জাতীয়
ভোট ডাকাতি আর যেন না ঘটে সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতামও। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে, সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দেওয়া হয়েছে— এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। এসবের পুরো রেকর্ড থাকা প্রয়োজন। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন কমিশনের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন, ড. মো. আব্দুল আলীম। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
তদন্ত প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবিশষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দিয়েছে… এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘দেশের টাকা খরচ করে, মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ সে সময় অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল, কিছুই করতে পারেনি। এ দেশের জনগণ যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়, সেজন্য এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের চেহারা জাতির সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল— সেটা জনসমক্ষে আসা জরুরি। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, আমাদের সেই স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।’
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ কাজ করেছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখানোর অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত তিনটি নির্বাচনের এই অভিনব জালিয়াতির পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছিল, যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
২০১৪-২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা
নাগরিকত্ব লাভের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বুধবার (১৮ মার্চ) ঢাকায় অবস্থিত দেশটির দূতাবাস ভিসাসংক্রান্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্তায় বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে যেসব কার্যক্রম অনুমোদিত নয়, তা জানানো হয়েছে।
ভিসা সংক্রান্ত ওই বার্তায় জানিয়েছে, বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় বার্থ ট্যুরিজম (শিশুর জন্য আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া) অনুমোদিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, এমন কাজ করা অনুমোদিত নয়। ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিটের জন্য পড়াশোনা করা অনুমোদিত নয়। এ ছাড়া, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করাও অনুমোদিত নয়।
জাতীয়
দু-একটি বাস ভাড়া কম নিচ্ছে, সার্বিক ঈদযাত্রা স্বাভাবিক: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রয়েছে এবং যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘সবাই নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে। বরং দু-একটি পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০-৩০ টাকা কম নিচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক।’
মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের সেবায় গাবতলীসহ বিভিন্ন টার্মিনালে পুলিশ কন্ট্রোল রুম, ভিজিল্যান্স টিম এবং র্যাবের কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট টাঙানো হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ করতে পারবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, “পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বাসগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীরা কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছেন না।”
ঈদযাত্রায় জ্বালানি সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ১৫ মার্চ রাত ১১টা থেকে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘কোথাও কোনো জ্বালানির ঘাটতি নেই। তারপরও কেউ সমস্যায় পড়লে আমাদের হেল্পলাইন ১৬১০৭ কিংবা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জানাতে পারবেন’— বলেন তিনি। এ সময় তিনি আরো জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতকাল যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩২ হাজার বেশি যানবাহন চলাচল করেছে, যা ঈদযাত্রার চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
অবৈধ বাস কাউন্টার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘যত্রতত্র কাউন্টার খোলার কোনো সুযোগ নেই। ঈদের পর নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং জোরদার করা হবে।’ এ সময় তিনি বাস মালিকদের নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও কাউন্টার না খোলার আহ্বান জানান।
ঢাকার স্থানীয় পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ‘গতকাল নবীনগর ও বাইপাইলে ১০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চিটাগং রোডেও কয়েকটি পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে’— যোগ করেন তিনি।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে জানিয়ে সড়ক মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক টিম প্রস্তুত রেখেছি। যেকোনো অনিয়ম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। যানজট পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভোরে চন্দ্রা এলাকায় সামান্য যানজট সৃষ্টি হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে সব রুটে স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে যান চলাচল করছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বিআরটিসির গাবতলী বাস ডিপো পরিদর্শন করেন এবং ঈদ উপলক্ষে ‘বিআরটিসি ঈদ স্পেশাল সার্ভিস ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন। পরে তিনি আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতারা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে : প্রতিমন্ত্রী টুকু
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ঈদযাত্রায় জনভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থাপনার কারণে এবার মহাসড়কে কোনো যানজট হবে না বলে আশা করি।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবরকম প্রস্তুতি রয়েছে।
যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আল্লাহর রহমতে কেউ যানজটে পড়বে না। সবাই নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ যাতে ভোগান্তির শিকার না হন এবং রোজাদারদের যেন সড়কে ইফতার করতে না হয়, সেজন্য সার্বক্ষণিকভাবে মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতের ছুটি শুরু হওয়ায় আজ থেকে প্রায় ৪০ লাখ অতিরিক্ত মানুষ এ মহাসড়ক ব্যবহার করবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে যাতে ঈদযাত্রায় কোনোভাবেই মানুষ ভোগান্তির শিকার না হয়। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, এখন পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজট নেই এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যান চলাচল সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পাশাপাশি ডিআইজি, এসপিসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি তদারকি করছেন। আমাদের কর্মীরাও পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য রাস্তায় রয়েছেন।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত সময়ে অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষ যানজটে পড়েছে। তবে এবার পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ও টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার প্রমুখ।
জাতীয়
আইজিপির বাসায় চুরির খবর ‘সত্য নয়’, যা বলছে পুলিশ
বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরির খবরটি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ। আজ বুধবার বাগেরহাট পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়, বাগেরহাটে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাড়ির বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে বাড়িটি বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বাগেরহাট পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিভিন্ন অনলাইন ও গণমাধ্যমে ‘আইজিপির বাসভবনে চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে’ বলে উল্লেখ করা হয়। সংবাদটি আমাদের নজরে এসেছে। প্রকৃতপক্ষে আইজিপির বাসভবনে কোনো ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেনি। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কিচু গণমাধ্যম এ ধরনের তথ্য প্রচার করেছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রকৃত বিবরণ হলো—গত ১৬ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে রাস্তার দিকে বাসার বাইরের দেয়ালসংলগ্ন সার্ভিস লাইনের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ওই তারগুলো নিয়ে যায়। বিষয়টি থানা-পুলিশের নজরে আসার পর ১৭ মার্চ অভিযান পরিচালনা করে খোয়া যাওয়া তার উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই তথ্য জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বুধবারর এক বিজ্ঞপ্তিতে সদর দপ্তর বলছে, আইজিপির বাসায় কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। মূলত বাসার বাইরের ওয়াল সংলগ্ন সার্ভিস লাইনের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে থাকা তার অজ্ঞাত ব্যক্তিরা নিয়ে যায়। বিষয়টি থানা পুলিশের নজরে এলে পরদিন অভিযান চালিয়ে খোয়া যাওয়া তার উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রবিউল ইসলাম (২৮), আব্দুর কাদের (২৪) এবং মো. চঞ্চল শেখ (৩৮) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জাতীয়
ঈদের ছুটিতেও বাসভবন থেকে দাপ্তরিক কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী
ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটির মধ্যেও দাপ্তরিক কাজে সক্রিয় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে তিনি জরুরি সরকারি কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশনসহ সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঈদের ছুটি চললেও প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে নিয়মিতভাবে সরকারি কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, বিশেষ করে খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতি ও এর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের থেকে তথ্য নিচ্ছেন।
আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সিটি করপোরেশনগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট মেয়র ও প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।
অন্যদিকে ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও সচিবালয়ে অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি ফার্মার্স কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সভাসহ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।




