রাজনীতি
নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চায় বিএনপি: মির্জা ফখরুল
বিএনপি নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমাবর বেলা ১১টার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে বিষয়গুলোতে সমস্যা মনে হয়েছে, তা আমরা রোববার (১৮ জানুয়ারি) তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
দলীয় কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে যখন বাছাই হয়, তখন কিছু সমস্যা থাকে। এটা নতুন কোনো ব্যাপার না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে বিএনপি কাজ করে যাবে।
এর আগে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে তার সামাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপি।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
রাজনীতি
সমালোচনার পর সুর নরম, ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ পেয়েছেন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, তার কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ কথা বলেছেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, গত কয়েকদিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সাথে কিছু আন্তরিক কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। সবার কাছ থেকেই একটি সুন্দর দিকনির্দেশনা পেয়েছি, ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।
তিনি লিখেছেন, আমি বিনয়ের সাথে সেই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছি এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করবো। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ আমার পথচলার শক্তি।
রাজনীতি
সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রশাসক জুলাই স্পিরিটের প্রতি অবজ্ঞা: জামায়াত
সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে অবৈধভাবে প্রশাসক নিয়োগ করে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ওপর সরকার আঘাত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আবদুল হালিম বলেন, এমন নিয়োগের মাধ্যমে জনগণের মতামত ও জুলাইয়ের স্পিরিটের প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছে সরকার।
তার মতে, গণতন্ত্রের বিপক্ষে সরকারের অবস্থান জনগণ ভালোভাবে নেবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ইউজিসির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগে দলীয় বিবেচনার বিষয়েও নিন্দা জানান তিনি।
এমএন
রাজনীতি
সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না : ইশরাক
সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় পরিচয় দেখা হবে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় গরিব ও দুস্থদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না। ফ্যামিলি কার্ড কিংবা যেকোনো সহায়তার জন্য যারা যোগ্য, তারাই তা পাবে। দল-মতের ঊর্ধ্বে এই সহায়তা সবার জন্য নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং সহায়তার পরিধি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।’
ইশরাক বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল সবসময়ই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা যেহেতু এবার সরকার গঠন করেছি, তাই এই সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছি।’
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
রাজনীতি
জনগণের কল্যাণে কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করবে বিরোধীদল
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিরোধীদল যে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে সেই উদাহরণ তৈরি করবে দল।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে স্থানীয় দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, দেশের ঘাড়ে আধিপত্যবাদ চাপিয়ে দেওয়া হবে এমন কিছু আমরা মেনে নেবো না৷
বিগত দিনে বাংলাদেশের জনগণের জন্য চীনের দেয়া নানা উপহার হাইজ্যাক করা হয়েছিল এ কথা জানিয়ে আমির বলেন, চীন বিগত দিনের চেয়ে আরো বেশি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবে এ প্রত্যাশা করি।
তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের মানুষের প্রয়োজনে যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত জামায়াত বলেও জানান তিনি।
এমএন
রাজনীতি
‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে রাজপথে নামবে ১১ দল’
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ।
তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত নেতা বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’
ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, যদি সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বিরোধী দলগুলো। এ বিষয়ে শিগগিরই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।
এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ দুই জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’




