আন্তর্জাতিক
কে এই মোজতবা খামেনি, যার কণ্ঠস্বর শোনেননি অনেক ইরানিও!
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু তেহরানের শাসনব্যবস্থায় এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। এই কঠিন সময়ে দেশ পরিচালনার হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। আর এই দৌড়ে সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছে তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনির নাম।
ইরান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি— ৪৭ বছরের পুরনো এই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হতে যাচ্ছেন কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত মোজতবা।
উল্লেখ্য, গত শনিবার তেহরানে খামেনির বাসভবনে চালানো ভয়াবহ হামলায় মোজতবার মা, স্ত্রী এবং এক বোন প্রাণ হারান। তবে সেই সময় ঘটনাক্রমে সেখানে উপস্থিত না থাকায় মোজতবা অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। দেশজুড়ে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে মোজতবা খামেনির এই টিকে থাকা এবং তার সম্ভাব্য ক্ষমতায় আরোহণকে যুদ্ধের ময়দানে ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশলের এক ‘নতুন মোড়’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ব্যক্তিগত জীবন ও বর্তমান অবস্থা
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি কখনও সরাসরি নির্বাচনে লড়েননি কিংবা জনমতের মুখোমুখি হননি। অথচ গত কয়েক দশক ধরে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘নিউক্লিয়াস’ বা ক্ষমতার কেন্দ্রে এক অতি-প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শাখা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।
দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত শনিবার নিহত হওয়ার পর, তার শূন্যস্থানে মোজতবার নাম আসা কেবল পারিবারিক উত্তরাধিকার নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তিনি ক্ষমতায় আসা মানেই হলো— ইরানের প্রশাসনে কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হওয়া এবং অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমাদের সঙ্গে যে কোনো আপস বা আলোচনার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, মোজতবা খামেনি বরাবরই নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখতে পছন্দ করেন। তিনি জনসমক্ষে কোনো বক্তৃতা বা ধর্মীয় ভাষণ দেন না। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তার এই নিরবতা এতটাই রহস্যময় যে, অনেক ইরানি আজও তার কণ্ঠস্বর শোনেননি।
বিতর্ক ও রাজবংশতন্ত্রের শঙ্কা
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল রাজতন্ত্র উৎখাত করা। এখন যদি খামেনির স্থলাভিষিক্ত তার ছেলে হন, তবে তা এক নতুন ‘ধর্মীয় রাজবংশ’ তৈরির বিতর্ক উসকে দেবে— যা পাহলভি রাজবংশের সেই পুরনো স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দেয়।
বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা
মোজতবার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ হলো— বিক্ষোভ দমনে তার কঠোর ভূমিকা। সংস্কারপন্থীরা তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’ ব্যবহার করে শান্তিকামী বিক্ষোভকারীদের (২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্ট) ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন।
মাত্র দুই মাস আগে ইরানে যে নজিরবিহীন বিক্ষোভ হয়েছে, যাতে জাতিসংঘের মতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, সেই রক্তক্ষয়ী অভিযানেও তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল বলে মনে করা হয়।
যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য
মোজতবা ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে আইআরজিসি-র ‘হাবিব ব্যাটালিয়ন’-এ সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। তার তৎকালীন অনেক সহযোদ্ধা বর্তমানে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ পদে রয়েছেন। এছাড়া পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ছদ্মনামে তিনি একটি বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার লেনদেন হয়। গত বছর দেউলিয়া হওয়া ‘ব্যাংক আয়ান্দেহ’-এর সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে ব্লুমবার্গ।
ধর্মীয় পদমর্যাদা
ইরানের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে ‘আয়াতুল্লাহ’ পদমর্যাদার হতে হয়। কিন্তু মোজতবা বর্তমানে একজন মধ্যম সারির আলেম বা ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’। তবে ১৯৮৯ সালে তার বাবা যখন নেতা হন, তিনিও আয়াতুল্লাহ ছিলেন না; তার জন্য আইন সংশোধন করা হয়েছিল। মোজতবার ক্ষেত্রেও একই পথ অনুসরণ করা হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি
দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে পরবর্তী নেতার ঘোষণা কখন আসবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করছে। তারা হলেন— গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আলি রেজা আরাফি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মহসেনি-এজেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, ওই তিন সদস্যসহ ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করবে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় রাষ্ট্রীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পাশাপাশি এই শক্তিশালী পর্ষদের কার্যালয়েও ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করা হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা।
এমএন
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালীতে আটকা ২০ হাজার নাবিক, জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে বিভিন্ন প্রমোদতরীর আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। যা পারস্য উপসাগরের বন্দরগুলোকে উন্মুক্ত সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সাধারণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই পথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, তারা শুধু চীনা জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে। গত বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমনটা দাবি করা হয়।
ইরানের সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, এখন তাদের প্রণালীর ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং যেকোনো জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের এই লেকচারার আল-জাজিরাকে বলেন, ‘যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা তেলের অর্ধেকও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলের দাম একটা সময়ে প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে উঠে যেতে পারে। মার্কিন নৌবাহিনী এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করা ট্যাংকারগুলোকে আর পাহারা দিতে না পারায় এমন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
হির্স বলেন, ‘তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারে আমরা এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে দেখছি। (হামলার) প্রথম দিনেই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’
ডিজেলের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে উল্লেখ করে হির্স বলেন, ‘গ্যাসনির্ভর দেশগুলো এখন পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্ডারেও প্রভাব ফেলছে।’
হির্স সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে এই পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়বে। এমনটা ঘটলে অভ্যন্তরীণভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে, বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।’
এমএন
আন্তর্জাতিক
সৌদি আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ইরানের হামলা
