খেলাধুলা
বিসিবির যেসব শর্ত মেনে নিল আইসিসি
নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের ছিটকে যাওয়া নিয়ে যে বিতর্ক ও নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটাল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উত্থাপিত সব শর্ত মেনে নেয়ার পাশাপাশি সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এই ঘটনায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেয়া হবে না।
নির্ধারিত ভেন্যুতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে এবং ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় বিসিবি। তবে আইসিসি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টের বাইরে রেখে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না বাংলাদেশ যা বিশ্ব ক্রিকেটে বড় আলোচনার জন্ম দেয়।
বাংলাদেশের প্রতি এই আচরণকে শুরু থেকেই ‘অবিচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরব ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান ঘোষণা দেয়, তারা ভারতের বিপক্ষে নিজেদের নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না। এতে করে আইসিসির সামনে তৈরি হয় বড় ধরনের আর্থিক শঙ্কা। ধারণা করা হচ্ছিল, বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে আইসিসির ক্ষতির অঙ্ক ছাড়িয়ে যেতে পারে ৬ হাজার কোটি টাকা।
এই সম্ভাব্য লোকসানের বিষয়টি মাথায় রেখেই আইসিসি পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় এবং পরে বিসিবি ও পিসিবির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসে। আলোচনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একাধিক শর্ত উত্থাপন করে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করা যাবে না এবং ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দিতে হবে।
দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত আইসিসি সব শর্ত মেনে নেয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটি জানায়, আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির মধ্যে একটি উন্মুক্ত, গঠনমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আইসিসির বিবৃতিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অনুপস্থিতিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে পূর্ণ সদস্য হিসেবে বিসিবির অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের রয়েছে ক্রিকেটের গর্বের ইতিহাস এবং বিশ্বব্যাপী খেলাটির বিকাশে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রায় ২০ কোটির বেশি আবেগী ক্রিকেটভক্ত নিয়ে বাংলাদেশ যে ক্রিকেটের অন্যতম প্রাণবন্ত বাজার সে কথাও স্বীকার করে নিয়েছে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আইসিসি আরও আশ্বাস দেয়, এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করতে পারার কারণে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে তারা অব্যাহত সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি বিসিবিকে চাইলে ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতে যাওয়ার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা আসে ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাবে।
এমএন
খেলাধুলা
মুস্তাফিজের কাছ থেকে শিখতে চান রউফ
দাপুটে জয়ে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একাদশ আসর শুরু করেছে লাহোর কালান্দার্স। দলের ৬৯ রানের বড় জয়ে অবদান রেখেছেন বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানও। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ১৯ রান খরচায় ১ উইকেট শিকার করেছেন ফিজ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুস্তাফিজকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন হারিস রউফ। সেই সঙ্গে দলের বোলিং ইউনিট নিয়েও কথা বলেছেন।
