আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনের দুই শহরে ভয়াবহ হামলা রাশিয়ার
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে চালানো এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, রাশিয়ার হামলায় সেখানে দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের অবস্থা গুরুতর এবং তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দিনিপ্রো নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত কিয়েভের অন্তত দুটি জেলায় হামলা হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানী লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র— দুটিই ব্যবহার করা হয়েছে। কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, অন্তত তিনটি জেলায় ড্রোন হামলা হয়েছে, যার ফলে কমপক্ষে দুটি স্থানে আগুন ধরে যায়।
এদিকে, রাশিয়া সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খারকিভেও একাধিক ড্রোন হামলা হয়েছে। শহরের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানান, এসব হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ড্রোন হামলায় বাস্তুচ্যুতদের একটি ডরমিটরি, একটি হাসপাতাল এবং একটি মাতৃসদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দিনের আলোচনার প্রথম দিন শেষ হওয়ার পরপরই এই হামলাগুলো চালানো হলো।
এমএন
আন্তর্জাতিক
চীন কানাডাকে এক বছরের মধ্যে গিলে খাবে: ট্রাম্প
বন্ধুত্বের আড়ালে চীন কানাডাকে এক বছরের মধ্যে গিলে খাবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র গোল্ডেন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করতে চাইলেও কানাডা এর বিরোধীতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল আইডিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে গোল্ডেন স্থাপনের বিরুদ্ধে কানাডা। যদিও এ গোল্ডেন ডোম কানাডাকেও সুরক্ষা দেবে। আমাদের এক্ষেত্রে সহায়তা না করে তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। যারা কানাডাকে এক বছরের মধ্যে গিলে খাবে।’
দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই কানাডার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি প্রায়ই দেশটির নেতৃবৃন্দের সমালোচনা করেন।
চীনের সঙ্গে কয়েকদিন আগে বাণিজ্য চুক্তি করে কানাডা। এতে দুই দেশের কিছু পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক একেবারেই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে বেইজিং সফরে গিয়ে চুক্তি করেন। এরপরই ট্রাম্প মন্তব্য করলেন কানাডাকে চীন ব্যবসার আড়ালে গিলে খাবে।
কানাডা সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। এরপরই রয়েছে চীন। যদিও মাঝে সম্পর্ক খারাপ ছিল। কিন্তু দুই দেশ আবারও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছে।
গত সপ্তাহে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, আর্কটিক অঞ্চলের গ্রিনল্যান্ডে যদি তারা গোল্ডেন ডোম স্থাপন করেন তাহলে স্বাভাবিকভাবে কানাডা এর সুবিধা ভোগ করবে এবং সুরক্ষিত থাকবে। তিনি ওই সময় দাবি করেন, কানাডা বিনামূল্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা পায় এবং তাদের জন্যই কানাডা টিকে আছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা গোল্ডেন ডোম স্থাপন করব, যেটি স্বাভাবিকভাবে কানাডাকে রক্ষা করবে। কানাডা আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু বিনামূল্যে পায়। তাদের আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বেঁচে আছে।’
দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশে করে তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে কিছু বলার আগে এটি মনে রাখবেন মার্ক।’
কিন্তু ট্রাম্পের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেঁচে নেই। কানাডা সফলতা পাচ্ছে কারণ আমরা কানাডিয়ান।’ সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পকে পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের সরাসরি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, তার বাহিনীর ‘আঙুল এখন ট্রিগারে রয়েছে’। যেকোনো ধরনের উসকানি বা সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বিশাল নৌবহর পারস্য উপসাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এএফপি-র এক প্রতিবেদনে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না খারাপ কিছু ঘটুক, তবে আমরা ইরানের ওপর অত্যন্ত কড়া নজর রাখছি এবং প্রয়োজনে বড় নৌবহর মোতায়েন করা হচ্ছে।’ ট্রাম্পের মতে, তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে ফেরার আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটিও তিনি পুরোপুরি নাকচ করে দেননি।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলকে সমর্থন জানিয়ে ইরানীয় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে মার্কিন হামলার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প এমন হুমকিও দিয়েছেন, যদি মার্কিন স্বার্থ বা নেতৃত্বের ওপর কোনো আঘাত আসে, তবে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া হবে’।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, গত ডিসেম্বরের শেষে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের গণবিক্ষোভ দেশটির ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। যদিও বর্তমানে সেই বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছে, তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছেন।
তার মতে, বাইরের শত্রু পক্ষটি ‘১২ দিনের যুদ্ধে’ হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নিতে ইরানে উসকানি দিচ্ছে। জেনারেল পাকপুর এই ‘১২ দিনের যুদ্ধের’ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করেছেন যে, কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করলে তাদের ‘বেদনাদায়ক পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিক্ষোভ নিস্তেজ হয়ে আসায় এবং উভয় পক্ষ থেকে কূটনৈতিক আলোচনার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যাওয়ায় এখনই হয়তো বড় কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা নেই। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া ভাষা এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ ও অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বে বিপ্লবী গার্ডের এই ‘ট্রিগারে আঙুল’ রাখার ঘোষণা বিশ্ববাসীকে নতুন কোনো সংঘাতের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। আপাতত উভয় পক্ষই একে অপরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপের জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
ইরানের উদ্দেশ্যে যুদ্ধজাহাজের বড় বহর পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধজাহাজের বড় বহর ইরানের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প।