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরায় দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সৌদি আরামকোর বৃহত্তম পরিশোধনাগার ওই স্থাপনায় রয়েছে। বুধবার সকালের দিকে সেখানে আবারও ড্রোন হামলা হয়েছে বলে দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
হামলার বিষয়ে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের দেশীয় চাহিদা পূরণ করা সৌদি আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরায় একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি সৌদি আরামকো ওই পরিশোধনাগারটি পরিচালনা করে। সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বুধবারের এই হামলা একটি ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছে। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত সোমবারও সৌদি আরামকোর রাস তানুরার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া আরও দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
পরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। সেই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ প্ল্যান্টটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় আরামকো। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আবারও সেখানে হামলা চালিয়েছে ইরান।
• ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সদরদপ্তরে হিজবুল্লাহর হামলা
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী একটি সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মনুষ্যবিহীন ড্রোনসহ যুদ্ধের অস্ত্র, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পণ্য তৈরি করে ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জামপ্রস্তুতকারক কোম্পানি আইএআইর সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ।
ইরানপন্থী লেবাননের সশস্ত্র এই গোষ্ঠী বলেছে, লেবাননের কয়েক ডজন শহর ও জনপদে ইসরায়েলি অপরাধমূলক আগ্রাসনের জবাবে বুধবার রাত ২টার দিকে ড্রোন দিয়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনের কেন্দ্রে অবস্থিত ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সদরদপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে।
সূত্র: এএফপি।
আন্তর্জাতিক
শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি জাহাজে সাবমেরিন হামলা
শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি ইরানি জাহাজে সাবমেরিন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০১ জন নিখোঁজ এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বুধবার (৪ মার্চ) সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি প্রতিবেদনে।
এর আগে, বুধবার নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমার ঠিক বাইরে ডুবতে থাকা ইরানি ফ্রিগেট ‘আইরিস ডেনা’ থেকে ৩০ জন নাবিককে উদ্ধার করার কথা জানান শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম এ খবর দেয়। সে সময় জাহাজটির সমস্যার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাবমেরিন হামলার শিকার জাহাজ আর ডুবতে থাকা ‘আইরিস ডেনা’ একই জাহাজ কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হেরাথ পার্লামেন্টে জানান, আহত নাবিকদের দ্বীপটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ১৮০ জন ক্রু-সদস্যের ফ্রিগেটটি এদিন ভোরের দিকে বিপৎসংকেত পাঠায়।
আরও পড়ুন: বাহরাইনে ইরানের হামলায় মার্কিন বিমান ঘাঁটি ধ্বংস
হেরাথ বলেন, উদ্ধার অভিযানে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও একটি বিমান মোতায়েন করা হয়। তবে ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ডোবার কারণ জানাননি তিনি।
পার্লামেন্টে এক বিরোধী আইনপ্রণেতা জানতে চান, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার অংশ হিসেবে জাহাজটিতে বোমা হামলা হয়েছিল কি না। তবে এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকার তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুদ্ধিকা সম্পাথ বলেন, তাদের অভিযান শ্রীলঙ্কার সামুদ্রিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘ভারত মহাসাগরে আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অঞ্চলের মধ্যে হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার আওতায় আমরা বিপৎসংকেতে সাড়া দিয়েছি।’
এমএন
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্প কি মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করছেন?
যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তবে চলমান সামরিক হামলার কারণে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কার্যত যুদ্ধ?
সংবিধান কী বলে?
মার্কিন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১, ধারা ৮ অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার একমাত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের। অন্যদিকে অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
হ্যামলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড্যাভিড স্ক্যালজ বলেন, এই কাঠামোর কারণে আধুনিক প্রেসিডেন্টরা অনেক সময় সামরিক পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক বা জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই অভিযান চালান।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। পরবর্তী ভিয়েতনাম ও ইরাকের মতো সংঘাতগুলোতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে।
১৯৭৩ সালে কংগ্রেস ওয়ার পাওয়ার রেজুলিউশন পাস করে, যা প্রেসিডেন্টের একক সামরিক পদক্ষেপের সময়সীমা ৬০ দিনে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করে। এই আইনের অধীনে, সামরিক অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে হামলার বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, ইরান থেকে আসা হুমকি সহনীয় সীমা অতিক্রম করেছে, যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান দাবি করেছিল যে দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি ছিল।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ওয়ার পাওয়ার্স রেজুলিউশন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
আক্রমণ নাকি যুদ্ধ?
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পল কুইরক বলেন, আক্রমণ ও যুদ্ধ-এর পার্থক্য অনেক সময় নির্ভর করে এর সময়কাল ও তীব্রতার ওপর।
তার মতে, যদি অভিযান স্বল্পমেয়াদি হয়, তাহলে সেটিকে আক্রমণ বলা হতে পারে। কিন্তু যদি এটি সপ্তাহ বা মাস ধরে চলে, তাহলে বাস্তবে তা যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তবে চলমান হামলার বিস্তৃতি ও স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করবে—এটি কেবল সামরিক অভিযান, নাকি বাস্তব অর্থে একটি যুদ্ধ।
সূত্র: আল-জাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইরানে এক হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত চার দিনে ইরানে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক। নিহতদের মধ্যে ১৮১ জন শিশু, যাদের বয়স ১০ বছরের কম।
এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৫ হাজার ৪০২ জন। এই আহতদের মধ্যেও ১০০ জন শিশু আছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি এনজিও হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হারানা)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৮ তারিখ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত চার দিনে ইরানজুড়ে শত শত রাউন্ড বোমা ফেলেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। ইরানের সামরিক ঘাঁটি, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে এসব বোমা।
ইরানে নিহত এবং আহত সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য আসছে উল্লেখ করে হারানা বলেছে, সেসব তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে।
সূত্র : বিবিসি




