রাজনীতি
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রাজসাক্ষী রিজওয়ানা হাসান: গোলাম পরওয়ার
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে জামায়াতকে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা (মেজরিটি) পেতে দেওয়া হয়নি। এটাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষী উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াত ইসলাম। মেইনস্ট্রিম বলতে পার্লামেন্টে মেজরিটি পেতে দেন নাই। এটাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। আপনার কথাই তো প্রমাণ করে আপনারা আমাদের মেজরিটি পেতে দেননি। আপনার সঙ্গে আর কে কে ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করুন।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৃশ্যত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। দুঃখ ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে তখন- যখন ভোটগণনা, ফলাফলের প্রক্রিয়া পুরোটাই ছিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভরা। দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে। ১১টা পর্যন্ত জামায়াতের বিপুল বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল, সেখানে রাত দশটার দিকে নির্বাচন সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরই অল্প অল্প ভোটে জামাতের পরাজয়ের খবর আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে আমির ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্নে বলেছেন, অতীতে দেখা যায় যারা কারচুপি করে, তারা বলে আমি কলা খাইনি, ঠিক তেমনি তাদের মুখ থেকেই বেরিয়ে যাবে। রাজসাক্ষী পেয়ে গেছি আমরা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসনকে বলছি, আপনি ব্যাখা দেয়ার চেষ্টা করেছেন মিডিয়ায়। বলেছেন- উগ্রবাদী এবং তাদের মেইনস্ট্রিমে আসতে দেই নাই। বিরোধী দলে কোনো উগ্রবাদী নেই। সংসদে কোনো উগ্রবাদী নেই। ইসলাম কোনো চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেয় না। আপনারা নারীবাদী হয়ে যা বলেন তার চেয়ে হাজারগুণ মর্যাদা নারীকে দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আনন্দবাজারের সঙ্গে আবার বললেন- মবের স্বীকার হলে জামায়াত-শিবিরকেই দায়ী থাকতে হবে, এগুলো উসকানি। জামায়াত ইসলামী মবের রাজনীতি করে না। আপনার কথাই তো প্রমাণ আপনারা আমাদের মেজরিটি পেতে দেননি। আপনার সঙ্গে আর কে কে ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করুন।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘লন্ডন কন্সপেরেসির হোতা ড. খলিলুর রহমান। নির্দলীয় সরকারের প্রথা থাকে যে ইমিডিয়েট সরকারে তারা যোগদান করে না, কেউ করেনি। বিএনপিই আপনার বিরুদ্ধে কথা বলেছে। শুধু ইচ্ছা করেই এই সরকারে যোগ দেন নাই। ডিপ স্টেটে যারা রয়েছেন তারাই আপনাকে পিক করেছে। আপনার সার্ভিসে তারা এত খুশি যে আগের সব দোষ ভুলে গেছে। আপনাদের সহযোগীদের নাম প্রকাশ করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই সময় আপনি এমন কিছু করেছেন যার জন্য মন্ত্রিত্বের পুরস্কার পেয়েছেন। উভয় পক্ষের প্রেম এমনি এমনি হয়নাই। গুড় খাইলে গুণ গাইতে হয়।’
বাম সেজে দেশকে অস্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যারা চক্রান্ত করেন তারাই মেইনস্ট্রিম কী জবাব দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ১৭০টিরও বেশি আসন আমরা পাব। কিন্তু পরিকল্পনা করে ১০০ এর নিচে নামানো হলো। ফলাফলপত্রে টেম্পারিং করা হয়েছে, কাটাছেড়া করা হয়েছে। অনেক এজেন্টের কাছ থেকে ফল গণনার আগেই ফলাফলপত্রে সই নেয়া হয়েছে।’
সংঘাত সহিংসতা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চান না জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সাবেক উপদেষ্টার কথা প্রমাণ করে তিনি একটা মন্দ কাজে জড়িত ছিলেন। আমাদের সব কর্মসূচি প্রকাশ্যে হয়, সমাজের অনেক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনেক অপকর্ম করে তা ইসলামপন্থিদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। আমরা তার প্রতিবাদ জানাই।’
রিজওয়ানার উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘আমরা আপনার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে জুডিসিয়াল তদন্ত চেয়েছি। আপনি বলে ফেললেল মবের স্বীকার হলে জামায়াত- শিবিরকে দায়ী হতে হবে। এত উত্তেজিত হলে চলবে কীভাবে?
দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রগকাটার গুজব উড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার শুরু থেকেই গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে পারতো। সিটি করপোরেশনে দলীয় লোক বসানো, সংসদ অধিবেশনের আগের রদবদল কর্তৃত্ববাদী মনোভাবেরই প্রকাশ হয়।’
জুলাই সনদকে বিএনপি এড়িয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জনগণের ওপর জুলাই সনদকে ফায়ারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এমএন
রাজনীতি
এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মনিরা শারমিনের আইনজীবী নাজমুস সাকিব গণমাধ্যমে জানান, মনিরা শারমিনের আপিল করার সুযোগ আছে।
সংরক্ষিত আসনের মনোনয়নের বিষয়ে ইসিতে আপিল দায়েরের তারিখ ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। ১২ মে হবে ভোট।
বিরোধীদলীয় জোট মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন।
মনিরা শারমিন মনোনয়নপত্রে রিটার্ন দাখিলের নথিতে সরকারি পে-স্কেলে বেতন উত্তোলনের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু বিস্তারিত তথ্য—কবে, কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন তার তথ্য না থাকায় তার মনোনয়নপত্র স্থগিত রেখে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব নথি দাখিলের সময় দেওয়া হয়েছিল।
রাজনীতি
প্রবাসীদের পাসপোর্ট জটিলতা দ্রুত সমাধানের আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট নবায়নে বিভিন্ন দেশে ধীরগতি ও জটিলতা দূর করতে সরকারের প্রতি জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে ডা. শফিকুর রহমান এই আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট নবায়নে নানা দেশে ধীরগতি ও জটিলতার বিষয়ে অনেকেই প্রতিকার চেয়ে যোগাযোগ করেছেন। তিনি সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের এই জরুরি সমস্যার দিকে দ্রুত নজর দিয়ে আশু সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে, ইনশাআল্লাহ। আর প্রবাসীরা কষ্টে থাকলে দেশও ঝুঁকিতে পড়বে। প্রবাসী ভাই-বোনদের প্রতি দোয়া, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা রইল।’
ডা. শফিকুর রহমানের এই স্ট্যাটাসের নিচে মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, ‘পুরানো পাসপোর্ট দিয়ে যেনো নতুন পাসপোর্ট করা যাই এমন একটা ব্যবস্থা করলে পাসপোর্ট এর সমস্যা সমাধান হয়ে যেতো।’
অন্য আরেকজন লিখেছেন, ‘আপনার কথার সাথে একমত। প্রবাসীরা আসলেই দেশের রেমিট্যান্সযোদ্ধা। পাসপোর্ট নবায়ন নিয়ে হয়রানি হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন তারাই। ভিসা, আকামা, কাজ, চিকিৎসা, এমনকি দেশে আসা-যাওয়া সবকিছু আটকে যায় একটা পাসপোর্টের জন্য। অথচ তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সেই দেশের রিজার্ভ সচল থাকে। অনেক দেশে দূতাবাসে লোকবল কম, সার্ভার ডাউন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে মাসের পর মাস লাগে। মালয়েশিয়া, সৌদি, দুবাই, ইতালি থেকে প্রায়ই এই অভিযোগ আসে।
একটা জরুরি সেবা এভাবে ধীরগতি হলে পরিবারগুলোও দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। সরকারের উচিত ই-পাসপোর্ট সেবা আরও বিকেন্দ্রীকরণ করা, জনবল বাড়ানো, আর জরুরি কেসের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক চালু করা। ডিজিটাল সিস্টেম করেও যদি মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট পায়, তাহলে লাভ কী। প্রবাসী ভাই-বোনদের কষ্ট মানে দেশের অর্থনীতির চাকা স্লো হয়ে যাওয়া। তারা ভালো থাকলেই দেশ ভালো থাকবে, এটা ১০০% সত্যি। আপনার মতো করে সবাই আওয়াজ তুললে হয়তো নজর পড়বে। দোয়া রইল সকল প্রবাসীর জন্য, যেন দ্রুত এই জটিলতা কাটে।’
এমএন
রাজনীতি
জামায়াত আমিরের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ২টায় বিরোধীদলীয় নেতার সংসদীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক আগ্রহের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে জার্মান দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও প্রেস অফিসার শারলিনা নুজহাত কবির উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এমপি; ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম, এমপি; এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা দলের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে সংসদীয় গণতন্ত্র সুসংহত করা, জুলাই সনদ এবং গণভোট ইস্যুতে মতবিনিময় হয়। জার্মানি বাংলাদেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।
বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদ ও গণরায়ের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে টেকসই পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ফিরে না আসে।
এছাড়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনীতি
নারী আসনে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, তালিকায় যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৮ প্রার্থীকে মনোনীত করেছে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে। এছাড়াও এনসিপিসহ অন্যান্য দল থেকে ৫ জনকে তালিকায় রাখা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মনোনয়ন তালিকায় যারা আছেন-
১. কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা,
২. সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম
৩. আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন নাহার মুন্নি
৪. ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও মহিলা বিভাগের সদস্য মারদিয়া মমতাজ
৫. মহিলা বিভাগের সদস্য নাজমুন নাহার নীলু,
৬. সিলেটের নেত্রী মাহফুজা সিদ্দিকা
৭. বগুড়ার নেত্রী ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ
৮. খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি সামসুন নাহার
৯. এনসিপির নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আহ্বায়ক মনিরা শারমিন
১০. নারীশক্তির সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু
১১. জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান
১২. বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিম
১৩. জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম
রাজনীতি
আ.লীগের সবচেয়ে বড় দুই অপরাধ কী, জানালেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
‘আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু নেতা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। যে টাকা দেয়, তাকে পদ-পদবি দেন। এতে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে গেল। একজন মন্ত্রী হিসেবে কিংবা পরে এমপি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগও সীমিত হয়ে গেল।’—এমন অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
সম্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বাংলা ভাষার টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেন আব্দুল মোমেন। এ সময় তিনি তৎকালীন সরকারের শেষ সময়ের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে এসব কথা বলেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল আপনার চোখে কী, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ সরকারের ভুলটা হলো, কিছু নেতা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। যে টাকা দেয়, তাকে পদ-পদবি দেন। আর জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে গেল। আমার সরকার সরকারি কর্মচারীর ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হলো। ওরা যা বলে তা-ই করে। একজন মন্ত্রী হিসেবে কিংবা পরবর্তীতে এমপি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগও আমাদের সীমিত হয়ে গেল।’
কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারি অফিসাররা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেন, একটা না একটা বাহানা দিয়ে তিনারা সহজে (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেন না। আর আমরা যারা রাজনীতিবিদ, প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে কোনো জায়গায় বড় বক্তৃতা দেন, আমরা দূরে চেয়ারে বসে থাকি, আর উনি সারমন (উপদেশমূলক বাণী) দেন, আমরা এক পাশে থেকে শুনি। তারপর যখন উনি বক্তৃতা শেষ করেন, তখন আমাদের রাজনীতিবিদরা ওনার সঙ্গে কথা বলার জন্য সামনে অগ্রসর হলে সেই এসএসএফের লোক ২৫ ফুট দূরে, দূর দূর করে সরায়ে দেয়। ফলে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে কিছু বলা যে, আমরা কিছু ফিল করি, এই চাঁদাবাজি, এই করাপশন, এগুলো পাবলিক কী মনে করতেছে, সেটা বলার সুযোগ আমাদের কমে গেল।’