মুস্তাফিজের কাছ থেকে শিখতে চান জানিয়ে হারিস রউফ বলেন, ‘মুস্তাফিজ বিশ্বের নানা প্রান্তে টি-টোয়েন্টি লিগ খেলে থাকে। বাংলাদেশের হয়ে অনেক ভালো পারফরম্যান্সও করেছে। আমাদের বোলিং লাইনআপকে শক্তিশালী বানিয়েছে মুস্তাফিজ। আমার চেষ্টা থাকবে তার কাছ থেকে কিছু শিখে নেওয়ার। উনি অনেক অভিজ্ঞ বোলার। চেষ্টা করব বোলিংয়ের নানা কৌশল উনার কাছ থেকে শিখে নেওয়ার এবং মাঠে সেসব কাজে লাগানোর।’
দলের বোলিং ইউনিট নিয়ে রউফ বলেন, ‘আমাদের বোলিং লাইনআপটা এমন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও আমি এরকম বোলিং লাইনআপ খুব একটা দেখিনি। টি-টোয়েন্টির সেরা বোলাররা আমাদের দলে আছে। পেস স্পিন দুই জায়গাতেই। বেঞ্চেও আমাদের ভালো বোলার রয়েছে। কন্ডিশন বুঝে কম্বিনেশন সাজানো হবে। আজকে উসামা মীর বেঞ্চে ছিল, চার পেসার খেলানো হয়েছে। উসামা টি-টোয়েন্টিতে ভালো বোলার। লাহোর সেরা বোলিংটাই খেলানোর চেষ্টা করবে।’
প্রসঙ্গত, পিএসএলের একাদশ আসরের উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নেমেছিল মুস্তাফিজ-ইমনের দল লাহোর কালান্দার্স। যদিও পারভেজ হোসেন ইমন তার অভিষেক রাঙাতে পারেননি। ১৩ বলে আউট হন ১৪ রান করে। বিপরীতে মুস্তাফিজুর রহমান বল হাতে চেনা ছন্দে ছিলেন। লাহোরের পরের ম্যাচ আগামী ২৯ মার্চ, প্রতিপক্ষ করাচি কিংস।
খেলাধুলা
ভিয়েতনামকে হারিয়ে এশিয়ান আর্চারিতে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়
একদিন আগেই ভিয়েতনামের কাছে বড় ব্যবধানে হার মানে বাংলাদেশ ফুটবল দল। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এশিয়ান আর্চারি টুর্নামেন্টে সেই ভিয়েতনামকেই কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত বিভাগের ফাইনালে হারিয়ে স্বর্ণপদক জয়ের নজির গড়েছে বাংলাদেশ। গত বছর এই টুর্নামেন্টে রিকার্ভ পুরুষ একক ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছিলেন বাংলাদেশের আর্চার আব্দুর রহমান আলিফ।
বাংলাদেশ এবার অনেক প্রত্যাশা নিয়ে গেলেও একক, মিশ্র কোনো ইভেন্টেই সেমিফাইনালে খেলতে পারেনি। একমাত্র কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টে গত বুধবার ফাইনালে উঠেছিল তারা। আজ অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশের তিন কম্পাউন্ড আর্চার হিমু বাছাড়, রাকিব নেওয়াজ ও ঐশ্বর্য ভালো পারফর্ম করেছেন।
বাংলাদেশি আর্চারদের স্কোর ২৩১ পয়েন্ট, বিপরীতে ভিয়েতনামের আরচ্যাররা করেন ২২৫। ৬ পয়েন্ট বেশি থাকায় বাংলাদেশ ফাইনালে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
খেলাধুলা
স্বাধীনতা দিবসে মাঠে নামছেন আশরাফুল-নাফিসরা
প্রতি বছরের ন্যায় এবারো স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ টি-টোয়েন্টি প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ‘ইন্ডিপেনডেন্স ডে এক্সিবিশন ক্রিকেট ম্যাচ ২০২৬’ এ মুখোমুখি হবে লাল দল ও সবুজ দল।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। সাবেক ক্রিকেটারদের এই ম্যাচকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুই দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি।
এবারের খেলায় অংশ নিচ্ছেন না বেশ কয়েকজন সাবেক তারকা ক্রিকেটার। এরমধ্যে হাবিবুল বাশার সুমন, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খান অন্যতম।
বিসিবি সবুজ দল
শাহরিয়ার নাফিস, জাভেদ ওমর বেলিম, হান্নান সরকার, নাদিফ চৌধুরী, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স, তুষার ইমরান, শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ, মোহাম্মদ সেলিম, তালহা জুবায়ের, আনোয়ার হোসেন মনির, আব্দুর রাজ্জাক, হাসিবুল হোসেন শান্ত, জামাল উদ্দিন বাবু ও হাসানুজ্জামান ঝরু।
বিসিবি লাল দল
জাহাঙ্গীর আলম, মেহরাব হোসেন অপি, মোহাম্মদ আশরাফুল, নাসির উদ্দিন ফারুক, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ এহসানুল হক, খালেদ মাহমুদ পাইলট, আনোয়ার হোসেন (উইকেটকিপার), তারেক আজিজ খান, মাহবুবুল আলম রবিন, ডলার মাহমুদ, ইলিয়াস সানি, মুশফিকুর রহমান বাবু ও সাজ্জাদ আহমেদ শিপন।
খেলাধুলা
