতা পরিহারের এক বিরল দৃষ্টান্ত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স-ফ্রি (শুল্কমুক্ত) গাড়ি এবং সরকারি প্লট সুবিধা নেব না।’ এ বিষয়ে আগের দিনের বিভ্রান্তি দূর করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে সরকারি কার্যপরিচালনার জন্য প্রয়োজনে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে, তবে তা ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে নয়। বর্তমানে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়, সেটিই বহাল থাকবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বড় সুখবর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ২ লাখ শিশুকে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা দেয়া হবে। উন্নত ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টাকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিফ হুইপের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও পুরো সংসদ।
এমএন



