অর্থনীতি
নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে স্মার্টফোন কিনতে ঋণ দিচ্ছে পামপে
দেশের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে স্মার্টফোন কিনতে ঋণ দিচ্ছে নাইজেরিয়া ভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান পামপে লিমিটেড। টেকনো, ইনফিনিক্স ও আইটেল ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বিক্রিতে ঋণ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহককে সরাসরি টাকা দেবে না। টাকার পরিবর্তে ফোন কিনে দেবে পামপে লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ জন্য অনুমোদন পেয়েছে পামপে লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটিকে এক বছরে ১০ হাজার মুঠোফোন কিনতে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। পামপে নাইজেরিয়ার সবচেয়ে বড় ডিজিটাল ব্যাংক। এ ছাড়া একাধিক দেশে তাদের ডিজিটাল ঋণের ব্যবসা রয়েছে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে পামপে লিমিটেড। শুরুতে তারা মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই সেবা দেওয়া শুরু করে। এরপর তারা এই সেবা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে। সারা দেশে ইতিমধ্যে সাড়ে তিন হাজার মোবাইল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ঠিক করেছে। যেখান থেকে গ্রাহকদের ফোন কিনতে হবে।
এই ঋণ পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি একজন গ্যারান্টারের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। এরপর তিন ব্র্যান্ডের মধ্য থেকে পছন্দমতো ফোন নিতে পারবেন আগ্রহী নাগরিকেরা। এ ছাড়া অ্যাপের মাধ্যমেও এই ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে।
স্মার্টফোন নিতে শুরুতে গ্রাহককে মোট মূল্যের ১৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। এরপর বাকি অর্থ পরিশোধে ৯ মাস পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। পামপের ঠিক করে দেওয়া ওই সব স্মার্টফোন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান থেকে ফোন কিনলেই এই সুবিধা মিলবে। এই সময়ের ওপর প্রতি মাসে ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এসব ফোনের কিস্তি শোধ না হলে প্রথমে ফোনে খুদে বার্তা যাবে। এরপর ফোনে বিশেষ বার্তা যাবে। এরপরও শোধ না করলে ফোনটি ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে।
অনুমোদনপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক সেবা বিস্তারের অন্যতম প্রধান উপাদান স্মার্টফোন। এর ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পামপে লিমিটেডের প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেওয়া হলো।
এতে বলা হয়েছে, এই সেবার প্রধান লক্ষ্য সীমিত আয়ের জনসাধারণ, যাঁদের স্মার্টফোন নেই তাঁদের স্বল্পমূল্যে স্মার্টফোন সরবরাহ করা। তবে যেকোনো ব্যক্তি এ ডিভাইসগুলো কিনতে পারবেন। ডিভাইসগুলো এমএফএস অ্যাপ, ব্যাংক অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ (যেমন টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি) নিরবচ্ছিন্নভাবে চলার যোগ্য হতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ সুবিধা অনুসারে ক্যাম্পেইন এলাকা নির্ধারণ করতে পারবে। পাইলট কার্যক্রমের মেয়াদ হবে এক বছর। প্রাথমিকভাবে প্রথম তিন মাসে ১০ হাজার ডিভাইস বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট পাইলট ব্যবস্থার সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে।
পামপে লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুন জেং ইথান এক লিখিত বার্তায় বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এই যুগান্তকারী পাইলট প্রোগ্রামটি ডিজিটাল বিভাজন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য স্মার্টফোনকে আরও সহজলভ্য করে ডিজিটাল অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেবে। আমরা আশাবাদী, এই উদ্যোগ মানুষের যোগাযোগ, লেনদেন ও শেখার ধরনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।’
পামপে নাইজেরিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল ব্যাংক। যেখানে কোটি কোটি মানুষ লেনদেন, সঞ্চয়, ঋণ ও রিওয়ার্ডের জন্য পামপে ব্যবহার করছেন। তানজানিয়ায় স্মার্টফোন ডিভাইসের ফিন্যান্সিং (কিস্তি সুবিধা) শুরু করেছে, যা নতুন ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার এবং আরও বিস্তৃত আর্থিক সেবা গ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে। বাংলাদেশেও একই রকম সেবা শুরু করেছে পামপে। আরও একাধিক দেশে সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পামপে বলছে, আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে এক নতুন প্রজন্মের উত্থান ঘটছে, যারা প্রযুক্তি-সচেতন, উচ্চাভিলাষী ও মুঠোফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত। তাদের কাছে স্মার্টফোন কেবল একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একই সঙ্গে একটি স্কুল, একটি বাজার এবং পকেটে থাকা একটি ব্যাংক শাখা।
বর্তমানে পামপে চার কোটি ব্যবহারকারী ও ১০ লাখ মার্চেন্টকে সেবা প্রদান করছে; যার মাধ্যমে প্রতিদিন দেড় কোটির বেশি লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। ব্যাংকিং ও স্মার্টফোনে অর্থায়নে তাদের লক্ষ্য একটাই, সেটা হলো আর্থিক সেবার পরিধি বাড়ানো, নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা এবং বড় পরিসরে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।
এমকে
অর্থনীতি
ভ্যাট হয়রানির অভিযোগে বারভিডার ক্ষোভ, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার দাবি
ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বিদ্যমান ভ্যাট আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অযাচিত চাপ ও হয়রানির মুখে পড়ছেন।
শনিবার (২ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ব্যবসায়ীরা সৎভাবে ব্যবসা করতে চান, কিন্তু বাস্তবে তারা নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। তার অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে ভ্যাট কর্মকর্তারা আইন না মেনে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট সমস্যার কারণে অনেক ব্যবসায়ী হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং কেউ কেউ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান খান চট্টগ্রামের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সেখানে অস্বাভাবিক হারে ভ্যাট অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। তার দাবি, প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে অডিটের আওতায় আনা হয়েছে, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
