আইন-আদালত
জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে হাইকোর্টের রুল
জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রার্থীদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই সব প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল প্রশ্নেও রুল জারি করেছেন আদালত।
রোববার (১১ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় গত ৭ জানুয়ারি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আরও শুনানির জন্য আজ ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ট্যান্ডওভার করেন হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি ও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ গত ৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট করেন। রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়।
রিটকারীর পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরের অংশ। গত ২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
অপরদিকে, জাতীয় পার্টি (আনিসুল ইসলাম) ও জেপির নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯ আসনে ১৩১ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
কেন রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে জানতে চাইলে রিটকারীর আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোট মহাজোট হিসেবে পরিচিত। এই মহাজোট জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এই জোটে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ/ইনু), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশনসহ ১৪টি দল ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে তারাও অপরাধ করেছে। যে কারণে সংবিধানের ৬৬(২)(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা নির্বাচনের অযোগ্য হবে।
এমকে
আইন-আদালত
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী তাহমিনার ২০ লাখ টাকা অবরুদ্ধ
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খানের নামে জনতা ব্যাংকে থাকা দুটি সঞ্চয় হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুটি হিসাবে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকা জমা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ কথা জানান।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এই আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, লুৎফুল তাহমিনা ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯১ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রাখেন। আসাদুজ্জামান খান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তাকে অপরাধে সহায়তা করেন। লুৎফুল তাহমিনা নিজ নামে এবং তার আংশিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত ৪৩ কোটি ৭৭ লাখ ৭৪৫ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেন।
ওই অর্থের স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, এর ৪(২) ও ৪ (৩) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা তদন্তকালে বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তারা মামলা সংশ্লিষ্ট অপরাধলব্ধ সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন, যা করতে পারলে মামলার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। এ জন্য মামলার বিচার শেষে সরকারের অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির সুবিধার্থে লুৎফুল তাহমিনার নামে দুটি সঞ্চয় হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
এমএন
আইন-আদালত
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের এ তারিখ নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট আসামি ৩০ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মঈনুল করিম। আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ২৭ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন নির্ধারণের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের পর প্রসিকিউশনের পক্ষে জবাব দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এরপর পাল্টা জবাব দেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। তিন কার্যদিবসে যুক্তিতর্কে এ মামলার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়। এছাড়া বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়, যা ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সময় ধারণ করা হয়েছিল। মামলার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত এসব ভিডিওতে আসামিরা কে কোথায় ছিলেন এবং তাদের কার্যকলাপ শনাক্ত করে দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। একইসঙ্গে ৩০ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়।
গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় ৩০ জুন। ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
এমএন
আইন-আদালত
‘সেবা এক্সওয়াইজেড’-এর সিইও বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
দেশীয় জনপ্রিয় স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম ‘সেবা এক্সওয়াইজেড’-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ও চেয়ারম্যান আদনান ইমতিয়াজ হালিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-৩ এর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই পরোয়ানা জারি করা হয়। ৩৬২/২৬ নম্বর সিআর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা এই পরোয়ানা তামিলের জন্য ডিএমপির মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, সেবা এক্সওয়াইজেডের সিইওর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) রোনাল্ড মিকি গোমেজ। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব পালনকালে বেতনের বিপরীতে কেটে রাখা করের চালানের কপি তাকে দেওয়া হয়নি। এর ফলে বেতনের বিপরীতে ‘সেবা এক্সওয়াইজেডের’ কেটে রাখা প্রায় ১৮ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি বলে আশঙ্কা করছেন মিকি গোমেজ। ভুক্তভোগীর মোট বকেয়া ৪১ লাখ টাকা।
মামলার বিষয়ে মিকি গোমেজ জানান, পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রাখার পর গত বছরের অক্টোবরে তাকে ‘সেবা এক্সওয়াইজেড’ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটিতে সিওও হিসেবে যোগ দেই। ওই বছরের জুলাই থেকে গত বছরের জুলাই পর্যন্ত আমার বেতনের বিপরীতে ১৩ লাখ এক হাজার ৭৯৮ টাকা আয়কর বাবদ কেটে রাখে সেবা। এরপর তাদের চাপে গেল বছরের অক্টোবরে রিজাইন দিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করি। কিন্তু আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা আমাকে কোনো বেতন দেয়নি। উলটো পাঁচ মাসে কর বাবদ ৫ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৫ টাকা আয়কর হিসেবে কেটে রেখেছে।’
মিকি গোমেজ তার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কর হিসেবে ১৮ লাখ ২০ হাজার ২৮৩ টাকা কেটে রাখলেও সেবা আমাকে কোনো চালানের কপি দেয়নি। আয়কর রিটার্নের সঙ্গে তো আমাকে ওই কপি জমা দিতে হবে। নইলে আমাকে ১৮ লাখ টাকা কর আবারও পরিশোধ করতে হবে। আমার ভয় হচ্ছে—সেবার চেয়ারম্যান আদনান ইমতিয়াজ কর বাবদ কেটে রাখা টাকা হয়তো সরকারি কোষাগারে জমা দেননি।’
আদনান ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা পরোয়ানা থেকে জানা যায়, ৩৬২/২৬ নম্বর সিআর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ পরোয়ানা জারি করা হয়। পরোয়ানাভুক্ত আসামি আদনান ইমতিয়াজের বাসা মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় হওয়ায় ডিএমপির মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পরোয়ানা তামিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে করের চালানের কপি না পাওয়ার পাশাপাশি পাঁচ মাসের বকেয়া বেতনের জন্য শ্রম আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন মিকি গোমেজ। তিনি বলেন, ‘সেবা এক্সওয়াইজেড আমার পাঁচ মাসের বেতন দেয়নি। এরপর শ্রম আদালতে মামলা করি। সেই মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা অব্যাহত রাখলে কখনো বকেয়া বেতন দেওয়া হবে না সেবা ও আদনানের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে সেবাএক্সওয়াইজেডের সিইও আদনান ইমিতয়াজ বলেন, ‘এটি সাবেক এক কর্মীর সঙ্গে বকেয়া পাওনা সংক্রান্ত একটি বিরোধ, যা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছে। আমরা আদালতের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আইনগত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। আশা করি আদালতের মাধ্যমেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’
আইন-আদালত
ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে রিট
দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বুধবার (৪ মার্চ) হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ৬ আইনজীবী।
রিটে স্থানীয় সরকার সচিব, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারী সুপ্রিম কোর্টের ৬ আইনজীবী হলেন— অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া, জিল্লুর রহমান, আবু দাউদ নিজামী, আল মুত্তাকী বিল্লাহ, ইসমাঈল হোসেন সবুজ ও খালিদ সাইফুল্লাহ।
উল্লেখ্য, ২২ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার নিয়োগ পেয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১)-এর অনুবৃত্তিক্রমে এই ছয়জনকে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
এমএন
আইন-আদালত
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ।
অন্যদিকে রিটের বিরোধিতা করেন, এনসিপির সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ শিশির মনির ও ইমরান এ সিদ্দিক।
এর আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিটের ওপর শুনানি শেষ হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করা হয়। রিটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিল চাওয়া হয়। এছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি ও অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম রিট দুটি দায়ের করেন।
দুটি রিট আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি করার পর মঙ্গলবার এ বিষয়ে রুল জারি করল আদালত।
এদিকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ বাতিল ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে আরেকটি রিট দায়ের করা হয়। রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
এমএন