এ সময় তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধজাহাজের বড় বহর ইরানের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছি। হয়তো এই বহর আমাদের ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না, তবে আমরা তাদের (ইরান) নিবিড় নজরদারির মধ্যে রাখছি।
তবে বহরের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা অসমর্থিত সূত্রে রয়টার্সকে জানান, গত সপ্তাহে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে এই বহর ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বহরটি ইরানে আঘাত হানার সক্ষমতায় পৌঁছে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যুদ্ধবিমান বহকারী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম এবং বেশ কিছু গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বসী যুদ্ধজাহাজ ইরানের দিকে রওনা হয়েছে এবং আগামী কিছুদিনের মধ্যে ইরানের উপকূলের আশপাশে এই যুদ্ধজাহাজের বহর অবস্থান নেবে। বহরটি অদূর ভবিষ্যতে যে কোনো ইরানি হামলা গোড়াতেই রুখে দিতে সক্ষম।
আন্তর্জাতিক
জাতিসংঘকে বাদ দিয়ে ‘বোর্ড অব পিস’ চালু করলেন ট্রাম্প
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চালু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এতে যোগ দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পশ্চিমা মিত্র ও বড় বৈশ্বিক শক্তিগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এই বোর্ডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন ট্রাম্প। তবে এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই বোর্ড জাতিসংঘের কূটনৈতিক কর্তৃত্বকে দুর্বল করে দিতে পারে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বোর্ডটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, বোর্ডটি পুরোপুরি গঠিত হলে তারা ‘প্রায় যে কোনো কিছুই করতে সক্ষম হবে’ এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করবে। ট্রাম্প আরও বলেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনা অনেক হলেও তা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।
গাজার যুদ্ধবিরতি ছাড়াও বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলায় এই বোর্ড কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, বৈশ্বিক কূটনীতি ও সংঘাত নিরসনের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল হতে পারে।
তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তির পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ইতোমধ্যে বোর্ডে যোগ দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত পশ্চিমা মিত্র ও বড় বৈশ্বিক শক্তিগুলো এখনো বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, বোর্ডের স্থায়ী সদস্যদের প্রত্যেককে এক বিলিয়ন ডলার করে তহবিলে দিতে হবে। রয়টার্স জানায়, বোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রধান শক্তি, ইসরাইল কিংবা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, বোর্ডের মূল লক্ষ্য হবে গাজার শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে এটি বিশ্বের অন্যান্য সংকটেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এখনো কেউ বোর্ডে যোগ দেয়নি। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ করা রুশ সম্পদ থেকে এক বিলিয়ন ডলার দিতে তারা প্রস্তুত।
তবে ফ্রান্স এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ব্রিটেন জানিয়েছে, আপাতত তারা এতে যোগ দিচ্ছে না। চীন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বোর্ডের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা থাকবে।
বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, গাজা বিষয়ক আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। জ্যারেড কুশনার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে গাজার পুনর্গঠন ও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তিনি বলেন, ‘হামাস নিরস্ত্রীকরণ না হলে এই পরিকল্পনা এগোনো কঠিন হয়ে পড়বে।’
এদিকে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। ফিলিস্তিনি কমিটির প্রধান আলি শাআথ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে মিসরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে গত বছরের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি একাধিকবার ভেঙে পড়েছে।
ইসরাইল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ইসরাইলের দাবি, হামাস এখনও এক জিম্মির মরদেহ ফেরত দেয়নি। অন্যদিকে হামাসের অভিযোগ, ইসরাইল গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। ফিলিস্তিনি দলগুলোর পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে এবং গাজা শাসনের জন্য একটি অন্তর্বর্তী কমিটিকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মতো কঠিন ইস্যুগুলো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানে তেল-গ্যাসের বিশাল মজুতের সন্ধান
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে তেল ও গ্যাসের বিশাল এক মজুত আবিষ্কারের তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস উন্নয়ন কোম্পানি (ওজিডিসিএল)। যা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৮১ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন করা যাবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে এ তথ্য।
পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জকে দেওয়া এক নোটিশে বলা হয়, ওজিডিসিএল জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট জেলায় অবস্থিত তাদের অনুসন্ধানী কূপ ‘বারাগজাই এক্স-০১’ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৮১ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে এই এলাকায় আরও দুটি কূপ থেকে তেল ও গ্যাস উত্তোলন করে আসছে ওজিডিসিএল।
ওজিডিসিএল এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন এই আবিষ্কার দেশীয় সম্পদের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ-চাহিদার ব্যবধান কমাতে অবদান রাখবে এবং দেশের হাইড্রোকার্বন রিজার্ভ বেসকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। নতুন মজুদের আবিস্কারে পর থেকে বারাগজাই খনিগুলো থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ৯ হাজার ৪৮০ ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হচ্ছে, যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
বর্তমানে পাকিস্তান প্রতিদিন প্রায় ৬৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন করে থাকে।
প্রসঙ্গত, এই তেলের ও গ্যাসের খনি আবিষ্কারের খবর এমন এক সময় এলো, যখন পাকিস্তান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে অভ্যন্তরীণ তেল ও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যয়বহুল আমদানির ওর নির্ভরতা কমাতে প্রচেষ্টা জোরদার করছে। গত বছর পাকিস্তান সরকার তিনটি অফশোর এবং দুটি অনশোর খনির জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পাঁচটি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
এমকে