তিনি আরও বলেন, বহু বছর আগের হিসাব চাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় নথিপত্র সংরক্ষণে সীমাবদ্ধতা থাকায় এখন সেই সময়ের তথ্য সরবরাহ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
বারভিডার সভাপতি আবদুল হক আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর শুল্ক কমানো, গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে কর কমানোর দাবি জানান।
তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়বে, জ্বালানি ব্যয় কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পাবে। পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা অত্যন্ত জরুরি। প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অর্থনীতি
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ ও রুপা
সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (২ মে) সবশেষ সমন্বয়কৃত দামেই দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতু বিক্রি হচ্ছে।
সবশেষ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এর আগে, সবশেষ ৩০ এপ্রিল সকালেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকেই।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬০ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২৭ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ১৭ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
অর্থনীতি
স্বর্ণের দামে আবারও পতন, ভরিতে কমল ২,১৫৮ টাকা
দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। টানা সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় নতুন করে মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। নতুন এই দর সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দামে মোট ৩৬ বার সমন্বয় হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ বার দাম বেড়েছে, আর ১৭ বার কমানো হয়েছে। আগের বছর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ১৩ বার, যেখানে ১০ বার বৃদ্ধি এবং ৩ বার হ্রাস পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই স্বর্ণ ও রুপার দামে এই ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
অর্থনীতি
সুদহার কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ঋণের উচ্চ সুদের হার কমিয়ে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বর্তমানে দুই অঙ্কের সুদে ঋণ নিয়ে টেক্সটাইলসহ শ্রমনির্ভর শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সুদের হার কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি অ্যাক্সিবিশন (বিটিকেজি এক্সপো-২০২৬) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাত দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমানে শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি চাপে আছে জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদের হারের কারণে। তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং চলমান ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সহনীয় সুদের হার নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, দেশে শিল্প ও গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, এলএনজি আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা দ্রুত সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যবসা সহজীকরণের বিষয়ে তিনি জানান, এখন একটি নতুন ব্যবসা শুরু করতে ২৫ থেকে ২৬ ধরনের লাইসেন্স ও অনুমোদন লাগে, যা পেতে অনেক সময় নষ্ট হয়। ভবিষ্যতে আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই অস্থায়ী অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কাজ শুরু করতে পারেন।
এছাড়া বন্ড লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। বর্তমানে তিন বছর পরপর নবায়ন করতে হলেও ভবিষ্যতে এটি আরও সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। স্বাগত বক্তব্য দেন কনভেনর ফজলে শামীম এহসান। আরও বক্তব্য রাখেন ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার লিন এবং সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাশেদ।
টেক্সটাইল, নিটওয়্যার ও গার্মেন্টস শিল্পের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী চলবে আগামী ২ মে পর্যন্ত।
এমএন
অর্থনীতি
দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণ ও রুপার দাম
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) থেকে ক্রেতারা সংশোধিত দামে স্বর্ণ ও রুপা কিনতে পারবেন।
বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের এক ভরির দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। এতে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমার কারণে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটি মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দর কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও এসেছে বড় ধরনের সংশোধন। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরিতে ২৩৩ টাকা কমে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।
এর আগে ২৩ এপ্রিলও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানো হয়েছিল। দুই দফা মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম মোট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমেছে। অন্যদিকে রুপার ক্ষেত্রে দুই দফায় মোট ৫৮৪ টাকা মূল্য হ্রাস পেয়েছে।
বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন, কারিগরি মান এবং দোকানভেদে মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
বর্তমান বাজারে নতুন দর কার্যকর হওয়ায় ক্রেতারা আজ থেকেই স্বর্ণ ও রুপা কিনবেন সংশোধিত এই দামে, যা সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যপতনের ধারাবাহিকতাকেই নির্দেশ করছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম মোট ৫৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৫ বার কমেছে। অন্যদিকে, এ বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ৩৬ বার।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার এবং রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে দাম পরিবর্তনের অস্থিরতা আরও বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাজুস এই নিয়মিত সমন্বয় করছে বলে জানানো হয়েছে।




