সারাদেশ
দীর্ঘ এক মাস পর উৎপাদনে ফিরেছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দীর্ঘ এক মাসের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে পুনরায় চালু হয়েছে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে (৬৬০ মেগাওয়াট) পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী ব্যবস্থাপক (তদন্ত) শাহ মনি জিকো গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে শুক্রবার বিকেল থেকে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় চালু করা হয়েছে।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি থেকে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় মোট ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
এমএন
সারাদেশ
ফাঁকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঈদযাত্রায় স্বস্তি
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর দুই দিন বাকি। এতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এবার দেখা মিলেছে স্বস্তিদায়ক যাত্রার। দীর্ঘদিনের চিরচেনা যানজটের দুর্ভোগ পেছনে ফেলে অনেকটাই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা।
বুধবার (১৮ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল, চিটাগাং রোড, কাঁচপুর মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়লেও কোথাও দীর্ঘ যানজট বা স্থবিরতা নেই। সড়ক অনেকটাই ফাঁকা থাকায় যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। সরকার ঘোষিত টানা সাত দিনের ছুটির দ্বিতীয় দিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসঙ্গে চাপ না পড়ে ধাপে ধাপে মানুষ ঢাকা ছাড়ায় সড়কে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়নি। অন্যদিকে শিমরাইল মোড়ের বাস কাউন্টারগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
অন্যান্য বছরের মতো উপচে পড়া ভিড় নেই। ফলে অনেকটা অলস সময় পার করছেন টিকিট কাউন্টারের কর্মীরা। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে র্যাব, পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে এই রুটে ১২৪ জন পুলিশ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।
যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি নেই। আশা করছি, পুরো ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নই থাকবে।
সারাদেশ
বগুড়ায় ট্রেনের বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় আহত অর্ধশতাধিক
ঢাকা থেকে নীলফামারী যাওয়ার পথে বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস আন্ত নগর ট্রেনের ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামের বাগবাড়ী এলাকায় ট্রেনের ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে চলন্ত ট্রেনটি হঠাৎ বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়।মুহূর্তেই কয়েকটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের মধ্যে চরম ভীতির সৃষ্টি হয় এবং অনেকে আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ছাদেও বিপুলসংখ্যক যাত্রী অবস্থান করছিলেন, ফলে হতাহতের আশঙ্কা আরো বেড়ে গেছে। স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের টিম তাদের উদ্ধার করে আদমদীঘি ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেয়।
এ ঘটনায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
সারাদেশ
নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত; ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ বন্ধ
বগুড়ার সান্তাহারে ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রেনের ছাদে থাকা লোকজন পড়ে গিয়ে হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে বেলা ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে বিরতি করে। সান্তাহার স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছুসময় পরেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। ট্রেনের ছাদে অনেক মানুষ থাকায় ছাদ থেকে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন। বগিগুলো উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে।
সারাদেশ
ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়, জায়গা না পেয়ে ছাদে উঠছেন যাত্রীরা
আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখী মানুষ।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাসের তুলনায় ট্রেনে যাত্রার বাড়তি আগ্রহের কারণে স্টেশনে সৃষ্টি হয়েছে তিল ধারণের ঠাঁই নেই অবস্থা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই পরিবার-পরিজন এবং ব্যাগ-পত্র নিয়ে স্টেশনে ভিড় জমান যাত্রীরা। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রী প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রামগামী ট্রেনগুলোতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
এদিন সকালে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস, সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্দুর প্রভাতী এবং নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ট্রেনসহ মোট ছয়টি ট্রেন নির্ধারিত সময়েই স্টেশন ছেড়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়ায় যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও আসন না পাওয়া যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
রাজশাহীগামী যাত্রী আহমেদ আরিফ জানান, বাসের বাড়তি ভাড়া ও মহাসড়কের চাপের কারণে তিনি ট্রেন বেছে নিয়েছেন। তবে পরিবারের সদস্যদের ভেতরে বসিয়ে দিলেও নিজে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশন জুড়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র্যাব, পুলিশ, আনসার ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রবেশপথ ও প্ল্যাটফর্মে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ না করার এবং নির্ধারিত টিকিট নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে যাতায়াতের আহ্বান জানিয়েছেন।
সারাদেশ
সৌদিতে মিসাইল হামলায় আরেক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু
সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে ইরানের মিসাইল হামলায় আহত ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সৌদি আরব সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা মামুনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মামুন গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে তার বাবা শহীদ সওদাগর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে মামুন গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে তিনি আল খারিজ শহরের ডা. সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। নিহত মামুনের মামাতো ভাই শাওন মড়ল জানান, আমার ভাই মিসাইল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল মামুনের মৃত্যুতে তার পরিবার ও নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে ৮ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তে একই বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া ও টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেনের মৃত্যু ঘটে। মামুন মিয়াসহ আরও কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি আহত হন। হামলায় মামুনের শরীরের ৭২ শতাংশ পুড়ে যায়।