সাবেক ক্রিকেটার, ২৮ বছর বয়সী বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী এখন আরসিবি চেয়ারম্যান
‘মনে হচ্ছে যেন, কোনো ফাঁদে আটকা পড়েছি’—ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়ে এভাবেই ভাঙা গলায় আক্ষেপ করেছিলেন আর্যমান বিরলা। একের পর এক চোটে জর্জরিত শরীর, তার সঙ্গে মানসিক অবসাদের লড়াইয়ে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সবশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ‘সাময়িক ছুটি’ নেন তিনি। তবে সেই ছুটি আর শেষ হয়নি।
মাত্র ২২ বছর বয়সেই থেমে যায় তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার।
তবে সময়ের স্রোতে নতুন পরিচয়ে ফিরেছেন তিনি। এখন ২৮ বছর বয়সী আর্যমান আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কর্ণধার। নামের শেষাংশই বলে দেয় তার পারিবারিক পরিচয়।
ভারতের শিল্প জগতের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান আদিত্য বিরলা গ্রুপের উত্তরাধিকার তিনি। প্রায় ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি ভারতীয় রুপিতে যে চারটি প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনে নিয়েছে, সেখানে বড় অংশ এই গ্রুপের। নতুন মালিকানায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছেন আর্যমান।
১৮৫৭ সালে শিব নারায়ণ বিরলার হাত ধরে শুরু হওয়া এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য পরবর্তী সময় ঘনশ্যাম দাস বিরলা ও আদিত্য ভিক্রাম বিরলার হাত ধরে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হয়। ১৯৯৫ সালে আদিত্য ভিক্রাম বিরলার মৃত্যুর পর থেকে এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্যমানের বাবা কুমার মাঙ্গালাম বিরলা। বর্তমানে বিশ্বের ৪২টি দেশে বিস্তৃত এই গ্রুপের ব্যবসা।
এমন প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হয়েও ক্রিকেটেই নিজের পরিচয় গড়তে চেয়েছিলেন আর্যমান। মুম্বাইয়ে সুযোগ সীমিত দেখে ১৭ বছর বয়সে পাড়ি জমান মধ্যপ্রদেশে। পরিবার থেকে দূরে থেকে জুনিয়র সার্কিটে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ইংল্যান্ডে গিয়ে পল উইকসের তত্ত্বাবধানে অনুশীলনও করেন।
অবশেষে ২০১৬-১৭ মৌসুমে সিকে নাইডু ট্রফিতে (অনূর্ধ্ব-২৩) নজর কাড়েন তিনি। ৯ ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরিতে ৬০২ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন, গড় ৭৫.২৫। এর আগে অবশ্য তার পারিবারিক পরিচয়ই বেশি আলোচিত হতো। মধ্যপ্রদেশ দলে নিজেকে অনেক সময় ‘আউটসাইডার’ মনে করতেন তিনি। পারফরম্যান্স দিয়েই সম্মান আদায়ের লক্ষ্য ছিল তার।
২০১৭ সালে ওড়িশার বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের দিনই ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলেন। ব্যথা সহ্য করে প্রায় দুই ঘণ্টা ক্রিজে থেকে রাজাত পাতিদারর সঙ্গে ৭২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। এতে সতীর্থদের কাছেও সম্মান অর্জন করেন তিনি।
পরের মৌসুমে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বাংলার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে দীর্ঘ ২৭১ মিনিট ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচানো সেঞ্চুরি করেন। তখনই নিজের পরিচয়ে পরিচিতি পেতে শুরু করেন।
সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন-
“বিশ্বাস ও সম্মান অর্জনের সেরা উপায় হলো পারফরম্যান্স। যখন আমি রান করা শুরু করলাম, লোকে আমাকে অন্য চোখে দেখতে শুরু করল। মধ্যপ্রদেশে যখন প্রথম আসি, তখন নামের শেষ অংশের কারণেই বেশি পরিচিতি ছিল আমার। শুনতেই থাকতাম ‘বিরলার ছেলে, বিড়লার নাতি…।’ কিন্তু পারফরম্যান্স দিয়েই লোকের ধারণা বদলে দিয়েছি, তারা আমাকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করেছে।”
“এখনও পর্যন্ত এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। সম্প্রতি একজন এসে আমাকে বললেন, ‘আপনি এত সাদাসিদে, এত সহজ-সরল যে, জানতামই না আপনি বিরলা পরিবারের সন্তান।’ আমার কাছে এটা ছিল পরিবর্তনের একটা ইঙ্গিত।”
