অর্থনীতি
পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর থাকছে ৫ শতাংশই
পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ নয় বরং ৫ শতাংশ কর কাটা হবে, এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর আগের মতোই কোনো উৎসে কর দিতে হবে না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।
এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ যদি পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করে, তবে সেই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে কর কাটার হার হবে ৫ শতাংশ।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে কর ছাড়
চিঠিতে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিষয়ে বিশেষভাবে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির কোনো নির্দিষ্ট আয়বর্ষে শুধুমাত্র পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ যদি পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করে, তবে তার অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে কোনো কর দিতে হবে না।
বিভ্রান্তি দূর করতে স্পষ্টীকরণ
সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের সুদের ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দেখা দিলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মূলত এই বিভ্রান্তি দূর করতেই মঙ্গলবার এনবিআর এই স্পষ্টীকরণ আদেশ জারি করল।
৫ লাখের বেশি বিনিয়োগে কর ১০ শতাংশ
আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১০৫-এর বরাত দিয়ে এনবিআর জানায়, কোনো ব্যক্তির যদি কোনো একটি আয়বর্ষে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম করে, তবে অর্জিত মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো— পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত হলেও বাকি তিনটি সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করতে পারে।
এমএন
অর্থনীতি
বৃহস্পতিবার কোন ব্যাংকের কোন শাখা খোলা থাকবে
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু শাখা স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে খোলা রাখা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের তৈরি পোশাকশিল্প-ঘন এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখাগুলো এদিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ব্যাংকের অফিস সময় থাকবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত, তবে গ্রাহক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। এর মধ্যে জোহরের নামাজের জন্য স্বল্প বিরতি থাকবে।
আগামীকাল যেসব ব্যাংকের যেসব শাখা খোলা থাকবে
প্রাইম ব্যাংক: আগ্রাবাদ শাখা (চট্টগ্রাম), নারায়ণগঞ্জ শাখা, গণকবাড়ী শাখা (সাভার) ও টঙ্গী শাখা (গাজীপুর) খোলা থাকবে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ: আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা (চট্টগ্রাম), ঢাকার হেড অফিস কমপ্লেক্স করপোরেট, লোকাল অফিস ও নারায়ণগঞ্জ শাখা খোলা থাকবে।
সিটি ব্যাংক: জয়পুরহাট, দিনাজপুর, গোবিন্দগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, সৈয়দপুর, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও রংপুর শাখা খোলা থাকবে।
ব্র্যাক ব্যাংক: মতিঝিল, টঙ্গী, গণকবাড়ী, জয়দেবপুর, সিডিএ অ্যাভিনিউ (চট্টগ্রাম), রোকেয়া সরণি, রংপুর, ধানমন্ডি-২৭, বড় বাজার (খুলনা), গুলশান নর্থ অ্যাভিনিউ, যশোর ও সিদ্ধিরগঞ্জ শাখা খোলা থাকবে।
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক: ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখা খোলা থাকবে।
প্রিমিয়ার ব্যাংক: কাওরান বাজার ও মতিঝিল শাখা (ঢাকা); এছাড়া বনানী, গুলশান ও উত্তরা শাখাও খোলা থাকবে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক: চন্দ্রা, গুলশান, জুবিলি রোড, নারায়ণগঞ্জ বিসিক, প্রিন্সিপাল শাখা, উত্তরা মডেল টাউন, কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোর ও লোহাগড়া শাখা।
এনসিসি ব্যাংক: ও আর নিজাম রোড (চট্টগ্রাম), মতিঝিল, বারিধারা, সাভার, জয়দেবপুর ও বাইপাইল শাখা খোলা থাকবে।
অর্থনীতি
অনিয়মের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালককে অপসারণ, পর্ষদে নতুন মুখ
দেশের শরীয়াহ ভিত্তিক বৃহত্তম ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’-এর পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নানা বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ব্যাংকটির পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (১৬ মার্চ) এক জরুরি আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। একইসঙ্গে শূন্য হওয়া ওই পদে অভিজ্ঞ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) এস এম আবদুল হামিদকে নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে ব্যাংক খাতের সুশাসন ফেরানোর লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ জমা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাঁর অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত যে তিনটি কারণে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে:
আবদুল জলিল একসময় ইসলামী ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। পর্ষদ সদস্য হওয়ার পর তিনি তাঁর পুরোনো সম্পর্কের জের ধরে ব্যাংকের একজন নির্দিষ্ট গ্রাহককে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা পাওয়ার পর শুরুতে তাঁকে নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার তাঁকে পরিচালক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
অভিযোগ রয়েছে, আবদুল জলিল ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের নাম করে অর্থ সংগ্রহ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক আদর্শ (জামায়াতপন্থী) লালন এবং সেই প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগও জোরালো ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই ব্যাংকারের বিরুদ্ধে নীতিগত বিচ্যুতি ও সতর্কবার্তা অমান্য করার বিষয়টিও আমলে নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের একক নিয়ন্ত্রণে। এই দীর্ঘ সাত বছরে ব্যাংকটি থেকে নামে-বোনামে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাংকটি বর্তমানে এক ভয়াবহ তারল্য ও প্রশাসনিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই লুটপাট বন্ধে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সে সময়ই আবদুল জলিলকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন পর্ষদে আসার পরও তিনি পুরোনো ধারার অনিয়মে জড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ হয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল সোমবার সকালেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আবদুল জলিল সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তবে বৈঠক শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিকেলে তাঁর অপসারণের চিঠি ইস্যু করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের কাছে এই অপসারণের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংকের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সুশাসন নিশ্চিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আবদুল জলিলের স্থলাভিষিক্ত হওয়া এস এম আবদুল হামিদ একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও পেশাদার হিসাববিদ। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ইতিমধ্যেই নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন।