২০১৮ সালে আইপিএলের নিলামে ৩০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। পরের মৌসুমেও দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
এরপরই শুরু হয় দুঃসময়। একের পর এক চোটে ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। মানসিক অবসাদ গ্রাস করে ফেলে। অবশেষে ২২ বছর বয়সে ক্রিকেট থেকে ‘অনির্দিষ্টকালের ছুটি’ নেন।
“মনে হচ্ছে যেন, কোনো ফাঁদে আটকা পড়েছি। এতদিন পর্যন্ত সমস্ত কষ্টের মধ্যে দিয়ে নিজেকে ঠেলে নিয়ে গেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন। আমাদের প্রত্যেকেরই পথচলা নিজের মতো এবং এই সময়টা নিজেকে আরও ভালোভাবে বুঝতে, নতুন ও বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গির জন্য মনকে উন্মুক্ত করতে এবং নতুন উপলব্ধির মধ্যে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে কাজে লাগাতে চাই।”
সেই সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে তার ক্রিকেট জীবনের শেষ অধ্যায়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অন্ধ্র প্রদেশের বিপক্ষে রাঞ্জি ট্রফির ম্যাচই থেকে যায় তার শেষ উপস্থিতি।
সাত বছর পর আবার ক্রিকেটে ফিরছেন তিনি, তবে ভিন্ন ভূমিকায়। প্রায় ৭৮ কোটি মার্কিন ডলার বা ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি রুপির চুক্তিতে চার প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনে নেওয়ার পর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন আর্যমান।
আইপিএলে দল পেলেও কখনো খেলার সুযোগ না পাওয়া আর্যমানই এখন লিগটির অন্যতম তারকাখচিত দলটির মালিক। তাই দায়িত্ব বদলালেও ক্রিকেট নিয়ে এখন নতুন স্বপ্ন দেখতে আর বাধা নেই তার।
খেলাধুলা
জাইমা রহমানের ক্রীড়া প্রতিভা নিয়ে শৈশবের কোচের স্মৃতিচারণ
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক আলোচিত নাম ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র মেয়ে হিসেবে পরিচিতি থাকলেও সম্প্রতি তার শৈশবের এক অনন্য ক্রীড়া প্রতিভা আলোচনায় এসেছে।
জাইমা রহমানের ফুটবল প্রেম এবং যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ক্লাব চেলসির বয়সভিত্তিক দলে তার সুযোগ পাওয়ার প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এই ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এবার জাইমা রহমানের ক্রীড়া প্রতিভা নিয়ে তার শৈশবের কোচ মোহাম্মদ হাকিম স্মৃতি রোমন্থন করলেন। সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই স্মৃতিচারণ করেন।
স্ট্যাটাসে মোহাম্মদ হাকিম লেখেন, জাইমা রহমানকে নিয়ে আমার বিশ্বাস আজকের নয়-এটি অনেক দিনের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ফল। ঢাকা আইএসডিতে পড়ার সময় সে আমার তত্ত্বাবধানে ফুটবল, সাঁতার এবং দৌড়-সব ক্ষেত্রেই অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছিল।
সে ছিল স্বাভাবিক প্রতিভাবান, দুর্দান্ত অ্যাথলেটিক এবং নিজের সীমা অতিক্রম করার এক অদম্য মানসিকতাসম্পন্ন একজন ক্রীড়াবিদ জানিয়ে কোচ আরও লেখেন, আমি আজও স্পষ্টভাবে মনে করতে পারি-সে সাঁতারে ছিল সেরা, আর দৌড়ে ছেলেদেরও পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেত।
তার সেই আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং জয়ের মানসিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল মন্তব্য করে তিনি আরও লেখেন, তাই সে যদি বলে থাকে যে সে সত্যিই চেলসি উইমেন টিমে খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছিল-তাতে আমি একদমই অবাক হবো না। তার প্রতিভা ও সামর্থ্য সেই পর্যায়েরই।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান একজন সফল ব্যারিস্টার। তিনি বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন, সাইবার নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও নাগরিক ইস্যুগুলো নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।