নিজের আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে বর্তমানে যে ধরনের বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি আমার পেশাদার অভিজ্ঞতা দিয়ে ব্যাংকটিকে সঠিক পথে ফেরাতে কাজ করব।’
ব্যাংকিং খাত বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল একজন পরিচালক পরিবর্তন করলেই ইসলামী ব্যাংকের বিশাল সমস্যা মিটবে না। তবে যারা লুটপাটের পর নতুন করে অনিয়মের সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি কড়া বার্তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালে এসে ব্যাংক খাতে আর কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি বরদাস্ত করা হবে না। গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে হলে পর্ষদে আরও স্বচ্ছতা এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
অর্থনীতি
জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ৩ লাখ টন ডিজেলের মধ্যে দুবাইভিত্তিক পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন ১ লাখ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ অ্যান্ড এ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস বাকি ২ লাখ টন সরবরাহ করবে।
জানা গেছে, এপ্রিল মাসের সম্ভাব্য চাহিদা মেটাতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিএপিএম) ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে নিয়মিত সরবরাহকারীরা পণ্য সরবরাহে হিমশিম খেতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই সরকার এই বিশেষ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১২ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) এই জরুরি কেনাকাটার অনুমোদন প্রদান করে।
উল্লেখ্য, চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বর্তমানে অনেক শিপিং কোম্পানি তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এপ্রিল মাসের ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিবহন, কৃষি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে চলমান বোরো সেচ মৌসুমে ডিজেলের সামান্যতম ঘাটতিও জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমদানি করা ৩ লাখ টন ডিজেলের মধ্যে দুবাই ভিত্তিক পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন সরবরাহ করবে ১ লাখ টন এবং বাকি ২ লাখ টন সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এঅ্যান্ডএ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রথম চালানটি আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে ২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ টন ডিজেলের প্রয়োজন হয়, যার সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এই আগাম ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা।
তবে এই আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য কাঠামো নিয়ে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল থেকে সংগৃহীত ডিজেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজার দর বা ‘প্ল্যাটস’ অনুযায়ী নির্ধারিত হলেও, এঅ্যান্ডএ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস প্রতি ব্যারেলে মাত্র ৭৫ ডলারের একটি নির্দিষ্ট (ফিক্সড) মূল্য প্রস্তাব করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে ডিজেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১৪৩ থেকে ১৭২ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করলেও এই অস্বাভাবিক কম দামের প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, এঅ্যান্ডএ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কর্তৃক সরবরাহকৃত ডিজেলটি সম্ভবত রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল থেকে উৎপাদিত, যা চালানের আগে পশ্চিম এশিয়ার কোনো তৃতীয় দেশে পরিশোধিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে এই প্রক্রিয়াটি লজিস্টিক বা কারিগরি জটিলতা তৈরি করতে পারে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখছে জ্বালানি বিভাগ। সরকারের এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা।
অর্থনীতি
ছুটির দিনেও খোলা থাকবে যেসব ব্যাংকের শাখা
শবেকদর ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের সরকারি ছুটির মধ্যেও সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মূলত তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বুধবার (১৮ মার্চ) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা বন্ধ থাকবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু শিল্পাঞ্চলে সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা রাখা হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ১৮ ও ১৯ মার্চ খোলা থাকবে। এসব শাখায় সীমিতসংখ্যক জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এই দুইদিন ব্যাংকের অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।
এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার (পোর্ট ও কাস্টমস জোন) ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলো ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ছাড়া) ছুটির দিনেও সীমিত আকারে আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত কার্যক্রম চালাতে পারবে।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এমএন
অর্থনীতি
ঈদ বোনাস দিয়েছে ৯৭.৭৯ শতাংশ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ
ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২ হাজার ১২৭টি চালু পোশাক কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৮০টি কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ।
এতে বলা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু রয়েছে মোট ২ হাজার ১২৭টি কারখানা। যার মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৭৮৫টি ও চট্টগ্রামে ৩৪২টি।
ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ করেছে ২ হাজার ১০৪টি কারখানা, যা শতকরা ৯৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এরমধ্যে রয়েছে ঢাকার ১ হাজার ৭৬৭টি ও চট্টগ্রামের ৩৩৭টি কারখানা।
ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে মোট ২ হাজার ৮০টি কারখানা, যা শতকরা ৯৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এরমধ্যে রয়েছে ঢাকার ১ হাজার ৭৫৩ টি ও চট্টগ্রামের ৩২৭টি কারখানা।
এছাড়া মার্চ মাসের অগ্রিম বেতন পরিশোধ করবে মোট ৮৭০টি কারখানা, যা শতকরা ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ। এরমধ্যে রয়েছে ঢাকার ৮৪০টি ও চট্টগ্রামের ৩০টি কারখানা।




